Tag: ইরান

  • সাত দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল-ইরানের অর্থনীতি চরম ক্ষতিগ্রস্ত, কে কতটা টিকবে?

    সাত দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল-ইরানের অর্থনীতি চরম ক্ষতিগ্রস্ত, কে কতটা টিকবে?

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা সাত দিন ধরে যুদ্ধ চলার ফলে দুই দেশের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে পড়েছে। সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে গাজা যুদ্ধ এবং নতুন সংঘর্ষে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক ক্ষতি কয়েকশ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির জন্য এক বিশাল বোঝা।

    গত শুক্রবার ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও পরমাণু বিশেষজ্ঞ নিহত হয়েছেন, পাশাপাশি কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। জবাবে ইরান ইসরায়েলের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    এই সহিংসতা শুধুমাত্র প্রাণহানির কারণ হচ্ছে না, উভয় দেশের অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দুই দেশের বাজেট ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক মন্দা গভীরতর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    ইসরায়েলের আর্থিক অবস্থা:
    গাজার সামরিক অভিযানের কারণে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েলের মোট ব্যয় ২৫০ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৬৭.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে মাত্র দুই দিনে ৫.৫ বিলিয়ন শেকেল (১.৪৫ বিলিয়ন ডলার) খরচ হয়েছে। এই হারে চললে সামনের সাত সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় গাজা যুদ্ধের খরচ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেটও বাড়ছে; ২০২৩ সালে এটি ছিল ৬০ বিলিয়ন শেকেল, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ বিলিয়নে এবং ২০২৫ সালে ১১৮ বিলিয়ন শেকেলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    ইরানের অর্থনৈতিক চিত্র:
    ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী রবিবার পর্যন্ত দৈনিক তেল ও কনডেনসেট রপ্তানি নেমে আসবে মাত্র ১ লাখ ২ হাজার ব্যারেলে, যা এ বছরের গড়ের অর্ধেকেরও কম। তেলের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ থেকে ট্যাংকার বের হয়নি এবং দক্ষিণ পার্সের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার ফলে ৮০ শতাংশ গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

    ২০১৮ সালের নিষেধাজ্ঞার পর ইরানের তেলের রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমেছে; ২০১৬ সালে যেখানে দৈনিক রপ্তানি ছিল ২.৮ মিলিয়ন ব্যারেল, তা ২০২২-২৩ সালে মাত্র ২ লাখ ব্যারেল এ নেমেছে। ফলে তেলের রাজস্ব প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ ও পানির ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব। সরকারি হিসেবেও মুদ্রাস্ফীতি ৪০ শতাংশ হলেও বিশেষজ্ঞরা এ হার ৫০ শতাংশের উপরে মনে করেন। বেকারত্ব সরকারি ৯.২ শতাংশ হলেও প্রকৃত হার বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে ইরানের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলো রাশিয়া। মস্কোর কড়া বক্তব্য—এই সংকটে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ শুধু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দেবে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস-কে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ইস্যুতে সেনা বা কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে সেটি একটি ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের সূচনা করতে পারে।”

    যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—দুটি বিপরীত শিবিরে

    ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় দুটি পরাশক্তি এখন স্পষ্টভাবে দুই বিপরীত অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন, অন্যদিকে রাশিয়া তেহরানকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রক্ষা করছে। এ বছরের শুরুতে পুতিন ও ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে সই হয় একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি, যাতে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

    বিশ্লেষকদের শঙ্কা: বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংকট শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়—এটি বিশ্ব কূটনীতির ভারসাম্যও নাড়িয়ে দিতে পারে। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে থাকলেও এই ইস্যু তা আবার উত্তপ্ত করে তুলছে। বিশেষ করে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনঃনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

    এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যর্থতা বা অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ যে কত বড় বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে, সেটাই যেন রাশিয়া বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে।

  • ইরান ইস্যুতে ফের ধোঁয়াশা, ট্রাম্প বললেন ‘আমি এখনও কিছু ঠিক করিনি’

    ইরান ইস্যুতে ফের ধোঁয়াশা, ট্রাম্প বললেন ‘আমি এখনও কিছু ঠিক করিনি’

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় এলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ইস্যুতে রহস্যজনক এক মন্তব্য করে নতুন করে কৌতূহলের জন্ম দিলেন তিনি।

    সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ট্রাম্প নাকি ইরানে হামলার একটি পরিকল্পনায় মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন। তবে তিনি এখনই সেটি কার্যকর না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। কারণ, তিনি মনে করছেন ইরান হয়তো তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে সরে আসবে।

    এই প্রতিবেদন ঘিরেই শুরু হয় জোর বিতর্ক। ট্রাম্প এরপর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেন, “ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আমার ইরান সংক্রান্ত ভাবনা সম্পর্কে কিছুই জানে না!”

    তিনি আরও বলেন, “আমি এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। সবাই আমাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করছে, কিন্তু আমি এখনো কিছু ঠিক করিনি। দেখা যাক সামনে কী হয়।”

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই ‘রহস্যপূর্ণ কৌশল’ নতুন নয়— অতীতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন ধোঁয়াশাপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।

  • “আমি করতেও পারি, নাও পারি”— ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ধোঁয়াশাপূর্ণ মন্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা

    “আমি করতেও পারি, নাও পারি”— ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ধোঁয়াশাপূর্ণ মন্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ:  ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চলেছে— এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। বিষয়টি ঘিরে একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি দিলেন ধোঁয়াশাপূর্ণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ উত্তর।

    এক সাংবাদিক জানতে চান, “যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা করছে?”
    এর জবাবে ট্রাম্প বলেন,
    “আমি এ বিষয়ে কিছু বলছি না… আপনি কি সত্যিই ভাবছেন যে আমি এমন প্রশ্নের জবাব দেব?”

    তিনি আরও বলেন,
    “আপনি জানেন না আমি কী করব। আমি হামলা চালাতেও পারি, নাও চালাতে পারি। কেউ জানে না আমি আসলে কী করতে যাচ্ছি।”
    এই বক্তব্যে যেন উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢাললেন ট্রাম্প।

    ট্রাম্প আরও বলেন,
    “ইরান এখন অনেক সমস্যায় আছে। তারা আলোচনা করতে চায়। আমি আগেই বলেছিলাম— কেন তারা আগেই আমার সঙ্গে বসেনি? এত প্রাণহানি, এত ধ্বংসের আগেই তো আলোচনার সুযোগ ছিল। তারা যদি দুই সপ্তাহ আগে কথা বলত, তাহলে তাদের একটা দেশ থাকত।”

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সম্ভাবনা এড়িয়ে না গিয়ে বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন। তাঁর কথায় রয়েছে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ছায়া, যা পরমাণু উত্তেজনার সময় আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

  • ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বুধবার এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, “বিশ্ব এখন এক চুলের ব্যবধানে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে।”

    জাখারোভা সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ইসরায়েল বারবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে, যা গোটা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো বিশ্বকে ভয়াবহ পারমাণবিক সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।

    কূটনৈতিক পর্যায়ে চলছে আলোচনা:
    রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানিয়েছেন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মস্কোর নিয়মিত আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স-এর বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, মস্কো এই সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে নিরসনের পক্ষে কাজ করছে।

    রিয়াবকভ আরও বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি এক ভয়াবহ অস্থিরতার দিকে যাবে। এতে শুধু এই অঞ্চলই নয়, গোটা পৃথিবী প্রভাবিত হবে।”

    বিশ্লেষকদের মত:
    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এমন হুঁশিয়ারি বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে পারে। একইসঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আনতে পারে।

  • ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

    ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

    এবিএনএ: ইসরায়েলের ওপর ইরান ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েছে—এমনটাই জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। বুধবার ইসরায়েলি দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে শুরু করে ইরান এখন পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে শত শত ড্রোন, যার অধিকাংশই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

    এই হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৮০০ জনেরও বেশি। এছাড়া প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে অন্তত ৩ হাজার ৮০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে।

    অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। তেহরানের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে ইরানে অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘসহ একাধিক বিশ্বসংস্থা দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তাল, এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা যে কোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরায়েল, ফের বাজল সাইরেন

    ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরায়েল, ফের বাজল সাইরেন

    এবিএনএ:

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তরের পাল্টা উত্তরের মাধ্যমে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইরান ফের ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

    এই হামলার জবাবে ইসরায়েল রাজধানীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বাজিয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

    তবে এখন পর্যন্ত এই নতুন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    এর আগে শনিবার রাতভর দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। তাতে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সেসব হামলার রেশ না কাটতেই আবারও ইরানের আক্রমণ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে মরিয়া।

  • তেল আবিবে ইরানের পাল্টা হামলা, ব্যর্থ আয়রন ডোমে ধসে পড়ে সামরিক সদর দপ্তর

    তেল আবিবে ইরানের পাল্টা হামলা, ব্যর্থ আয়রন ডোমে ধসে পড়ে সামরিক সদর দপ্তর

    এবিএনএ:

    ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার নতুন অধ্যায়ে শনিবার ভোরে তেল আবিবে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলের অতি প্রশংসিত আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তেল আবিবের কিরিয়া এলাকায় অবস্থিত সামরিক সদর দপ্তরে আঘাত হানে।

    এই ঘটনায় ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে, যা তারা “প্রতিশোধমূলক অভিযান” হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আকাশে উড়ে যাওয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে আয়রন ডোম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেটি ব্যর্থ হয়। মুহূর্তেই বিশাল বিস্ফোরণে আলোকচ্ছটা এবং আগুনে ছেয়ে যায় সামরিক সদর দপ্তরের একটি অংশ। ঘটনাস্থলের কাছেই ছিল মার্গানিট টাওয়ার, যেখানে আইডিএফের (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স) বেশ কয়েকটি অফিস রয়েছে।

    শুক্রবার সকালে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালায়। এতে ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানী নিহত হন। এর জবাবেই শনিবার ইরান এই পাল্টা হামলা চালায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হামলার সত্যতা স্বীকার করলেও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে দেশটির গোয়েন্দা সূত্র বলছে, হতাহতের সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

    এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

  • চুক্তিতে না এলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ইরানকে আবারও সতর্কবার্তা

    চুক্তিতে না এলে ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ইরানকে আবারও সতর্কবার্তা

    এবিএনএ:

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি তেহরান চুক্তিতে না আসে, তবে পরবর্তী হামলা আরও ভয়ঙ্কর হবে।

    ট্রাম্প শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, “আমি তাদের অনেকবার সতর্ক করেছি, বলেছি—এখনই সময় চুক্তিতে আসার। কিন্তু তারা তা করেনি। রক্তপাত আর ধ্বংস এরই মধ্যে অনেক হয়েছে, তবে সব কিছু শেষ হওয়ার আগে এখনও সময় আছে।”

    তিনি আরও বলেন, “যা একসময় পারস্য সাম্রাজ্য ছিল, তা রক্ষা করো। আর কোনো প্রাণহানি নয়, আর কোনো ধ্বংস নয়। এখনই সিদ্ধান্ত নাও, নইলে অনেক দেরি হয়ে যাবে।”

    এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময় এলো যখন রবিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি নিয়ে ষষ্ঠ দফার আলোচনা হবার কথা রয়েছে। আলোচনার আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কঠোর বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পরিকল্পনা তিনি আগেই জানতেন। তবে তিনি সাফ জানিয়েছেন—এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

    প্রসঙ্গত, শুক্রবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে অন্তত ৭০ জন নিহত হন এবং আহত হন আরও ৩২০ জনের বেশি।

    নিহতদের মধ্যে রয়েছেন—

    • মোহাম্মদ বাঘেরি, ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান

    • হোসেইন সালামি, আইআরজিসি প্রধান

    • ঘোলামালি রশীদ, সামরিক কমান্ডার

    • ফেরেয়দুন আব্বাসি, পরমাণু বিজ্ঞানী ও এআইওআই-এর সাবেক প্রধান

    • মোহাম্মদ মাহদি তেহরানচি, পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী

    এছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ খামেনির শীর্ষ উপদেষ্টা আলি শামখানি।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি এবং ইসরায়েলের হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন সামরিক সঙ্কটের সূচনা হতে পারে। এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, সেটাই দেখার বিষয়।

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: ইরানের পাল্টা হামলায় বদলে গেল যুদ্ধের দৃশ্যপট

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: ইরানের পাল্টা হামলায় বদলে গেল যুদ্ধের দৃশ্যপট

    এবিএনএ:

    মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে উত্তেজনার আগুন। বিতর্কিত এক সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান শুরু করেছে পাল্টা হামলা, যা পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

    ইরানি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে আমাদের জবাব ছিল অনিবার্য। যারা ইরানের সীমান্তে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে, তাদের জবাব পেতেই হবে।”

    এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পাল্টা হামলায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় রাতের অন্ধকারে চালানো এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত এবং লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইরান ও প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য উসকানিতেই বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক মহল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম দেখাতে বলেছে।

    এমন প্রেক্ষাপটে, সাধারণ মানুষ ও বিশ্ববাজারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে, শেয়ারবাজারে পতনের আভাসও মিলেছে।

    ইরানের এই পাল্টা হামলা শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক পর্যায়েও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতে পরিণত হতে পারে, যদি না দ্রুত সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফিরে আসা যায়।