শিশুর হঠাৎ জ্বর? আতঙ্ক নয়—ঘরে বসেই কী করবেন, কখন ডাক্তার দেখাবেন জানুন জরুরি নির্দেশনা

এবিএনএ: শিশুর শরীর গরম হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়; বরং এটি শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুকে আরাম দেওয়া এবং সঠিকভাবে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সহজ করণীয় অনুসরণ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর জ্বর দ্রুত কমে আসে।

জ্বরের সাধারণ লক্ষণ

শিশুর জ্বর হলে সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

  • খিটখিটে মেজাজ বা অস্বাভাবিক কান্না
  • অস্বস্তি ও দুর্বলতা
  • শরীর স্পর্শ করলে বেশি গরম লাগা
  • মুখ লাল হয়ে যাওয়া
  • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া

শিশুর জ্বর হলে কী করবেন

শিশুর বয়স যদি ৩ মাসের কম হয় এবং তাপমাত্রা ১০০.৪°F (৩৮°C) বা তার বেশি হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হলে কাছের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।

জ্বর থাকা অবস্থায় শিশুকে স্কুল বা ডে-কেয়ারে না পাঠিয়ে বাড়িতে বিশ্রামে রাখা ভালো। অন্তত ২৪ ঘণ্টা তাপমাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাইরে না নেওয়াই নিরাপদ।

জ্বর কমাতে যা করবেন

  • শিশুকে পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার দিন, যাতে পানিশূন্যতা না হয়
  • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাসিটামিনোফেন বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া যেতে পারে
  • শিশু বা কিশোরদের কখনও অ্যাসপিরিন দেওয়া উচিত নয়
  • ঠান্ডা পানি বা রাবিং অ্যালকোহল দিয়ে শরীর মুছবেন না
  • হালকা পোশাক পরান এবং পাতলা চাদর ব্যবহার করুন
  • খেতে না চাইলে জোর করবেন না, তবে হালকা খাবার দিতে পারেন
  • বমি বা ডায়রিয়া থাকলে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন দেওয়া যেতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শে)
  • শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন

কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন

নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন—

  • ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর ৩৮°C বা তার বেশি হলে
  • শিশুকে অস্বাভাবিক অসুস্থ দেখালে
  • শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে
  • দীর্ঘ সময় ডায়রিয়া বা বারবার বমি হলে
  • পানিশূন্যতার লক্ষণ (কম প্রস্রাব, কান্নায় চোখে পানি না আসা, দুর্বলতা)
  • টানা পাঁচ দিন জ্বর থাকলে
  • শিশুর দীর্ঘস্থায়ী রোগ (যেমন: সিকেল সেল ডিজিজ বা ক্যান্সার) থাকলে

জ্বর কি প্রতিরোধ করা সম্ভব?

শিশুদের মাঝে মাঝে জ্বর হওয়া স্বাভাবিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই তা সেরে যায়। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জ্বর চলাকালীন শিশুকে স্বস্তিতে রাখা, পর্যাপ্ত তরল দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *