Category: ফিচার

  • জীবন দিয়ে- সুজন দাশ

    জীবন দিয়ে- সুজন দাশ

    জীবন দিয়ে

    সুজন দাশ

    রাখলো যারা জীবন দিয়ে

    মাতৃভূমির মান,

    ওরা দেশের শ্রেষ্ঠ ছেলে

    গাইছি তাঁদের গান!

    তাড়াতে ঐ দুষ্ট পাজি,

    ধরল যারা জীবন বাজি!

    ঋণী সবাই তাঁদের কাছে

    দেশটি তাঁদের দান।

    মান বাঁচাতে দেশের যারা

    যুদ্ধে দিল ঝাঁপ,

    লড়াই করে হটায় পশু

    বিদায় করে পাপ।

    সাহস করে সমুখ রণে,

    লড়াই করে মরণ পণে!

    মুক্ত করে দেশকে তারা

    শত্রু করে ছাপ।

    মহান ওরা

    ইতিহাসে সন্দেহ নেই লেশ,

    ওদের কাছে সবাই ঋণী -ঋণী আমার দেশ।

    অন্যায়ে দেয় পথের দিশা,

    ঘুচায় তাঁরা অমানিশা!

    জ্বালে প্রাণে অগ্নিশিখা বিপ্লবে দেয় রেশ।

  • মহাকাশ ভ্রমণ শেষে পৃথিবীতে চার পর্যটক

    মহাকাশ ভ্রমণ শেষে পৃথিবীতে চার পর্যটক

    এবিএনএ : ঐতিহাসিক মহাকাশ ভ্রমণ শেষে পৃথিবীতে পা রাখলেন চার পর্যটক। গত শনিবার সন্ধ্যায় আটলান্টিক মহাসাগরের ফ্লোরিডা উপকূলে অবতরণ করেন তারা। এই ভ্রমণকে ঐতিহাসিক বলার কারণ হলো, সাধারণ পর্যটক হিসাবে মহাকাশ ভ্রমণের ঘটনা এই প্রথম। তা ছাড়া মহাকাশে এটিই প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ফ্লাইট।

    ভ্রমণটি সম্পন্ন হয় মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ড্রাগনের ফ্যালকন নাইন রকেটের মাধ্যমে। স্পেসএক্স এই প্রথম পেশাদার নভোচারী নন, এমন সাধারণ মানুষকে মহাকাশে পাঠাল।এই চার পর্যটক ঘণ্টায় ১৭ হাজার ৫০০ মাইল বেগে পৃথিবীর কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করেছেন। এর মধ্যে গত শুক্রবার পৃথিবীর কক্ষপথ থেকেই তারা জনপ্রিয় হলিউড তারকা টম ক্রুজের সঙ্গে ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে কথা বলেন। সে সময় উচ্ছ্বসিত চার পর্যটক নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মহাকাশ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণের আশা প্রকাশ করেন টম ক্রুজ।

    ঐতিহাসিক এই মহাকাশ ভ্রমণে পর্যটকদের কী পরিমাণ খরচ হয়েছে, তা জানানো হয়নি স্পেসএক্সের পক্ষ থেকে। তবে টাইম ম্যাগাজিন বলছে, চারটি আসনের টিকিটের মূল্য ২০ কোটি মার্কিন ডলার। এতে চার পর্যটকের সঙ্গে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র যুক্ত করা হয়। খরচের পুরোটাই দিয়েছেন জ্যারেড আইজ্যাকম্যান। ১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই, চাঁদের বুকে প্রথমবারের মতো পা রেখেছিল মানুষ। সেই দিনটিকে সম্মান জানাতে ২০২০ সালের ২০ জুলাই বিশ্বের শীর্ষ ধনী জেফ বেজোস মহাকাশ অভিযানে যান। তার আগে মহাকাশ ভ্রমণে যান ভার্জিন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা স্যার রিচার্ড ব্র্যানসন। তিনিই বিশ্বে প্রথমবারের মতো নিজস্ব ভার্জিন গ্যালাক্টিকের প্লেনে চড়ে মহাশূন্যে গিয়েছিলেন।

  • অ্যাবস ডায়েট কী এবং কীভাবে কাজ করে?

    অ্যাবস ডায়েট কী এবং কীভাবে কাজ করে?

    সকলেই একটি সুন্দর সুঠাম শরীর পেতে চান, তার জন্য ব্যায়াম করেন। তবে জানলে অবাক হবেন সুন্দর সুঠাম সিক্স প্যাক অ্যাবস পাওয়ার জন্য ব্যায়াম গুরুতপূর্ণ হলেও পাশাপাশি প্রয়োজন একটি সঠিক ডায়েট। ​সঠিক ও আকর্ষণীয় অ্যাবস পেতে আপনাকে ব্যায়ামের পাশাপাশি সঠিকভাবে ডায়েটও করতে হবে। উভয়টি রুটিন অনুযায়ী করলে কয়েকমাস পরই শরীরের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাবে। তবে যদি আপনি আরও দ্রুত এমন পরিবর্তন চান তাহলে অ্যাবস ডায়েট চেষ্টা করুন-

    অ্যাবস ডায়েট হলো খাবার খাওয়ার একটি পদ্ধতি যেটি আপনাকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে লক্ষ্যের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ডায়েট তৈরি করেছেন খাদ্য, স্বাস্থ্য, ফিটনেস, পুষ্টি, এবং ওজন কমানোর আন্তর্জাতিক পরামর্শক সংস্থা ডেভ জিনজেনকো এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ডেভিড জিনজেনকো। তিনি জানিয়েছেন, একটি শক্তিশালী পেট আপনাকে দীর্ঘজীবী হতে, ভালো ঘুমাতে, পিঠের ব্যথা প্রতিরোধ করতে এবং যৌন জীবন উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

    কি করা উচিত?

    এই ডায়েট অনুসরণ করার সময় আপনাকে দিনে ছয়বার খেতে হবে। তালিকায় থাকবে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার। সপ্তাহে ছয়দিন একই রুটিন অনুসরণ করতে হবে এবং একদিন আপনি সামান্য বিচ্যুত হতে পারবেন। সপ্তাহে তিন বার ২০ মিনিটের নির্দিষ্ট ব্যায়াম করতে হবে।

    কী খেতে হবে?

    এই ডায়েট অনুসরণ করা একেবারেই সহজ কারণ খাবার খাওয়ার সময় ক্যালোরি গণনা বা কার্ব গ্রহণ সীমিত করতে হবে না। সবচেয়ে ভালো দিক হল যে আপনাকে ঘন ঘন খাবার খেতে দেওয়া হয়।

    এই ডায়েটে খাবারের তালিকায় ফল, সবজি, চর্বিহীন প্রোটিন, আস্ত শস্য, স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার রাখার জন্য উৎসাহিত করা হয়। বিভিন্ন ধরনের স্মুদি এই ডায়েটের অপরিহার্য অংশ। এটিকে নাস্তা হিসেবে আপনি গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া কম চর্বিযুক্ত বা চর্বিহীন দুধ, গ্রিন টি এবং ডায়েট সোডা পরিমিতভাবে খেতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস পানি পান করতে হবে এবং অ্যালকোহল সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলতে হবে।

    ব্যায়াম পরিকল্পনা

    অ্যাবস ডায়েটের ব্যায়াম পরিকল্পনা তেমন কঠোর নয়। এটাতে শুধু মৌলিক ব্যায়াম করতে হয়। খাবার রুটিন ঠিক রেখে সপ্তাহে মাত্র তিন বার ২০ মিনিট করে ব্যায়াম করতে হবে। তবে এর মধ্যে অবশ্যই তিনটি ওয়ার্কআউট থাকতে হবে। সেগুলো হলো-

    শক্তি প্রশিক্ষণ: সপ্তাহে তিনবার ওজন উত্তোলনের ব্যায়াম করতে হবে। প্রতিবারই সব ধরনের ব্যায়াম করার চেষ্টা করতে হবে এবং পায়ের ব্যায়ামের ওপর জোর দিতে হবে।

    পেটের ব্যায়াম: আবস ব্যায়াম সপ্তাহে দুইবার করা উচিত এবং ক্রাঞ্চ, হাঁটুর ব্যায়াম এবং সাইড ব্রিজ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

    কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম: কার্ডিও ব্যায়ামগুলো এমন দিনে করা যেতে পারে যখন আপনি শক্তি প্রশিক্ষণ করছেন না। সাইক্লিং, দৌড়, বা সাঁতার থেকে আপনি আপনার পছন্দের ব্যায়াম বাছাই করতে পারেন।

    ডেভিড জিনজেনকো তার এই ডায়েট প্লানটি করেছেন বিশেষ করে পুরুষদের জন্য। মহিলাদের জন্য এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে একটি বই প্রকাশ করেছেন তিনি। সেখানে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাবারের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। আকর্ষণীয় অ্যাবস বানানোর জন্য চরম ডায়েটিং বা ব্যায়াম অনুসরণ করতে হবে না।

    তবে ডেভিড এটাও বলেছেন যে, এই খাবার সব আকার আকৃতির মানুষের ওপর একইভাবে কাজ করবে কি না সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা নেই।

  • করোনার টিকা পেতে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধনের নিয়ম

    করোনার টিকা পেতে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধনের নিয়ম

    এবিএনএ : মহামারি করোনাভাইরাসের টিকা নিতে জনসাধারণের জন্য নিবন্ধনের সুযোগ উন্মুক্ত করা হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে এ নিবন্ধন করা যাবে। এবার নিবন্ধনের বয়সসীমা ৪০ বছর থেকে কমিয়ে ৩৫ বছর করা হয়েছে। এছাড়া এবার টিকা নিবন্ধনের অগ্রাধিকার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমিক ও আইনজীবী। এমনকি ৫৫ বছর বয়সী রোহিঙ্গারাও নিবন্ধন করতে পারবেন।

    জানা যায়, এবার শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দিয়ে প্রথমে তালিকাভুক্ত হবেন। তারপর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেই তথ্য সঠিকভাবে সুরক্ষা অ্যাপে সংযুক্ত করা হবে। তবেই তারা সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন।

    • করোনার টিকা নিতে আগ্রহীদের নিবন্ধন করতে হবে ‘সুরক্ষা’ নামক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। পাশাপাশি সুরক্ষা মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করেও নিবন্ধন করা যাবে।

    • পরিচয় যাচাইয়ে এ অ্যাপে ১৮টি শ্রেণি করা হয়েছে, যার একটি সিলেক্ট করার পর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে নিবন্ধন শুরু করতে হবে।

    • মোবাইল নম্বর দেওয়ার পর একটি ঘর পূরণ করতে হবে, যেখানে জানাতে হবে নিবন্ধনকারীর দীর্ঘমেয়াদী রোগ বা কো-মরবিডিটি আছে কি-না, থাকলে কোন কোন রোগ আছে।

    • সেখানে আরেকটি ঘরে জানাতে হবে পেশা এবং তিনি কোভিড-১৯ সংক্রান্ত কাজে সরাসরি জড়িত কি-না।

    • তারপর বর্তমান ঠিকানা ও কোন কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে ইচ্ছুক তা সিলেক্ট করতে হবে।

    • সবশেষে ফরম সেভ করলে নিবন্ধনকারীর দেওয়া মোবাইল নম্বরে পাঠানো হবে ওটিপি। সেই ওটিপি কোড দিয়ে ‘স্ট্যাটাস যাচাই’ বাটনে ক্লিক করলে নিবন্ধনের কাজ শেষ হবে।

    • নিবন্ধন হয়ে গেলে টিকার প্রথম ডোজের তারিখ ও কেন্দ্রের নাম এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

    • এরপর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, জন্ম তারিখ দিয়ে লগইন করে এসএমএসের মাধ্যমে পাওয়া ওটিপি কোড দিয়ে টিকা কার্ড ডাউনলোড করতে হবে।

    • এসএমএসে যে তারিখ দেওয়া হবে, সেই তারিখে টিকা কার্ড ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে টিকা নিতে পারবেন।

    • এভাবে দুটি ডোজ শেষ হলে সুরক্ষা প্ল্যাটফর্মের ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন থেকে ভ্যাকসিন নেওয়ার সনদ সংগ্রহ করা যাবে।

  • নতুন দিনের ডাক

    নতুন দিনের ডাক

    সুজন দাশ

    কলস ভরা দুঃখ জরা
    সুখের ছোঁয়ায় যাক ভেসে,
    ঘুচুক কালো ফুটুক আলো
    অন্ধাকারের দিন শেষে!

    পুরান যত ব্যথার ক্ষত
    যাক চলে যাক সব মুছে,
    বিভেদ ঢাকি বাঁধব রাখি
    ভেদ ভেদাভেদ যাক ঘুচে।

    অন্ধ প্রীতি দ্বন্দ্ধ ভীতি
    নীতির কাছে মানবে হার,
    জ্বলবে বাতি টুটবে রাতি
    কাটুক যত ভয় আঁধার!

    ঝর্ণা ধারা চন্দ্র-তারা
    মাতুক খুশির উল্লাসে!
    নতুন দিনে শান্তি বীণে
    ভাসবো সুরের উদ্ভাসে।

  • আশুরার রোজার বিষয়ে মহানবীর শিক্ষা

    আশুরার রোজার বিষয়ে মহানবীর শিক্ষা

    আবহমান কাল থেকেই মহররম মাস এক বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। হিজরি বা আরবি বছরের প্রথম মাস মহররম। অনেকের ধারণা কারবালায় নির্মম ঘটনার কারণেই ইসলামি শরিয়তে আশুরার এত গুরুত্ব। অথচ এ ধারণা ঠিক নয়। কেননা কারবালার ঘটনার বহুকাল পূর্বে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা আশুরার দিনে সংঘটিত হয়েছে। কিন্তু এ তারিখটি মুসলিম বিশ্বের কাছে গভীর শোকের দিন।

    এই দিনে বিশ্বনবী ও শ্রেষ্ঠনবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহু অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চক্রান্তকারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে কারবালার প্রান্তরে শাহাদত বরণ করেন। তাই ঐতিহাসিকভাবেই এ দিনটি অনেক গুরুত্ববহ। এছাড়া আশুরায় রোজা রাখার নির্দেশ আমরা মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ থেকে পেয়ে থাকি। এ দিনে রোজা রাখার গুরুত্ব হাদিসে বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা। আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ।’ (মুসলিম)

    হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘মহানবী (সা.) মদিনায় এসে ইহুদিদের আশুরার রোজা রাখতে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এটা কিসের রোজা রাখ? তারা উত্তরে বলল, আশুরা একটি বড় দিন। এ দিনে আল্লাহতায়ালা হজরত মুসা (আ.) ও তার সম্প্রদায়কে মুক্তিদান করে ফেরাউন ও তার সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছিল। ফলে মুসা (আ.) ওই দিন রোজা রেখেছিলেন। আর আমরা তার অনুকরণ করে এ রোজা রেখে থাকি। মহানবী (সা.) তাদের বললেন, তোমাদের তুলনায় মুসা (আ.)-এর ব্যাপারে আমাদের হক বেশি। অতএব, মহানবী (সা.) নিজে আশুরার রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরও রাখার নির্দেশ দিলেন।’ (মিশকাত)

    হজরত আবু কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়।’ (মুসলিম) হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘জাহিলি যুগে কুরাইশরা আশুরার দিনে রোজা পালন করতো। রাসুলুল্লাহ (সা.)-ও সে কালে রোজা পালন করতেন। মদিনায় এসেও তিনি রোজা পালন করতেন এবং অন্যদেরও নির্দেশ দিলেন। রমজানের রোজার আদেশ নাজিল হলে আশুরা দিবস বর্জন করা হয়। এখন কেউ চাইলে তা পালন করুক, আর চাইলে তা বর্জন করুক।’ (বুখারি) পবিত্র এ মহররম মাসে আশুরা উপলক্ষে দুদিন অর্থাৎ ৯ এবং ১০ মহররম রোজা রাখার ব্যাপারে হাদিসের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

    হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরার রোজা রাখেন এবং সাহাবায়ে কেরামকে রোজা রাখতে বলেন। তখন তারা (সাহাবায়ে কেরাম) বলল-হে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এ দিনটিতে ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানরাও রোজা পালন করে। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ চাইলে আমরা পরের বছর নবমীর দিন (মহররমের ৯ তারিখও) রোজা পালন করব।’ কিন্তু পরের বছর বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেন।’ (মুসলিম)

    মহানবী (সা.) প্রতিই মাসেই কম বেশি নফল রোজা রাখতেন কিন্তু রমজানের রোজার পর মহররম মাসের রোজাকে তিনি অনেক গুরুত্ব দিতেন। হাদিসে এসেছে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেন, ‘রমজানের পর আল্লাহর মাস মুহাররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ।’ (মুসলিম, জামে তিরমিজি) অপর এক বর্ণনায় এসেছে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-কে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য সময় তা দেখিনি। (বুখারি)

    পরিশেষে এটাই বলব, আশুরা উপলক্ষ্যে অনৈসলামিক কোন কার্যক্রম না করে বরং হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর ত্যাগের কথা চিন্তা করে এবং মহররম মাসের গুরুত্ব উপলব্ধি করে আমাদেরকে রোজা, নফল ইবাদত, দোয়া, ইস্তেগফারে রত থেকে অতিবাহিত করা উচিত। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষার ওপর আমল করা তৌফিক দান করুন, আমিন।

    লেখক: ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

  • সাংবাদিকদের পাশে প্রধানমন্ত্রী- মোল্লা জালাল

    সাংবাদিকদের পাশে প্রধানমন্ত্রী- মোল্লা জালাল

    করোনা মহামারীর এই সময়ে দেশে ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনা সদস্যদের পাশাপাশি সাংবাদিকরা সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এ কাজে সম্পৃক্ত সকলের সুরক্ষা থাকলেও সাংবাদিকদের নেই। এর বাইরেও ছাঁটাই, বেতন না দেয়া, কমিয়ে দেয়া ইত্যাদি নানা নিপীড়নের মধ্যেও সাংবাদিকরা দায়িত্ব পালন থেকে বিরত হয়নি। এসব নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে দাবি-দাওয়া, দেন-দরবার, আন্দোলন সংগ্রাম কম হয়নি। এখনও হচ্ছে। কিন্তু তাতেও ছাঁটাই বন্ধ হচ্ছে না। এহেন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানায়। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি শুরু থেকেই সাংবাদিকদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে জানতেন। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সবকিছু অবহিত করলে মানবতার প্রতীক, সাংবাদিকবান্ধব প্রধানমন্ত্রী এই দুঃসময়ে সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ান। তিনি আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে সাংবাদিকদের সাহস দেয়ার পদক্ষেপ নেন যা ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা। শুধু করোনাকালেরই নয়, তিনি সাংবাদিকদের কল্যাণে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট।’ ওই ট্রাস্টের মাধ্যমে সারা বছর ধরে সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। ট্রাস্ট থেকে আবেদনকারীরা সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত পেয়ে থাকেন। এছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিকদের দুঃসময়ে বিপুল অঙ্কের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেন। উপমহাদেশে বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বের কোথাও করোনা মহামারীর এই সময়ে সাংবাদিকদের পাশে কোন সরকার প্রধানের দাঁড়ানোর এ রকম নজির নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই পদক্ষেপ একটি অনুশীলনীয় দৃষ্টান্ত। সাংবাদিক সমাজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ।

    সারা বিশ্বের মত বাংলাদেশেও করোনা মহামারীর কারণে নানা ধরনের সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে এবং হচ্ছে। সরকার সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সকল সঙ্কট মোকাবেলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সেক্টরে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার প্যাকেজ দিয়েছে, প্রায় ৮ কোটি মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে, এখনও দিয়ে যাচ্ছে। প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বেসরকারী খাতের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশের গণমাধ্যমও বেসরকারী খাতের শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আগে দেশে দুই ধরণের গণমাধ্যম ছিল। সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থা। বর্তমানে যুক্ত হয়েছে টেলিভিশন এবং অনলাইন। এখন সাংবাদিকদের বলা হয় গণমাধ্যমকর্মী। যদিও ‘সাংবাদিক’ আর ‘গণমাধ্যমকর্মী’ শব্দ দু’টির মর্যাদায় পার্থক্য আছে। ‘সাংবাদিক’ শব্দটা সর্বসাধারণের কাছে অনেক বেশি মর্যাদাবান। ‘কর্মী’তো যে কেউ-ই।

    সরকার বেসরকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইনসেনটিভ দেয় না। ব্যতিক্রম শুধু সংবাদপত্র এবং কমবেশি অন্য গণমাধ্যম। সংবাদপত্রে সরকার সারা বছর ধরেই সহযোগিতা দিয়ে থাকে। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়, বিজ্ঞাপনের ইনসার্সন বাড়ায়, ইনকাম ট্যাক্স সুবিধা, এ্যাক্রেডিশন কার্ড, নিউজ পেপারের কোটা, জমিজমা, ব্যাংক লোন সুবিধাসহ গণমাধ্যম মালিকদের সিন আনসিন অনেক সুবিধা আছে। যার ফলে সারাদেশে হাজার হাজার সংবাদপত্র, প্রায় অর্ধশতাধিক টিভি চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল চালু রয়েছে। প্রতিদিন অনলাইন-অফলাইনের সংখ্যা বাড়ছেই। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে ইউটিউব টিভি চ্যানেল। প্রথম আলোসহ বহু পত্রিকা অনলাইন নিউজপোর্টাল করার পর এখন ইউটিউব চ্যানেল চালু করছে। অথচ এগুলোর কোন সরকারী অনুমোদন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানে সরকার সরাসরি কোন ইনসেনটিভ দেয় না। সরাসরি দেয় শুধু পত্রিকায় আর পরোক্ষাভাবে পায় টিভি চ্যানেল। করোনা মহামারীর সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সবার আগে গণমাধ্যম মালিকরা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে কিছু দাবি জানায়। দাবি ছিল প্রণোদনার। যুক্তি ছিল সরকার প্রণোদনা না দিলে তারা প্রতিষ্ঠান চালাতে পারছে না। টাকার অভাবে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

    বাংলাদেশে মার্চের ৮ তারিখে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এই খবর সকল মহলে জানাজানি হতে আরও ১০/১৫ দিন সময় লাগে। এরই মাঝে দেশের গণমাধ্যম মালিকদের সংগঠনগুলো করোনার কারণে তাদের আর্থিক সঙ্কটের কথা জানায়। অনেকে শুরু করেন ঢালাওভাবে ছাঁটাই। একের পর এক পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে দেয়া হয়। যেসব পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ করে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের পথে বসানো হয় সেসব পত্রিকা চালু রাখে ‘অনলাইন’। তার মানে সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীবিহীন ‘লাভের দোকান’। এ সময় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে মালিকদের বার বার অনুরোধ করা হয় তারা যেন ঢালাওভাবে ছাঁটাই বন্ধ করেন। এ দাবিতে ইউনিয়ন নিয়মিত মিটিং, মানববন্ধন করতে শুরু করে। ততদিনে শতশত সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করে পথে বসাতে বাধ্য করা হয়। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতারা তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে এ বিষয়ে তাকে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায়। তথ্যমন্ত্রী সেদিনের পর থেকে প্রায় প্রতিদিন গণমাধ্যম মালিকদের প্রতি এই সময়ে ছাঁটাই না করার অনুরোধ জানান। কিন্তু অনেকেই তা শোনেনি। বরং তথ্যমন্ত্রী যখন বার বার তাদের প্রতি ছাঁটাই বন্ধ করে বেতন-ভাতা প্রদানের জন্য বলতে শুরু করেন, তখন মালিকরা আবার তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে দাবি জানায়, তাদের বকেয়া প্রায় ১’শ কোটি টাকার বিজ্ঞাপন বিল পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। তথ্যমন্ত্রী উদ্যোগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানে গণমাধ্যম মালিকদের পাওনা বকেয়া বিজ্ঞাপন বিলের প্রায় ৮০ কোটি টাকা পরিশোধের ব্যবস্থাও করেন। এই বিপুল পরিমাণ টাকা পাওয়ার পরও অধিকাংশ সংবাদপত্রের মালিক সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন-ভাতা দেয়নি, ছাঁটাই বন্ধ করেনি, ঈদ-উল-ফিতরে বোনাস দেয়নি। এ অবস্থায় বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতারা তথ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে করোনাকালীন সময়ে সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তার আবেদন জানায়। তথ্যমন্ত্রী ইউনিয়নের আবেদনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করলে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের অসহায় অবস্থাকে বিশেষ বিবেচনায় নিয়ে তথ্যমন্ত্রীকে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য বলেন। একই সঙ্গে তিনি মালিকদের প্রতিও আহ্বান জানান যাতে এ সময়ে কেউ সাংবাদিক-শ্রমিক-কর্মচারীদের ছাঁটাই না করে। এদিকে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সারাদেশে বিএফইউজের অনুমোদিত সকল ইউনিটের সকল সদস্যসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করোনাযোদ্ধা হিসেবে মাঠে-ময়দানে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনরত মূলধারার সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তার জন্য তালিকা প্রস্তুত করে। সেই তালিকার ভিত্তিতে সরকার বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে প্রথম দেড় হাজার সাংবাদিককের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে করোনাকালীন সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিক তালিকা প্রণয়নের জন্য তিনটি ক্রাইটেরিয়ার উল্লেখ করে একটি আবেদন ফরম বানানো হয়। যদিও অনেকেই তখন এই সিদ্ধান্ত অকার্যকর করার জন্য সক্রিয়ভাবে মাঠে নামে। তারা সাংবাদিকদের নানা ধরনের রিলিফ সামগ্রী দেয়ার প্রস্তাব দিয়ে সরকারকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু করা হয় ব্যাপক অপপ্রচার। একটি সুবিধাভোগী মহল সোচ্চার হয় ইউনিয়নের উদ্যোগ বানচাল করার জন্য। এ অবস্থায় বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতৃত্ব সকল বিরোধিতার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারকে ইউনিয়নের দাবির যৌক্তিকতা বোঝাতে সক্ষম হয়। এদিকে বিষয়টি যখন চূড়ান্ত হয়ে যায়, ঠিক তখনই প্রেস কাউন্সিল থেকে একটি চিঠি দিয়ে সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের বলা হয়, সরকার সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা দেবে। তারা যেন দ্রুত তালিকা তৈরি করে পাঠায়। এর ফলে চরম বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। একদিকে ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীকে সাংবাদিকদের তালিকা দেয়া হয়েছে, অপরদিকে প্রেস কাউন্সিল থেকে তালিকা চাওয়া হচ্ছে। এ বিষয়টি জানতে পেরে বিএফউজের সভাপতি, মহাসচিব, ডিইউজে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে ঘটনাটি অবহিত করলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রেস কাউন্সিলের চিঠি বাতিল করার নির্দেশ দিলে চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। তার বলিষ্ঠ পদক্ষেপের ফলে করোনাকালীন পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তার তহবিলে আরও অর্থের যোগান বাড়ে। এতে ইউনিয়নের সদস্যদের বাইরে সারাদেশে করোনাযোদ্ধা সাংবাদিকদের সহায়তা দেয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়। ফলে দেশের ৬৪ জেলায় দল-মত নির্বিশেষে সাংবাদিকরা এই সহায়তা পেয়েছেন।

    ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন নেতারা প্রতিদিন যাচাই-বাছাই করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্যদের তালিকা বানিয়েছেন। বিএফইউজের অনুমোদিত অন্য ইউনিয়নের নেতারাও তাদের সদস্যদের তালিকা করেছেন। একপর্যায়ে বিএফইউজে মহাসচিব স্ব-স্ত্রীক করোনা আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি কোয়ারেন্টাইনে থেকেও সব সময় খোঁজখবর রেখে এ কাজে সহযোগিতা করেছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের মাত্র ১১টি জেলায় ইউনিয়ন আছে। প্রধানমন্ত্রী করোনার এই দুঃসময়ে সাংবাদিকদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছেন। সুতরাং সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন সর্বস্তরের সাংবাদিকদের প্রতি তার দায়বদ্ধতা থেকেই ইউনিয়নের বাইরে দেশের ৫৩ জেলায় মোবাইল ও ই-মেইলে যোগাযোগ করে দ্রুত সাংবাদিকদের তালিকা প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেয়। প্রত্যেকটি জেলায় ফোন করে, কথা বলে তালিকা করা হয়। এ সময়ে কোন কোন গণমাধ্যম থেকে তাদের প্রতিনিধিদের নির্দেশ দেয়া হয় তারা যেন এই সহায়তার জন্য আবেদন না করে। বিএফইউজে নেতৃত্বকে এ ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াসও মোকাবেলা করতে হয়েছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট’ দেশের ৬৪টি জেলায় করোনাযোদ্ধা মূলধারার সাংবাদিকদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সহায়তা বিতরণ করার জন্য তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করে। এ কাজে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের-পিআইবির মহাপরিচালক ও সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিশিষ্ট সাংবাদিক-কবি জাফর ওয়াজেদের নেতৃত্বে পিআইবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের সম্মানিত সদস্যরা একাধিক মিটিং করে কাজের অগ্রগতিতে সহযোগিতা করেছেন। তথ্য সচিব কামরুনাহার করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসায় কোয়ারেন্টাইনে থেকেও প্রতিদিন চেক স্বাক্ষর করেছেন। তথ্যমন্ত্রী সারাক্ষণ ব্যস্ত থেকেছেন আরও টাকার সংস্থান করার জন্য। তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দকে সহযোগিতা করেছেন।

    সাংবাদিকদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার এই চেক বিতরণে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী এমপি, শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপুমনি এমপি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন এমপি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি, পার্বত্য চট্টগাম বিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর এমপি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী স ম রেজাউল করীম এমপি, নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মুরাদ হাসান এমপি, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, হুইপ আতিউর রহমান আতিক দেশের বিভিন্ন এলাকায় উপস্থিত থেকে ঈদের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রীর এই সহায়তার চেক সাংবাদিকদের মধ্যে ‘ঈদ উপহার’ হিসেবে বিতরণ করেন। তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি ঢাকা, চট্টগাম, সিলেট ও যশোরে নিজে গিয়েছেন। সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তায় বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ডিসি-এসপিসহ প্রশাসন সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে। এ্যাটকোর সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী পাবনায় সাংবাদিকদের মধ্যে এই সহায়তার চেক বিতরণ করেন। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।

    ঈদের আগে প্রথম দফায় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ শেষ হয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, করোনা সংক্রমণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকার দায়িত্বপালনরত করোনাযোদ্ধা সাংবাদিকদের পাশে আছে, থাকবে। সরকারের এই সদিচ্ছার প্রতিফলন সাংবাদিকদের উৎসাহিত করবে। তারা সাহস পাবে। জাতির এই দুঃসময়ে সাংবাদিকরা দেশ ও জাতির কল্যাণে-মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে অসাম্প্রদায়িক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকারের কল্যাণমূলক কর্মকা-ের খবর দেশবাসীকে অবহিত করবে। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারাকে এগিয়ে নেয়ায় সহযোগিতা করবে-এ কথা নিশ্চিত করেই বলা যায়।

    লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, বিএফইউজে সভাপতি

  • ৭ মাসে ৩৩ কেজি ওজন কমিয়ে গৃহিণী থেকে অ্যাথলেট

    ৭ মাসে ৩৩ কেজি ওজন কমিয়ে গৃহিণী থেকে অ্যাথলেট

    এবিএনএ : কঠিন সময় পার করছে গোটা বিশ্ব। কয়েক মাস ধরে মানুষ অনেকটা ঘরবন্দি অবস্থায় দিন যাপন করছে। এমন অবস্থায় বেশিরভাগ মানুষই তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খুব বেশি নজর দিচ্ছেন না। এছাড়া অনেকে ওজন বাড়া নিয়ে চিন্তিত। তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারেন ভারতের রুপশিখা বোরাহ দেওরি। তিনি মা হওয়ার পর মোটা হয়ে গিয়েছিলেন। তারপর ফিটনেস ঠিক করে গৃহিণী থেকে এখন বিকিনি অ্যাথলেট হিসেবে নাম লিখিয়েছেন। কাজ করেন ফিটনেস প্রশিক্ষক হিসেবেও।

    ৩৫ বছর বয়সি রুপশিখা দেওরি দুই সন্তানের মা। তার সর্বোচ্চ ওজন হয়েছিল ৯০ কেজি। মাত্রা সাত মাসে তিনি ৩৩ কেজি ওজন কমিয়ে ৫৮ কেজিতে এসেছেন। তার সেই ওজন কমানো যাত্রার বিষয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন রুপশিখা। পাঠকদের জন্য রুপশিখার ওজন কমানোর গল্প তুলে ধরা হলো।

    টার্নিং পয়েন্ট: আমার গর্ভাবস্থার আগে আমি মোটামুটি পাতলা ছিলাম। প্রথম গর্ভাবস্থার পরে আমার ২৫ কেজি ওজন বাড়ে। কিন্তু এই লড়াই বাস্তব হয়ে উঠল যখন দ্বিতীয় গর্ভাবস্থার পরে আমার ওজন বেড়ে দাঁড়াল ৯০ কেজি। ওজন অনেক বেড়ে যাওয়ায় পিঠে ও কাঁধে ব্যথা শুরু হয়। এর ফলে আমার বাচ্চাদের বহন করা এবং ঘরের কাজ করা অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছিল।

    তবে আরেকটি বিষয় হলো মানুষ এটা নিয়ে ঠাট্টা করতো এবং বিভিন্ন কথা শুনাতো। এরপরই আমি সিদ্ধান্ত নিই যে ওজন কমাতে আমি ক্রাশ ডায়েটিং শুরু করবো। তারপর ক্রাশ ডায়েটিংয়ের ফলে আমার মেজাজ বিগড়ে থাকতো। পরে বুঝতে পারি যে ক্রাশ ডায়েটিং ওজন কমানোর জন্য স্বাস্থ্যকর উপায় নয়। তারপর সেটি বাদ দিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য পড়া শুরু করি এবং স্বাভাবিকভাবেই ওজন কমানোর চেষ্টা করি। যার ফলাফল আমি পেয়েছি।

    অনুপ্রেরণার চেয়ে আমি শৃঙ্খলা ও আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করি। কারণ এমন দিন আসবে যখন আপনি আপনার বিছানা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য যথেষ্ট অনুপ্রাণিত হবেন না এবং সেই দিনগুলিতে শৃঙ্খলা আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

    খাবার:

    সকালের নাস্তা: ওটস, কলা, ডিমের সাদা অংশ অলিভ ওয়েল দিয়ে রান্না করে খাই।

    দুপুরের খাবার: মুরগির পাজর, সাদা ভাত (বাশমতি), সবুজ শাকসবজি।

    রাতের খাবার: সবুজ শাকসবজির সঙ্গে মাছ, বাদাম।

    মাঝে মাঝে আমি মিষ্টি খাই কিন্তু ব্যায়াম দিয়ে আমি তা পূরণ করি।

    ওয়ার্কআউট শিডিউল: খালি পেটে এক ঘণ্টা কার্ডিও এবং দেড় ঘণ্টা শক্তি প্রশিক্ষণ বা এক ঘণ্টা এইচআইআইটি করি। এবং আমি যখন শো এর জন্য প্রস্তুতি নেই তখন দুই ঘণ্টা কার্ডিও এবং দেড় ঘণ্টা শক্তি প্রশিক্ষণ নিই।

    ওজন কমানোর জন্য যারা চেষ্টা করছেন তাদের বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে আমরা অনলাইনে যেসব ডায়েট দেখি তা বেশিরভাগই পশ্চিমা খাবারের ওপর ভিত্তি করে। এই ডায়েট বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন। তাই আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিয়ে আমাদের খাবারগুলো থেকেই ডায়েট চার্ট তৈরি করুন। যদি জাঙ্ক ফুড না হয় তাহলে যেসব খাবার নিয়মিত খান সেটিই রাখার চেষ্টা করুন। আর ব্যায়াম করুন। মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে চেষ্টা করলে অবশ্যই সফলতা মিলবে।

  • লাইলাতুল ক্বদর-এ করণীয়

    লাইলাতুল ক্বদর-এ করণীয়

    লাইলাতুল ক্বদর অর্থ ভাগ্য রজনী। লাইল শব্দের অর্থ রাত বা রজনী। ক্বদর শব্দের অর্থ ভাগ্য। আমাদের দেশে এটি শব-ই-ক্বদর হিসেবে পরিচিত। এটি ফারসী এবং আরবী শব্দ। শব ফারসী শব্দ এবং ক্বদর আরবী শব্দ। সুতরাং এদিক থেকে ও শব-ই-ক্বদর অর্থ ভাগ্য রজনী। পবিত্র কুরআনে ক্বদর বিষয়ে অনেক উদ্বৃতি আছে। আল্লাহ তা’আলা ক্বদর নামে একটি সুরা নাযিল করেছেন। সেখানে তিনি প্রথমে ক্বদরের রাতে কুরআন নাযিলের কথা ঘোষনা করেছেন। এরপর তিনি ক্বদরের রাতকে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম ঘোষনা করেছেন। এবং সে রাতে যাবতীয় সিদ্ধান্ত এবং শাস্তি ও কল্যাণসহ জিবরাইল (আঃ) ও ফেরেশতা প্রেরনের কথা উল্লেখ করেছেন। পরিশেষে তিনি ক্বদরের রাতের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
    আরবী, বাংলা, ইংরেজী অভিধানে ভাগ্যের নানারকম অর্থ ও সংজ্ঞা দেয়া আছে। যেমন অদৃষ্ট নসিব কপাল নিয়তি পরিণতি দৈব ইত্যাদি।

    ক্বদরের অর্থ ভাগ্য উন্নয়ন। এই অর্থে লাইলাতুল ক্বদর অর্থ ভাগ্যোন্নয়নের রাত। এ ভাগ্যোন্নয়নের অর্থ এ নয় যে এ রাত্রে যত বেশী নফল ইবাদত করা যাবে ততোই আল্লাহ এক বছরের জন্যে তারভাগ্যে এমন অনেক কিছু লিখে দিবেন যার দ্বারা তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং সে ধনী মালদার এমন একটা কিছু হয়ে যাবে এবং এক বছরের মধ্যে তার কোন রোগ ব্যাধি হবে না। এইরূপ চিন্তা করা ইসলামী আক্বীদার খেলাপ। মুলকথা হচ্ছে এই যে কারো ব্যক্তি বিশেষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে বা ব্যক্তিগত জীবনের ভাগ্যের উন্নতি হবে; এটা নয়, ভাগ্যের উন্নতি হবে গোটা মানব জাতির। অর্থাৎ যে রাত্রে কুরআন নাযিল হয় ঐ রাতটা হচ্ছে কুরআন নাযিল পরবর্তী দুনিয়াবাসীদের জন্যে এক ভাগ্য উন্নয়নের রাত। এর মূল অর্থ হলো ভাগ্য উন্নয়নের জন্যে জ্ঞান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যার এবং চিকিৎসাও কারিগরী বিদ্যার যে প্রভৃত উন্নতি সাধন দরকার তার সবকিছুর উৎস রয়েছে যে কুরআনে সেই কুরআন নাযিল হওয়ার রাতটাই হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদর। অর্থাৎ ভাগ্যোন্নয়নের জন্যে যা যা দরকার তার সবকিছুই অর্থাৎ তার জ্ঞানের সবকিছুর উৎসই নাযিল হলো এ রাত্রে। ঐ প্রসঙ্গে এ সুরার ঐ কথাটিার দিকে লক্ষ্য করে চিন্তা করতে পারি যে আল্লাহ কেন বললেন-

    (ওমা- আদ্রকা মা-লাইলাতুল ক্বর্দ)
    অর্থাৎ-”তুমি কি জান লাইলাতুল ক্বদর কী ?
    কারণ এখনই তা জানবার কথা নয়, এ রাত্রে যে কুরআন নাযিল হওয়া শুরু হলো বা লওহে মাহ্ফুজ থেকে আল কুরআনকে পৃথিবীতে নাযিল করার স্থানান্তর করা হলো, তা পুরোপুরি নাযিল হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তোমাদের তা জানবার কথা নয়। যখন সম্পূর্ন কুরআন নাযিল হয়ে যাবে এবং আল কুরআন থেকে বিজ্ঞানের এক একটা উৎস বের করে নতুন নতুন এমন জিনিস আবিষ্কার হবে যাতে পৃৃথিবীর ভাগ্যের উন্নয়ন হবে, তখন বুঝবে ক্বদরের আসল-ব্যাখ্যা।

    সুরা ক্বদরে বলা হয়েছে-
    (লাইলাতুল ক্বদরী খয়রুম মীন আলফি শাহ্র)
    অর্থাৎ হাজার রাতের চাইতে উত্তম এ ক্বদরের রাত।

    এর অর্থ এই নয় যে এই রাতে ইবাদত করলে ১ হাজার মাসের রাত অর্থাৎ ১০০০ ী ৩০ = ৩০০০০ দিন। কাজেই এক রাতের সওয়াব হবে ৩০ হাজার রাতের ইবাদতের সমান। এর মূল অর্থ হলো এ রাতে তোমাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্যে আল কুরআনের মাধ্যমে তোমাদেরকে আল্লাহ যা দান করেছেন তা বিগত যুগের হাজার হাজার রাতেও মানব জাতিকে দেয়া হয় নি, অর্থাৎ কুরআন নাযিল হওয়ার রাতে তোমরা যা পেলে বিগত দিনের মধ্যে কত হাজার মাস গুজরে গেছে, যে মাসের মধ্যে এরূপ একটা রাত কখনো আসেনি যে রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল।এইটাই মূল ভাবার্থ। এরপর এ মূল ভাবার্থ এ রাত্রে যেমন কাজের হুকুম পেলে তা একবার মেনে দেখ তাহলে দেখতে পাবে আল-কুরআনের প্রত্যেকটি নির্দেশ মানার মধ্যেই রয়েছে শান্তি আর শান্তি। আর কুরআনী নির্দেশ থেকে তোমরা যতই সরে পড়বে ততই দেখবে অশান্তি আর অশান্তি। শান্তির লেশ মাত্রও পাবে না। কথাগুলো কাঁটায় কাঁটায় সত্য। এটা কি মানব জাতির ভাগ্যোন্নয়নের ব্যাপার নয় ?
    রমযান মাসে ক্বদরের রাত্রির উপস্থিতি মানবজাতিকে ভাগ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে সাহায্য করে। তার ভবিষ্যত তার চুড়ান্ত পরিণতি সম্বন্ধে আগ্রহী করে তোলে। সব হতাশার দোলাচল অতিক্রম করে সৌভাগ্যবানদের কাতারে সামিল হওয়ার স্বপ্ন দেখায়।

    * ক্বদরের রাত হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম।
    * ক্বদরের রাত অত্যন্ত মুবারক ও বরকতময়।
    * ক্বদরের রাতই ভাগ্য রজনী।
    * ক্বদরের রাতে ফিরিশতা অবতীর্ণ হয়।
    * ক্বদরের রাত সালাম ও শান্তির রাত।
    * ক্বদরের রাত নামায আদায় ও গুনাহ মাফের রাত।

    বিশেষ কোন মাস বা রাতকে ভাগ্য পরিবর্তনের উৎস মনে করা উচিৎ নয়। মহান আল্লাহ ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যে কুরআন অবতীর্ণ করেছেন। কুরআন গ্রহণ ও ত্যাগের সঙ্গে ভাগ্যের সম্পর্ক। শক্তভাবে কুরআন ধরার মাধ্যমে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভূক্ত হওয়া সম্ভব। কুরআন বাদ দিয়ে অন্য কোন উপায়ে কেউ কখনও ভাগ্যবানদের দলভূক্ত হতে পারে না।

    লাইলাতুল ক্বদরে করণীয় ঃ

    • ভাগ্য সম্পর্কে বিশ্বাস ও চিন্তা-চেতনাকে সঠিক স্বচ্ছ ও সমৃদ্ধ করুন।
    • ভাগ্যের উপরে অন্ধভাবে নির্ভর করে কর্মহীনতার ধারণাকে প্রশ্রয় দিবেন না।
    • সৌভাগ্যবানদের উদাহরণ অনুসরণ করুন।
    • দুর্ভাগাদের পথ মতকে অগ্রাহ্য করুন।
    • ভাগ্য গণনার নানাবিধ প্রচলিত পন্থাকে সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করুন।
    • গোটা রমযানকে ভাগ্যোন্নয়নের উৎস বানিয়ে ফেলুন। কোনক্রমেই শুধু ২৭ রমযানকে ভাগ্যরজনী হিসেবে সীমাবদ্ধ করবেন না।
    • অন্তত ঃ রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে ক্বদর অনুসন্ধানের চেষ্টা করুন।
    • কেবলমাত্র আল্লাহ তা’আলাকেই ভাগ্য জানা ও নিয়ন্ত্রনের মালিক মনে করুন। আর অন্য কাউকে এ অধিকার দিবেন না।
    • অন্যায় ও অবৈধভাবে সম্পদ সুনাম ও ক্ষমতা লাভকারীদেরকে কখনও ভাগ্যবান মনে করবেন না।
    • সৎ ও ন্যায়পরায়ণদের বাহ্যিকভাবে দুর্বল দরিদ্র ও অক্ষম দেখে হতভাগা মনে করবেন না।
    • আল কুরআন পরিপূর্ণ অনুসরনে সৌভাগ্য জড়িত এই ধারণা শাণিত করুন।

    লাইলাতুল ক্বদরে নিন্মোক্ত দু’আটি করা সুন্নাত

    ”আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারীমুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নী”
    হে আল্লাহ ! আপনি বড়ই ক্ষমাশীল, বড়ই দয়ালু, ক্ষমা করতে আপনি ভালোবাসেন; অতএব, আমার গুনাহ সমূহ মাফ করে দিন।(আহমদ, তিরমিযি, ইবন মাজাহ)

    হে আল্লাহ আমাদেরকে লাইলাতুল ক্বদর রাতের মহত্ত্ব বুঝার তৌফিক দান করুন । আমিন

    লেখক- তারেক বিন হাম্জা

  • ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও করোনার শিক্ষা

    ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও করোনার শিক্ষা

    এবিএনএ : শৈশবে পিতৃহারা ডানপিঠে ছেলে আমি,প্রাইমারি স্কুল থেকেই  বরাবর প্রথম হতাম। ভলিবল , হা ডু ডু, গােল্লাছুট, কানামাছি,দেীড়ঝাপ গাছেউঠা, পুকুরে ঝাপ,টেবিল টেনিশ, Sports,handball,ফুটবল কোনটি বাদ যায়নি।মনে পড়ে এই তো সেদিন বাগেরহাট Stadium এ শিশুলীগ ফুটবল খেলায়
    শ্রেষ্ঠ গোল দাতার পুস্ককার টা আমার হাতে উঠেছিল কি যে আনন্দলেগেছিল? স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সবখানেই অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছি।এই তো সেদিন মনে হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের Captain হিসাবে আন্তঃ বিভাগ ফুটবলে আমরা Champion হয়েছিলাম।ডঃ মিজান স্যার,আজিজ স্যার,শওকত স্যার, আসিফ নজরুল স্যারদের ভালবাসায় সিক্ত হয়েছিলাম আমরা। আইন বিভাগের দুটি  এ্যালামনাইয়ের নিবাচিত Secretary, সুপ্রীম কোর্টের কার্যকরি সদস্য,ছাএলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও আওয়ামী লীগের উপ- কমিটিতে পদায়ন,টকশোয়  অংশ গ্রহন  কত কিছুই না করেছি ছোট্ এ জীবনে। আমেরিকার ওয়াসিংটন থেকে Capital Hill,  White House,Air Space  museum এ দুই ভাইয়ের তৈরি পৃথিবীর প্রথম plane,চাঁদে অবতরনকারি খেয়াযান Appollo -11, New york er Time Square,  Statue of Liberty,Tramp Tower, U N head office কিংবা নিউজার্সির আটলান্টিক শহরে Atlantic সাগরে মিলেমিশে একাকার হওয়া, U S বিমান বাহিনীর Air Show কিংবা Canada r  Niagara Falls,  Toronto  Ontario lake,Down town,morning side, Vrimlly, Kenedy sub-way Station,Victoria park Station, buffalo কিংবা England er মাদাম তুষো জাদুঘর,Birth place of Shakespeare, British Natural history  museum,টেমস নদী,Manchester United club, Manchester City club,10 Dawning street,British Queens House কিংবা France er আইফেল টাওয়ার কিংবা চীনের Timen Square, চীনের প্রাচীর (Great Wall) মাওসেতুং এর বাড়ী,চীনের  ছেলে মেয়েদের অপূর্ব’ দৃষ্টিনন্দিত Show,পুরানো রাজার বাড়ী কিংবা ইন্দোনেশিয়ার জাকাতা কিংবা বালি দ্বীপ কিংবা  মালয়েশিয়ার k L center, Bukit binta, Genting Highland,কিংবা  Singapore er তানজুকাটুং রোড, Mostofa Center কিংবা Bangkok  er সাফারি পাক’ বিনোদন মূলোক অনুষ্ঠান কিংবা Sri Lanka r Candi কিংবা Addams feet finger Indian Ocean কিংবা সেীদি আরবের মসজিদুল হারাম/নববী, হীরা গুহা, আরাফাতের ময়দান, হুজুর (সঃ) এর বাড়ী,বুড়ীর বাড়ী (ভুয়া) তায়েফ নগর কিংবা নয়নাভিরাম হেমালয়ের দেশ নেপালের বিশালাকৃতি Statue of গেীতম বুদ্ধ কিংবা বিশাল ভারতের চোখ ধাঁধানো তাজমহল, কুতুব মিনার, আগ্রা ফোর্ট, আজমীর শরিফ, নিজামউদ্দীন আওলিয়ার মাজার, প্রিয়শহর কোলকাতার Victoria park কত কিছুই না দেখা হল ছোট এ জীবনে।জীবন,ধর্ম, দর্শন,প্রকৃতি  সম্পর্কে আমার জানার আগ্রহ বরাবর। মনে পরে জীবনে প্রথম নেপাল ভ্রমন করতে গিয়ে গেীতম বুদ্ধের এক বিশাল Statue দেখতে গিয়ে যেন অঘোষিত বানরের রাজ্যে এসে পড়েছিলাম  যোজন যোজন বানরের দল আমার Digital Camera টা ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অনেক কষ্টে সেটা পেয়েছিলাম।আলাপ চারিতায় বেীদ্ধ ভিক্ষুককে জিজ্ঞেস করেছিলাম What is the basis of your religion?উওরে বললেন “smiling Face” আমি বললাম What does you mean by Smiling Face: সে প্রতি উত্তরে বললেন ” If you have Smiling Face 2 (two) days will increasing from  your life time (আয়ু) & If you have Unsmiling Face 4 (Four) days will decreasing from your life time অথ্যাং  “যদি আমরা হাসিমুখি থাকি তাহলে আমাদের আয়ুকাল  নির্দিষ্ট ২ (দুই) দিন করে বেড়ে যাবে আর আমরা যদি গুমরা মুখি থাকি তাহলে আয়ুকাল ৪(চার) দিন করে কমতে থাকবে” তাহলে
    প্রশ্ন থেকে যায়  Whether  we should not maintain a Smiling Face in all time for increasing our life time? Conclusion a তাহলে বলা যায় ” Be Smile & love to make other Smiling”
    একবার  কেীতুহল(Curious) বশ্যত আমার এক Singaporean  বন্ধুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম Which thing is more important for the human Society?  Whether  “Religion or Morality ” এক মহুর্ত’ বিলম্ব না করে সংগে সংগে উত্তর দিয়েছিলেন Yeah  my friend Obviously  “Morality is most important than religion for the human Society” যার আজ বড় শিক্ষা করোনা ভাইরাস আমাদের দিচ্ছে; চীন দেশ ভ্রমনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া আমার Guide cum Friend কে বলেছিলাম “Near future your Country will lead the World & World economy shall run by your Country” দেখলাম চোখে মুখে তার আত্মবিশ্বাসের হাসি, কাল বিলম্ব না করে বলে উঠলো- Yes Yes we hope so: See,our Country will run the World  very soon:
    এই মুহুতে গোটা  মানব জাতি তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য যে অদৃশ্য শত্রুর সংগে  প্রতি নিয়ত যুদ্ধকরছে তার নাম Corona Virus:U S  president  Donald Trump যার  নাম দিয়েছেন China Virus/চীনের উহান শহরের laboratory থেকে এটা ছড়িয়েছে নাকি প্রকৃতি প্রদত্ত তা এখন talk of the World;  কেউ কেউ বলছেন এটা revenge of  Nature against human being /আবার বিশ্ব সংস্হা  (W H O) বলছে ভাইরাসটি চীনের laboratory থেকে নয় এটা প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্টি।
    ভাইরাসটি যে প্রক্রিয়ায় সৃষ্টি হউক না কেন এটি আজকে মানব জাতির বিরুদ্ধে প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর প্রতিশোধ তা  সর্ব’জন সীকৃত কারন এই Virus এর একমাত্র target  মানুষের শরীর/কলিজা অন্য কোন পোকা – মাকর কিংবা জীব জন্তু নয়।এই ভাইরাস রাজা প্রজা, উচু নিচু, ধনী গরিব,হিন্দু মুসলিম,বেীদ্ধ  খ্রিস্টান,  পীর দরবেশ,ঠাকুর  পুরোহিত কিছুই চেনেনা কিছুই মানেনা। চাই শুধু মানুষের শরীর। সে  ভয় করেনা    বন্দুক, বোমা,  গোলা বারুদ। পরাশক্তি সবই আজ পরাজিত। কোন কিছুর ধার ধারেনা সে তাহলে মানুষের এত ক্ষমতার বাহাদুরি কোথায় গেল? ১৮ হাজার মাকলুকাতের এই পৃথিবী মানুষের একার হতে পারেনা।  বিজ্ঞানের কল্যানে মানুষ তার নিজ প্রয়োজনে পৃথিবীর একক মালিক হতে পারেনা।পৃথিবীর অন্য সৃষ্টিকে পৃথিবী ছাড়া করতে পারেনা।প্রকৃতির দৃষ্টিতেএই পৃথিবী সবার,তাই সবাইকে নিয়ে থাক সবাইকে নিয়ে বাঁচোএটাই প্রকৃতির চাওয়া  /প্রকৃতির বিধান।বিজ্ঞান হচ্ছে প্রকৃতি প্রদত্ত লব্দ বিধানের বাস্তব রুপ। বিজ্ঞানের শক্তি প্রকৃতির শক্তিকে পরাজিত করতে পারবেনা যদি না তার সীমালংগন হয়  । প্রকৃতি সর্বদাই নির্মল  সর্বদাই হাস্য উজ্জ্বল  তাই সর্বজ্ঞে মানুষকে হতে হবে হাস্য উজ্জ্বল হতে হবে মানবিক তাহলেই কেবল মুক্তি।পরিশেষে Corona Virus তাকে China virus  বা প্রাকৃতিক ভাইরাস যে নামেই ডাকা হোক না কেন এর শক্তিমত্তা গোটা বিশ্বকে যে ভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে তার প্রভাব এর জন্মস্হান/আতুর ঘর  মহান চীন জাতিকে আগামীতে বিশ্ব নেতৃত্বে দেখা যায় কি না তার অপেক্ষায় থাকলাম যেটি আশা করেছিল আমার প্রিয় Guide কাম বন্ধু। জানিনা বন্ধুটি বেঁচে আছেন কি না? বন্ধুর বেঁচে থাকার অপেক্ষায়।আমীন।
    লেখক, শেখ আলী  আহম্মেদ খোকন, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।