Blog

  • সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি, নারীর স্বাধীনতা নিয়ে নীরবতা: বগুড়ার জনসভায় তারেক রহমান

    সংস্কারের নামে বিভ্রান্তি, নারীর স্বাধীনতা নিয়ে নীরবতা: বগুড়ার জনসভায় তারেক রহমান

    এবিএনএ: কিছু রাজনৈতিক শক্তি সংস্কারের নামে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, যারা সংস্কারের কথা বলছে তারা নারীর স্বাধীনতা, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল। এসব কমিশনের মধ্যে সংবিধান, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন, স্বাস্থ্য ও নারীবিষয়ক কমিশনও রয়েছে। কিন্তু একটি মহল শুধুমাত্র সংবিধান ইস্যু সামনে এনে অন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আড়াল করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের চিকিৎসা সহজ করা, ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা কিংবা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়ে তারা কোনো বক্তব্য দেয় না।

    তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। অতীতেও বিভিন্ন সময় একই কৌশলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছু মহল এসব উদ্যোগের বিরোধিতা করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করেছিলেন, যেখানে দেশের উন্নয়নের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে বিএনপি ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি জনগণের সামনে উপস্থাপন করে। তখন অন্য রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কার নিয়ে কথা বলতেও সাহস পায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

    তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং, শিক্ষা ও যোগাযোগসহ বিভিন্ন খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে। কিছু বড় প্রকল্পের আড়ালে দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু জনগণের প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই বিএনপি সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তিনি বলেন, স্বৈরাচার পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন কমিশনের কাছে বিএনপি নিজেদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কোন বিষয়ে একমত আর কোন বিষয়ে মতভেদ রয়েছে—সবকিছুই স্বচ্ছভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। গণতন্ত্রে মতপার্থক্য স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এর আগে সকালে সড়কপথে ঢাকা থেকে বগুড়ায় পৌঁছান তারেক রহমান। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে তিনি জেলা জজ আদালতের নবনির্মিত ভবন ও ‘ই-বেইল বন্ড’ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। পরে বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের নামফলক উন্মোচন, গাবতলীর বাগবাড়ীতে পৈতৃক ভিটা পরিদর্শন এবং শহীদ জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

    সন্ধ্যায় বগুড়া প্রেস ক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধনের পর তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

  • মালয়েশিয়ার ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হাজারের বেশি ঘর—উদ্বাস্তু ৯ হাজার মানুষ

    মালয়েশিয়ার ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই হাজারের বেশি ঘর—উদ্বাস্তু ৯ হাজার মানুষ

    এবিএনএ: মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের সানদাকান শহরের একটি ভাসমান গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। এতে অন্তত ৯ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টা ৩২ মিনিটে উপকূলীয় এলাকার কামপুং বাহাগিয়া নামের ভাসমান গ্রামটিতে আগুন লাগে। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত দেড়টার দিকে ঘটনাটি জানা যায় এবং ভোর ৪টার দিকে এলাকাটিকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করা হয়।

    দমকল বিভাগ জানায়, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অগ্নিনির্বাপক সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ঘরবাড়ি মুহূর্তেই পুড়ে যায়। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

    পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকাটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর ছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ৯ হাজারের বেশি বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর বেশিরভাগই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

    ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে প্রাণহানির খবর ছড়িয়ে পড়লেও তা নাকচ করেছে পুলিশ। তাদের দাবি, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। কিছু মানুষ নিজেদের জিনিসপত্র উদ্ধার করতে গিয়ে অথবা অন্যদের সহায়তা করতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

    দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা ও অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দমকল বিভাগ, বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালাচ্ছে। আগুন লাগার কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

    ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় সরকার ও সাবাহ রাজ্য সরকার যৌথভাবে কাজ করছে এবং দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

  • চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ, বিশ্বকাপের আগে বড় দুশ্চিন্তায় চেলসি

    চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন ব্রাজিলিয়ান তরুণ, বিশ্বকাপের আগে বড় দুশ্চিন্তায় চেলসি

    এবিএনএ:  বিশ্বকাপের আর খুব বেশি দেরি নেই। প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বিশ্বের সেরা ফুটবলাররা। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সময়েই চোটে পড়ে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে অনেক তারকার। ইউরোপের লিগগুলোর শেষ পর্যায়ে এসে সেই তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে এক ব্রাজিলিয়ান তরুণের নাম, যা দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পক্ষেরই।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) ঘরের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে যায় চেলসি। এই পরাজয়ে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলার সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে লন্ডনের ক্লাবটির। বর্তমানে শীর্ষ চারের থেকে সাত পয়েন্ট পিছিয়ে আছে তারা, হাতে রয়েছে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ।

    তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও বড় ধাক্কা আসে তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড এস্তেভাওয়ের চোটে। ম্যাচের মাত্র ১৬ মিনিট খেলেই হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা অনুভব করেন তিনি। এরপর কোচ তাকে মাঠ থেকে তুলে নিতে বাধ্য হন। চিকিৎসা নেওয়ার পরও খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি এই ফরোয়ার্ড।

    ম্যাচ শেষে কোচ জানান, ড্রেসিংরুমে ফিরে এস্তেভাও কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে দ্রুত দৌড়ানোর সময়ই তিনি হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করেন। কোচের আশা, ইনজুরি গুরুতর না হলে দ্রুতই মাঠে ফিরতে পারবেন তরুণ এই ফুটবলার।

    এই চোট শুধু ক্লাবের জন্যই নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও উদ্বেগের কারণ। আসন্ন বিশ্বকাপে আক্রমণভাগে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল ১৮ বছর বয়সী এস্তেভাওকে। তবে চোট গুরুতর হলে তার বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই জানা যাবে ইনজুরির প্রকৃত অবস্থা।

    চলতি মৌসুমে চেলসির হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৫ ম্যাচে খেলেছেন এস্তেভাও। করেছেন ৮টি গোল, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪ গোল। জাতীয় দলের জার্সিতেও ইতোমধ্যে জায়গা পাকা করেছেন তিনি, যেখানে পাঁচবার জালের দেখা পেয়েছেন।

    চেলসির দুর্ভাগ্য এখানেই থেমে থাকেনি। ম্যাচের শেষ দিকে মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজও চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন। কোচ জানান, তার কাফে সমস্যা দেখা দিয়েছে, যদিও এটি সাময়িক ক্র্যাম্প হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। দ্রুত চিকিৎসা চলছে, কারণ পরবর্তী ম্যাচে তাকে দলে পাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বিশ্বকাপের আগে একের পর এক চোট ফুটবল বিশ্বে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। এস্তেভাওয়ের অবস্থা এখন নজরে রাখছেন সমর্থকরা, কারণ তার ফিটনেসই নির্ধারণ করবে বিশ্বমঞ্চে ব্রাজিলের আক্রমণভাগ কতটা শক্তিশালী হবে।

  • চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    চুক্তি না করলে ইরানকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে

    এবিএনএ: শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বর্তমান প্রস্তাবটি গ্রহণ করার এটিই তেহরানের জন্য ‘শেষ সুযোগ’। অন্যথায় পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

    এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়কার ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির পুনরাবৃত্তি করতে চান না। তার মতে, নতুন প্রস্তাবটি আগের চুক্তির তুলনায় আরও কঠোর এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর হবে।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে এই হুমকি আসে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রণালীতে কার্যক্রম অব্যাহত রাখায় ও গুলি চালানোর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে জানান, একটি ফরাসি জাহাজ এবং যুক্তরাজ্যের একটি মালবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তথ্য রয়েছে।

    ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়ে নিজেদেরই ক্ষতির মুখে ফেলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পথ বন্ধ থাকায় প্রতিদিন বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তেহরান, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি হচ্ছে না বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

    এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা এখনও অনেক দূরে—এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের সংসদ স্পিকার।

    ট্রাম্প তার বার্তায় আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত’ প্রস্তাব দিয়েছে। এটি গ্রহণ না করলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা হতে পারে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটাতে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত।

    উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী রোববারও আংশিকভাবে বন্ধ ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

  • অন্যের দোষ খোঁজা কেন ইসলাম সমর্থন করে না? কোরআন-হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা

    অন্যের দোষ খোঁজা কেন ইসলাম সমর্থন করে না? কোরআন-হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: মানুষ ভুল-ত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়। প্রত্যেক মানুষের মাঝেই ভালো-মন্দের সংমিশ্রণ রয়েছে। ভুল করা মানুষের স্বভাব, আর নির্ভুলতা কেবল ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য। তাই ইসলামে অন্যের দোষ অনুসন্ধান করা কিংবা তা প্রকাশ করা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। বরং যে ব্যক্তি অন্যের ত্রুটি আড়াল করে রাখে, মহান আল্লাহও তার ত্রুটি আড়াল করে দেন—এমন সুসংবাদ এসেছে কোরআন ও হাদিসে।

    পবিত্র কোরআনের সুরা হুজরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন—হে মুমিনগণ! তোমরা অধিক সন্দেহ থেকে দূরে থাকো; কারণ কিছু সন্দেহ পাপ। একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং পরস্পরের গিবত করো না। তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? নিশ্চয়ই তোমরা তা ঘৃণা করবে। আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা গ্রহণকারী ও পরম দয়ালু।

    এই আয়াতে তিনটি বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে—অযথা সন্দেহ, গোপন অনুসন্ধান এবং গিবত। অর্থাৎ অন্যের ত্রুটি খুঁজে বের করা ও তা প্রচার করা ইসলামের দৃষ্টিতে গুরুতর নৈতিক অপরাধ।

    হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় কোনো মুসলমানের দোষ গোপন রাখে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তার দোষ গোপন রাখবেন। (মুসলিম: ২৫১০)

    অন্য এক হাদিসে নবীজি (সা.) সতর্ক করে বলেন, তোমরা মুসলমানদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়িও না। কেউ যদি অন্যের দোষ অনুসন্ধান করে প্রকাশ করে, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। এমনকি তাকে নিজের ঘরেই লাঞ্ছিত করেন। (আবু দাউদ: ৪৮৮০)

    এছাড়া হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—আমার উম্মতের সবাই ক্ষমা পাবে, তবে যারা নিজের পাপ প্রকাশ করে তারা নয়। কোনো ব্যক্তি রাতে পাপ করে, আল্লাহ তা গোপন রাখেন। কিন্তু সকালে সে নিজেই তা মানুষের কাছে প্রকাশ করে। এভাবে সে আল্লাহর দেওয়া আড়াল নিজেই সরিয়ে দেয়। (বুখারি: ৬০৬৯)

    ইসলামের শিক্ষা হলো—অন্যের ভুল দেখলে সংশোধনের উদ্দেশ্যে নরমভাবে উপদেশ দেওয়া, কিন্তু তা প্রচার করা নয়। মানুষের সম্মান রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাই গিবত, অপবাদ ও দোষ অনুসন্ধান থেকে বিরত থেকে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখাই ইসলামের নির্দেশ।

  • বাংলাদেশে জিলকদের চাঁদ দেখা যায়নি, ২০ এপ্রিল থেকে নতুন মাস শুরু

    বাংলাদেশে জিলকদের চাঁদ দেখা যায়নি, ২০ এপ্রিল থেকে নতুন মাস শুরু

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে। সে অনুযায়ী আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।

    বৈঠকে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (স্পারসো) থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পর নিশ্চিত হওয়া যায় যে দেশের কোথাও জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে শাওয়াল মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হচ্ছে এবং ২০ এপ্রিল থেকে নতুন মাস শুরু হবে।

    সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব, ওয়াকফ প্রশাসনের প্রতিনিধি, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্পারসোর বিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি জানিয়েছে, ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী চাঁদ না দেখা গেলে চলমান মাস ৩০ দিন পূর্ণ করে পরবর্তী মাস শুরু হয়। সেই নিয়ম অনুসারেই এবার শাওয়াল মাস পূর্ণ করে জিলকদ মাস শুরু হচ্ছে।

  • তাপদাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস—কমতে পারে তাপমাত্রা

    তাপদাহে স্বস্তির ইঙ্গিত, ঝড়-বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস—কমতে পারে তাপমাত্রা

    এবিএনএ: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

    শনিবার (১৮ এপ্রিল) আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি এলাকাতেও দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকাসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং আবহাওয়া মোটামুটি শুষ্ক থাকতে পারে।

    আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। এসব অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দেশের অন্যত্র তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-একটি স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। এ সময় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

    সোমবার (২০ এপ্রিল) একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যত্র আবহাওয়া আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক থাকতে পারে।

    মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিলেট বিভাগের কিছু এলাকা এবং রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের দু-একটি স্থানে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এদিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

    বুধবার (২২ এপ্রিল) ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। এ সময় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

  • গণভোটের রায় বাস্তবায়নে মাঠে ১১ দলীয় জোট, ঢাকা থেকে জেলা পর্যন্ত টানা কর্মসূচি ঘোষণা

    গণভোটের রায় বাস্তবায়নে মাঠে ১১ দলীয় জোট, ঢাকা থেকে জেলা পর্যন্ত টানা কর্মসূচি ঘোষণা

    এবিএনএ: গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে দ্বিতীয় দফায় নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ১১ দলীয় জোট। রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জোটের নেতারা।

    বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করবে ১১ দলীয় ঐক্য। এই সময়ের মধ্যে গণমিছিল ও সেমিনারের মাধ্যমে দাবিগুলো তুলে ধরা হবে।

    ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল রাজধানী ঢাকায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ এপ্রিল দেশের সব বিভাগীয় শহরে একই ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে। সর্বশেষ ২ মে প্রতিটি জেলা শহরে গণমিছিল করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পুরো সময়জুড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সেমিনার আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে প্রত্যাশা করেছিল, তা পূরণ হয়নি। সরকারের বিরুদ্ধে গণরায় উপেক্ষার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, জনগণের দাবিকে অবজ্ঞা করে সরকার উল্টো দমননীতির পথে হাঁটছে।

    তিনি আরও বলেন, আন্দোলন দমনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। একই সঙ্গে প্রশাসনে দলীয়করণ, জ্বালানি সংকট এবং স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগও তোলেন তিনি।

    জোট নেতারা জানান, ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জোরালো করা হবে এবং দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

  • হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: কয়েক ঘণ্টা আগে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এখন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে।

    স্থানীয় সময় দুপুরে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীই এর চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।

    তবে এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তোলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানান, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। এই মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত থাকবে না। তিনি জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুনরায় প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দেয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

  • এসএসসি সামনে, বিদ্যুৎ নেই — লোডশেডিং ও গরমে দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

    এসএসসি সামনে, বিদ্যুৎ নেই — লোডশেডিং ও গরমে দিশেহারা পরীক্ষার্থীরা

    এবিএনএ: আগামী মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। তবে তীব্র গরমের সঙ্গে চলমান বিদ্যুৎ সংকট যুক্ত হওয়ায় পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়েছে শিক্ষার্থীরা। দেশজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

    বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়তে পারছে না। গরমের কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

    চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৫৬ হাজার ৩২৫ জন এবং ছাত্রী ৭৪ হাজার ৩৪৩ জন। শুধু চট্টগ্রাম জেলা থেকেই পরীক্ষায় বসছে ৯২ হাজার ২৯৬ জন পরীক্ষার্থী। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে উদ্বেগে রয়েছে।

    শিক্ষার্থীরা জানান, পড়াশোনার সময়েই বিদ্যুৎ চলে যায়। অনেক এলাকায় দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে অনলাইন ক্লাস, পুনরাবৃত্তি কিংবা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

    চট্টগ্রাম নগরীর এক শিক্ষার্থী নাছরিন জানায়, রাতে পড়তে বসলেই বিদ্যুৎ চলে যায়। তীব্র গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চার্জার ফ্যানও কাজ করে না। একই ধরনের সমস্যার কথা জানায় আনোয়ারা উপজেলার আরেক পরীক্ষার্থী রিজভী। তার ভাষ্য, রাতের দিকে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

    অভিভাবকরাও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ে লোডশেডিং চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির দাবি জানিয়েছেন তারা।

    বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন ঘাটতি ও বাড়তি চাহিদার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি বন্ধ রয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি সংকটের কারণে এসব কেন্দ্র চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

    পিডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎপাদন ও চাহিদার ব্যবধান কমাতে সাময়িকভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।