Tag: ইরান

  • স্থল হামলার হুঁশিয়ারি: শত্রু ঢুকলে কাউকেই ছাড় নয়—ইরান সেনাপ্রধানের কঠোর নির্দেশ

    স্থল হামলার হুঁশিয়ারি: শত্রু ঢুকলে কাউকেই ছাড় নয়—ইরান সেনাপ্রধানের কঠোর নির্দেশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আমির হাতামি সম্ভাব্য স্থল হামলার বিরুদ্ধে বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি স্থলপথে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তাদের কাউকেই জীবিত ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেন তিনি। সেখানে তিনি সেনাদের প্রতি আহ্বান জানান, শত্রুপক্ষের প্রতিটি নড়াচড়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে।

    সেনাপ্রধান বলেন, শত্রুর কৌশল বুঝে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তার মতে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।

    সম্প্রতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানও বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়।

    বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রায় এক মাস অতিক্রম করেছে। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন হামলার ক্ষেত্রে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। কারণ, এই দ্বীপ থেকেই ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি করা হয়।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। কয়েক হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর পাশাপাশি একটি বিমানবাহী রণতরীও ওই অঞ্চলে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্ব পরিস্থিতির এমন উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে ইরানের এই কড়া বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • “যুদ্ধবিরতি নয়, শেষ চাই”—ট্রাম্পের দাবি সরাসরি নাকচ করে ইরানের কড়া বার্তা

    “যুদ্ধবিরতি নয়, শেষ চাই”—ট্রাম্পের দাবি সরাসরি নাকচ করে ইরানের কড়া বার্তা

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর করা যুদ্ধবিরতির দাবিকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা কোনোভাবেই সাময়িক যুদ্ধবিরতি চায় না, বরং এই সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তিই তাদের লক্ষ্য।

    বুধবার ইরানের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানান, দেশটির প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছেন—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera-এর তেহরান প্রতিনিধি সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-ও একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তাদের লক্ষ্য কোনো অস্থায়ী সমাধান নয়। বরং চলমান সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায় তেহরান।

    বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই ইরান এই অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটি দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত বলেও বারবার জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলে প্রতিপক্ষ নতুন করে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করবে।

    অন্যদিকে, Donald Trump সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট নাকি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

    ট্রাম্পের এমন বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের অবস্থান পরস্পরবিরোধী হওয়ায় কূটনৈতিক সমাধান আরও জটিল হয়ে উঠছে।

  • ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে: কাদিরভের অনুগত বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা

    ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা চরমে: কাদিরভের অনুগত বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতির ঘোষণা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চেচেন প্রজাতন্ত্রের নেতা রমজান কাদিরভের অনুগত বাহিনীর ঘোষণা। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে তারা ইরানের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে প্রস্তুত।

    ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কাদিরভ-সমর্থিত এই বাহিনী চলমান সংঘাতকে শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিবেচনা করছে। তাদের ভাষায়, এটি ‘ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই’, যেখানে তারা ইরানের প্রতিরক্ষায় অবস্থান নিতে চায়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বিমান হামলা কাঙ্ক্ষিত ফল না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্থল অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

    সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে, যখন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এরপর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলি স্থাপনা ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি।

    এদিকে, এই সংঘাতে অন্য দেশের সম্পৃক্ততা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জাতিসংঘে পাঠানো এক চিঠিতে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এটিকে সরাসরি আগ্রাসনের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    সার্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। কূটনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ জোরদার না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

  • মধ্যরাতে উত্তাল আকাশ—ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানের শক্তি প্রদর্শন

    মধ্যরাতে উত্তাল আকাশ—ইসরায়েলে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানের শক্তি প্রদর্শন

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়েছে IranIsrael। শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ইসরায়েলের একাধিক অঞ্চলে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

    Israel Defense Forces (আইডিএফ) জানিয়েছে, অন্তত পাঁচ দফায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এসব হামলার সময় রাজধানী Jerusalemসহ মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়।

    সামরিক সূত্রের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। সর্বশেষ হামলায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে। আইডিএফ জানায়, নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী সেটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত হানতে দেওয়া হয়।

    একই সময় লেবানন সীমান্ত থেকেও উত্তর ইসরায়েলের দিকে একাধিক রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে কিছু প্রতিরোধ করা সম্ভব হলেও বেশ কয়েকটি খোলা জায়গায় গিয়ে পড়ে।

    আইডিএফ আরও জানায়, নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সংকেত পাওয়ার পর উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম সতর্কতা জারি করা হয়। এছাড়া শফেলা অঞ্চল এবং লোহিত সাগর সংলগ্ন এলাকাতেও সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি, তবুও এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা

    মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ইরান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। ইরানি সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মন্তব্য করেছেন, “পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যে ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, সেগুলো এখন আমাদের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে। আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সেনাবাহিনী রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

    ২০২৫ যুদ্ধ ও নীতি পরিবর্তন

    শেখারচি উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতি আক্রমণাত্মক নীতিতে রূপান্তর করেছে। তিনি বলেন, “গত ৪৭ বছরে আমরা কারও ওপর আক্রমণ চালাইনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন করব না। তবে যদি কেউ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত চালাব যতক্ষণ না শত্রু ধ্বংস হয়।”

    হরমুজ প্রণালী নিয়ে সতর্কবার্তা

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শেখারচি বলেন, “এই অঞ্চলের অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও আমরা কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছি, যা সকল দেশকে মানতে হবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে নিজেদের উপস্থিতি দৃঢ় করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে তাদের এলাকায় আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।”

    ইরানের সামরিক সক্ষমতা

    মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক ক্ষমতা প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাহিনী ক্রমাগত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করছে, যাতে যে কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

  • সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আহত ১২ সেনা, সংকটজনক ২

    সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলা: ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে আহত ১২ সেনা, সংকটজনক ২

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাতে অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

    শুক্রবার সংঘটিত এই হামলার তথ্য মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইস লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় ঘাঁটির অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে কিছু রিফুয়েলিং বিমান ধ্বংস হয়ে গেছে।

    ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব

    রিয়াদ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে দুই হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন আছেন, যারা মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ও সামরিক সমন্বয় কার্যক্রমে কাজ করেন।

    এই ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম এবং থাড (THAAD) প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি পরিচালনা করা হয়, যা আকাশপথে আসা হামলা প্রতিহত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    সংঘাতের পটভূমি

    ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি।

    এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’। একই সময়ে ইসরায়েলও সমন্বিতভাবে অভিযান চালায়।

    এই অভিযানের প্রথম দিনেই ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নিহত হন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

    পাল্টা হামলায় ইরান

    এর জবাবে ইরানও একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে তেহরান।

    সৌদি আরব ছাড়াও কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান—এই দেশগুলোতেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    আগের হামলার রেশ

    এর আগে মার্চের শুরুতেও একই ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, যেখানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন। পরে তাদের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত এক মাস ধরে চলা সংঘাতে ইতোমধ্যে ৩০০-এর বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।

    বিশ্লেষণ

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে। একই সঙ্গে বড় আকারের সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়ছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: মার্কিন ঘাঁটির আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: মার্কিন ঘাঁটির আশপাশ এড়িয়ে চলার আহ্বান ইরানের বিপ্লবী গার্ডের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থানের কাছাকাছি এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)। শুক্রবার (২৭ মার্চ) প্রকাশিত এক সতর্কবার্তায় তারা জানায়, যেখানে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেই সব স্থান ভবিষ্যৎ হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    বিপ্লবী গার্ডের বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তাই নিজেদের সুরক্ষার স্বার্থে জনগণকে ওইসব এলাকা দ্রুত ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করে। প্রায় এক মাস ধরে চলমান এই সংঘর্ষ ক্রমেই জটিল ও বিস্তৃত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী কৌশলগতভাবে সাধারণ মানুষকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে তাদের উচিত সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেওয়া। অন্যথায় যেকোনো সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মহলও এই সংঘাতের দিকে গভীর নজর রাখছে, কারণ এর প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ‘অন্যায্য’—যুদ্ধবিরতিতে শর্ত জুড়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ‘অন্যায্য’—যুদ্ধবিরতিতে শর্ত জুড়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    এবিএনএ: চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘একতরফা’ ও ‘অন্যায্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তেহরান জানিয়েছে, এতে তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবটি দেশটির উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে। তার মতে, এতে ইরানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে, অথচ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অস্পষ্ট রাখা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, এই প্রস্তাব কার্যকর করার মতো প্রয়োজনীয় শর্তগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসার বাস্তবসম্মত সুযোগ খুবই সীমিত বলে মনে করছে তেহরান।

    তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে নেই। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে তুরস্ক ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এই জবাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এখন তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

    ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে বেশ কিছু শর্ত উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গুপ্তহত্যা ও সামরিক আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্রদান।

    এছাড়া সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সব গোষ্ঠীসহ সকল ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে দেশটি। হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে তেহরান।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবিগুলো তুলেছিল, বর্তমান শর্তগুলোর সঙ্গে সেগুলোরও মিল রয়েছে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইরান। তাদের মতে, শান্তি আলোচনার আড়ালে ওয়াশিংটন কৌশলগতভাবে সময় নিচ্ছে—যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শান্তিপ্রিয় হিসেবে তুলে ধরা, তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা।

  • মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

    মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে—তা নির্ধারণ করবে শুধুমাত্র ইরান নিজেই এবং তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপরই নির্ভর করবে সবকিছু।

    বুধবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের শেষ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইরান তার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবে।

    ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে। তবে তেহরানের দৃষ্টিতে এসব উদ্যোগ বাস্তবতা আড়াল করার কৌশল। তিনি ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত দুই দফা আলোচনাকে ‘প্রতারণামূলক’ উল্লেখ করে বলেন, তখনও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আন্তরিকতা ছিল না এবং পরে তারা সামরিক হামলা চালায়।

    এবার একটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আসা নতুন প্রস্তাবকেও ইরান উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ শর্ত

    ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে—

    ১. শত্রুপক্ষকে সব ধরনের আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
    ২. ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না—এমন কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
    ৩. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
    ৪. অঞ্চলের সব ফ্রন্টে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
    ৫. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

    ইরানি কর্মকর্তা জানান, এই শর্তগুলো আগের আলোচনায় উত্থাপিত দাবির সঙ্গেও যুক্ত থাকবে। সব শর্ত মেনে নেওয়া না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয় বলে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

    তিনি আরও বলেন, ইরান নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ করবে—যুক্তরাষ্ট্রের সময়সূচি বা চাপে নয়।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রায় ৮০ দফা পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

  • ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ঘিরে অস্বস্তিতে ইসরায়েল—গোপন চুক্তির শর্তে বাড়ছে নতুন শঙ্কা

    ট্রাম্পের শান্তি প্রস্তাব ঘিরে অস্বস্তিতে ইসরায়েল—গোপন চুক্তির শর্তে বাড়ছে নতুন শঙ্কা

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন, তা ইসরায়েলের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন, ট্রাম্প যেকোনও চুক্তিতে ইসরায়েলের স্বার্থ বিবেচনায় রাখবেন, তবুও সম্ভাব্য সমঝোতার খুঁটিনাটি নিয়ে সংশয় কাটছে না।

    রামাল্লাহ থেকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ধারণা করা হচ্ছে—ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র কতটা ছাড় দিতে পারে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

    ইসরায়েল আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা পরিকল্পনা ভবিষ্যৎ চুক্তির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এর আগে এক মাসের জন্য যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ প্রায় ৪৫০ কেজি ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ। এটি কি তৃতীয় কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করা হবে, নাকি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে দেওয়া হবে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। পাশাপাশি, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিও বড় একটি অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে।

    ইসরায়েল জানতে চাইছে, ভবিষ্যতে ইরান কি নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করবে না—এমন নিশ্চয়তা কতটা পাওয়া সম্ভব? একই সঙ্গে, তারা আশঙ্কা করছে ইরান আবারও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম শুরু করতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব বিষয় এখন গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে ইসরায়েল। একই সঙ্গে তারা চায়, যেকোনও চুক্তির আগে প্রয়োজন হলে ইরানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর মতো সময় যেন হাতে থাকে।