Tag: স্বাস্থ্য টিপস

  • ফলের রস কি ব্লাড সুগার বাড়ায়?

    ফলের রস কি ব্লাড সুগার বাড়ায়?

    এবিএনএ :অনেকেই দিন শুরু করেন এক গ্লাস টাটকা ফলের রস দিয়ে। এটি অনেকের কাছে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলে মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু অজানা ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডায়াবেটিস রোগীরাই নন—যাদের ডায়াবেটিস নেই, তাদের ক্ষেত্রেও ফলের রস রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে।

    কেন ফলের রস রক্তে শর্করা বাড়ায়?

    ফলের রসে প্রাকৃতিকভাবে ফ্রুক্টোজ ও গ্লুকোজ থাকে, যা খুব দ্রুত শরীরে শোষিত হয়। কিন্তু যখন ফল থেকে রস তৈরি করা হয়, তখন এর অধিকাংশ ফাইবার বা আঁশ বাদ পড়ে যায়। এই ফাইবার সাধারণত শরীরে শর্করার শোষণ ধীর করে। ফলে আঁশ ছাড়া রস পান করলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে—যাকে বলা হয় ‘গ্লুকোজ স্পাইক’।

    যদিও সুস্থ শরীর ইনসুলিন নিঃসরণের মাধ্যমে এই শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে বারবার এমন স্পাইক দীর্ঘমেয়াদে ভালো প্রভাব ফেলে না।

    গবেষণা কী বলছে?

    আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ম্যাসাচুসেটসে শিশুদের উপর চালানো একটি দীর্ঘমেয়াদী গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় ও ফলের রস পান করে (প্রতিদিন ৮ আউন্স বা তার বেশি), তাদের মধ্যে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই প্রবণতা বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

    প্যাকেটজাত ফলের রস কি নিরাপদ?

    বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত ফলের রস অনেক সময় আরও ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ এতে অতিরিক্ত চিনি, প্রিজারভেটিভ এবং কৃত্রিম উপাদান যোগ করা হয়। এমনকি ঘরে তৈরি তাজা রসও যদি বেশি পরিমাণে পান করা হয়, তাহলে ক্যালোরি বাড়িয়ে ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

    তাহলে কী করবেন?

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফলের রসের বদলে গোটা ফল খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। কারণ এতে ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান অক্ষত থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী। যদি রস পান করতেই হয়, তবে তা অল্প পরিমাণে পান করা উচিত এবং খালি পেটে না খাওয়াই ভালো।

    সচেতনভাবে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললেই সুস্থ থাকা সম্ভব—ছোট একটি অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

  • হিট স্ট্রোক ঠেকাতে যে খাবারগুলো রাখবেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়

    হিট স্ট্রোক ঠেকাতে যে খাবারগুলো রাখবেন দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায়

    এবিএনএ: তীব্র তাপদাহে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বৈশাখের মাঝামাঝি সময়েও বৃষ্টির দেখা না মেলায় গরমের তীব্রতা বেড়েই চলছে। এই পরিস্থিতিতে শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষই নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। বিশেষ করে অতিরিক্ত গরমে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গেলে হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনে রোদে বের না হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি খাদ্যাভ্যাসেও আনতে হবে পরিবর্তন। জলসমৃদ্ধ খাবার ও ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

    জলসমৃদ্ধ ফল ও সবজি

    গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে বেশি করে পানিযুক্ত ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন—

    • তরমুজে প্রচুর পানি ও ভিটামিন থাকায় শরীর ঠান্ডা রাখতে কার্যকর
    • শসা উচ্চ জলীয় উপাদান ও ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
    • কমলা ও লেবু শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করে এবং ভিটামিন সি সরবরাহ করে
    • বিভিন্ন শাকসবজি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়ক
    • স্ট্রবেরি ও ব্লুবেরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে

    প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের উৎস

    • ডাবের পানি শরীরের জন্য প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইট হিসেবে কাজ করে
    • দই বা ঘোল অন্ত্র ঠান্ডা রাখে এবং প্রয়োজনীয় খনিজ সরবরাহ করে
    • লেবু, লবণ ও চিনি মিশ্রিত শরবত ঘামের মাধ্যমে হারানো লবণ-পানি পূরণ করে
    • পুদিনা পাতা শরীরে শীতলতা এনে সতেজ অনুভূতি দেয়

    যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

    গরমে কিছু খাবার হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যেমন—

    • ডুবো তেলে ভাজা খাবার
    • অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার
    • বেশি তৈলাক্ত খাবার
    • ভারী ও উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার

    এসব খাবার শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হিট স্ট্রেস তৈরি করতে পারে।

    হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে বাড়তি পরামর্শ

    • একবারে বেশি পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার পানি পান করুন
    • খাদ্যতালিকায় কাঁচা ও হালকা খাবার রাখুন
    • ঘোল বা লাচ্ছিতে জিরা ব্যবহার করলে হজমে সহায়ক ও শরীর ঠান্ডা থাকে
    • রোদে বের হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করুন
    • অতিরিক্ত গরমে বিশ্রাম নেওয়ার চেষ্টা করুন

    তীব্র গরমে সচেতন খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই হিট স্ট্রোক প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। শরীরের যত্ন নিলে গরমের মৌসুমেও সুস্থ থাকা সম্ভব।

  • শিশুর হঠাৎ জ্বর? আতঙ্ক নয়—ঘরে বসেই কী করবেন, কখন ডাক্তার দেখাবেন জানুন জরুরি নির্দেশনা

    শিশুর হঠাৎ জ্বর? আতঙ্ক নয়—ঘরে বসেই কী করবেন, কখন ডাক্তার দেখাবেন জানুন জরুরি নির্দেশনা

    এবিএনএ: শিশুর শরীর গরম হয়ে গেলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন বাবা-মা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বর নিজে কোনো রোগ নয়; বরং এটি শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুকে আরাম দেওয়া এবং সঠিকভাবে যত্ন নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিছু সহজ করণীয় অনুসরণ করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শিশুর জ্বর দ্রুত কমে আসে।

    জ্বরের সাধারণ লক্ষণ

    শিশুর জ্বর হলে সাধারণত কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে—

    • খিটখিটে মেজাজ বা অস্বাভাবিক কান্না
    • অস্বস্তি ও দুর্বলতা
    • শরীর স্পর্শ করলে বেশি গরম লাগা
    • মুখ লাল হয়ে যাওয়া
    • অতিরিক্ত ঘাম হওয়া

    শিশুর জ্বর হলে কী করবেন

    শিশুর বয়স যদি ৩ মাসের কম হয় এবং তাপমাত্রা ১০০.৪°F (৩৮°C) বা তার বেশি হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি। চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব না হলে কাছের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে হবে।

    জ্বর থাকা অবস্থায় শিশুকে স্কুল বা ডে-কেয়ারে না পাঠিয়ে বাড়িতে বিশ্রামে রাখা ভালো। অন্তত ২৪ ঘণ্টা তাপমাত্রা স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাকে বাইরে না নেওয়াই নিরাপদ।

    জ্বর কমাতে যা করবেন

    • শিশুকে পর্যাপ্ত পানি বা তরল খাবার দিন, যাতে পানিশূন্যতা না হয়
    • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাসিটামিনোফেন বা আইবুপ্রোফেন দেওয়া যেতে পারে
    • শিশু বা কিশোরদের কখনও অ্যাসপিরিন দেওয়া উচিত নয়
    • ঠান্ডা পানি বা রাবিং অ্যালকোহল দিয়ে শরীর মুছবেন না
    • হালকা পোশাক পরান এবং পাতলা চাদর ব্যবহার করুন
    • খেতে না চাইলে জোর করবেন না, তবে হালকা খাবার দিতে পারেন
    • বমি বা ডায়রিয়া থাকলে ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন দেওয়া যেতে পারে (চিকিৎসকের পরামর্শে)
    • শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করুন

    কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন

    নিম্নোক্ত পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন—

    • ৩ মাসের কম বয়সী শিশুর জ্বর ৩৮°C বা তার বেশি হলে
    • শিশুকে অস্বাভাবিক অসুস্থ দেখালে
    • শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে
    • দীর্ঘ সময় ডায়রিয়া বা বারবার বমি হলে
    • পানিশূন্যতার লক্ষণ (কম প্রস্রাব, কান্নায় চোখে পানি না আসা, দুর্বলতা)
    • টানা পাঁচ দিন জ্বর থাকলে
    • শিশুর দীর্ঘস্থায়ী রোগ (যেমন: সিকেল সেল ডিজিজ বা ক্যান্সার) থাকলে

    জ্বর কি প্রতিরোধ করা সম্ভব?

    শিশুদের মাঝে মাঝে জ্বর হওয়া স্বাভাবিক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই তা সেরে যায়। তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জ্বর চলাকালীন শিশুকে স্বস্তিতে রাখা, পর্যাপ্ত তরল দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

  • গরমে হঠাৎ রসালো ফলের প্রতি টান বাড়ে কেন? জানুন শরীরের ভেতরের বৈজ্ঞানিক কারণ

    গরমে হঠাৎ রসালো ফলের প্রতি টান বাড়ে কেন? জানুন শরীরের ভেতরের বৈজ্ঞানিক কারণ

    এবিএনএ: গ্রীষ্মের তীব্র গরমে অনেকেরই ভারী খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যায়, বরং ঠান্ডা ও রসালো ফল খেতে বেশি ইচ্ছা করে। এই পরিবর্তন আসলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। পরিবেশের তাপমাত্রা বাড়লে শরীর পানির ঘাটতি পূরণে বেশি গুরুত্ব দেয়, ফলে জলীয় উপাদানসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়।

    শরীর আগে পূরণ করতে চায় পানির ঘাটতি

    গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতা এড়াতে শরীর স্বাভাবিকভাবেই এমন খাবার চায়, যেগুলোতে পানির পরিমাণ বেশি। তরমুজ, বাঙ্গি, শসা বা আনারসের মতো ফলে পানি ও হালকা শক্তি— দুটিই পাওয়া যায়। এ কারণে শুকনো বা ভারী খাবারের তুলনায় এগুলো বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়।

    তৃষ্ণা ও ক্ষুধার সংকেত একে অপরকে প্রভাবিত করে

    শরীরের তৃষ্ণা ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। অনেক সময় শরীর পানির চাহিদা বোঝাতে হালকা খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি করে। জলীয় ফল এক্ষেত্রে আদর্শ সমাধান— কারণ এগুলো একদিকে তৃষ্ণা মেটায়, অন্যদিকে হালকা ক্ষুধাও কমায়।

    রসালো ফল শরীরকে ঠান্ডা অনুভূতি দেয়

    জলীয় উপাদান বেশি থাকায় রসালো ফল খেলে শরীরে শীতল অনুভূতি তৈরি হয়। ঠান্ডা তরমুজ বা ফলের রস গরমে দ্রুত আরাম দেয়। খাবারের তাপমাত্রা ও গঠনও শরীরের আরামের সঙ্গে যুক্ত— তাই গরমে তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে ঠান্ডা ফল বেশি তৃপ্তিদায়ক লাগে।

    গরমে স্বাভাবিকভাবেই কমে যায় ক্ষুধা

    উচ্চ তাপমাত্রায় শরীর হজমের সময় অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন কমাতে চায়। ভারী খাবার হজম করতে বেশি শক্তি লাগে, ফলে শরীর গরম হয়ে ওঠে। তাই গরমে ক্ষুধা কমে গিয়ে ফলের মতো হালকা খাবারের দিকে ঝোঁক বাড়ে।

    দ্রুত শক্তির চাহিদাও একটি কারণ

    রসালো ফলে প্রাকৃতিক শর্করা থাকে, যা শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়। একই সঙ্গে পানির পরিমাণ বেশি হওয়ায় শরীর সতেজ থাকে। ফলে গরমে ক্লান্তি দূর করতে ফল সহজ ও কার্যকর বিকল্প হয়ে ওঠে।

    সব মিলিয়ে, গরমে রসালো ফলের প্রতি আগ্রহ বাড়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। বরং এটি শরীরের স্বাভাবিক অভিযোজন প্রক্রিয়া, যা পানির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং হালকা শক্তি পাওয়ার জন্যই তৈরি হয়।

  • বুকজ্বালায় অস্বস্তি? ওষুধ নয়, ঘরেই আছে দ্রুত আরাম দেওয়ার ৩ কার্যকর উপায়

    বুকজ্বালায় অস্বস্তি? ওষুধ নয়, ঘরেই আছে দ্রুত আরাম দেওয়ার ৩ কার্যকর উপায়

    এবিএনএ: ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত ঝাল বা ফাস্টফুড খাওয়ার পর অনেকেরই বুকে জ্বালাপোড়া শুরু হয়। হঠাৎ বুকজ্বালা, ঢেঁকুর, পেটে অস্বস্তি—সব মিলিয়ে দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি অ্যাসিডিটি বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সের কারণে হয়ে থাকে। তবে ওষুধে না গিয়ে ঘরে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদানেই সাময়িক স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।

    ১) আদা
    হজমে সহায়ক হিসেবে আদার ভূমিকা বেশ কার্যকর। আদা পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করে এবং পাকস্থলীতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। কুসুম গরম পানিতে সামান্য আদা কুচি বা আদা চা পান করলে বুকজ্বালার অনুভূতি কমে আসতে পারে।

    ২) তুলসি পাতা
    তুলসি পাতায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদান হজমতন্ত্রকে শান্ত করতে সহায়তা করে। এটি পাকস্থলীর জ্বালা কমায় এবং গ্যাসের সমস্যা প্রশমনে ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন কয়েকটি তুলসি পাতা চিবিয়ে খাওয়া বা তুলসি পাতার ক্বাথ পান করলে অ্যাসিডিটির অস্বস্তি অনেকটাই কমতে পারে।

    ৩) অ্যালোভেরা জুস
    অ্যালোভেরা পাচনতন্ত্রের জন্য প্রশান্তিদায়ক। এটি পাকস্থলী ও খাদ্যনালীর জ্বালা প্রশমিত করতে সহায়তা করে এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অস্বস্তি কমাতে পারে। খাবারের আগে অল্প পরিমাণ (প্রায় এক-চতুর্থাংশ কাপ) অ্যালোভেরা জুস পান করলে আরাম মিলতে পারে।

    সতর্কতা ও পরামর্শ:
    ঘন ঘন বুকজ্বালা হলে খাবারের ধরন বদলানো জরুরি—অতিরিক্ত ঝাল, তেলেভাজা ও কার্বনেটেড পানীয় কমান। রাতে দেরিতে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন এবং উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

  • প্রতিদিন কলা খাওয়া কি সত্যিই নিরাপদ? জানুন কতটি কলা শরীরের জন্য উপকারী

    প্রতিদিন কলা খাওয়া কি সত্যিই নিরাপদ? জানুন কতটি কলা শরীরের জন্য উপকারী

    এবিএনএ: কলা এমন একটি ফল, যা সারা বছরই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায়। যখন অন্যান্য ফলের দাম বেড়ে যায়, তখনও কলা থাকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। সহজলভ্য হওয়ার পাশাপাশি এটি পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় কলার জায়গা আলাদা।

    কলার পুষ্টিমান কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    কলা প্রাকৃতিক শক্তির একটি চমৎকার উৎস। এতে রয়েছে জটিল কার্বোহাইড্রেট, যা দ্রুত শরীরে শক্তি জোগায়। একটি মাঝারি আকারের কলা শরীরকে তাৎক্ষণিক এনার্জি দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে।

    এই ফলে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যতালিকাগত ফাইবার, পটাসিয়াম ও ভিটামিন বি৬ থাকে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি কলায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দেয়। কম চর্বি ও কম সোডিয়াম থাকার কারণে এটি হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

    প্রতিদিন কতটি কলা খাওয়া উচিত?

    কলা স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত খাওয়া সবসময় ভালো নয়। সাধারণভাবে সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুইটি কলা খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী বলে মনে করা হয়। যারা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন বা খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত, তারা শক্তির ঘাটতি পূরণে দিনে দুটি কলা খেতে পারেন।

    তবে ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। কলায় প্রাকৃতিক চিনি ও পটাসিয়ামের মাত্রা বেশি থাকায় এসব রোগীদের জন্য অতিরিক্ত কলা রক্তে শর্করার মাত্রা বা কিডনির ওপর চাপ বাড়াতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমাণ নির্ধারণ করাই উত্তম।

    প্রতিদিন কলা খাওয়ার উপকারিতা কী?

    কলায় থাকা ফাইবার ও পেকটিন অন্ত্রের কার্যকারিতা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমায়। নিয়মিত কলা খেলে দীর্ঘ সময় শক্তি বজায় থাকে, যা কর্মব্যস্ত জীবনে বিশেষভাবে উপকারী।

    এ ছাড়া কলার পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। ভিটামিন বি৬ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী, কারণ এটি সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো ‘ভালো লাগার’ হরমোন তৈরিতে সহায়তা করে।

    সব মিলিয়ে, পরিমিত পরিমাণে কলা খেলে এটি হতে পারে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার একটি স্বাস্থ্যকর অংশ।

  • পিরিয়ডে তীব্র ব্যথায় ওষুধ নয়, ঘরোয়া এই উষ্ণ পানীয়েই মিলতে পারে স্বস্তি

    পিরিয়ডে তীব্র ব্যথায় ওষুধ নয়, ঘরোয়া এই উষ্ণ পানীয়েই মিলতে পারে স্বস্তি

    এবিএনএ: মাসিকের সময় অনেক নারীর জন্যই অসহনীয় হয়ে ওঠে পেটব্যথা, ক্র্যাম্প ও অস্বস্তি। দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হয়, ঘুমের ছন্দ নষ্ট হয়। এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ নারী ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করলেও অনেকেই এখন প্রাকৃতিক ও খাদ্যভিত্তিক সমাধানের দিকে ঝুঁকছেন।

    এমনই এক সহজ কিন্তু কার্যকর পানীয় হলো বার্লি ও আদার উষ্ণ মিশ্রণ। এই পানীয় শরীরের ভেতর থেকে কাজ করে মাসিকজনিত অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং পিরিয়ডের আগে ও চলাকালীন শরীরকে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

    উপকরণ

    • ১ টেবিল চামচ বার্লি

    • ১ ইঞ্চি আদা

    • ২ কাপ পানি

    যেভাবে প্রস্তুত করবেন

    প্রথমে বার্লি অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা বা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ভেজানো বার্লির সঙ্গে আদা কুচি ও পানি একসঙ্গে দিয়ে মাঝারি আঁচে ১০ থেকে ১২ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এরপর ছেঁকে গরম অবস্থায় পান করুন। ধীরে ফুটানোর ফলে উপাদানগুলোর পুষ্টিগুণ পানিতে ভালোভাবে মিশে যায়, যা শরীর সহজে গ্রহণ করতে পারে।

    কখন ও কতটুকু খাবেন

    এই পানীয় তাৎক্ষণিক ব্যথানাশক নয়, বরং আগাম প্রস্তুতির জন্য কার্যকর। প্রতিদিন ১ কাপ করে পান করুন। মাসিক শুরুর অন্তত ১০ থেকে ১৪ দিন আগে থেকে শুরু করাই সবচেয়ে ভালো। সকাল কিংবা সন্ধ্যা—যেকোনো সময় এটি খাওয়া যেতে পারে।

    কেন এই পানীয় কার্যকর

    বার্লি অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং শরীর থেকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন বের করতে সহায়তা করে, যা হরমোনের ভারসাম্যের জন্য জরুরি। অন্যদিকে আদা প্রদাহ কমায়, পেট ফাঁপা দূর করে এবং পিরিয়ডের আগে যে ভারী ও ক্লান্ত অনুভূতি হয় তা হালকা করে। এই দুই উপাদান একসঙ্গে মাসিকজনিত ব্যথা ও অস্বস্তি ধীরে ধীরে কমাতে সাহায্য করে।

  • দুপুর বা রাতের খাবারের পর হাঁটা কেন জরুরি? জানুন হজম, মেদ কমানো ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অবিশ্বাস্য উপকার

    দুপুর বা রাতের খাবারের পর হাঁটা কেন জরুরি? জানুন হজম, মেদ কমানো ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অবিশ্বাস্য উপকার

    এবিএনএ: নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস শরীর সুস্থ রাখার অন্যতম সহজ উপায়। অনেকে সকালে হাঁটার সময় পান না, আবার ব্যস্ততায় দিনেও হাঁটা হয়ে ওঠে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের যেকোনো সময়—বিশেষ করে দুপুর বা রাতের ভারী খাবারের পর ৩০ মিনিট হাঁটা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

    ভারী খাবারের পর হাঁটার বিভিন্ন উপকারিতা

    ১. খাবার দ্রুত হজমে সাহায্য করে
    খাবারের পর কিছুক্ষণ হাঁটলে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে বদহজম, গ্যাস ও অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাগুলো কমে যায়।

    ২. শরীর হালকা অনুভূত হয়
    ভারী খাবারের পর হাঁটা শরীরকে চাঙা করে। পেট ভার লাগা বা হাঁসফাঁস ভাব দূর হয়। ঘর, উঠোন কিংবা বারান্দায় হাঁটলেও উপকার পাওয়া যায়।

    ৩. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে
    প্রতিদিন খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস করলে বাড়তি ক্যালরি জমতে পারে না। বিশেষ করে পেটের অতিরিক্ত মেদ কমাতে হাঁটা অত্যন্ত কার্যকর।

    ৪. রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে
    ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবারের পর হাঁটা খুবই উপকারী। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হঠাৎ সুগার বাড়ার ঝুঁকি কমায়।

    ৫. হৃদ্‌স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়
    খাবারের পর হালকা হাঁটা রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, ফলে হৃদ্‌পিণ্ড আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারে। হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধেও এটি সহায়ক।

    ৬. বদহজম দূর করে
    ভারী খাবার খাওয়ার পর হাঁটা পেটের অস্বস্তি ও হজমজনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।


    হাঁটার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে

    • খাবার শেষে সঙ্গে সঙ্গে হাঁটা শুরু করা ঠিক নয়; এতে হজমের সমস্যাও হতে পারে।

    • অন্তত ৩০ মিনিট বিশ্রাম নিয়ে তারপর হাঁটা শুরু করা উচিত।

    • খুব দ্রুত গতিতে হাঁটলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে, তাই হাঁটা হবে মাঝারি গতিতে।

    খাবারের পর নিয়মিত হাঁটা শরীরকে সুস্থ রাখতে সবচেয়ে সহজ অভ্যাসগুলোর একটি। ব্যস্ততার মাঝেও দিনে অন্তত ২০–৩০ মিনিট সময় বের করলেই পাওয়া যাবে বহুগুণ উপকার।

  • রাতে ভালো ঘুম পেতে খাবেন যেসব খাবার, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

    রাতে ভালো ঘুম পেতে খাবেন যেসব খাবার, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

    এবিএনএ: অনেকেই রাতে ঘুম না হওয়া বা অনিদ্রায় ভোগেন। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু পরদিনের কাজেই নয়, দীর্ঘমেয়াদে শরীর মন—উভয়ের ওপরই প্রভাব পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম ভালো হওয়ার পেছনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাসও বড় ভূমিকা রাখে।

    নিয়মিত একটি নির্দিষ্ট সময় ঘুমাতে যাওয়া, রাতের খাবার আগেভাগে খাওয়া এবং ঘুমানোর আগে স্ক্রিন—যেমন মোবাইল বা ল্যাপটপ—পরিহার করা জরুরি। কিন্তু এই নিয়মগুলো অনেকের জন্য প্রতিদিন মানা কঠিন। তাই ঘুমের মান বাড়াতে কিছু নির্দিষ্ট খাবার প্রতিদিনের ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত করলে তা হতে পারে কার্যকর বিকল্প।

    ঘুম বাড়াতে যেসব খাবার উপকারী:

    বাদাম:
    প্রতিদিন মাত্র ৬-৭টি বাদাম খাওয়া অনিদ্রা দূর করতে সহায়ক। বাদামে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ভালো ফ্যাট ঘুমের গুণগত মান উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমায়।

    কলা:
    এই ফলটি ম্যাগনেসিয়াম পটাশিয়ামের চমৎকার উৎস। কলা খেলে পেশির শিথিলতা বাড়ে, যা সহজ ঘুম আনতে সাহায্য করে।

    দই:
    দই শুধু হজমে সহায়ক নয়, বরং এতে থাকা ক্যালসিয়াম ম্যাগনেসিয়াম ঘুমে সহায়ক হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে। প্রতিদিন ১০০ গ্রাম কম চর্বিযুক্ত দই ঘুমের জন্য উপকারী।

    পালং শাক:
    ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ এই শাকটিকে ‘সুপারফুড’ বলা হয়। রাতে ঘুমে সমস্যা হলে নিয়মিত পালং শাক খেলে ঘুমের গুণগত মান বাড়ে এবং শরীর পায় প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান।

    পরিশেষে বলা যায়, দৈনন্দিন ডায়েটে এই সহজ খাবারগুলো যোগ করলে ঘুমের সময় কিছু অভ্যাস ঠিক রাখলে, অনিদ্রার সমস্যা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।