Category: আমেরিকা

  • ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির কবলে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ, ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ঘোষণা

    ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির কবলে বাংলাদেশসহ ১৪ দেশ, ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক ঘোষণা

    এবিএনএ:  বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৪টি দেশকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১ আগস্ট থেকে এসব দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছে বাংলাদেশও।

    চিঠিতে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, এই নতুন শুল্ক পূর্বঘোষিত খাতভিত্তিক শুল্ক (যেমন গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম) এর সঙ্গে একীভূত নয়, এটি সম্পূর্ণ আলাদা বাণিজ্য সিদ্ধান্ত।

    যে ১৪টি দেশের ওপর নতুন শুল্ক বসানো হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছে:
    বাংলাদেশ, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, তিউনিসিয়া এবং কাজাখাস্তান।

    🔻 শুল্কের হার (দেশভিত্তিক):

    • লাওস ও মিয়ানমার: ৪০%

    • কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড: ৩৬%

    • বাংলাদেশ ও সার্বিয়া: ৩৫%

    • ইন্দোনেশিয়া: ৩২%

    • দক্ষিণ আফ্রিকা ও বসনিয়া: ৩০%

    • জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, তিউনিসিয়া, কাজাখাস্তান: ২৫%

    এই ঘোষণা বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ওয়ালস্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন ঘটে। তবে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজারে সাময়িক প্রভাব পড়ে, পরে তা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়।

    চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, যদি কোনো দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, তাহলে সমপরিমাণ বাড়তি শুল্ক বসানো হবে। তবে তিনি আলোচনার দরজাও খোলা রেখেছেন, বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি বার্তা দিয়ে বলেন, “আপনারা যদি শুল্ক বাড়ান, তবে সেটা আমাদের শুল্কের ওপর যুক্ত হবে।”

    বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এ ঘোষণায়। বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন জানান, আগামী বুধবার একটি প্রতিনিধি দল ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে বসবে।

    বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, “৩৫% শুল্ক আমাদের জন্য ভয়াবহ খবর। আমরা আশা করেছিলাম ১০-২০% এর মধ্যে থাকবে। এটি আমাদের রপ্তানি শিল্পের জন্য বড় ধাক্কা।”

    উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত পোশাকশিল্প, যা জাতীয় রপ্তানির প্রায় ৮০% এবং প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক এই খাতে নিয়োজিত।

    আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই শুল্ক নীতিকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান ইতোমধ্যে দ্রুত আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাও মার্কিন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়।

    এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও কিছু বাণিজ্য সংক্রান্ত ঘোষণা আসবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্ত শুধু বাণিজ্য নয়, আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ইলন মাস্কের নতুন “আমেরিকা পার্টি”: তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প

    ইলন মাস্কের নতুন “আমেরিকা পার্টি”: তীব্র সমালোচনায় ট্রাম্প

    এবিএনএ: বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবের ও টেসলা-স্পেসএক্স সিইও ইলন মাস্ক ঘোষণা করেছেন নতুন রাজনৈতিক দলের—‘আমেরিকা পার্টি’। দীর্ঘদিন ধরেই রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট দু’দলের বাইরে নিজেকে প্রকাশের ইঙ্গিত দেন মাস্ক। অবশেষে গত শনিবার এক্স (পুরনো টুইটার) পোস্টে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃতীয় দলের প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।

    আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্যোগকে “হাস্যকর” আখ্যা দিয়েছেন। রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন,

    “আমাদের সবসময় দ্বিদলীয় ব্যবস্থা ভালো করেই চলে এসেছে। তৃতীয় দল গড়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনো যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নয়।”

    ট্রাম্পের পরদিন Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে দেখা যায়,

    “ইলন মাস্ক গত পাঁচ সপ্তাহে যেন ‘ট্রেন দুর্ঘটনায়’ আটকে গেলেন—আমি সত্যিই দুঃখিত।”

    সেক্ষেত্রে মাস্কের গাড়ি-বিশ্বে বৈদ্যুতিক যানবাহন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটিকেও ট্রাম্প থেঁতলে দেন। ট্রাম্প দাবি করেন,

    “ইভি ম্যান্ডেট অনুসারে সবাইকে দ্রুত বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার নির্দেশনা দিতেও চাইছিল। যা যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝার নয়।”

    ট্রাম্পের নতুন কর ও ব্যয়ের আইনেও বৈদ্যুতিক গাড়ির ট্যাক্সছার কথা তুলে ফেলেছেন। তিনি বলেন, এখন থেকে ক্রেতারা 자유—গ্যাসচালিত, হাইব্রিড কিংবা ইভি, যেকোন গাড়ি কিনতে পারবেন, কারো ওপর বাধ্যতামূলক নির্দেশনা নেই।

    মাস্ক ও ট্রাম্প একসময় রাজনৈতিক মিত্র ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে মাস্ক ট্রাম্পের প্রচারাভিযানে বড় ব্যাংকআদান করে সাহায্য করেন। পরে ট্রাম্পের প্রশাসনে মাস্ককে সরকারি দক্ষতা দপ্তরের প্রধান করেছিলেন, যা দ্রুত শেষ হয় মতবিরোধের কারণে।

    মাস্কের তৃতীয় দল গঠন ও ট্রাম্পের কথিত দ্বিদলীতন্ত্র রক্ষা নিয়ে বিতর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার বিষয়, ‘আমেরিকা পার্টি’ কতটা জনপ্রিয়তা পায় এবং মার্কিন নির্বাচনী ময়দানে কী প্রভাব ফেলে।

  • ব্রিকসে যোগ দিলে অতিরিক্ত ১০% শুল্ক: আমেরিকাবিরোধী নীতির অভিযোগে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    ব্রিকসে যোগ দিলে অতিরিক্ত ১০% শুল্ক: আমেরিকাবিরোধী নীতির অভিযোগে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিকস জোটে যুক্ত হওয়া দেশগুলোর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন—যে কোনো দেশ যদি ‘আমেরিকাবিরোধী’ নীতির অংশ হিসেবে ব্রিকসে যোগ দেয়, তাহলে তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করবে।

    সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন,
    “যে কোনো দেশ ব্রিকসের আমেরিকাবিরোধী নীতিতে অংশ নেবে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করতে চাইলে বাড়তি ১০% শুল্ক গুণতে হবে। কোনও ব্যতিক্রম থাকবে না।”

    যদিও ট্রাম্প তার পোস্টে স্পষ্ট করে বলেননি, তিনি ব্রিকসের কোন নীতিকে ‘অ্যান্টি-আমেরিকান’ বলে চিহ্নিত করছেন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি ব্রিকসের বিস্তৃতি ও মার্কিন ডলারের বিকল্প মুদ্রা ব্যবহার কিংবা জ্বালানি বাণিজ্যে ডলার নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগই হয়তো ট্রাম্পের উদ্বেগের কারণ।

    ব্রিকস কী ও কেন বিতর্কে?

    ২০০৯ সালে গঠিত ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা) সম্প্রতি আরও ছয়টি দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে—মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইন্দোনেশিয়া। এই সম্প্রসারণকে বিশ্ব অর্থনীতিতে একটি বিকল্প জোট গঠনের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

    বিশেষ করে রাশিয়া-চীন নেতৃত্বাধীন এই জোট আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় মার্কিন আধিপত্য কমাতে কাজ করছে বলে ধারণা করা হয়। ফলে ট্রাম্পের এই হুমকি মূলত ব্রিকসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধেই একটি কৌশলগত অবস্থান বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

    আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

    ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পরপরই বিশ্বব্যাপী আলোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো এবং সম্ভাব্য নতুন সদস্য রাষ্ট্রগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক কীভাবে বজায় রাখবে—তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর আবার ক্ষমতায় এসে ট্রাম্প যদি কঠোর বাণিজ্যনীতি কার্যকর করেন, তাহলে এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

    শেষ কথা:
    ব্রিকস জোটের সম্প্রসারণ ও ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি বিশ্বরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়—এই অবস্থানে ব্রিকসভুক্ত এবং সম্ভাব্য সদস্য রাষ্ট্রগুলো কী ধরনের প্রতিক্রিয়া জানায়।

  • টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের, নিখোঁজ বহু শিশু! চলছে রাতভর উদ্ধার অভিযান

    টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যায় মৃত্যু ৫১ জনের, নিখোঁজ বহু শিশু! চলছে রাতভর উদ্ধার অভিযান

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ জন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্যান অ্যান্টোনিও শহর ও আশপাশের এলাকা। তীব্র বর্ষণে গুয়াদালুপ নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে নদীতীরবর্তী এক খ্রিষ্টান গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে ২৭ শিশু

    স্থানীয় সময় শুক্রবার, স্যান অ্যান্টোনিও শহরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯ মিটার বা ২৯ ফুট পানি বেড়ে যায়। ক্যাম্প মিস্টিক নামে পরিচিত সেই গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পটিতে অবস্থান করছিল প্রায় ৭৫০ শিশু। আকস্মিক বন্যার ফলে ক্যাম্পটি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

    কার কাউন্টির পুলিশ কর্মকর্তা ল্যারি লেইথা জানান, নিহতদের মধ্যে ১৫ জনই শিশু। শনিবার সকালে পানি নামা শুরু করলে শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। এ পর্যন্ত প্রায় ৮৫০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

    কারভিল শহরের নগর ব্যবস্থাপক ডাল্টন রাইস জানান, ক্যাম্পের ২৭ শিশু এখনো নিখোঁজ এবং তাদের খুঁজে পেতে এক বিশাল অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

    এই উদ্ধার অভিযানে ১ হাজারের বেশি উদ্ধারকর্মী অংশ নিয়েছেন, যারা হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি চালাচ্ছেন। গাছের উপরে আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। সাহায্যে এগিয়ে এসেছে মার্কিন কোস্টগার্ডও।

    এদিকে, জাতীয় আবহাওয়া পরিষদ (NWS) জানায়, যদিও কার কাউন্টিতে আপাতত জরুরি অবস্থা কমে এসেছে, তবে আরও ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি রয়েছে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য প্রশাসন ও স্থানীয় কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে এই দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে।”

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ঘরবাড়ি, উপড়ে গেছে গাছপালা। আবহাওয়ার তথ্য অনুযায়ী, শুধু কের কাউন্টিতে একরাতে ১২ ইঞ্চি বৃষ্টি হয়েছে, যা ওই অঞ্চলের বার্ষিক বৃষ্টির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ

    টেক্সাসজুড়ে এই বন্যা এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, আর নিখোঁজ শিশুদের জীবিত উদ্ধারের আশায় অধীর অপেক্ষায় গোটা দেশ।

  • সিনেটে এক ভোটে পাস ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বিগ অ্যান্ড বিউটিফুল বিল’

    সিনেটে এক ভোটে পাস ট্রাম্পের বিতর্কিত ‘বিগ অ্যান্ড বিউটিফুল বিল’

    এবিএনএ:  মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বিগ অ্যান্ড বিউটিফুল বিল’ এক ভোটের ব্যবধানে সিনেট পেরিয়ে গেছে। মঙ্গলবার সিনেটে বিলটি ৫১-৫০ ভোটে গৃহীত হয়। পক্ষে-বিপক্ষে ভোট সমান হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স—তিনি টাই ব্রেকিং ভোট দেন বিলটির পক্ষে।

    বিলটির বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট দলের ৪৭ জন সদস্য ভোট দেন। একইসঙ্গে তিন রিপাবলিকান সিনেটর—টম টিলিস (নর্থ ক্যারোলাইনা), সুসান কলিন্স (মেইন) ও র‌্যান্ড পল (কেন্টাকি)—বিপক্ষে অবস্থান নেন। ফলে দলের মধ্যেও মতবিরোধ প্রকাশ পায়।

    বিলে মূলত কর ছাড় সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা খরচ কমানো, সেনাবাহিনীর বাজেট বৃদ্ধি এবং অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। তবে এতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ আরও ৩.৩ ট্রিলিয়ন ডলার বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    এখন বিলটি পাঠানো হয়েছে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে। তবে কিছু রিপাবলিকান সদস্য ইতিমধ্যে বিলের নির্দিষ্ট কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাইয়ের আগেই বিলটিতে স্বাক্ষর করে আইনে রূপ দিতে আগ্রহী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনও জানান, তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ করতে চান।

    উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন কর ছাড় নীতির সম্প্রসারিত রূপই এই বিল। এতে নতুনভাবে অতিরিক্ত সময়ের আয়ে কর ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে সেনা ব্যয় ও সীমান্ত সুরক্ষার খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে।

    তবে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হলো—মেডিকেইড ও খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির বাজেট থেকে প্রায় ৯৩০ বিলিয়ন ডলার কমানো হবে। পরিবেশবান্ধব জ্বালানির জন্য বাইডেন সরকারের দেওয়া সুবিধাও বাতিল হবে এই বিলের আওতায়।

    এই বিল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা যেমন তৈরি হয়েছে, তেমনি সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এখন দেখার বিষয়—প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি কতটা সহজে পাশ হয়।

  • নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাট মেয়র নির্বাচিত হলে তহবিল বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

    নিউইয়র্কে ডেমোক্র্যাট মেয়র নির্বাচিত হলে তহবিল বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার নিউইয়র্ক সিটির সম্ভাব্য মেয়র নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।

    তিনি বলেছেন, যদি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জোহরান মামদানি মেয়র নির্বাচিত হন এবং ‘উপযুক্ত আচরণ’ না করেন, তবে নিউইয়র্ক আর কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ পাবে না।

    ফক্স নিউজের একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “মামদানি জিতলে তা হবে অবিশ্বাস্য ঘটনা। কারণ তিনি প্রকৃত অর্থে একজন কমিউনিস্ট। আমি আগেই বলে রাখছি—যদি তিনি মেয়র হন, তবে আমাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে নিউইয়র্ক কোনও অর্থ না পায়।”

    তবে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের জবাবে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মামদানি। এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলছি, আমি কোনোভাবেই কমিউনিস্ট নই। ট্রাম্প আমার পরিচয়, চেহারা এবং উচ্চারণ নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন। তিনি চান আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াই।”

    মামদানি আরও বলেন, “আমি মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের আদর্শে বিশ্বাস করি। নিউইয়র্কের ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করছি এবং কোনও হুমকি আমাকে থামাতে পারবে না।”

    উল্লেখ্য, মামদানি ধনীদের উপর কর বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, “প্রত্যেকের বিলিয়নিয়ার হওয়ার দরকার নেই।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে মামদানির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে তাকে ‘কমিউনিস্ট উন্মাদ’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে গত এক বছরে ফেডারেল সরকার ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ ব্যয় করেছে। তাই এমন হুমকি নগরবাসীর মধ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।

  • চীন-যুক্তরাষ্ট্র নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে সই: থেমে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধ?

    চীন-যুক্তরাষ্ট্র নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে সই: থেমে যাচ্ছে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য যুদ্ধ?

    এবিএনএ: বিশ্বের দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি—চীন ও যুক্তরাষ্ট্র—দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর অবশেষে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় এক দশক ধরে চলা বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। চুক্তির বিষয়ে উভয় পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছে।

    হোয়াইট হাউসে বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “আমরা চীনের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করেছি। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত হবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিশাল সুযোগ তৈরি করবে।”

    যদিও চুক্তির নির্দিষ্ট শর্তগুলো তখন প্রকাশ করা হয়নি, শুক্রবার চীন সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কিছু ‘নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা’ প্রত্যাহার করবে। একই সঙ্গে, চীনও রপ্তানি নিয়ন্ত্রিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পর্যালোচনা ও অনুমোদনের মাধ্যমে বাজারে ছাড় দেবে।

    মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক জানান, গত মে মাসে জেনেভায় হওয়া বাণিজ্য আলোচনায় এই চুক্তির ভিত্তি তৈরি হয়। চুক্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে চীন যুক্তরাষ্ট্রকে বিরল খনিজ সরবরাহে সম্মত হয়েছে। এই খনিজ উপাদানগুলো উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি, যেমন—বায়ু টারবাইন, স্মার্টফোন এবং যুদ্ধবিমানে ব্যবহৃত হয়।

    লুটনিক বলেন, “চীন আমাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ রেয়ার মিনারেল সরবরাহ করবে, যা পাওয়ার পর আমরা চীনের ওপর আরোপিত পাল্টা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেব।”

    উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকেই চীনের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক চাপ বাড়ান। তিনি চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে মার্কিন বাজারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করেন। চীনও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণে পিছিয়ে থাকেনি। এতে দুই দেশের মধ্যে টানা বাণিজ্য যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়। অবশেষে, দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি শুধু দুই দেশের মধ্যে নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক আবারও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ‘বোমা ফেলো না, এখনই পাইলট ফিরিয়ে নাও’: ইসরায়েলকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    ‘বোমা ফেলো না, এখনই পাইলট ফিরিয়ে নাও’: ইসরায়েলকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন— “বোমা ফেলো না, পাইলটদের ফিরিয়ে আনো এখনই”। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঘন্টাখানেক পরই এই বার্তা দেন ট্রাম্প।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, এএফপি ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানেও তিনি একই বার্তা দেন— বোমা হামলা চালানো হবে ‘চুক্তিভঙ্গ’।

    ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বলেন,

    “ইসরায়েল, দয়া করে বোমা ফেলো না। এটা হলে বড় ধরনের চুক্তিভঙ্গ হবে। তোমাদের পাইলটদের এখনই ফিরিয়ে আনো।”

    এই সময় ট্রাম্প জানান, ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ইসরায়েল বলেছে তারা প্রস্তাবে রাজি, এবং ইরান জানিয়েছে, যদি ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে, তারাও পাল্টা হামলা চালাবে না।

    কিন্তু, একই সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায় তারা ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। অপরদিকে, তেহরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

    অ্যাক্সিওস বলেছে, ট্রাম্পের অনুরোধ সত্ত্বেও নেতানিয়াহু জানিয়েছেন তিনি হামলা বাতিল করতে পারবেন না। কারণ, ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হামলা হবে সীমিত পরিসরে এবং কেবল একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সময়ে ট্রাম্পের এই বার্তা স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবধানতা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত বহন করছে।

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এখনও কূটনীতির পক্ষে, না এলে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প এখনও কূটনীতির পক্ষে, না এলে শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় বসতে এখনও আগ্রহী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তেহরান সরকার আলোচনার টেবিলে না এলে দেশটির জনগণকে ‘সহিংস শাসনব্যবস্থা’র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট।

    সোমবার (২৩ জুন) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বার্তা দেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি ও আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    প্রেস সেক্রেটারি লেভিট বলেন, “যদি ইরানি শাসকগোষ্ঠী শান্তিপূর্ণ সমাধানে অংশ না নেয়, তবে ইরানের জনগণের উচিত হবে এই দমনমূলক সরকারের অবসান ঘটানো। ট্রাম্প এখনও কূটনৈতিক পথ খোলা রাখতে চান, তবে বিকল্প ভাবনাও চলছে।”

    এই মন্তব্যের একদিন আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, ইরানে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার উদ্দেশ্য ‘শাসন পরিবর্তন নয়’। তবে ট্রাম্প পরবর্তীতে নিজের সামাজিকমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে বলেন, “যদি বর্তমান ইরানি সরকার তাদের জাতিকে আবার মহান করতে না পারে, তাহলে শাসন পরিবর্তনের প্রয়োজনই বা কেন নয়?”

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের পরমাণু ইস্যুতে একইসঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখছে এবং চাপ বজায় রেখে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের বার্তাও দিচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, কূটনীতি ও কৌশলের দ্বৈত পথে হেঁটেই ইরান প্রশ্নে মার্কিন অবস্থান সামনে এগোচ্ছে।

  • ইরান ইস্যুতে ফের ধোঁয়াশা, ট্রাম্প বললেন ‘আমি এখনও কিছু ঠিক করিনি’

    ইরান ইস্যুতে ফের ধোঁয়াশা, ট্রাম্প বললেন ‘আমি এখনও কিছু ঠিক করিনি’

    এবিএনএ:  আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনার মধ্যেই আবারও আলোচনায় এলেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরান ইস্যুতে রহস্যজনক এক মন্তব্য করে নতুন করে কৌতূহলের জন্ম দিলেন তিনি।

    সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে দাবি করে, ট্রাম্প নাকি ইরানে হামলার একটি পরিকল্পনায় মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন। তবে তিনি এখনই সেটি কার্যকর না করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছেন। কারণ, তিনি মনে করছেন ইরান হয়তো তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম থেকে সরে আসবে।

    এই প্রতিবেদন ঘিরেই শুরু হয় জোর বিতর্ক। ট্রাম্প এরপর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ লিখেন, “ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আমার ইরান সংক্রান্ত ভাবনা সম্পর্কে কিছুই জানে না!”

    তিনি আরও বলেন, “আমি এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাইনি। সবাই আমাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করছে, কিন্তু আমি এখনো কিছু ঠিক করিনি। দেখা যাক সামনে কী হয়।”

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এই ‘রহস্যপূর্ণ কৌশল’ নতুন নয়— অতীতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন ধোঁয়াশাপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।