Tag: পেন্টাগন

  • ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। স্থানীয় সময় বুধবার কংগ্রেসে এক শুনানিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের মোট ব্যয়ের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব।

    কংগ্রেসে কী জানানো হয়েছে?

    হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বক্তব্য দেন পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার বড় অংশই গোলাবারুদ ও যুদ্ধ সরঞ্জামের পেছনে খরচ হয়েছে।

    তবে এই ব্যয়ের বিস্তারিত কাঠামো পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটির সংস্কার বা পুনর্গঠনের খরচ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যয়ের খাত ও ক্ষয়ক্ষতি

    হার্স্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এই সংঘাতে রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ এই তথ্য প্রকাশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব জানতে চাওয়া হচ্ছিল।

    আগের হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য

    উল্লেখ্য, গত মাসে রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। বর্তমান হিসাব সেই তুলনায় অনেক বেশি, যা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর ৭ এপ্রিল থেকে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও রয়েছে।

    এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    অর্থনীতি ও জনমত

    যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

    এদিকে জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ নিয়ে জনগণের সমর্থন কমছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন।

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য! শীর্ষ জেনারেলদের বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্রে অভূতপূর্ব সংকট

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য! শীর্ষ জেনারেলদের বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্রে অভূতপূর্ব সংকট

    এবিএনএ: ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর দেওয়া স্থল অভিযান সংক্রান্ত নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, যা নতুন করে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

    জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সামনে আসে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় এক ডজন জেনারেল এই নির্দেশ বাস্তবায়নে আপত্তি জানান। এর জেরে হোয়াইট হাউস এবং Pentagon-এর মধ্যে মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

    এই পরিস্থিতিতে Joint Chiefs of Staff-এর চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা এটিকে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে অন্যতম বড় রদবদল হিসেবে দেখছেন।

    এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই অস্বীকৃতি কি কোনো ‘অবৈধ নির্দেশ’ প্রত্যাখ্যানের আইনি অধিকার, নাকি এটি সামরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল? একপক্ষ বলছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এবং অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তারা ঝুঁকি এড়াতে এই অবস্থান নিয়েছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞ জেনারেলদের সরিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং অপ্রত্যাশিত সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়ছে।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শূন্য পদগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে এবং চলমান সামরিক কার্যক্রমে এর প্রভাব কী হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিধর দেশের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরানে আজ ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হানার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত

    ইরানে আজ ‘সবচেয়ে বড় আঘাত’ হানার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার ইঙ্গিত

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর আরও বড় সামরিক আঘাত হানার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় দশ দিন পর মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হতে পারে।

    মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর Pentagon-এ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে কম অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা Dan Caine বলেন, প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নির্দেশে চলমান অভিযানে অংশ নিয়ে যেসব মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে।

    তিনি জানান, বর্তমান অভিযানে তিনটি প্রধান লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র বাহিনী। প্রথমত, সম্ভাব্য হামলার আগেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা ধ্বংস করা। দ্বিতীয়ত, ইরানের নৌবাহিনীর সামরিক শক্তিকে দুর্বল করা। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে যেন ইরান যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের ওপর আঘাত হানতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

    জেনারেল কেইন আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে যে মাত্রায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছিল ইরান, এখন তা প্রায় ৯০ শতাংশ কমে এসেছে। বর্তমানে মার্কিন বাহিনী ইরানের মাইন স্থাপনকারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ বলেন, এই সংঘাতের ফলাফল শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেই যাবে এবং ইরানের তথাকথিত ‘পারমাণবিক চাপ’ মেনে নেওয়ার কোনো প্রশ্নই নেই।

    এর আগে প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি Strait of Hormuz-এ তেল পরিবহন ব্যাহত করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী পাল্টা আঘাত হানবে।

    বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে হেগসেথ বলেন, সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু না করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত সতর্ক। কোনো অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

    ইরান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত—এমন দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরঞ্জাম ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হয়েছেন—এমন খবরের বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধটি কতদিন চলবে বা কখন শেষ হবে—সে সিদ্ধান্ত মূলত প্রেসিডেন্টের ওপর নির্ভর করছে।

  • ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রদর্শনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রস্তুতি

    ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রদর্শনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রস্তুতি

    এবিএনএ: ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যতিক্রমী শক্তি’ দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন

    ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক টানাপোড়েন ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা চলার মধ্যেই এই সামরিক প্রস্তুতির বার্তা এল। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর বরাতে জানা যায়, জেনেভায় ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার; বৈঠকে ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে পারে। একই দিনে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

    ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না—সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিই ‘সবচেয়ে কার্যকর পথ’ হতে পারে। তবে শাসন পরিবর্তনের পর নেতৃত্ব কারা দেবেন—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। উত্তর ক্যারোলিনায় এক সামরিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, বহু বছর ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    ওয়াশিংটন চায় পারমাণবিক আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীতে সহায়তা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমা আরোপে আলোচনায় বসতে রাজি হলেও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু আলোচনায় আনতে নারাজ।

    ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সমঝোতা না হলে ইরানের ওপর হামলার পথ খোলা থাকবে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও জবাব দেওয়ার কথা বলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, নৌবহরের অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড শিগগিরই অঞ্চলে পৌঁছে আব্রাহাম লিনকন ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে। সঙ্গে থাকবে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান।

    পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বাধুনিক ও বৃহৎ এই বিমানবাহী রণতরীটি সম্প্রতি মোতায়েন করা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হলে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে।

  • ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রাম্পের চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত: ৩৩ বছর পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

    এবিএনএ:  ৩৩ বছর পর আবারও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষায় ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনকে অবিলম্বে এই পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার অবসান ঘটিয়ে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার মঞ্চে ফিরছে ওয়াশিংটন।

    বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কয়েক মিনিট আগে ট্রাম্প এই নির্দেশ জারি করেন। নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “অন্য দেশগুলো যখন পারমাণবিক পরীক্ষা চালাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রও সমান ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরু করবে। এই প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হচ্ছে।”

    তিনি আরও জানান, “রাশিয়া বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে আছে এবং চীন দ্রুত এগিয়ে আসছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই তারা সমকক্ষ অবস্থানে পৌঁছে যাবে।” তবে ট্রাম্প বিস্তারিত কিছু না জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও দেননি। এতে স্পষ্ট নয় যে, তিনি পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষার কথা বলেছেন নাকি ক্ষেপণাস্ত্র ফ্লাইট টেস্টের কথা বোঝাতে চেয়েছেন।

    জাতিসংঘের তথ্য অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা চালায় ১৯৪৫ সালে। সেই থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত দেশটি মোট ১,০৩২টি পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে। একই বছর তারা সর্বশেষ পরীক্ষা চালায় এবং পরে সিটিবিটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও কখনও তা অনুমোদন করেনি।

    বিশ্লেষক সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস) জানায়, চীনের পারমাণবিক ভান্ডার গত পাঁচ বছরে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০ সালে যেখানে চীনের হাতে প্রায় ৩০০টি পারমাণবিক অস্ত্র ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০০টির কাছাকাছি। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ধারণা, ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাবে।

    বিশ্বে পারমাণবিক যুগের সূচনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের হাত ধরেই। ১৯৪৫ সালের জুলাইয়ে নিউ মেক্সিকোর আলামোগোর্দোতে প্রথম ২০ কিলোটন শক্তির বোমা পরীক্ষার মাধ্যমে ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। একই বছরের আগস্টে জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতি ঘটে।

    এবার ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র আবার সেই পথেই হাঁটছে—যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও প্রতিযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় অভিবাসী আটক কেন্দ্র

    যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে সবচেয়ে বড় অভিবাসী আটক কেন্দ্র

    এবিএনএ:  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় এবার টেক্সাসে একটি সামরিক ঘাঁটিতে গড়ে তোলা হবে দেশের সবচেয়ে বড় ফেডারেল অভিবাসী আটক কেন্দ্র।

    বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফোর্ট ব্লিস নামক সামরিক ঘাঁটিতে প্রাথমিকভাবে এক হাজার অভিবাসীকে রাখার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অভিবাসন নীতিরই অংশ।

    পেন্টাগনের দেওয়া তথ্যমতে, অভিবাসীদের আটক করার জন্য সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করার বিষয়টি এই প্রথম নয়, তবে এবার এটি আরও বৃহৎ আকারে বাস্তবায়নের দিকে যাচ্ছে।

    ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছেন। সীমান্তে নজরদারি জোরদার হয়েছে, অনেকে তাদের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা হারিয়েছেন, এবং কিছু অভিবাসীকে গুয়ান্তানামো বে-তে স্থানান্তরও করা হয়েছে।

    তবে পরিকল্পনার তুলনায় বাস্তবে পাঠানো ব্যক্তির সংখ্যা এখনো তুলনামূলকভাবে কম।

    নতুন এই পরিকল্পনার মাধ্যমে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।