Category: আমেরিকা

  • গাজা ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প

    গাজা ইস্যুতে মুসলিম বিশ্বের নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প

    এবিএনএ:  গাজায় চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সংকট ঘিরে মুসলিম বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

    হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, বৈঠকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিশর, জর্ডান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। আলোচনায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হবে গাজার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৈঠকে শান্তি প্রস্তাব ও যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসন কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা আলোচনায় আসবে। সেখানে জিম্মি মুক্তি, যুদ্ধের অবসান, ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার এবং হামাস ছাড়া বিকল্প শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

    ওয়াশিংটন চাইছে, আরব ও মুসলিম দেশগুলো গাজায় শান্তিরক্ষী সেনা পাঠাক, যাতে ইসরায়েল সেনা প্রত্যাহার করতে পারে। একইসঙ্গে পুনর্গঠন ও স্থানান্তরকালীন ব্যয়ের জন্য অর্থায়নেও মুসলিম দেশগুলোর সহায়তা চাওয়া হবে।

    ট্রাম্পের এই উদ্যোগ সামনে এলো এমন এক সময়ে, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে বিশ্বের বহু দেশ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও বেলজিয়ামের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো স্পষ্টভাবে জানিয়েছে— টেকসই শান্তির একমাত্র সমাধান হলো দুই-রাষ্ট্র নীতি। তবে ইসরায়েল এই স্বীকৃতিকে ‘সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করা’ বলে উল্লেখ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেছে।

  • পুতিন-শি-কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন: অভিযোগ ট্রাম্পের

    পুতিন-শি-কিম যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন: অভিযোগ ট্রাম্পের

    এবিএনএ:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।

    চীনের বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে এই তিন নেতা একসাথে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে চীন তাদের আধুনিক সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন করে—যার মধ্যে ছিল লেজার প্রযুক্তি, যা প্রতিপক্ষের বিদ্যুৎ লাইন বিকল করতে সক্ষম। এছাড়া হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, উন্নত সাবমেরিন ও মানববিহীন যুদ্ধ ব্যবস্থা প্রদর্শন করা হয়।

    কুচকাওয়াজের উদ্বোধন করে শি জিনপিং বলেন, বিশ্ব এখনো শান্তি নাকি যুদ্ধের বিকল্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি আরও যোগ করেন, “চীন অপ্রতিরোধ্য।” এই আয়োজনে অতিথি হিসেবে শি-র পাশে ছিলেন পুতিন ও কিম।

    ট্রাম্প পরে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি শি জিনপিংকে উদ্দেশ করে লেখেন, “আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন, দয়া করে পুতিন ও কিমকে আমার শুভেচ্ছা পৌঁছে দেবেন।” যদিও বার্তার শেষে তিনি চীনের জনগণের জন্য শুভকামনা জানান।

    অন্যদিকে, ট্রাম্পের অভিযোগকে গুরুত্বহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ক্রেমলিনের শীর্ষ কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, “এখানে কোনো ষড়যন্ত্র নেই। শি, পুতিন ও কিম—কোনও নেতার মধ্যেই এমন ভাবনা ছিল না।”

  • সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে শুরু হচ্ছে বড় আইনি লড়াই

    সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্পের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণে শুরু হচ্ছে বড় আইনি লড়াই

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ নিয়ে বড় আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, সেগুলো তাকে একের পর এক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।

    গত সপ্তাহে ১১১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার ফেডারেল রিজার্ভের একজন গভর্নরকে বরখাস্ত করেন ট্রাম্প। লিসা কুক নামে ওই গভর্নরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মনোনয়ন পাওয়ার আগে বন্ধক-সংক্রান্ত কাগজে ভুয়া তথ্য জমা দিয়েছিলেন। তবে কুক অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে আদালতে শুনানি হলেও এখনও রায় ঘোষণা হয়নি।

    অর্থনীতিতে ট্রাম্পের আরেকটি বড় পদক্ষেপ হলো নতুন শুল্ক আরোপ। যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের আমদানির ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর বসানোর পাশাপাশি কানাডা, মেক্সিকো, ভারত ও চীনের পণ্যের ওপরও বিশেষ শুল্ক আরোপ করেছেন তিনি। কিন্তু ফেডারেল আপিল আদালত এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জানিয়েছে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট এককভাবে কর আরোপ করতে পারেন না।

    রবিবার ট্রাম্প প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, তিনি এই রায় সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করবেন। আদালতের রায়কে তিনি ‘র‍্যাডিকাল লেফটের ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করে দাবি করেন, “শুল্ক ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র টিকতে পারবে না, ধ্বংস হয়ে যাবে।”

    এদিকে বিদেশি সহায়তা আটকে রাখার বিষয়েও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন জটিলতার মুখে পড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো—মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার প্রকৃত সীমা কোথায় নির্ধারণ হবে তা স্থির করা।

  • মার্কিন আদালতের রায়ে ট্রাম্পের শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষিত, কংগ্রেসের এখতিয়ার নিশ্চিত

    মার্কিন আদালতের রায়ে ট্রাম্পের শুল্কনীতি অবৈধ ঘোষিত, কংগ্রেসের এখতিয়ার নিশ্চিত

    এবিএনএ:  মার্কিন ফেডারেল সার্কিট আপিল আদালত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত বৈশ্বিক শুল্কের বেশিরভাগকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। আদালতের মতে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (আইইইপিএ) অনুযায়ী শুল্ক আরোপ প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারের বাইরে, যা শুধুমাত্র কংগ্রেসের কর্তৃত্বাধীন।

    সাত-চার ভোটে দেওয়া রায়ে আদালত স্পষ্ট জানায়, ট্রাম্পের যুক্তি আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ১২৭ পৃষ্ঠার বিস্তারিত রায়ে বলা হয়, আইইইপিএতে কোথাও শুল্ক আরোপের অনুমতি নেই এবং কংগ্রেসই কর ও শুল্ক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা।

    এই রায় কার্যকর হবে আগামী ১৪ অক্টোবর থেকে, যাতে ট্রাম্প প্রশাসন চাইলে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার সময় পায়।

    রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “এই রায় বহাল থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হয়ে যাবে।” তিনি আরও দাবি করেন, আদালত পক্ষপাতদুষ্ট এবং আমেরিকার স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তার মতে, শুল্ক তুলে নিলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়বে।

    ট্রাম্প পূর্বে যুক্তি দিয়েছিলেন, বাণিজ্য ঘাটতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং তাই জরুরি অবস্থা জারি করে শুল্ক আরোপ বৈধ। তবে আদালত বলেছে, ১৯৭৭ সালে কংগ্রেস আইইইপিএ পাশ করলেও তা কখনো প্রেসিডেন্টকে সীমাহীন ক্ষমতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল না। বরং শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে সবসময় ‘ট্যারিফ’ বা ‘ডিউটি’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে কংগ্রেসের কর্তৃত্বই নিশ্চিত করা হয়েছে।

    ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের করা মামলার ভিত্তিতেই আদালত এই রায় দেয়। এসব মামলার সূত্র ছিল ট্রাম্পের গত এপ্রিলে দেওয়া নির্বাহী আদেশ, যেখানে তিনি প্রায় সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক এবং আরও কিছু দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছিলেন।

  • ট্রাম্পবিরোধী নীতি ও সেনা মোতায়েনে ক্ষোভ: আমেরিকার ৯০০ শহরে বিক্ষোভের ডাক

    ট্রাম্পবিরোধী নীতি ও সেনা মোতায়েনে ক্ষোভ: আমেরিকার ৯০০ শহরে বিক্ষোভের ডাক

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১ সেপ্টেম্বর সোমবার দেশব্যাপী বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে মার্কিন শ্রমিক সংগঠন এএফএল-সিআইও। শ্রমিক দিবসকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ৯০০-এরও বেশি স্থানে

    শিকাগো টিচার্স ইউনিয়নের ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাকসন পোটার জানান, এই কর্মসূচি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “ট্রাম্পের নীতিতে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ হচ্ছে এবং অভিবাসীদের ওপর নির্যাতন বাড়ছে। আমরা এই পরিস্থিতি মেনে নিতে পারি না।”

    ‘ওয়ার্কার্স অভার বিলিয়নেয়ার’ ব্যানারে আয়োজিত এ আন্দোলন শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এর আগে, ১৪ জুন ‘নো কিংস’ শীর্ষক এবং ২ আগস্ট আরও একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি সারা যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হয়েছিল। তবে এবারের শ্রমিক দিবসের বিক্ষোভের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের কৌশল, যার লক্ষ্য রিপাবলিকান প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি ও আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার।

    নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস, হিউস্টন, মায়ামি, আটলান্টা, সানফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ডেট্রয়েট, ডেনভারসহ প্রায় সব বড় শহরেই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া আলাস্কা, আলাবামা, নেব্রাস্কা, নর্থ ক্যারোলিনা, ওকলাহোমা, লাসভেগাস, হাওয়াই, মিনিয়াপোলিসসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ছোট-বড় শহরেও একযোগে বিক্ষোভ চলবে।

    শ্রমিক সংগঠনগুলোর মতে, এ কর্মসূচি শুধু প্রতিবাদ নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বার্তা বহন করবে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: নিহত ৩, আহত কমপক্ষে ২০

    যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলা: নিহত ৩, আহত কমপক্ষে ২০

    যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে একটি ক্যাথলিক স্কুলে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুরে হওয়া এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া গুরুতর আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ২০ জন। পরে পুলিশের গুলিতে হামলাকারী নিহত হন।

    পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী কালো পোশাকে ছিলেন এবং তাঁর হাতে ছিল একটি রাইফেল। গ্রীষ্মকালীন ছুটি শেষে স্কুল চালু হওয়ার মাত্র দুই দিন পর এ হামলার ঘটনা ঘটে। অ্যানুনসিয়েশন ক্যাথলিক স্কুলে প্রি–স্কুল থেকে অষ্টম গ্রেড পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে।

    অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “স্কুলে গুলিবর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে আমাকে ব্রিফ করা হয়েছে, আমি পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি আরও জানান, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে।

    এ ঘটনায় মিনেসোটা ক্রিমিনাল অ্যাপ্রিহেনশন ব্যুরো, স্টেট প্যাট্রোল এবং স্থানীয় পুলিশ একসঙ্গে কাজ করছে।

    মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে বলেন, “এটি ভয়াবহ সহিংসতা। আমরা জরুরি বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছি।”

    বিবিসির অংশীদার সিএসবিএস নিউজ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের কাছে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছেছে। এছাড়া এফবিআই, অঙ্গরাজ্যের পুলিশ এবং মিনিয়াপোলিস পুলিশ একযোগে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।

    স্থানীয় পুলিশের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, বন্দুকধারী ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত চলছে।

  • বাল্টিমোরে সেনা পাঠানোর হুমকি ট্রাম্পের, চরম উত্তেজনা ছড়াচ্ছে মার্কিন রাজনীতিতে

    বাল্টিমোরে সেনা পাঠানোর হুমকি ট্রাম্পের, চরম উত্তেজনা ছড়াচ্ছে মার্কিন রাজনীতিতে

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার ম্যারিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বাল্টিমোরে সেনা মোতায়েনের হুমকি দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে গভর্নর ওয়েস মুরের সঙ্গে তার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।

    কয়েক দিন আগেই ওয়েস মুর ট্রাম্পকে নিরাপত্তা পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। কিন্তু ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, প্রয়োজন হলে তিনি ‘সেনা পাঠাবেন’, যেমন ওয়াশিংটন ডিসিতে পাঠানো হয়েছিল। তার দাবি, এভাবেই দ্রুত অপরাধ দমন সম্ভব হবে।

    ডেমোক্র্যাট নেতারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করছেন। তাদের অভিযোগ, শহরের ভেতরে সামরিক বাহিনী ব্যবহার করা সরাসরি ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’। গভর্নর মুর ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অজ্ঞতাপূর্ণ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং বলেছেন, স্থানীয় জনগণের বাস্তবতা না জেনেই বারবার ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে।

    ট্রাম্প ইতোমধ্যেই ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় দুই হাজার সেনা মোতায়েন করেছেন, যেখানে অপরাধ দমন অভিযানে কয়েকশ’ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, রাজধানীসহ অন্যান্য শহরে সেনা নামানো মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ।

    ২০২৪ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধের হার ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে, আর ২০২৫ সালেও সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবুও ট্রাম্প শিকাগো ও নিউইয়র্কেও সেনা পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইলিনয়ের গভর্নর জেবি প্রিটজকার এটিকে ‘ক্ষমতার চরম অপব্যবহার’ বলে মন্তব্য করেছেন।

    এক জরিপে দেখা গেছে, বাল্টিমোরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ শহরে সেনা বা ফেডারেল বাহিনী মোতায়েনের বিপক্ষে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত দেশটির রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়িয়ে তুলবে।

  • রাশিয়ার বিরুদ্ধে আবারও নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্পের

    রাশিয়ার বিরুদ্ধে আবারও নিষেধাজ্ঞার হুমকি ট্রাম্পের

    এবিএনএ:  ইউক্রেনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আবারও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের এক সপ্তাহ পর ট্রাম্প এই হুমকি দিয়েছেন। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।

    ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একটি সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি, আর সেটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে—সেটা হয়তো ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা হবে বা ব্যাপক শুল্ক হবে, কিংবা দুটোই হতে পারে। আবার আমরা কিছুই নাও করতে পারি এবং বলতে পারি —এটা তোমাদের লড়াই।’

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, তিনি রাশিয়ার একটি হামলায় অসন্তুষ্ট, যেখানে ইউক্রেনে একটি মার্কিন কারখানায় আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন কর্মী আহত হন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি শুক্রবার বলেন, রাশিয়া সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যেন পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক না হয়।

    ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন যে, আলাস্কার বৈঠকের পর সোমবার পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করে তিনি পুতিন-জেলেনস্কির বৈঠকের ব্যবস্থা শুরু করেছেন। অন্যদিকে জেলেনস্কি বারবার বলে আসছেন যে, যুদ্ধ বন্ধে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক।
    রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এনবিসিকে বলেন, কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা নেই, তবে ‘যখন একটি উপযুক্ত এজেন্ডা তৈরি হবে তখন পুতিন জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত। আর এই এজেন্ডা এখনো একেবারেই প্রস্তুত নয়।’মস্কোর এই অবস্থান ট্রাম্পের জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে এসেছে, যিনি পুরো সপ্তাহ জুড়ে দাবি করেছিলেন যে তিনি মস্কো ও কিয়েভকে শান্তির পথে আনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক অগ্রগতি সাধন করেছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে ৬ হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল

    যুক্তরাষ্ট্রে একসঙ্গে ৬ হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল

    এবিএনএ: এক কড়াকড়ি পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্র ৬ হাজারেরও বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, আইন ভঙ্গ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকের বিরুদ্ধেই হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের অভিযোগ রয়েছে। যদিও “সন্ত্রাসবাদে সমর্থন” বলতে নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ফিলিস্তিনের পক্ষ নেওয়া কিছু শিক্ষার্থীর কার্যক্রমকে ঘিরেই নজরদারির কথা উল্লেখ করা হয়।

    সংস্থাটি জানায়, ভিসা বাতিল হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার জনের ভিসা বাতিল হয়েছে সরাসরি আইন লঙ্ঘনের কারণে। এছাড়া ২০০ থেকে ৩০০ শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আইএনএ থ্রি-বি আইন এর আওতায়, যেখানে মানুষের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

    এ বছরের শুরুতে শিক্ষার্থী ভিসার সাক্ষাৎকার স্থগিত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। জুনে পুনরায় প্রক্রিয়া চালুর সময় নতুন শর্ত দেওয়া হয়—সকল আবেদনকারীকে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট জমা দিতে হবে, যাতে তাদের অনলাইন কার্যক্রম যাচাই করা যায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ বা বিদ্বেষমূলক আচরণ শনাক্ত করা সহজ হবে বলে জানানো হয়েছিল।

    মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মে মাসে বলেন, জানুয়ারি থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তিনি উল্লেখ করেননি। তার ভাষায়, “যারা অতিথি হয়ে এসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের ভিসা বাতিল অব্যাহত থাকবে।”

    ওপেন ডোরস নামের একটি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২১০টির বেশি দেশ থেকে ১১ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রে ভর্তি হয়েছেন। তাদের অনেকের ওপরই এবার ভিসা নীতির কঠোর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে।

  • পুতিন-জেলেনস্কি এক টেবিলে, পরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্পের উপস্থিতির ঘোষণা

    পুতিন-জেলেনস্কি এক টেবিলে, পরে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে ট্রাম্পের উপস্থিতির ঘোষণা

    এবিএনএ: ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা তীব্রতর করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে এক টেবিলে বসাতে কাজ শুরু করেছেন তিনি। আর সেই বৈঠকের পর অনুষ্ঠিত হবে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে তিনজনই উপস্থিত থাকবেন।

    ওভাল অফিসে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, “আমি কাজ শুরু করেছি। পুতিন ও জেলেনস্কির বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে। এরপর আমরা তিনজন মিলে বসব।”

    তিনি আরও জানান, এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউরোপের কয়েকজন শীর্ষ নেতা এবং যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে কাজ করছে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার জন্য। ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইউক্রেনকে শক্তিশালী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেব। শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, এবার সরাসরি শান্তিচুক্তিই হবে লক্ষ্য।”

    এর আগে বৈঠকের মাঝপথে পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে প্রায় ৪০ মিনিট কথা বলেন ট্রাম্প। ফোনালাপের পর বৈঠক আবার শুরু হয়। ট্রাম্প বলেন, “আমি বিশ্বের ছয়টি যুদ্ধ থামিয়েছি। তবে এই যুদ্ধ সমাধান সবচেয়ে কঠিন। তবুও আমি আত্মবিশ্বাসী, আমরা পথ খুঁজে বের করব।”

    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “যুদ্ধ বন্ধ ও হত্যাযজ্ঞ থামাতে আপনার প্রচেষ্টার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”

    সোমবার হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে উপস্থিত ছিলেন।

    ট্রাম্পের ঘোষণায় নতুন করে আশার আলো দেখছে আন্তর্জাতিক মহল—আসলেই কি ইউক্রেন যুদ্ধ শেষের পথে?