Category: আমেরিকা

  • দুই দিনের মধ্যেই ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনা? পাকিস্তানেই বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

    দুই দিনের মধ্যেই ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনা? পাকিস্তানেই বৈঠকের ইঙ্গিত ট্রাম্পের

    এবিএনএ: আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাব্য এই বৈঠক পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই দুই দেশের মধ্যে অগ্রগতি হতে পারে। তিনি জানান, পাকিস্তানে আলোচনা আয়োজনের বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্ভাব্য বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় বা প্রতিনিধি পর্যায় নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।

    এর আগে গত শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। তবুও কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।

    এদিকে একই সময়ে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, মেলোনির অবস্থান তাকে বিস্মিত করেছে এবং তিনি ধারণা করেছিলেন ইতালির এই নেত্রীর আরও দৃঢ় ভূমিকা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি বলে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

    ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রশ্নে মতবিরোধ থেকেই এই সমালোচনা এসেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। মেলোনি শুরু থেকেই সংঘাতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

    এর আগে ধর্মীয় নেতা পোপ লিওকে নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নিয়েও দুই নেতার মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পোপ সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি। পরে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প পাল্টা বলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতালির অবস্থান যথেষ্ট কঠোর নয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ায় আগে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। একই সময়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নতুন আলোচনার সম্ভাবনা বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: “সাহস আছে ভেবেছিলাম, ভুল প্রমাণিত হলাম”

    মেলোনিকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য: “সাহস আছে ভেবেছিলাম, ভুল প্রমাণিত হলাম”

    এবিএনএ: ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, মেলোনির অবস্থান তাকে হতাশ করেছে এবং তিনি ভেবেছিলেন ইতালির এই নেত্রীর সাহসী অবস্থান থাকবে, কিন্তু বাস্তবে তা দেখেননি।

    মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির একটি শীর্ষ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মেলোনির কাছ থেকে ভিন্ন ধরনের দৃঢ়তা প্রত্যাশা করেছিলেন, তবে সাম্প্রতিক অবস্থান দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন।

    ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনার বিষয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। এ অবস্থানকে কেন্দ্র করেই ট্রাম্প তার সমালোচনা করেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ট্রাম্পের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন ছিল।

    এর আগে ধর্মীয় নেতা পোপ লিওকে নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে পোপের অবস্থান দুর্বল। এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান মেলোনি। তিনি বলেন, ক্যাথলিক বিশ্বের শীর্ষ ধর্মীয় নেতাকে এভাবে সমালোচনা করা গ্রহণযোগ্য নয়।

    মেলোনির প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প পাল্টা মন্তব্য করেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইতালির অবস্থান তাকে হতাশ করেছে। তিনি দাবি করেন, ইরান ইস্যুতে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হলেও ইরান প্রশ্নে অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই উত্তেজনাকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

  • হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, হরমুজে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।

    এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ বন্ধের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি হামলার নির্দেশ নয়। বরং প্রথমে কৌশলগত অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হতে পারে। যদি তেহরান অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরবর্তী ধাপে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, হরমুজ অবরোধে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে। তবে কোন দেশগুলো এতে অংশ নেবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    তিনি আরও বলেন, ইরানে এখনো যেসব লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এ বক্তব্যকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

    ট্রাম্প অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান যে টোল আরোপের কথা বলছে তা চাঁদাবাজির শামিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব জাহাজ ইরানকে অর্থ প্রদান করবে সেগুলোকে আটক করা হতে পারে।

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সেই ব্যর্থ আলোচনার পরপরই হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন ট্রাম্প।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের, সংবাদমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ‘ভুয়া খবর’ ছড়ানোর অভিযোগ ট্রাম্পের, সংবাদমাধ্যমকে তীব্র আক্রমণ

    এবিএনএ: ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ধরন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র সমালোচনা করেছেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। তার দাবি, যুদ্ধক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সাফল্য সত্ত্বেও কিছু গণমাধ্যম পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে, যেন মার্কিন বাহিনী পিছিয়ে পড়ছে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, কিছু সংবাদমাধ্যম হয় বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে, নয়তো ইচ্ছাকৃতভাবে বাস্তবতা বিকৃত করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নৌ ও বিমান শক্তির বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে।

    তিনি আরও দাবি করেন, অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হয়েছেন এবং হরমুজ প্রণালী দ্রুত স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তেলবাহী জাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    তবে ট্রাম্প তার বক্তব্যে নির্দিষ্ট করে কোনো সংবাদমাধ্যমের নাম উল্লেখ করেননি, যারা ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তিকর বা ভুল তথ্য প্রচার করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তথ্যের ভিন্নতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে এমন বক্তব্য সামনে আসছে। এতে সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক জনমত আরও বিভক্ত হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

  • হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের অভিযোগে ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, তেল সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

    হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায়ের অভিযোগে ইরানকে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, তেল সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজ থেকে টোল আদায়ের অভিযোগ তুলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, অচিরেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

    বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া একাধিক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। প্রথম পোস্টে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ইরান টোল নিচ্ছে— এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি ইরানকে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং যদি টোল আদায় শুরু হয়ে থাকে, তা অবিলম্বে বন্ধ করার কথা বলেন।

    পরবর্তী পোস্টে ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের সঙ্গে ইরানের আচরণ অগ্রহণযোগ্য এবং অসম্মানজনক। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি সমঝোতার মধ্যে এমন কোনো শর্ত ছিল না।

    তৃতীয় পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরান সহযোগিতা করুক বা না-ই করুক— হরমুজ প্রণালিতে তেলের প্রবাহ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে।

    এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ইরানের সামরিক বাহিনীর অভিজাত ইউনিট ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জাহাজগুলোকে আগাম টোল দিতে হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি অথবা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা চালু থাকবে।

    অন্যদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে ইরানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেলবাহী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে ১ ডলার করে টোল নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বৈশ্বিক তেলবাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

  • যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে, তবুও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র—ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি

    যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে, তবুও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র—ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি

    এবিএনএ: লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ইরানের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

    কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরিস্থিতি জটিল হলেও এই আলোচনা বাতিল করার সম্ভাবনা খুব কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতাকে আরও কার্যকর করতে আগ্রহী। সে কারণে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও আলোচনা প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট।

    পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের। তিনি ইউরোপ সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফিরে এখন পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    এদিকে লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান যুদ্ধবিরতির চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে জেডি ভান্স জানিয়েছেন, লেবানন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তার মতে, এই কারণে আলোচনা বন্ধ হওয়া উচিত নয়।

    তিনি আরও বলেন, যদি ইরান আলোচনায় অংশ না নেয়, তাহলে সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চায়।

    মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা নিয়ে মিসর ও পাকিস্তানও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে আলাপে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে সতর্কবার্তা দেন এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে উত্তেজনা কমতে পারে, তবে মাঠের পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

  • “আজ রাতেই বদলে যেতে পারে ইতিহাস!”—ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা

    “আজ রাতেই বদলে যেতে পারে ইতিহাস!”—ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা

    এবিএনএ: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরানকে কেন্দ্র করে। গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে নির্ধারিত সময়সীমা ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে কড়া বার্তা দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এক চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, “আজ রাতেই এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, যা একটি সম্পূর্ণ সভ্যতার অবসান ডেকে আনবে—যা আর কখনও ফিরে আসবে না।”

    তবে একইসঙ্গে তিনি এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি অনিবার্য বলে উল্লেখ করেননি। ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন পরিণতি চান না, যদিও পরিস্থিতি সেই দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরও দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নেতৃত্বে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে তুলনামূলকভাবে বিচক্ষণ ও কম উগ্র মনোভাবের ব্যক্তিরা সামনে আসছেন। এ পরিবর্তন ইতিবাচক কিছু ঘটার সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    তার ভাষায়, বিশ্ব এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে এবং খুব শিগগিরই এর ফলাফল জানা যাবে। তিনি এটিকে দীর্ঘ ও জটিল বৈশ্বিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন।

    ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, গত কয়েক দশক ধরে ইরানে দুর্নীতি, সহিংসতা ও চাঁদাবাজির রাজত্ব চলছে, যার অবসান হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে তিনি ইরানের জনগণের কল্যাণ কামনা করেন।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।

  • ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ‘মঙ্গলবারই বড় আঘাত’, উত্তেজনা চরমে

    ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ‘মঙ্গলবারই বড় আঘাত’, উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, নির্দিষ্ট দিনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    এ সময় তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তার এই মন্তব্যের ভাষা ছিল অত্যন্ত কঠোর, যা কূটনৈতিক শালীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

    এর আগে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের দুর্গম এলাকায় বিধ্বস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, কর্নেল পদমর্যাদার ওই পাইলট বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    জানা গেছে, গত শুক্রবার একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে থাকা দুইজনের একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হলেও অপরজনকে খুঁজে পেতে সময় লাগে। পরে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়।

    ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানি বাহিনীও ওই পাইলটকে খুঁজছিল এবং প্রায় ধরতে সক্ষম হয়েছিল। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল কয়েক ঘণ্টার অভিযানে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত এত বড় ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয় না। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় একাধিক ধাপে অভিযান চালিয়ে দিনের আলোতেই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য ও পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এখন পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

  • ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য! শীর্ষ জেনারেলদের বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্রে অভূতপূর্ব সংকট

    ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের নির্দেশ অমান্য! শীর্ষ জেনারেলদের বিদ্রোহে যুক্তরাষ্ট্রে অভূতপূর্ব সংকট

    এবিএনএ: ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর দেওয়া স্থল অভিযান সংক্রান্ত নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন একাধিক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা, যা নতুন করে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছে।

    জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা সামনে আসে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় এক ডজন জেনারেল এই নির্দেশ বাস্তবায়নে আপত্তি জানান। এর জেরে হোয়াইট হাউস এবং Pentagon-এর মধ্যে মতবিরোধ তীব্র আকার ধারণ করে।

    এই পরিস্থিতিতে Joint Chiefs of Staff-এর চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকরা এটিকে আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সামরিক নেতৃত্বে অন্যতম বড় রদবদল হিসেবে দেখছেন।

    এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই অস্বীকৃতি কি কোনো ‘অবৈধ নির্দেশ’ প্রত্যাখ্যানের আইনি অধিকার, নাকি এটি সামরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল? একপক্ষ বলছে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমান্ডার-ইন-চিফের নির্দেশ মানা বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে বিরোধীরা মনে করছেন, এমন সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে এবং অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তারা ঝুঁকি এড়াতে এই অবস্থান নিয়েছেন।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞ জেনারেলদের সরিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনুগত ব্যক্তিদের নিয়োগ দিলে মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং অপ্রত্যাশিত সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়ছে।

    বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শূন্য পদগুলো কীভাবে পূরণ করা হবে এবং চলমান সামরিক কার্যক্রমে এর প্রভাব কী হবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি শক্তিধর দেশের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

  • হরমুজ প্রণালি খুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র—ট্রাম্পের দাবি, তবে লাগবে কিছুটা সময়

    হরমুজ প্রণালি খুলতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র—ট্রাম্পের দাবি, তবে লাগবে কিছুটা সময়

    এবিএনএ:  বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি পুনরায় পুরোপুরি সচল করা তাদের জন্য কঠিন নয়, তবে এতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, “আর কিছুটা সময় পেলেই আমরা সহজেই হরমুজ খুলে দিতে পারব। তখন এখান থেকে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হবে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

    অন্যদিকে, সামুদ্রিক বিশ্লেষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এই পথ দিয়ে ১৬টি জাহাজ অতিক্রম করেছে, যা টানা কয়েকদিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

    সংস্থাটি আরও জানায়, এসব জাহাজ ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে চলাচল করছে এবং তারা লারাক দ্বীপ সংলগ্ন রুট ব্যবহার করেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিভিন্ন দেশ নিজেদের জাহাজ নিরাপদে চালাতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও বাড়তে পারে। তবে বর্তমানে যে পরিমাণ জাহাজ চলাচল হচ্ছে, তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনও অনেক কম।

    বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে এই রুটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।