Tag: হরমুজ প্রণালী

  • ইসলামাবাদে আরাঘচির বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরম দাবি’ মানবে না ইরান

    ইসলামাবাদে আরাঘচির বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরম দাবি’ মানবে না ইরান

    এবিএনএ: চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন করে শান্তি উদ্যোগের মধ্যে ইসলামাবাদে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘চরমপন্থি’ দাবি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি শনিবার পাকিস্তানের রাজধানীতে বৈঠকগুলোতে তেহরানের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরেন।

    কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যদিও আলোচনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি, তবে ইরান স্পষ্ট করেছে—চাপের মুখে কোনো একতরফা শর্ত মেনে নেওয়ার পরিকল্পনা নেই।

    এর আগে হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ইসলামাবাদ সফরে যেতে পারেন। তবে ইরান এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করেছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

    বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অচলাবস্থা আরও জটিল হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীতে চলাচল সীমিত করে দেওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানিতে বিভিন্ন বাধা আরোপ করছে। ফলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে।

    ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত সংঘাতের অবসান বিষয়ে তেহরানের নীতিগত অবস্থান সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হয়েছে। ইসলামাবাদে অবস্থানরত এক ইরানি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, “নীতিগতভাবে ইরান কোনো ‘ম্যাক্সিমালিস্ট’ বা চরম শর্ত গ্রহণ করবে না।”

    মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে মন্তব্য করেছিলেন, ইরানের সামনে একটি ইতিবাচক চুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে ইরান জানিয়েছে, তারা সরাসরি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা করছে না। বরং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের উদ্বেগ তুলে ধরবে।

    শুক্রবার ইসলামাবাদে পৌঁছান আরাকচি। সফরের অংশ হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত পূরণের লক্ষ্যে ইরান একটি প্রস্তাব দিতে পারে বলে তিনি শুনেছেন, যদিও প্রস্তাবের বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি অবগত নন। একই সঙ্গে তিনি আলোচনায় কারা যুক্ত আছে তা স্পষ্ট করেননি, তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে বলে উল্লেখ করেন।

    বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টেকসই করা ও উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক মহল নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকে তাকিয়ে আছে।

  • চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    এবিএনএ: শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রস্তাবটি গ্রহণ করার এটিই তেহরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

    এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তি করতে চান না। তার মতে, নতুন প্রস্তাবটি আগের চুক্তির তুলনায় আরও কঠোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হবে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হুমকি আসে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রণালীতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় ও গুলি চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতির মুখে ফেলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেহরান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে না বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অনেক দূরে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার।

    ট্রাম্প তার বার্তায় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত’ প্রস্তাব দিয়েছে। এটি গ্রহণ না করলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা হতে পারে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

    উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী রোববারও আংশিকভাবে বন্ধ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

  • মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ কার্যকর করতে আসা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে প্রয়োজনে সমুদ্রের তলদেশে পাঠানো হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলেদ্দিন বুরুজার্দি এ মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া অবরোধ নির্দেশ বাস্তবভিত্তিক নয় এবং এটি প্রচারণামূলক পদক্ষেপ। তার মতে, এমন অবরোধ কার্যকর করার মতো সক্ষমতা ওয়াশিংটনের নেই।

    তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোও এই উদ্যোগে অংশ নেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এই পদক্ষেপ নিতে চাইছে। ফলে পরিস্থিতি বাস্তবে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে যে কোনো বিদেশি সামরিক তৎপরতা উত্তেজনা বাড়াবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক বলেন, আগ্রাসনের চেষ্টা হলে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু হরমুজ প্রণালী নয়—ওমান সাগর বা অন্য কোনো এলাকায় বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ দেখা গেলে ইরান তা প্রতিহত করবে।

    ইরানের কর্মকর্তারা আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ সফল হবে না। বরং এ ধরনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

  • ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    এবিএনএ: ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর ঘিরে অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে এই অবরোধ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

    মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ হলেও এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজন হলে জাহাজগুলোকে মাঝপথে থামানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা জব্দ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তবে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর বন্দরে যাওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরব সাগর এলাকায় অবস্থানরত জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও অবরোধ কার্যকর করা হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। তেহরান জানায়, তাদের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ রপ্তানিও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন করে অবরোধ কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের, সংবাদমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের, সংবাদমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ

    এবিএনএ: ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। তার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সাফল্য সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে, যেন মার্কিন বাহিনী পিছিয়ে পড়ছে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম হয় বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বাস্তবতা বিকৃত করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নৌ ও বিমান শক্তির বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালী দ্রুত স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তেলবাহী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে কোনো সংবাদমাধ্যমের নাম উল্লেখ করেননি, যারা ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভুল তথ্য প্রচার করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্যের ভিন্নতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এমন বক্তব্য সামনে আসছে। এতে সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক জনমত আরও বিভক্ত হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

  • ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    ইরানের খারগ দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা, পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপটিতে একাধিক স্থানে হামলা চালানো হয়। একই দিনে ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে সেতু, বিমানবন্দর ও শিল্প স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    পারস্য উপসাগরে অবস্থিত খারগ দ্বীপকে ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটির বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়। ফলে সেখানে হামলার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, অভিযানের সময় দ্বীপের উত্তরাংশে বিমান হামলা চালিয়ে সামরিক বাঙ্কার, গুদাম, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়। এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

    ট্রাম্পের ওই বার্তায় তিনি ইঙ্গিত দেন, সময়সীমা অতিক্রম করলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইরানে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন এবং এটিকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে আখ্যা দেন।

    অন্যদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, খারগ দ্বীপে হামলা কোনো নতুন কৌশলের অংশ নয়। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এদিকে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রেল ও সড়ক সেতু, একটি বিমানবন্দর এবং পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় হামলা হয়েছে। কাশান এলাকায় একটি রেলসেতুতে হামলায় অন্তত দুইজন নিহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    ঘটনার পর ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কঠোর প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করলে ইরানের প্রতিক্রিয়া শুধু অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলার সূচনা তারা করেনি, তবে এমন হামলার জবাব দিতে দেরি করা হবে না।

    ট্রাম্পের নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

  • “আজ রাতেই বদলে যেতে পারে ইতিহাস!”—ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা

    “আজ রাতেই বদলে যেতে পারে ইতিহাস!”—ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরানকে কেন্দ্র করে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে কড়া বার্তা দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, “আজ রাতেই এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, যা একটি সম্পূর্ণ সভ্যতার অবসান ডেকে আনবে—যা আর কখনও ফিরে আসবে না।”

    তবে একইসঙ্গে তিনি এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি অনিবার্য বলে উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন পরিণতি চান না, যদিও পরিস্থিতি সেই দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে বিচক্ষণ ও কম উগ্র মনোভাবের ব্যক্তিরা সামনে আসছেন। এ পরিবর্তন ইতিবাচক কিছু ঘটার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তার ভাষায়, বিশ্ব এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং খুব শিগগিরই এর ফলাফল জানা যাবে। তিনি এটিকে দীর্ঘ ও জটিল বৈশ্বিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশক ধরে ইরানে দুর্নীতি, সহিংসতা ও চাঁদাবাজির রাজত্ব চলছে, যার অবসান হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি ইরানের জনগণের কল্যাণ কামনা করেন।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

  • হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    এবিএনএ:হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি আসার পর তা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। রসিকতার সুরে তারা বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ‘চাবি হারিয়ে গেছে’, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্টে জিম্বাবুয়েতে ইরানের দূতাবাস ব্যঙ্গ করে জানায়, তারা নাকি ‘চাবি হারিয়ে ফেলেছে’। একই ধরনের পোস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের কূটনৈতিক মিশন মন্তব্য করে, ‘চাবি ফুলের টবের নিচে রাখা—শুধু বন্ধুদের জন্য খোলা।’ এসব মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালীটি চালু না হলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরও মিলছে।

    এদিকে ইরান পাল্টা সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা চালানোর কথাও উল্লেখ করেছে তেহরান।

    চলমান উত্তেজনায় ইতোমধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা

    মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের, হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ইরান ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। ইরানি সেনাবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি মন্তব্য করেছেন, “পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র যে ১৭টি ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, সেগুলো এখন আমাদের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে। আমেরিকানরা তাদের ঘাঁটি ও সেনাবাহিনী রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।”

    ২০২৫ যুদ্ধ ও নীতি পরিবর্তন

    শেখারচি উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতি আক্রমণাত্মক নীতিতে রূপান্তর করেছে। তিনি বলেন, “গত ৪৭ বছরে আমরা কারও ওপর আক্রমণ চালাইনি এবং ভবিষ্যতেও অন্য দেশে আগ্রাসন করব না। তবে যদি কেউ আমাদের ওপর হামলা চালায়, আমরা পাল্টা আঘাত চালাব যতক্ষণ না শত্রু ধ্বংস হয়।”

    হরমুজ প্রণালী নিয়ে সতর্কবার্তা

    হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শেখারচি বলেন, “এই অঞ্চলের অবস্থা আর আগের মতো থাকবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও আমরা কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছি, যা সকল দেশকে মানতে হবে।”

    তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে নিজেদের উপস্থিতি দৃঢ় করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মুসলিম দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে তাদের এলাকায় আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।”

    ইরানের সামরিক সক্ষমতা

    মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সামরিক ক্ষমতা প্রতিনিয়ত শক্তিশালী হচ্ছে এবং বাহিনী ক্রমাগত তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করছে, যাতে যে কোনো আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়।

  • ইরানে হামলা আপাতত বন্ধ! ৫ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    ইরানে হামলা আপাতত বন্ধ! ৫ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মোড় নিয়েছে United StatesIran সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, গত দুই দিনে দুই দেশের মধ্যে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে এবং বিরোধ নিরসনে কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সংঘাত এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এর আগে ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দিয়ে ইরানকে Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যথায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরানও। তারা সতর্ক করে দেয়, মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানতে পারে।

    আল্টিমেটামের সময়সীমা প্রায় শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ‘ভালো অগ্রগতির’ দিকে এগোচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও জানান, প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আগামী পাঁচ দিন ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত চলমান আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অগ্রগতির দাবি করা হলেও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান। বরং সাম্প্রতিক সময়গুলোতে তেহরান বারবার বলে আসছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সাময়িক স্থগিতাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।