আবাহনীতে গিয়ে ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর
আবাহনী-মোহামেডানের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ, খেলাধুলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করতে ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা


এবিএনএ: দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। শনিবার বিকেলে ঐতিহ্যবাহী আবাহনী লিমিটেড ক্লাব পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, খেলাধুলাকে দলীয় প্রভাবের বাইরে রেখে স্বচ্ছ পরিবেশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
সম্প্রতি মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব পরিদর্শনের পর এবার আবাহনীতে যান প্রতিমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত হয়ে সাবেক এই ফুটবলার বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আবাহনী ও মোহামেডানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের ফুটবলের ঐতিহ্যের অংশ। তবে গত কয়েক বছরে এই ক্লাবগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমান সরকার সেই ধারা থেকে বেরিয়ে এসে ক্লাবগুলোর স্বাধীন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে চায় বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আবাহনীর ব্যবস্থাপনায় নতুনত্ব আনা হলে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলায় ক্লাবটির পুরোনো গৌরব ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, তরুণ সমাজকে নৈতিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।
আবাহনী পরিদর্শনে মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি উল্লেখ করে তিনি এটিকে স্পোর্টসম্যানশিপের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন। তার মতে, ক্লাবগুলো শক্তিশালী হলে খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎও নিরাপদ হবে। এ কারণে সরকার সব ধরনের ক্রীড়া ক্লাবকে টেকসই সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
তিনি আরও জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতোমধ্যে ৩০০ খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া এবং বিসিবির এডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহা ও রফিকুল ইসলাম বাবুসহ ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।




