Tag: ইরান

  • হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: কয়েক ঘণ্টা আগে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এখন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে।

    স্থানীয় সময় দুপুরে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীই এর চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।

    তবে এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তোলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানান, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। এই মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত থাকবে না। তিনি জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুনরায় প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দেয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

  • উত্তেজনার পর হরমুজ খুলল ইরান, তেলের দামে বড় পতন; বিশ্ববাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

    উত্তেজনার পর হরমুজ খুলল ইরান, তেলের দামে বড় পতন; বিশ্ববাণিজ্যে স্বস্তির ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করেছে ইরান। লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির প্রতি সংহতি জানিয়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে। খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১১ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

    শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।

    তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট অনুসরণ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এর মাধ্যমে প্রণালিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ চলাচল বজায় রাখার চেষ্টা করছে তেহরান।

    ইরানের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক যাতায়াতের জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে ধন্যবাদও জানান।

    তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে স্থায়ী সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    এর আগে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত বন্ধ হওয়াকে ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

    গত ৭ এপ্রিল ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিলেও লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় তখন প্রণালিটি কার্যত সীমিত রাখা হয়েছিল। সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির পরই প্রণালিটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়।

    উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

  • হরমুজ খুললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত: বন্দর অবরোধ তুলে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প

    হরমুজ খুললেও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত: বন্দর অবরোধ তুলে নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দিলেও ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ আপাতত তুলে নেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া পৃথক পোস্টে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, প্রণালিটি এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

    তিনি আরও জানান, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে এবং দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি আশাবাদী। চুক্তির বাকি অংশ সম্পন্ন হলেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ঘোষণা করেন, লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতিকে সম্মান জানিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।

    লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়াও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে জানা গেছে। এই যুদ্ধবিরতি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনার অন্যতম প্রধান শর্ত।

    হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ায় বিশ্ববাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় দুই দেশের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে পরবর্তী পরিস্থিতি।

  • হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা—বপন মৌসুমে বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা

    হরমুজে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা—বপন মৌসুমে বড় ঝুঁকির সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষির গুরুত্বপূর্ণ বপন মৌসুমে জ্বালানি ও সারের সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সামনে বৈশ্বিক খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের এক শীর্ষ অর্থনীতিবিদ।

    জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, সুদান, কেনিয়া, ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বপন মৌসুম চলছে। এই সময়ে জ্বালানি ও সারের ঘাটতি তৈরি হলে কৃষি উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়বে।

    তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে প্রায় ৩৫ শতাংশ জ্বালানি তেল, ২০ শতাংশ প্রাকৃতিক গ্যাস এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার পরিবাহিত হয়। এই সরবরাহ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হলে কৃষকরা প্রয়োজনীয় উপকরণ কম ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন। এতে উৎপাদন কমে যাবে এবং বাজারে খাদ্যের প্রাপ্যতা হ্রাস পাবে।

    তোরেরো সতর্ক করে বলেন, দ্রুত সমাধান না হলে ক্ষতির মাত্রা বাড়বে। এমনকি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যদি সমঝোতা হয়ও, ততক্ষণে কৃষি মৌসুমে যে বিঘ্ন ঘটবে তার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তিনি মনে করেন, বাণিজ্য পুনরুদ্ধার এবং বাজার স্থিতিশীল হতে অন্তত ৯০ দিন সময় লাগতে পারে।

    তার ভাষায়, চুক্তি হলে শূন্য থেকে ৯০ দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা তৈরি হবে। এই সময়ের মধ্যে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এবং জ্বালানি প্রবাহ পুনরায় শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। অন্যথায় কয়েক মাসের মধ্যেই খাদ্য সরবরাহে চাপ বাড়বে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ে। এরপর ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে। এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

    ইরানি পক্ষ জানিয়েছে, তাদের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের অধিকারের স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত হরমুজে নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কোনও সমঝোতা হলে তা সতর্কতার সঙ্গে এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে করতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিয়েছে ইরান। তাই আন্তর্জাতিক চাপ সত্ত্বেও হরমুজ ইস্যুতে দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। এ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা, বিশেষ করে কৃষি খাত, বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানে অচলাবস্থা তৈরি হলে জ্বালানি, সার ও কৃষি উপকরণের দাম বাড়বে। ফলে খাদ্য উৎপাদন কমে গিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।

  • হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    হরমুজ প্রণালি ‘স্থায়ীভাবে’ উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের, চীন খুশি—নতুন কূটনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখা হচ্ছে এবং এতে চীন সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু চীনের জন্য নয়, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে।

    বুধবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি জানান, ভবিষ্যতে এই প্রণালি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি আর তৈরি হবে না।

    চীনের সঙ্গে সমঝোতার দাবি

    পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, চীন ইরানে অস্ত্র না পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তার ভাষ্য, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে চীন সফরে গেলে দেশটির প্রেসিডেন্ট তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন এবং দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।

    তিনি আরও বলেন, সংঘাতের পরিবর্তে সহযোগিতার পথই বেশি কার্যকর। তবে প্রয়োজনে সামরিক সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    ভিন্ন তথ্য নিয়ে বিতর্ক

    ট্রাম্পের এই দাবির মধ্যেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বেইজিং। আবার অন্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি শনাক্তে চীনা গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

    চীনের অবস্থান

    তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বেইজিংয়ের দাবি, তারা ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তা দিচ্ছে না।

    বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক বার্তা বহন করছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইরানকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠছে।

  • হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

    বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শামিল হবে।

    বাণিজ্যপথ বন্ধের হুমকি

    বিবৃতিতে সামরিক কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে।

    তার দাবি, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা

    হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও অবরোধের পরই এই হুঁশিয়ারি এসেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন জাহাজে বাধা দেওয়া হবে না। তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

    তেলের বাজারে প্রভাব

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।

    বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় বিভিন্ন দেশে পরিবহন ও জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ছে।

    ইতোমধ্যে ইউরোপের কিছু দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু সরকার কর কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

  • দুই দিনের মধ্যেই ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনা? পাকিস্তানেই বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

    দুই দিনের মধ্যেই ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনা? পাকিস্তানেই বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

    এবিএনএ: আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাব্য এই বৈঠক পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে অগ্রগতি হতে পারে। তিনি জানান, পাকিস্তানে আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্ভাব্য বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় বা প্রতিনিধি পর্যায় নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

    এর আগে গত শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। তবুও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

    এদিকে একই সময়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, মেলোনির অবস্থান তাকে বিস্মিত করেছে এবং তিনি ধারণা করেছিলেন ইতালির এই নেত্রীর আরও দৃঢ় ভূমিকা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

    ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রশ্নে মতবিরোধ থেকেই এই সমালোচনা এসেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। মেলোনি শুরু থেকেই সংঘাতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    এর আগে ধর্মীয় নেতা পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়েও দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পোপ সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি। পরে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প পাল্টা বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতালির অবস্থান যথেষ্ট কঠোর নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় আগে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনার সম্ভাবনা বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ কার্যকর করতে আসা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে প্রয়োজনে সমুদ্রের তলদেশে পাঠানো হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলেদ্দিন বুরুজার্দি এ মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া অবরোধ নির্দেশ বাস্তবভিত্তিক নয় এবং এটি প্রচারণামূলক পদক্ষেপ। তার মতে, এমন অবরোধ কার্যকর করার মতো সক্ষমতা ওয়াশিংটনের নেই।

    তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোও এই উদ্যোগে অংশ নেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এই পদক্ষেপ নিতে চাইছে। ফলে পরিস্থিতি বাস্তবে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে যে কোনো বিদেশি সামরিক তৎপরতা উত্তেজনা বাড়াবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক বলেন, আগ্রাসনের চেষ্টা হলে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু হরমুজ প্রণালী নয়—ওমান সাগর বা অন্য কোনো এলাকায় বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ দেখা গেলে ইরান তা প্রতিহত করবে।

    ইরানের কর্মকর্তারা আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ সফল হবে না। বরং এ ধরনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

  • ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    এবিএনএ: ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি তার ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ থেকে সরে এসে ইরানের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত অবস্থান নিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রশংসা করেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একমত হতে পারেনি।

    গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের টানাপোড়েন চলছে। এ বিষয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ আলোচনা চলে দুই দেশের মধ্যে। তবে সেই সংলাপও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    পরবর্তী সময়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময় ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক পদক্ষেপ নেয়। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়।

    সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধ শুরুর ৩৯তম দিনে, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রেক্ষাপটে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পরও কোনো চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।

    তবুও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে—এমন বার্তা দিয়ে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

  • ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    এবিএনএ: ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর ঘিরে অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে এই অবরোধ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

    মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ হলেও এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজন হলে জাহাজগুলোকে মাঝপথে থামানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা জব্দ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তবে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর বন্দরে যাওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরব সাগর এলাকায় অবস্থানরত জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও অবরোধ কার্যকর করা হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। তেহরান জানায়, তাদের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ রপ্তানিও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন করে অবরোধ কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।