Category: নির্বাচনী হাওয়া

  • ভোটের আগেই জেনে নিন নিজের ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র—ইসির ৪ সহজ পদ্ধতি এক নজরে

    ভোটের আগেই জেনে নিন নিজের ভোটার নম্বর ও কেন্দ্র—ইসির ৪ সহজ পদ্ধতি এক নজরে

    এবিএনএ: আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ভোগান্তি কমাতে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার চারটি সহজ পদ্ধতি চালু করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেই দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নিজের ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের ঠিকানা জানা যাবে বলে জানিয়েছে ইসি।

    ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, প্রযুক্তিনির্ভর এই সেবাগুলো ব্যবহার করে ভোটাররা কেন্দ্র খুঁজে নিতে পারবেন আগেভাগেই। এতে ভোটের দিন সময় বাঁচবে এবং বিভ্রান্তি কমবে।

    পদ্ধতি–১: Smart Election Management BD অ্যাপ
    প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে Smart Election Management BD অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করুন। ড্যাশবোর্ডে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ নির্বাচন করে ‘ভোটকেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে গিয়ে এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিলে সঙ্গে সঙ্গে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর এবং ভোটকেন্দ্রের নাম-ঠিকানা দেখা যাবে।

    পদ্ধতি–২: ১০৫ হটলাইন
    যেকোনো মোবাইল বা ল্যান্ডফোন থেকে ১০৫ নম্বরে কল করুন। অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ জানালে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সেবা চালু থাকবে।

    পদ্ধতি–৩: ১০৫-এ এসএমএস
    মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে নির্ধারিত ফরম্যাটে তথ্য লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠালেই ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যাবে।

    পদ্ধতি–৪: নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট
    ecs.gov.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে ‘ভোটকেন্দ্র’ মেনু থেকে অনুসন্ধান করা যাবে। এলাকা ও উপজেলা/থানা নির্বাচন করে কেন্দ্রের তালিকা দেখা যাবে, অথবা এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ দিয়ে সরাসরি নিজের তথ্য পাওয়া যাবে। গুগল ম্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রের অবস্থান, দূরত্ব ও যাওয়ার পথও দেখা যাবে।

    উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটের আগেই নিজের তথ্য নিশ্চিত করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

  • কার পাল্লায় যাবে ১ কোটি ১৩ লাখ সংখ্যালঘু ভোট? ভোটের আগে দুশ্চিন্তা ও প্রত্যাশা

    কার পাল্লায় যাবে ১ কোটি ১৩ লাখ সংখ্যালঘু ভোট? ভোটের আগে দুশ্চিন্তা ও প্রত্যাশা

    এবিএনএ: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট কোন দিকে মোড় নেবে—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ জুড়ে রয়েছেন।

    পরিসংখ্যান বলছে, দেশে বর্তমানে হিন্দু ভোটার রয়েছেন আনুমানিক ১ কোটি ১০ লাখের বেশি। খ্রিষ্টান ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার, বৌদ্ধ ভোটার ৭ লাখ ৯০ হাজার এবং অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ভোটার সংখ্যা কয়েক দশ হাজারের মতো। নির্বাচন ঘিরে একদিকে যেমন ভোটাধিকার প্রয়োগের আগ্রহ বাড়ছে, অন্যদিকে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও কাটেনি।

    সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কয়েকটি ঘটনার তথ্য তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত বছরে শতাধিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা প্রশ্নকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে। ফলে ভোটের দিন জানমালের সুরক্ষা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।

    সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা যথেষ্ট নয়—সব রাজনৈতিক দলেরই সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন। যে দল বা প্রার্থী এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি দেবে, তার পক্ষেই সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

    এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিশন বলছে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে, যাতে প্রত্যেক নাগরিক নির্বিঘ্নে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

  • ভোটের আগেই নামবে প্রচারের পর্দা—মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় থামছে সব প্রচারণা

    ভোটের আগেই নামবে প্রচারের পর্দা—মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় থামছে সব প্রচারণা

    এবিএনএ: গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার বন্ধ করতে হয়।

    এবার ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে। সে হিসেবে ৪৮ ঘণ্টা আগের সময়সীমা দাঁড়ায় ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা। ওই সময়ের মধ্যেই পোস্টার, মাইকিং, সভা-সমাবেশসহ প্রার্থীদের সব প্রচার কার্যক্রম শেষ করতে হবে। গত ২২ ডিসেম্বর থেকে প্রায় ২০ দিন প্রচারের সুযোগ পেয়েছিলেন প্রার্থীরা।

    নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের পর কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। নিয়ম ভাঙলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে। মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন, যার মধ্যে ২৭৫ জন স্বতন্ত্র।

    দলভিত্তিক হিসেবে বিএনপির প্রার্থী সংখ্যা সবচেয়ে বেশি—‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ‘হাতপাখা’ প্রতীকে প্রার্থী ২৫৮ জন। জামায়াতে ইসলামী ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে লড়ছে ২২৯ জন প্রার্থী। জাতীয় পার্টির ‘লাঙ্গল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বী ১৯৮ জন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে রয়েছেন ৩২ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ‘ফুটবল’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৭৬ জন।

  • সুন্দরবনের বনদস্যু ও জলদস্যু দমন হবে আমার প্রথম কাজ: সোমনাথ দে

    সুন্দরবনের বনদস্যু ও জলদস্যু দমন হবে আমার প্রথম কাজ: সোমনাথ দে

    এবিএনএ,মোঃ শাহাদাত হোসাইন, শরণখোলা, বাগেরহাট: আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা  বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে ধানের শীষের পক্ষে  নির্বাচনী  জনসভা সভা  অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪ টায়  উপজেলার রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে  হাজার নেতা কর্মী নির্বাচনী  মিছিলসহ  জনসভায় মিলিত হয়।

    উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েতের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সোমনাথ দে। তিনি বলেন, আপনারা আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে আমি  এমপি নির্বাচিত হয়ে সুন্দরবন থেকে বনদস্যু, জলদস্যু দমন সহ সুন্দরবনের জেলেদের ও বাওয়ালিদের কাজ করার ক্ষেত্র তৈরি করা হবে। এ ছাড়া তিনি আরো বলেন এই এলাকা থেকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ঘের দখল ইত্যাদি দূর করার চেষ্টা করব। এ সময বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খান মতিয়ার রহমান, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আঞ্জুমান আরা আলো, শরণখোলা  উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোল্লা ইসাহাক আলী।

    এছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন বাদল , বিএনপি নেতা তালুকদার মধু, শহিদুল আলম লিটন, অহিদুজ্জামান বাবু ,  উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোল্লা ইব্রাহিম,সদস্য সচিব আল- আমিন খান , যুবদল নেতা আবুল হোসেন, শহিদুল  ইসলাম সোহাগ , মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মামুন গাজী ও শামীম শিকদার।

  • কচুয়ায় ভোটের মাঠ রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫ জন

    কচুয়ায় ভোটের মাঠ রণক্ষেত্র, সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫ জন

    এবিএনএ: বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় নির্বাচনী উত্তেজনা সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ঘোড়া ও ধানের শীষ প্রতীকের অন্তত পাঁচজন সমর্থক আহত হয়েছেন। শুক্রবার গোপালপুর ইউনিয়নের ধোপাবাড়ি পোল এলাকায় সর্বশেষ এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্র জানায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণা চলাকালে প্রতিপক্ষ ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৮) গুরুতর আহত হন। পরে তাকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। একই ঘটনায় আরও দুইজন আহত হন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাতেও গোপালপুর এলাকায় দুই প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় ঘোড়া প্রতীকের একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এতে উভয় পক্ষের দুই কর্মী আহত হন। এসব ঘটনায় কচুয়া থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

    আহত জাহাঙ্গীর হোসেনের দাবি, তিনি মোটরসাইকেলে করে গোপালপুর যাচ্ছিলেন, এ সময় কয়েকজন তাকে পথরোধ করে লাঠি দিয়ে মারধর করে। তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

    এদিকে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ তুলে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী টিম। তারা প্রচারণায় বাধা, কার্যালয় ভাঙচুর ও কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ করেছেন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা দাবি করেছেন।

    অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়েছে, তাদের প্রচারণা ও পোস্টারেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।

    কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, বিষয়গুলো নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  • ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে বাগেরহাট-৪ আসন

    ত্রিমুখী লড়াই জমে উঠেছে বাগেরহাট-৪ আসন

    এবিএনএ, বাগেরহাট: মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা এবং মোরেলগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনটি এবারও আলোচনার কেন্দ্রে। অবকাঠামো, শিক্ষা ও সার্বিক উন্নয়নে পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক সচেতনতার দিক থেকে এ এলাকার ভোটাররা বরাবরই সক্রিয়। অতীতে এই আসন থেকে বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের প্রার্থীরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

    আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরালো হয়েছে। বিএনপির মনোনয়নে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য, জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা এবং বর্তমানে মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সভাপতি সোমনাথ দে। অন্যদিকে বিএনপির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা বিএনপির নেতা কাজী খায়রুজ্জামান শিপন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় তাকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    শিপন জানান, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনুরোধেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তার দাবি, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তিনি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। তার মতে, দলীয় মনোনীত প্রার্থী একজন ফ্যাসিস্ট ঘরানার হওয়ায় তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

    অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার চালিয়ে আসছেন তিনি। জামায়াত নেতাকর্মীদের দাবি, অতীতে জোট ও একক নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের ভালো ফল রয়েছে। বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দুর্বল প্রার্থীর কারণে এবার দাড়িপাল্লার জয় অনেকটাই নিশ্চিত।

    তবে বিএনপির প্রার্থী সোমনাথ দে এসব দাবি নাকচ করে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে কাজ করছেন। পাশাপাশি তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ভোটে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আব্দুল আলিম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে আছি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার আমাদের সাংগঠনিক শক্তি বেশি। ইনশাআল্লাহ, জয় আমাদেরই হবে।”

    এছাড়া এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ওমর ফারুক, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) থেকে মো. আ. লতিফ খান এবং জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে সাজন কুমার মিস্ত্রি নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তারাও ভোটারদের কাছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন।

    নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাগেরহাট-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজার ৬৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৮১২ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ৮৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।

  • কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    কে জিতবে বাগেরহাট-৩? ভাসমান ভোটারকে ঘিরে ত্রিমুখী লড়াইয়ে উত্তেজনা

    এবিএনএ ,বাগেরহাট: ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণে বাগেরহাট-৩ আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভাসমান ভোটারদের ভূমিকা এবার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠায় হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে মাঠে-ময়দানে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    মোংলা ও রামপাল উপজেলা এবং মোংলা পোর্ট পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-৩ সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপি, স্বতন্ত্র, জামায়াত ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। এই আসনে মূল লড়াইটি গড়ে উঠতে পারে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখের মধ্যে।

    ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকায় এলাকার সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। একইভাবে জামায়াতের প্রার্থী মো. আব্দুল ওয়াদুদ শেখও দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকায় একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছেন।

    তবে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএএইচ সেলিমের অংশগ্রহণ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে তিনি ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

    এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জিল্লুর রহমান এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-এর মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার নিজ নিজ দলীয় প্রতীক নিয়ে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ভোটার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাগেরহাট-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫০ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই বিশাল ভোটার জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ভাসমান হওয়ায় শেষ মুহূর্তের প্রচারণাই নির্ধারণ করতে পারে চূড়ান্ত ফলাফল।

  • বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস: বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়

    বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস: বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়

    এবিএনএ,বাগেরহাট: বাগেরহাট সদর উপজেলা, বাগেরহাট পৌরসভা ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-২ সংসদীয় আসনটি দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই আসন থেকে বিজয়ী দলের প্রার্থীরাই পরবর্তীতে সরকার গঠনে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

    এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক, মতবিনিময় ও সভা-সমাবেশে অংশ নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম জোরদার করেছেন।

    তবে বিএনপির ভেতরেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ এইচ সেলিম। তিনি জানান, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করেছেন। শহর রক্ষা বাঁধ, মাজেদা বেগম কৃষি কলেজ, দড়াটানা ও মুনিগঞ্জ সেতু, বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজসহ জেলার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তার সময়েই সম্পন্ন হয়। তিনি একাধিক আসনে নির্বাচন করে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিজয়ের উপহার দিতে আশাবাদী বলে মন্তব্য করেন।

    এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বয়সে তুলনামূলক তরুণ হলেও নির্বাচনী মাঠে বেশ সক্রিয় ও প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন। সরকারি পিসি কলেজে সাবেক এজিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন, ইসলামী ছাত্রশিবিরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সামনের সারিতে থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

    অন্যদিকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, বিএনপি একটি সুসংগঠিত দল এবং দলের সব নেতাকর্মী তার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

    এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আতিয়ার রহমানও সীমিত পরিসরে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    সব মিলিয়ে বাগেরহাট-২ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সচেতন মহল ও সাধারণ ভোটাররা।

    এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ২৬৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন।

  • বাগেরহাট-১ আসনে ভোটের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, চাপে বিএনপি

    বাগেরহাট-১ আসনে ভোটের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, চাপে বিএনপি

    এবিএনএ: বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তুঙ্গে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রচারণায় নেমে পড়েছেন মোট ২৩ জন প্রার্থী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিটি আসনেই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এর পাশাপাশি নিজ দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বাড়তি চাপ তৈরি করছেন বিএনপির জন্য।

    দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বাগেরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শেখ মাসুদ রানাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কার হলেও মাঠে তার তৎপরতা থেমে নেই, বরং স্থানীয় পর্যায়ে তার উপস্থিতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

    অন্যদিকে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম বাগেরহাটের ১, ২ ও ৩ নম্বর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে পুঁজি করে তিনি ভাসমান ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

    ভাসমান ভোটারই এখন মূল ফ্যাক্টর
    স্বতন্ত্র প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ায় এবারের নির্বাচনে ভাসমান ভোটারের গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সবখানেই চলছে ভোটের হিসাব-নিকাশ। অনেক ভোটার দলীয় পরিচয়ের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    বাগেরহাট-১ আসনের চিত্র
    চিতলমারী, মোল্লাহাট ও ফকিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-১ আসনে সরকার পরিবর্তনের পর বিএনপির একাধিক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন পান কপিল কৃষ্ণ মন্ডল। তিনি চিতলমারী উপজেলার কলাতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্যজোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও পরিচিত। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন।

    তবে তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম ও শেখ মাসুদ রানা। বিএনপির অনেক স্থানীয় নেতাকর্মী নীরবে কিংবা প্রকাশ্যে এই দুই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মো. মশিউর রহমান খান এই আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫ আগস্টের পর সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং সুসংগঠিত প্রচারণায় তিনি আলাদা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।

    এছাড়াও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আবু সবুর শেখ, এবি পার্টির মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর এস এম গোলাম সারোয়ার এবং মুসলিম লীগের এমডি শামসুল হক নিজ নিজ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

    বিএনপি প্রার্থীর আশাবাদ
    বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কপিল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, “দল আমার ওপর আস্থা রেখেছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছে। আমরা এই আসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে পারব।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন ভোটারদের মতে, বাগেরহাট-১ আসনে এবার দ্বিমুখী নয়, বরং ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনাই বেশি।

    ভোটার সংখ্যা
    এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৮৩৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭২০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।

  • রিকশাচালকও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে—পরিবারতন্ত্র ভাঙার ডাক জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের

    রিকশাচালকও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে—পরিবারতন্ত্র ভাঙার ডাক জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পরিবারতন্ত্র ও বংশানুক্রমিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়াই জামায়াতের লক্ষ্য। এমন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান তারা, যেখানে যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে একজন রিকশাচালকও দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবে।

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনীতে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, যুব সমাজের প্রত্যাশা পূরণে জামায়াত কাজ করবে এবং যারা বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসে, তাদের প্রথম সিদ্ধান্ত হবে দেশের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলা, দ্বিতীয় সিদ্ধান্ত হবে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

    ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, পুরোনো ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি জনগণ আর গ্রহণ করবে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের নারী কর্মীদের হেনস্তার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, নারীদের সম্মানহানির রাজনীতি জামায়াত কখনো মেনে নেবে না।

    বিএনপির প্রস্তাবিত বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ভাতা নির্ভর নয়, বরং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। তার ভাষায়, “আমরা বসে বসে ভাতা নেব না, আমরা কাজ সৃষ্টি করব। ঐক্যবদ্ধভাবে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”

    ফেনীবাসীর উদ্দেশে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে জামায়াত আমির জানান, ফেনীতে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা নিরসনে কার্যকর বাঁধ নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম গড়ে তোলার চেষ্টাও করবে জামায়াত।

    জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ফেনী-২ আসনের প্রার্থী মুজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

    ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম তার বক্তব্যে বলেন, পুরোনো বন্দোবস্তের রাজনীতি বজায় থাকলে মানুষ চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের প্রত্যাখ্যান করবে।

    শুক্রবার সকাল থেকেই ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ১০টায় আমিরে জামায়াত সমাবেশস্থলে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য দেন। জনসভায় জামায়াত ও জোটভুক্ত দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।