Tag: স্বাস্থ্য

  • সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে, শারীরিক অবস্থার উন্নতি

    সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে, শারীরিক অবস্থার উন্নতি

    এবিএনএ: প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর থেকে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

    বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চিকিৎসার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে মির্জা আব্বাসকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

    অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তি

    গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় পানি পান করতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে দ্রুত রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

    এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুর নেওয়া

    পরবর্তীতে ১৫ মার্চ তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি দেখা যায়। এরপর চিকিৎসা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

    রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

    এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস। অসুস্থতার কারণে তিনি কিছুদিন ধরে সক্রিয় রাজনৈতিক কার্যক্রমের বাইরে ছিলেন।

    দলীয় নেতাকর্মীরা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানানো হয়েছে।

  • শিশুর হঠাৎ জ্বর? আতঙ্ক নয়—ঘরে বসেই কী করবেন, কখন ডাক্তার দেখাবেন জানুন জরুরি নির্দেশনা

    শিশুর হঠাৎ জ্বর? আতঙ্ক নয়—ঘরে বসেই কী করবেন, কখন ডাক্তার দেখাবেন জানুন জরুরি নির্দেশনা

    এবিএনএ: শিশুর শরীর গরম হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়; বরং এটি শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুকে আরাম দেওয়া এবং সঠিকভাবে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সহজ করণীয় অনুসরণ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর জ্বর দ্রুত কমে আসে।

    জ্বরের সাধারণ লক্ষণ

    শিশুর জ্বর হলে সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

    • খিটখিটে মেজাজ বা অস্বাভাবিক কান্না
    • অস্বস্তি ও দুর্বলতা
    • শরীর স্পর্শ করলে বেশি গরম লাগা
    • মুখ লাল হয়ে যাওয়া
    • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া

    শিশুর জ্বর হলে কী করবেন

    শিশুর বয়স যদি ৩ মাসের কম হয় এবং তাপমাত্রা ১০০.৪°F (৩৮°C) বা তার বেশি হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হলে কাছের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।

    জ্বর থাকা অবস্থায় শিশুকে স্কুল বা ডে-কেয়ারে না পাঠিয়ে বাড়িতে বিশ্রামে রাখা ভালো। অন্তত ২৪ ঘণ্টা তাপমাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাইরে না নেওয়াই নিরাপদ।

    জ্বর কমাতে যা করবেন

    • শিশুকে পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার দিন, যাতে পানিশূন্যতা না হয়
    • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাসিটামিনোফেন বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া যেতে পারে
    • শিশু বা কিশোরদের কখনও অ্যাসপিরিন দেওয়া উচিত নয়
    • ঠান্ডা পানি বা রাবিং অ্যালকোহল দিয়ে শরীর মুছবেন না
    • হালকা পোশাক পরান এবং পাতলা চাদর ব্যবহার করুন
    • খেতে না চাইলে জোর করবেন না, তবে হালকা খাবার দিতে পারেন
    • বমি বা ডায়রিয়া থাকলে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন দেওয়া যেতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শে)
    • শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন

    কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন

    নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন—

    • ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর ৩৮°C বা তার বেশি হলে
    • শিশুকে অস্বাভাবিক অসুস্থ দেখালে
    • শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে
    • দীর্ঘ সময় ডায়রিয়া বা বারবার বমি হলে
    • পানিশূন্যতার লক্ষণ (কম প্রস্রাব, কান্নায় চোখে পানি না আসা, দুর্বলতা)
    • টানা পাঁচ দিন জ্বর থাকলে
    • শিশুর দীর্ঘস্থায়ী রোগ (যেমন: সিকেল সেল ডিজিজ বা ক্যান্সার) থাকলে

    জ্বর কি প্রতিরোধ করা সম্ভব?

    শিশুদের মাঝে মাঝে জ্বর হওয়া স্বাভাবিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই তা সেরে যায়। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জ্বর চলাকালীন শিশুকে স্বস্তিতে রাখা, পর্যাপ্ত তরল দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

  • গরমে হঠাৎ রসালো ফলের প্রতি টান বাড়ে কেন? জানুন শরীরের ভেতরের বৈজ্ঞানিক কারণ

    গরমে হঠাৎ রসালো ফলের প্রতি টান বাড়ে কেন? জানুন শরীরের ভেতরের বৈজ্ঞানিক কারণ

    এবিএনএ: গ্রীষ্মের তীব্র গরমে অনেকেরই ভারী খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, বরং ঠান্ডা ও রসালো ফল খেতে বেশি ইচ্ছা করে। এই পরিবর্তন আসলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়লে শরীর পানির ঘাটতি পূরণে বেশি গুরুত্ব দেয়, ফলে জলীয় উপাদানসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।

    শরীর আগে পূরণ করতে চায় পানির ঘাটতি

    গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতা এড়াতে শরীর স্বাভাবিকভাবেই এমন খাবার চায়, যেগুলোতে পানির পরিমাণ বেশি। তরমুজ, বাঙ্গি, শসা বা আনারসের মতো ফলে পানি ও হালকা শক্তি— দুটিই পাওয়া যায়। এ কারণে শুকনো বা ভারী খাবারের তুলনায় এগুলো বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।

    তৃষ্ণা ও ক্ষুধার সংকেত একে অপরকে প্রভাবিত করে

    শরীরের তৃষ্ণা ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেক সময় শরীর পানির চাহিদা বোঝাতে হালকা খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে। জলীয় ফল এক্ষেত্রে আদর্শ সমাধান— কারণ এগুলো একদিকে তৃষ্ণা মেটায়, অন্যদিকে হালকা ক্ষুধাও কমায়।

    রসালো ফল শরীরকে ঠান্ডা অনুভূতি দেয়

    জলীয় উপাদান বেশি থাকায় রসালো ফল খেলে শরীরে শীতল অনুভূতি তৈরি হয়। ঠান্ডা তরমুজ বা ফলের রস গরমে দ্রুত আরাম দেয়। খাবারের তাপমাত্রা ও গঠনও শরীরের আরামের সঙ্গে যুক্ত— তাই গরমে তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে ঠান্ডা ফল বেশি তৃপ্তিদায়ক লাগে।

    গরমে স্বাভাবিকভাবেই কমে যায় ক্ষুধা

    উচ্চ তাপমাত্রায় শরীর হজমের সময় অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন কমাতে চায়। ভারী খাবার হজম করতে বেশি শক্তি লাগে, ফলে শরীর গরম হয়ে ওঠে। তাই গরমে ক্ষুধা কমে গিয়ে ফলের মতো হালকা খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ে।

    দ্রুত শক্তির চাহিদাও একটি কারণ

    রসালো ফলে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। একই সঙ্গে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় শরীর সতেজ থাকে। ফলে গরমে ক্লান্তি দূর করতে ফল সহজ ও কার্যকর বিকল্প হয়ে ওঠে।

    সব মিলিয়ে, গরমে রসালো ফলের প্রতি আগ্রহ বাড়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। বরং এটি শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়া, যা পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং হালকা শক্তি পাওয়ার জন্যই তৈরি হয়।

  • ২৪ ঘণ্টায় হামে ২৬ আক্রান্ত, ৪ সন্দেহজনক মৃত্যু—দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    ২৪ ঘণ্টায় হামে ২৬ আক্রান্ত, ৪ সন্দেহজনক মৃত্যু—দেশজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ

    এবিএনএ: দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে এ রোগের উপসর্গ নিয়ে ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা সন্দেহজনক হিসেবে উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

    বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত একদিনে নতুন করে কোনো নিশ্চিত মৃত্যুর ঘটনা না থাকলেও উপসর্গের ভিত্তিতে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যেগুলো এখনো যাচাইাধীন।

    পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৫৮৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি সন্দেহভাজন রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৩৬৩ জন।

    এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৩ জন। আর উপসর্গের ভিত্তিতে সন্দেহজনকভাবে মৃত্যু হয়েছে আরও ২৭ জনের।

    তবে আশার খবরও রয়েছে। একই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ হাজার ৯৩০ জন রোগী।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের বিস্তার রোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় আনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

  • টয়লেটের বাজে গন্ধে বিব্রত? মাত্র ৫ উপায়ে দ্রুত মিলবে স্থায়ী সমাধান

    টয়লেটের বাজে গন্ধে বিব্রত? মাত্র ৫ উপায়ে দ্রুত মিলবে স্থায়ী সমাধান

    এবিএনএ: বাথরুম পরিষ্কার থাকা সত্ত্বেও যদি দুর্গন্ধ থেকে যায়, তা খুবই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে—বিশেষ করে যখন বাসায় অতিথি আসে। এই সমস্যা সাধারণত হয় অপর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, জীবাণুর বিস্তার কিংবা পাইপে জমে থাকা ময়লার কারণে। তবে কিছু সহজ কৌশল মেনে চললে খুব দ্রুত এই দুর্গন্ধ দূর করা সম্ভব।

    নিচে দেওয়া হলো টয়লেটের বাজে গন্ধ দূর করার ৫টি কার্যকর উপায়—


    ১. রিমের নিচের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন

    টয়লেট পরিষ্কারের সময় অনেকেই রিমের নিচের অংশটি এড়িয়ে যান। অথচ এই জায়গাতেই সবচেয়ে বেশি জীবাণু জমে থাকে। নিয়মিত শক্তিশালী ক্লিনার ব্যবহার করে এই অংশ পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে যায়। কিছুক্ষণ ক্লিনার লাগিয়ে রেখে ব্রাশ দিয়ে ঘষে ধুয়ে ফেলুন।


    ২. বেকিং সোডা ও ভিনেগারের ব্যবহার

    এই দুটি উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে তা প্রাকৃতিক ক্লিনার হিসেবে দারুণ কাজ করে। প্রথমে টয়লেটে ভিনেগার ঢালুন, এরপর বেকিং সোডা দিন। কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে ফ্লাশ করলে দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে। এটি সাশ্রয়ী এবং রাসায়নিকমুক্ত একটি পদ্ধতি।


    ৩. লুকানো পাইপ ও ট্যাংক পরিষ্কার রাখুন

    অনেক সময় গন্ধের উৎস থাকে পাইপের ভেতর বা এস-বেন্ডে জমে থাকা ময়লা। আবার টয়লেটের ট্যাংকেও জমে থাকতে পারে স্থির পানি ও আবর্জনা। তাই মাঝে মাঝে এসব জায়গা পরিষ্কার করা জরুরি। প্রয়োজনে ভিনেগার বা ডিটারজেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।


    ৪. বায়ুচলাচল নিশ্চিত করুন

    বাথরুমে যদি পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল না করে, তাহলে আর্দ্রতা ও দুর্গন্ধ আটকে থাকে। এজন্য এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করা বা জানালা খোলা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এতে বাথরুম শুকনো ও গন্ধমুক্ত থাকে।


    ৫. প্রাকৃতিক উপায়ে দুর্গন্ধ শোষণ করুন

    কৃত্রিম এয়ার ফ্রেশনারের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উপায় ব্যবহার করতে পারেন। একটি পাত্রে বেকিং সোডা, কফির গুঁড়া বা লেবুর টুকরা রেখে দিলে তা দুর্গন্ধ শোষণ করে এবং দীর্ঘ সময় সতেজতা বজায় রাখে। চাইলে কয়েক ফোঁটা এসেনশিয়াল অয়েলও যোগ করতে পারেন।


    শেষ কথা

    নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে টয়লেটের দুর্গন্ধ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ছোট ছোট অভ্যাসই আপনার বাথরুমকে রাখবে সবসময় ফ্রেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত।

  • প্রতিদিন কলা খেলে কী সত্যিই ক্ষতি? রক্তে শর্করা, ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ে জানুন পুরো সত্য

    প্রতিদিন কলা খেলে কী সত্যিই ক্ষতি? রক্তে শর্করা, ওজন ও ডায়াবেটিস নিয়ে জানুন পুরো সত্য

    এবিএনএ: কলা আমাদের দৈনন্দিন খাবারের পরিচিত ফল। কাঁচা খাওয়া ছাড়াও স্মুদি, ডেজার্ট বা নানান রেসিপিতে ব্যবহার হয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—কলা কি রক্তে শর্করা বাড়ায়? ডায়াবেটিস থাকলে কি কলা এড়িয়ে চলা উচিত? ওজন কমাতে চাইলে কলা খাওয়া ঠিক হবে? চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক।

    কলায় কতটা চিনি থাকে?

    একটি মাঝারি আকারের কলায় (প্রায় ১১৮ গ্রাম) গড়ে ১৪ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি থাকে। এই চিনি মূলত ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ ও সুক্রোজ থেকে আসে। শুনতে বেশি মনে হলেও কলার সঙ্গে থাকে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ—যা রক্তে চিনির শোষণ ধীরে হতে সাহায্য করে।
    খেয়াল রাখতে হবে, কলা যত বেশি পাকে তত স্টার্চ ভেঙে চিনি তৈরি হয়। তাই খুব পাকা কলায় তুলনামূলকভাবে চিনি বেশি থাকে। পাশাপাশি কলা পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬-এর ভালো উৎস, যা শক্তি জোগায়।

    কলা কি রক্তে শর্করা বাড়ায়?

    কলা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ ফল। একটি মাঝারি কলায় প্রায় ২৭ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরে গিয়ে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। ফলে কলা খেলে রক্তে শর্করা কিছুটা বাড়তে পারে।
    তবে কলার ফাইবার এই বৃদ্ধির গতি ধীর করে। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন সাধারণত ক্ষতিকর নয়। ডায়াবেটিস থাকলে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি এবং খুব পাকা কলার বদলে সামান্য কাঁচা বা কম পাকা কলা বেছে নেওয়া ভালো।

    পাকা আর কাঁচা কলার পার্থক্য

    সবুজ বা কম পাকা কলায় থাকে বেশি প্রতিরোধী স্টার্চ, যা ধীরে হজম হয়। তাই এতে রক্তে শর্করা তুলনামূলক ধীরে বাড়ে।
    অন্যদিকে, বেশি পাকা কলায় স্টার্চ ভেঙে সরল চিনি তৈরি হয়, ফলে স্বাদ বেশি মিষ্টি হয় এবং রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। যারা শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তারা কম পাকা কলা অল্প পরিমাণে খেতে পারেন।

    কলা কি ওজন বাড়াতে পারে?

    একটি মাঝারি কলায় প্রায় ১০০–১১০ ক্যালোরি থাকে। একা একটি কলা খেলে ওজন বাড়ে না। তবে নিয়মিতভাবে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের সঙ্গে একাধিক কলা খেলে মোট ক্যালোরি বেড়ে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। ওজন কমাতে চাইলে পরিমাণ ও সময় বেছে খাওয়া জরুরি।

    প্রতিদিন কতটা কলা খাওয়া নিরাপদ?

    বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য প্রতিদিন ১টি মাঝারি কলা নিরাপদ ও পুষ্টিকর। এতে শক্তি, ফাইবার, পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ পাওয়া যায়।
    ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত। যাদের কিডনির সমস্যা আছে, উচ্চ পটাশিয়ামের কারণে কলা খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

    ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কলা কতটা নিরাপদ?

    ডায়াবেটিস থাকলেও কলা পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই। সঠিক পরিমাণে ও সুষম খাবারের অংশ হিসেবে কলা খাওয়া যেতে পারে। প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে (যেমন দই বা বাদাম) কলা খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি কমে। তবে ব্যক্তিভেদে প্রতিক্রিয়া আলাদা হতে পারে—নিজের গ্লুকোজ রিডিং দেখে পরিমাণ ঠিক করাই সবচেয়ে ভালো পথ।

  • আবহাওয়া বদলালেই কাশি? ওষুধ ছাড়াই মিলবে আরাম—জানুন ৪টি সহজ ঘরোয়া টোটকা

    আবহাওয়া বদলালেই কাশি? ওষুধ ছাড়াই মিলবে আরাম—জানুন ৪টি সহজ ঘরোয়া টোটকা

    এবিএনএ: ডাক্তারের কাছে বারবার যেতে কারও ভালো লাগে না—সুস্থ থাকাই তো সবার চাওয়া। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস থাকলে ছোটখাটো সমস্যায় ঘরোয়া উপায়েই অনেক সময় স্বস্তি মেলে। তবে উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা জ্বর-শ্বাসকষ্ট থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই জরুরি। আপাতত মৌসুমি কাশি-কফে ভুগলে নিচের প্রাকৃতিক উপায়গুলো কাজে লাগাতে পারেন—

    আদা চা
    আদা কাশি ও কফ পাতলা করতে সাহায্য করে। খুশখুশে কাশি কমায় এবং জমে থাকা কফ বের হতে সহায়তা করে। এক কাপ গরম আদা চা গলা আরাম দেয়, হজমেও উপকার করে। প্রতিদিনের পানীয় তালিকায় আদা চা রাখলে মৌসুমি অসুখে প্রতিরোধ গড়ে ওঠে।

    মধু
    মধু গলা ব্যথা প্রশমিত করে ও কাশির তীব্রতা কমাতে সহায়ক। সকালে হালকা গরম পানিতে এক চা-চামচ মধু মিশিয়ে খেলে কাশি ও হজম—দুটোতেই উপকার পাওয়া যায়। চাইলে চায়ে চিনি না দিয়ে মধু ব্যবহার করতে পারেন বা আলাদাভাবে এক চামচ মধু খেতে পারেন।

    তুলসি পাতা
    তুলসি কফ বের করতে কার্যকর একটি প্রাকৃতিক উপাদান। কয়েকটি তুলসি পাতা চিবিয়ে খাওয়া বা রস করে পান করলে গলার জ্বালা কমে এবং কাশিতে আরাম মেলে। চায়ের সঙ্গে তুলসি পাতা ফুটিয়েও খেতে পারেন—মৌসুমি পরিবর্তনে এটি বেশ উপকারী।

    হলুদ ও দুধ (গোল্ডেন মিল্ক)
    গরম দুধে আধা চা-চামচ হলুদ মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে পান করলে কাশি-কফে দ্রুত স্বস্তি আসে। হলুদের প্রদাহনাশক গুণ গলা আরাম দেয় এবং শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।

    টিপস: পর্যাপ্ত পানি পান করুন, ধুলো-ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন, আরামদায়ক উষ্ণতা বজায় রাখুন। কয়েকদিনে উপসর্গ না কমলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • ফ্যামিলি কার্ডে মাসিক সহায়তা থেকে ১০ লাখ চাকরি—বিএনপির ইশতেহারে যেসব বড় চমক থাকছে

    ফ্যামিলি কার্ডে মাসিক সহায়তা থেকে ১০ লাখ চাকরি—বিএনপির ইশতেহারে যেসব বড় চমক থাকছে

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

    বিএনপির এবারের ইশতেহার মূলত ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’ ও পূর্বঘোষিত ‘২৭ দফা’র সমন্বয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সুশাসনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

    দলীয় সূত্র জানায়, ইশতেহারের সবচেয়ে আলোচিত উদ্যোগ হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কর্মসূচির আওতায় প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা অথবা চাল, ডাল, তেল ও লবণের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্যাকেজ দেওয়া হবে। নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়ন ও পরিবারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষাই এর মূল লক্ষ্য।

    কৃষি খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রবর্তন করা হবে ‘কৃষি কার্ড’। এর মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্র ন্যায্যমূল্যে পাবেন। পাশাপাশি কৃষি বীমা, সহজ শর্তে ঋণ, সেচ সুবিধা এবং মোবাইলে আবহাওয়া ও বাজারদরের তথ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    কর্মসংস্থান ইস্যুতে বিএনপি দিয়েছে বড় প্রতিশ্রুতি। দলটির লক্ষ্য আগামী ১৮ মাসে সরকারি-বেসরকারি ও পিপিপি উদ্যোগে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি। এজন্য মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষা ও বিদেশি ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে।

    স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার বড় অংশই নারী। শিক্ষা খাতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিড-ডে মিল চালুর অঙ্গীকার করা হয়েছে।

    ইশতেহারে ধর্মীয় ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের প্রধানদের জন্য মাসিক সম্মানী ও উৎসব ভাতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণ, ক্রীড়া খাতে প্রতিটি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ এবং দুর্নীতি দমনে শক্তিশালী দুদক ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের অঙ্গীকারও রয়েছে ইশতেহারে।

    বিএনপি নেতাদের ভাষ্য, এই ইশতেহার কোনো কাগুজে স্বপ্ন নয়; বরং সাধারণ মানুষের জীবন বদলের বাস্তব পরিকল্পনা।

  • গ্রীষ্মের গরমে সুস্থ থাকতে চাইলে খাদ্য তালিকায় রাখুন এই ৫ ‘কুল’ খাবার

    গ্রীষ্মের গরমে সুস্থ থাকতে চাইলে খাদ্য তালিকায় রাখুন এই ৫ ‘কুল’ খাবার

    এবিএনএ: গ্রীষ্মকাল এলেই তীব্র গরম, আর্দ্রতা ও প্রচণ্ড রোদের কারণে শরীরের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এই সময় অনেকেই পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা কিংবা হজমের সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকদের মতে, গরমের দিনে শরীরকে ভেতর থেকে শীতল ও হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে জরুরি—যার মূল চাবিকাঠি হলো সঠিক খাদ্যাভ্যাস।

    গ্রীষ্মে এমন খাবার বেছে নেওয়া প্রয়োজন, যা শরীর ঠাণ্ডা রাখার পাশাপাশি শক্তি ও পুষ্টিও জোগায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই মৌসুমে খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত এমন পাঁচটি উপকারী খাবার—

    ১. তরমুজ:
    গ্রীষ্মের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফল তরমুজে প্রায় ৯২ শতাংশই পানি। এটি শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করে দ্রুত সতেজতা এনে দেয়। পাশাপাশি এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বক ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

    ২. দই ও ঘোল:
    গরমে হজমের সমস্যা কমাতে দইয়ের জুড়ি নেই। এতে থাকা প্রোবায়োটিক উপাদান পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। দই কিংবা ঘোল শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

    ৩. ডাবের পানি:
    প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটে ভরপুর ডাবের পানি ঘামের সঙ্গে বেরিয়ে যাওয়া লবণ ও খনিজ দ্রুত পূরণ করে। এটি তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় এবং শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

    ৪. টাটকা স্যালাড:
    গ্রীষ্মে ভারী খাবারের বদলে শসা, টমেটো ও লেটুস পাতার স্যালাড খাওয়া ভালো। এসব সবজিতে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শরীর হালকা ও সতেজ থাকে।

    ৫. লেবুর শরবত:
    তীব্র গরমে এক গ্লাস ঠাণ্ডা লেবুর শরবত ক্লান্তি দূর করতে দারুণ কাজ করে। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ লেবু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

  • আপনি না বুঝেই দাঁত নষ্ট করছেন? জেনে নিন নীরবে ক্ষতি করা ৫ অভ্যাস

    আপনি না বুঝেই দাঁত নষ্ট করছেন? জেনে নিন নীরবে ক্ষতি করা ৫ অভ্যাস

    এবিএনএ: ঝকঝকে হাসি সবারই কাম্য। কিন্তু অনেক সময় সেই হাসির আড়ালেই দাঁতে জমে ওঠে অদৃশ্য বিপদ। দাঁতে হালকা শিরশির, আগের মতো উজ্জ্বল না থাকা কিংবা ঠান্ডা-গরমে অস্বস্তিকে আমরা বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাই। তবে দন্ত চিকিৎসকদের মতে, এসবের পেছনে বড় ভূমিকা রাখে আমাদের প্রতিদিনের কিছু ভুল অভ্যাস।

    সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশিয়ায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের দাঁতে এনামেল ক্ষয়ের লক্ষণ রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো—এই ক্ষতির বড় অংশই ঘটে অজান্তে, প্রতিদিনের রুটিন থেকেই।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন পাঁচটি অভ্যাস সম্পর্কে, যা ধীরে ধীরে দাঁতের সুরক্ষা স্তর নষ্ট করছে—

    ১. জোরে ব্রাশ করলেই ভালো—এই ভুল ধারণা
    অনেকেই মনে করেন, শক্ত হাতে ব্রাশ করলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়। বাস্তবে অতিরিক্ত চাপ ও শক্ত ব্রাশ দাঁতের এনামেল ঘষে তুলে ফেলে। এতে দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সংবেদনশীলতা বাড়ে।

    ২. অতিরিক্ত অ্যাসিড ও চিনিযুক্ত খাবার
    সফট ড্রিংক, ফলের রস, চা-কফি ও মিষ্টিজাতীয় খাবার দাঁতের এনামেলের জন্য ক্ষতিকর। এসব খাবার নিয়মিত খেলে দাঁত অ্যাসিডের সংস্পর্শে থাকে। খাবারের পর পানি দিয়ে কুলি করা বা স্ট্র ব্যবহার করলে ক্ষতি কিছুটা কমানো যায়।

    ৩. শরীরে পানির অভাব
    লালা দাঁতের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। পর্যাপ্ত পানি না খেলে লালার কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে দাঁত সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিয়মিত পানি পান দাঁত সুরক্ষার সহজ উপায়।

    ৪. ঘরোয়া উপায়ে দাঁত সাদা করার চেষ্টা
    লেবু, বেকিং সোডা বা চারকোল দিয়ে দাঁত সাদা করার ট্রেন্ড সাময়িক ফল দিলেও দীর্ঘমেয়াদে এনামেল মারাত্মকভাবে ক্ষয় করে। এতে দাঁত আরও বেশি হলুদ ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

    ৫. ভুল টুথপেস্ট ব্যবহার
    সব টুথপেস্ট এনামেল সুরক্ষায় কার্যকর নয়। সাধারণ টুথপেস্ট দাঁত পরিষ্কার করলেও এনামেল শক্ত করে না। এনামেল প্রটেকশন বা ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করাই নিরাপদ।

    দন্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনামেল ক্ষয় শুরু হয় নিঃশব্দে। একবার নষ্ট হলে তা আর ফিরে আসে না। তাই এখনই সতর্ক হওয়া জরুরি—নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন, হালকা হাতে দাঁত মাজুন, অ্যাসিডযুক্ত খাবারের পর কুলি করুন এবং সঠিক টুথপেস্ট বেছে নিন।