আমেরিকা

ইরানে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি প্রদর্শনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রস্তুতি

পারমাণবিক ইস্যুতে সমঝোতা না হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি; দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠাল পেন্টাগন

এবিএনএ: ইরানে সম্ভাব্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে কড়া অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের ‘ব্যতিক্রমী শক্তি’ দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।

ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক টানাপোড়েন ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা চলার মধ্যেই এই সামরিক প্রস্তুতির বার্তা এল। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর বরাতে জানা যায়, জেনেভায় ইরানের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার; বৈঠকে ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রাখতে পারে। একই দিনে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না—সাংবাদিকদের প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটিই ‘সবচেয়ে কার্যকর পথ’ হতে পারে। তবে শাসন পরিবর্তনের পর নেতৃত্ব কারা দেবেন—এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কিছু বলতে রাজি হননি তিনি। উত্তর ক্যারোলিনায় এক সামরিক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, বহু বছর ধরে চলা সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে।

ওয়াশিংটন চায় পারমাণবিক আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীতে সহায়তা এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত হোক। অন্যদিকে তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমা আরোপে আলোচনায় বসতে রাজি হলেও ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু আলোচনায় আনতে নারাজ।

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সমঝোতা না হলে ইরানের ওপর হামলার পথ খোলা থাকবে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও জবাব দেওয়ার কথা বলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, নৌবহরের অংশ হিসেবে বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড শিগগিরই অঞ্চলে পৌঁছে আব্রাহাম লিনকন ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে। সঙ্গে থাকবে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান।

পেন্টাগনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সর্বাধুনিক ও বৃহৎ এই বিমানবাহী রণতরীটি সম্প্রতি মোতায়েন করা হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হলে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button