Category: নির্বাচনী হাওয়া

  • বিদ্রোহী প্রার্থী, ভুল মনোনয়ন আর কোন্দল—বাগেরহাটে বিএনপির দুর্গ ভাঙল জামায়াত

    বিদ্রোহী প্রার্থী, ভুল মনোনয়ন আর কোন্দল—বাগেরহাটে বিএনপির দুর্গ ভাঙল জামায়াত

    এবিএনএ: বাগেরহাটকে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতাসীনদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দেখা হলেও এবারের নির্বাচনে ছবিটা বদলে গেছে। বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, মোল্লাহাট, ফকিরহাট) আসনে ইতিহাসের পাতায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হয়েছে—স্বাধীনতার পর প্রথমবার এখানে জয় পায় জামায়াত। স্থানীয় রাজনীতিতে এ ফলাফলকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

    এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের নেতা কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল। অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের স্থানীয় ইউনিটে দায়িত্বে ছিলেন এবং সংখ্যালঘু সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই বিএনপির তৃণমূলে অসন্তোষ তৈরি হয়। স্থানীয় নেতাদের অভিযোগ, দুঃসময়ে মাঠে থাকা একাধিক প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতকে এগিয়ে দেওয়া হয়েছে কেবল ভোটের অঙ্ক কষে। ফলে মাঠের কর্মীরা নিরুৎসাহিত হন।

    এ ছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএএইচ সেলিম ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানার মতো দুই স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে থাকায় বিভাজন আরও গভীর হয়। ফলাফলে দেখা যায়, বিজয়ী জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে বিএনপির প্রার্থীর ব্যবধান ছিল অল্প; কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট যোগ করলে ব্যবধান স্পষ্টভাবেই পাল্টে যেতে পারত। স্থানীয় পর্যায়ে কর্মীদের একটি অংশ প্রকাশ্যে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করলেও গোপনে বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।

    বাগেরহাট-২ আসনেও একই চিত্র। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থীর উপস্থিতিতে বিএনপির ভোট ভাগ হয়ে যায়। প্রকাশ্যে দলীয় প্রচারণা থাকলেও আড়ালে ভিন্ন মেরুর তৎপরতা চলেছে বলে দাবি করেন মাঠের কর্মীরা। ভোটের হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, বিভক্তি না হলে ফল ভিন্ন হতে পারত।

    দলীয় কোন্দলের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে চাঁদাবাজি, ঘের ও বসতভিটা দখল, নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতার অভিযোগে সাধারণ ভোটারদের একাংশ মুখ ফিরিয়ে নেয়। অনেকেই বলেন, দল জনপ্রিয় হলেও একাধিক গ্রুপে বিভক্ত থাকায় সাংগঠনিক শক্তি ক্ষয়ে গেছে। আবার মনোনীত প্রার্থীদের অনেককে ভোটাররা ঠিকভাবে চিনতেন না—এটাও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    অন্যদিকে বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনে দীর্ঘদিন পর ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় ছিনিয়ে নেয়। অতীতে জোটের সমীকরণে আসনটি ছেড়ে দেওয়ার নজির থাকলেও এবার স্থানীয় সংগঠন সক্রিয় থাকায় ফল তাদের পক্ষে যায়।

    বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা) আসনে মনোনয়ন বিতর্ক নতুন করে ক্ষোভ বাড়ায়। দলবদল করে আসা প্রার্থীকে এগিয়ে দেওয়ায় তৃণমূল নেতারা অসন্তুষ্ট হন। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনী ব্যয় ভাগাভাগি ও অভ্যন্তরীণ গ্রুপিংয়ের কারণে মাঠে সমন্বয় হয়নি। শেষ পর্যন্ত এর খেসারত দিতে হয় দলকে।

    সব মিলিয়ে বাগেরহাটে বিএনপির ভরাডুবির পেছনে তিনটি বিষয় স্পষ্ট: বিদ্রোহী প্রার্থীর ভোটকাটা, স্থানীয় বাস্তবতা না বুঝে মনোনয়ন এবং দলীয় কোন্দল। এসব দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীরা সুযোগ নিয়েছে—এটাই বলছেন মাঠপর্যায়ের কর্মী ও পর্যবেক্ষকেরা।

  • বাগেরহাটে ভোটের চূড়ান্ত ফল: চার আসনে ক্ষমতার পালাবদল, জামায়াতের তিনটিতে জয়, বিএনপির একটিতে সাফল্য

    বাগেরহাটে ভোটের চূড়ান্ত ফল: চার আসনে ক্ষমতার পালাবদল, জামায়াতের তিনটিতে জয়, বিএনপির একটিতে সাফল্য

    এবিএনএ, বাগেরহাট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা শেষে বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফল প্রকাশ করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা গোলাম মো. বাতেন তার দপ্তরে ফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে জেলার তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা এবং একটি আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

    বাগেরহাট-১ (চিতলমারী–ফকিরহাট–মোল্লাহাট) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা মশিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৬৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে থেকে জয় পান। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কপিল কৃষ্ণ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৯০ ভোট সংগ্রহ করেন।

    বাগেরহাট-২ (সদর–কচুয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৭০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই আসনে বিএনপির ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৬৬ হাজার ২৭৪ ভোট।

    বাগেরহাট-৩ (মোংলা–রামপাল) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনোনীত প্রার্থী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের অ্যাডভোকেট আব্দুল ওয়াদুদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৮৩ হাজার ৭০৫ ভোট।

    অন্যদিকে বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল আলিম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দে ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৩২৬ ভোট।

    ফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পর ফল চূড়ান্ত রূপ পাবে।

  • কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফজলুর রহমানের বড় জয়

    কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফজলুর রহমানের বড় জয়

    এবিএনএ: কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রাম) সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট ফজলুর রহমান বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। কেন্দ্রভিত্তিক প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি ৭৭ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে পেছনে ফেলেছেন।

    মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফলের হিসাবে ফজলুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫০৩ ভোট। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট শেখ রোকন রেজার ঝুলিতে গেছে ৫৪ হাজার ৭৯৯ ভোট।

    ফল ঘোষণা শেষে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ফজলুর রহমান ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রামের মানুষের আস্থা ও প্রত্যাশাই এই বিজয়ের মূল শক্তি।

    নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে হাওরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা জোরদার এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার অঙ্গীকারও করেন তিনি।

  • ঢাকা-১৭ আসনে ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে

    ঢাকা-১৭ আসনে ভোটকেন্দ্রে উত্তেজনা, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে

    এবিএনএ: ঢাকা-১৭ আসনের ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আদর্শ বিদ্যানিকেতন ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নির্বাচনী উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রের আশপাশে সেনাবাহিনী মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে।

    মফিজুল ইসলাম নামের এক ভোট এজেন্ট জানান, সকাল থেকেই কেন্দ্রের ভিতরে একটি পক্ষ প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছিল। কেন্দ্রের ভেতরে বিএনপির চারজন এজেন্ট ছিলেন। প্রাথমিকভাবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি। পরে বিষয়টি পুলিশের এবং সেনাবাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।

    তবে, কেন্দ্রের ১০০ গজের ভেতরে বিএনপির বুথ অব্যাহত থাকা ও নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।

    প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সোহেল আহমেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোনো অনিয়ম হয়নি। এখানে আইনশৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। আমি ভোটকেন্দ্র মনিটর করছি এবং ভোটের পরিবেশ অনেক ভালো রয়েছে।”

    এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করে ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। ভোটাররা নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত থেকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন।

  • চট্টগ্রামে ভোট দিতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা ভোটারদের

    চট্টগ্রামে ভোট দিতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা ভোটারদের

    এবিএনএ, চট্টগ্রাম: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে সকাল হওয়ার আগেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী মানুষ কেন্দ্রে এসে অবস্থান নেন।

    বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মানুষ ভোট দিতে ভোট কেন্দ্রে আসছেন। কেউ পায়ে হেঁটে, কেউ রিকশায় চেপে কেন্দ্রে যাচ্ছেন।

    চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার পশ্চিম আমিলাইষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোর সাড়ে পাঁচটার সময় কিছুসংখ্যক উশৃংখল লোক ককটেল ফুটিয়ে গোলযোগ করতে আসলে এলাকায় ভোটারদের উপস্থিতিতে ও স্থানীয়রা তা প্রতিহত করেন।

  • গভীর রাতে ভোট কেনাবেচার অভিযোগে ধরা পড়লেন ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

    গভীর রাতে ভোট কেনাবেচার অভিযোগে ধরা পড়লেন ওয়ার্ড জামায়াত সভাপতি, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা

    এবিএনএ,মোংলা : মোংলা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে গভীর রাতে টাকা দিয়ে ভোট প্রভাবিতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় এক নেতাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। অভিযুক্ত মো. জসিম উদ্দিন—তিনি ওই ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং পৌর এলাকার বাসিন্দা।

    স্থানীয়দের ভাষ্য, রাতের দিকে বালুর মাঠ এলাকার আশপাশে কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ভোটারদের অর্থের প্রলোভন দেখানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও জসিম উদ্দিনসহ দুজনকে ধরে ফেলা হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের যৌথ বাহিনীর হাতে তুলে দেন।

    খবর পেয়ে নির্বাচন তদারকিতে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভোট কেনার চেষ্টার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান না করতে নির্দেশনা দেওয়া হয় এবং ভোটার স্লিপ বিতরণের অস্থায়ী কার্যক্রমও সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

    নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে এমন যে কোনো তৎপরতার বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মোংলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত থাকবে।

  • ভোরের আলো ফোটার আগেই কেন্দ্রে ভিড়, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন বিএনপি প্রার্থী—কালো টাকার অভিযোগে সরগরম মোংলা-রামপাল

    ভোরের আলো ফোটার আগেই কেন্দ্রে ভিড়, লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিলেন বিএনপি প্রার্থী—কালো টাকার অভিযোগে সরগরম মোংলা-রামপাল

    এবিএনএ,মোংলা : ভোরের আলো ফোটার আগেই মোংলা ও রামপাল উপজেলার একাধিক ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন্দ্রমুখী মানুষের ঢল নামে। অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন ভোট দেওয়ার জন্য।

    সকাল শুরু হতেই বিএনপি প্রার্থী নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে সারিতে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রার্থীর এমন উপস্থিতিতে কেন্দ্রে বাড়তি উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যায়। উপস্থিত ভোটাররা জানান, শান্ত পরিবেশে ভোট দিতে পারছেন বলে তারা সন্তুষ্ট।

    এদিকে নির্বাচন ঘিরে মোংলা-রামপাল এলাকায় ‘কালো টাকা’ ব্যবহারের অভিযোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তুঙ্গে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো অনিয়ম ঠেকাতে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

    ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রাখতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তৎপর রয়েছেন। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দিতে সহায়তা করতে কেন্দ্রভিত্তিক ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হয়েছে।

  • সকালেই ভোট দিলেন ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন, বললেন ‘নিরপেক্ষ ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

    সকালেই ভোট দিলেন ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন, বললেন ‘নিরপেক্ষ ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী’

    এবিএনএ, বাগেরহাট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি বাগেরহাটের খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজ ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের ভোট দেন। একই কেন্দ্রে তার স্ত্রী তাহমিনা লিমাও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

    ভোট দেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার শেখ জাকির হোসেন বলেন, সকালে ভোটকেন্দ্রের যে পরিবেশ দেখেছেন তাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটারদের উপস্থিতিও সন্তোষজনক এবং নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তাহলে ফলাফল তাদের অনুকূলে আসবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

    সকাল থেকেই ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী ও পুরুষ ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে পর্যায়ক্রমে বুথে প্রবেশ করে ভোট প্রদান করছেন। শান্ত পরিবেশে ভোট দিতে পেরে অনেক ভোটার সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর নিরুপদ্রব পরিবেশে ভোট দিতে পারাটা স্বস্তিদায়ক।

    নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ হাজার ৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯৬৬ জন এবং নারী ভোটার ১ হাজার ৮৪ জন। চারটি বুথে একযোগে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

  • রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: একযোগে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু

    রাত পোহালেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন: একযোগে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ শুরু

    এবিএনএ: রাত পোহালেই বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে ২৯৯টি আসনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে সাধারণ সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা সংবিধান সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেবেন। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত রয়েছে।

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে এটি প্রথম সাধারণ নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে গঠিত শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণ ও প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মনোনয়নপত্র দাখিল শেষ হয় ৫ জানুয়ারি, বাছাই শেষ হয় ৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় ছিল, পরে জোটের প্রার্থীদের জন্য কিছু ব্যতিক্রম অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন ভোটার ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে ৫০টি রাজনৈতিক দল এবং ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী, যার মধ্যে ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় ও ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। আসনভিত্তিক হিসেবে ঢাকা-১২ আসনে সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, পিরোজপুর-১ আসনে সর্বনিম্ন ২ জন। প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিএনপি ২৯১ জন প্রার্থী দিয়েছে, ১১ দলীয় জোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ যথাক্রমে ২৫৮ জন প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

    এই প্রথম বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করছে না। ছাত্র-জনতার বিপ্লব পরবর্তী মানবতাবিরোধী ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের কারণে দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত।

    নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিটিভি ও বেতারে সব দলের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী ভাষণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি, মিছিল ও জনসভা বন্ধ। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

    প্রবাসী ভোটাররা ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে প্রথমবার ভোট দিতে পারছেন। ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত। আধুনিক প্রযুক্তি যেমন ই-কেওয়াইসি ও ফেসিয়াল ভেরিফিকেশন ব্যবহার করে জাল ভোট রোধ করা হয়েছে।

    সরাসরি ভোটে অংশগ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ৪২ হাজার ৭৭৯ প্রিসাইডিং অফিসার, ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৪ পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া পোস্টাল ভোটের জন্য ১৫ হাজার কর্মকর্তা নিয়োজিত।

    নির্বাচন কমিশন ২ হাজার ৯৮ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ৬৫৭ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে, ভোট ও সংক্ষিপ্ত বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য। প্রতি উপজেলা ও থানায় অন্তত দুই জন করে মোট ১ হাজার ৪৭ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্টের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন।

    ৪২ হাজার ৭৭৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৪০% ঝুঁকিপূর্ণ বা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ করে ঢাকার ১৫টি আসন ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তার জন্য বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, ড্রোন, সিসি ক্যামেরা ও বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।

    এবছর সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৫৮ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী মোতায়েন, যার মধ্যে সেনা, নৌসদস্য, বিমানবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্য অন্তর্ভুক্ত। ইউএভি, ড্রোন ও বডিওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে রিয়েল-টাইম নজরদারি করা হবে।

    দেশি ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ভোট পর্যবেক্ষণে দায়িত্ব পালন করছেন। মোট ৮১টি দেশি সংস্থা ও ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষক এবং ৩৯৪ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন।

    নির্বাচনকে ঘিরে যানবাহনের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ভোটের সমস্ত সরঞ্জাম কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে গেছে এবং ভোট কর্মকর্তারা অবস্থান গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ ১৮ মাসের সংস্কার ও প্রস্তুতির পর দেশজুড়ে ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষা করছেন। কালকের ভোটগ্রহণ নির্ধারণ করবে একটি গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।

  • রেকর্ডের পথে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৫০ দল, ১১৯ প্রতীক আর ২ হাজারের বেশি প্রার্থীর মহারণ

    রেকর্ডের পথে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ৫০ দল, ১১৯ প্রতীক আর ২ হাজারের বেশি প্রার্থীর মহারণ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে। রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত বিপুলসংখ্যক দল ও প্রতীকের উপস্থিতিতে ভোট হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্যমতে, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) ৫০টি নিবন্ধিত দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ২০২৮ জন প্রার্থী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।

    ভোটাররা এবার ব্যালটে দেখতে পাবেন ১১৯টি ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক। ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিসহ পরিচিত প্রতীকের পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে—যা নির্বাচনী ইতিহাসে আরেকটি ব্যতিক্রমী সংযোজন।

    নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বর্জনের চিত্র
    বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৬০টি। তবে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটি ভোটে নেই। নিবন্ধিত আরও আটটি দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ইসির তালিকা অনুযায়ী সাম্যবাদী দল (এম.এল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, ন্যাপ, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম ও তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী নেই।

    ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে যেখানে ২৮টি দল ও ৬৯টি প্রতীক ছিল, সেখানে এবারের অংশগ্রহণ ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ—যা ভোটের মাঠকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে।

    প্রার্থী বিন্যাস ও দলীয় শক্তিমত্তা
    ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ২৮৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লায় ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় ২৫৩ জন এবং জাতীয় পার্টির লাঙলে ১৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন।
    এ ছাড়া গণ অধিকার পরিষদের ট্রাকে ৯০ জন, সিপিবির কাস্তেতে ৬৫ জন, বাসদের মইয়ে ৩৯ জন, খেলাফত মজলিসের রিকশায় ৩৪ জন, এনসিপির শাপলা কলিতে ৩২ জন, আমার বাংলাদেশ পার্টির ঈগলে ৩০ জনসহ আরও কয়েকটি দলের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

    ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের কথা বললেও চূড়ান্ত তালিকায় জাসদের ছয়জন প্রার্থীর নাম দেখা যাচ্ছে—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

    সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে ফিরে দেখা
    স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, ভোটের হার ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বারবার বদলেছে। ১৯৭৩ সালের প্রথম নির্বাচন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত নানা সময় বর্জন, বিতর্ক ও অংশগ্রহণের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যা বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নতুন বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে।

    সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি ভোট নয়—এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে রেকর্ডসংখ্যক দল, প্রতীক ও প্রার্থীর অংশগ্রহণে এক অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।