Tag: ইরান

  • “আজ রাতেই বদলে যেতে পারে ইতিহাস!”—ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা

    “আজ রাতেই বদলে যেতে পারে ইতিহাস!”—ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরানকে কেন্দ্র করে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে কড়া বার্তা দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, “আজ রাতেই এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, যা একটি সম্পূর্ণ সভ্যতার অবসান ডেকে আনবে—যা আর কখনও ফিরে আসবে না।”

    তবে একইসঙ্গে তিনি এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি অনিবার্য বলে উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন পরিণতি চান না, যদিও পরিস্থিতি সেই দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে বিচক্ষণ ও কম উগ্র মনোভাবের ব্যক্তিরা সামনে আসছেন। এ পরিবর্তন ইতিবাচক কিছু ঘটার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তার ভাষায়, বিশ্ব এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং খুব শিগগিরই এর ফলাফল জানা যাবে। তিনি এটিকে দীর্ঘ ও জটিল বৈশ্বিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশক ধরে ইরানে দুর্নীতি, সহিংসতা ও চাঁদাবাজির রাজত্ব চলছে, যার অবসান হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি ইরানের জনগণের কল্যাণ কামনা করেন।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

  • ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাইফায় ভবন ধ্বংস, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ মরদেহ উদ্ধার

    ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হাইফায় ভবন ধ্বংস, ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ মরদেহ উদ্ধার

    এবিএনএ: ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের হাইফা শহরে একটি আবাসিক ভবন ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময়ের উদ্ধার অভিযানের পর ভবনের নিচ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। প্রথম ধাপে উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া দুইজনকে বের করে আনলেও তাদের শরীরে প্রাণের কোনো স্পন্দন পাওয়া যায়নি। নিহতদের মধ্যে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ও এক বৃদ্ধা রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    এর কয়েক ঘণ্টা পর উদ্ধারকারীরা আরও একজনের মরদেহ শনাক্ত করেন, যিনি প্রায় ৪০ বছর বয়সী একজন পুরুষ। পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৩৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়। হামলার প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর শেষ মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।

    হামলার পর প্রথমদিকে চারজন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছিল এবং ভবনটি ধসে পড়ার ঝুঁকি থাকায় উদ্ধারকাজে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়। এখন পর্যন্ত নিহতদের আনুষ্ঠানিক পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

    এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। চিকিৎসা কর্মকর্তাদের মতে, ৮২ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া ৭৮ ও ৩৮ বছর বয়সী দুই নারী এবং ১০ মাস বয়সী এক শিশুও আহত হয়েছে। শিশুটি মাথায় আঘাত পেয়েছে বলে জানা গেছে।

    হাইফার একটি হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গুরুতর আহত ওই বৃদ্ধের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তার স্ত্রীও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

  • হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    এবিএনএ:হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি আসার পর তা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। রসিকতার সুরে তারা বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ‘চাবি হারিয়ে গেছে’, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্টে জিম্বাবুয়েতে ইরানের দূতাবাস ব্যঙ্গ করে জানায়, তারা নাকি ‘চাবি হারিয়ে ফেলেছে’। একই ধরনের পোস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের কূটনৈতিক মিশন মন্তব্য করে, ‘চাবি ফুলের টবের নিচে রাখা—শুধু বন্ধুদের জন্য খোলা।’ এসব মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালীটি চালু না হলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরও মিলছে।

    এদিকে ইরান পাল্টা সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা চালানোর কথাও উল্লেখ করেছে তেহরান।

    চলমান উত্তেজনায় ইতোমধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

  • ‘যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা’: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বিশ্বকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ইরানের

    ‘যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা’: ট্রাম্পের হুমকির জবাবে বিশ্বকে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান ইরানের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য ‘যুদ্ধাপরাধ’ ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

    জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে। তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন সব অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার জন্য অপরিহার্য।

    বিবৃতিতে বলা হয়, এই ধরনের প্রকাশ্য হুমকি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। একই সঙ্গে এটিকে বেসামরিক জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর প্রচেষ্টা হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘসহ বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা মনে করে, বিশ্ব সংস্থাগুলোর উচিত দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে সংঘাত আরও বিস্তৃত না হয়।

    তেহরান আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে তা একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক সংকটে রূপ নিতে পারে। তাই এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনার কথা বলা হয়, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতে বেসামরিক হতাহতের খবর পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ‘মঙ্গলবারই বড় আঘাত’, উত্তেজনা চরমে

    ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ‘মঙ্গলবারই বড় আঘাত’, উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, নির্দিষ্ট দিনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    এ সময় তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তার এই মন্তব্যের ভাষা ছিল অত্যন্ত কঠোর, যা কূটনৈতিক শালীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

    এর আগে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের দুর্গম এলাকায় বিধ্বস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, কর্নেল পদমর্যাদার ওই পাইলট বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    জানা গেছে, গত শুক্রবার একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে থাকা দুইজনের একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হলেও অপরজনকে খুঁজে পেতে সময় লাগে। পরে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়।

    ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানি বাহিনীও ওই পাইলটকে খুঁজছিল এবং প্রায় ধরতে সক্ষম হয়েছিল। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল কয়েক ঘণ্টার অভিযানে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত এত বড় ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয় না। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় একাধিক ধাপে অভিযান চালিয়ে দিনের আলোতেই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য ও পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এখন পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

  • বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা—ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ!

    বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা—ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ!

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে নতুন করে হামলার দাবি তুলেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, Ben Gurion Airport-এ ড্রোনের মাধ্যমে সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়েছে।

    ইরানের সামরিক সূত্র মতে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের সামরিক বিমান চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করা। বিশেষ করে বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার, নেভিগেশন সিস্টেম, রাডার ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    এক বিবৃতিতে তেহরান জানায়, ইসরায়েল ও তার মিত্রদের সামরিক কার্যক্রমে এই বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রতিবাদ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশপথে সমন্বয় ব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশল গ্রহণ করা হয়।

    ইরানি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের ফলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান পরিচালনা, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করা হয়।

    তারা আরও জানায়, এই ধরনের হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাতে ইরান তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। নিহতদের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত Israel সরকার বা United States-এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ নিরাপত্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • বুশেহর হামলা ঘিরে ইরানের তীব্র হুঁশিয়ারি—তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ে নিশ্চিহ্ন হতে পারে উপসাগরীয় অঞ্চল!

    বুশেহর হামলা ঘিরে ইরানের তীব্র হুঁশিয়ারি—তেজস্ক্রিয় বিপর্যয়ে নিশ্চিহ্ন হতে পারে উপসাগরীয় অঞ্চল!

    এবিএনএ: ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেশটির Abbas Araghchi কঠোর ভাষায় সতর্ক করে জানিয়েছেন, পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা অব্যাহত থাকলে তা গোটা উপসাগরীয় অঞ্চলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।

    শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, Bushehr Nuclear Power Plant-এর আশপাশে একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে। এই ধরনের আক্রমণ কেবল একটি দেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানলে সেখান থেকে নির্গত তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বা রেডিওঅ্যাকটিভ ফলআউট দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে Gulf Cooperation Council-এর সদস্য দেশগুলোর রাজধানীগুলোও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    তিনি আরও বলেন, অতীতে Zaporizhzhia Nuclear Power Plant ঘিরে উত্তেজনার সময় আন্তর্জাতিক মহলের যে উদ্বেগ দেখা গিয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তার চেয়েও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

    এদিকে, ইরানের অভিযোগ—তাদের জ্বালানি ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর কৌশলগত চাপ তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলে মনে করছে তেহরান।

    তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত United States বা Israel আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক স্থাপনা কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়তে থাকলে তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য! শীর্ষ জেনারেলদের বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্রে অভূতপূর্ব সংকট

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য! শীর্ষ জেনারেলদের বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্রে অভূতপূর্ব সংকট

    এবিএনএ: ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর দেওয়া স্থল অভিযান সংক্রান্ত নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, যা নতুন করে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

    জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সামনে আসে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় এক ডজন জেনারেল এই নির্দেশ বাস্তবায়নে আপত্তি জানান। এর জেরে হোয়াইট হাউস এবং Pentagon-এর মধ্যে মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

    এই পরিস্থিতিতে Joint Chiefs of Staff-এর চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা এটিকে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে অন্যতম বড় রদবদল হিসেবে দেখছেন।

    এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই অস্বীকৃতি কি কোনো ‘অবৈধ নির্দেশ’ প্রত্যাখ্যানের আইনি অধিকার, নাকি এটি সামরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল? একপক্ষ বলছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এবং অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তারা ঝুঁকি এড়াতে এই অবস্থান নিয়েছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞ জেনারেলদের সরিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং অপ্রত্যাশিত সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়ছে।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শূন্য পদগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে এবং চলমান সামরিক কার্যক্রমে এর প্রভাব কী হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিধর দেশের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান: পাইলট উদ্ধারে ব্যর্থ চেষ্টা, উত্তেজনা বাড়াচ্ছে সংঘাত

    ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান: পাইলট উদ্ধারে ব্যর্থ চেষ্টা, উত্তেজনা বাড়াচ্ছে সংঘাত

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক অভিযান চালালেও তা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি বলে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। তবে প্রকাশিত ধ্বংসাবশেষের ছবির ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, সেটি আসলে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হতে পারে।

    এই ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। অন্যদিকে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ভূপাতিত বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পাইলট জীবিত নাকি নিহত—এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ঘটনাস্থলের আকাশে নজরদারি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ধার অভিযানে একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং সি-১৩০ হারকিউলিস ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু ইরানি বাহিনীর বাধার কারণে হেলিকপ্টারটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।

    তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সেনাদের সক্রিয় প্রতিরোধের কারণে উদ্ধার অভিযান এখনো ব্যর্থ রয়েছে এবং পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে।

    উল্লেখ্য, এর আগেও গত মার্চ মাসে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। তবে সে সময় পাইলট দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে জরুরি অবতরণ করে প্রাণে রক্ষা পান।

    বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • হরমুজ প্রণালি খুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র—ট্রাম্পের দাবি, তবে লাগবে কিছুটা সময়

    হরমুজ প্রণালি খুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র—ট্রাম্পের দাবি, তবে লাগবে কিছুটা সময়

    এবিএনএ:  বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি পুনরায় পুরোপুরি সচল করা তাদের জন্য কঠিন নয়, তবে এতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আর কিছুটা সময় পেলেই আমরা সহজেই হরমুজ খুলে দিতে পারব। তখন এখান থেকে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

    অন্যদিকে, সামুদ্রিক বিশ্লেষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এই পথ দিয়ে ১৬টি জাহাজ অতিক্রম করেছে, যা টানা কয়েকদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    সংস্থাটি আরও জানায়, এসব জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে চলাচল করছে এবং তারা লারাক দ্বীপ সংলগ্ন রুট ব্যবহার করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিভিন্ন দেশ নিজেদের জাহাজ নিরাপদে চালাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল হচ্ছে, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনও অনেক কম।

    বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এই রুটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।