Blog

  • স্বৈরাচার বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক—মে দিবসে তারেক রহমানের বড় বার্তা

    স্বৈরাচার বিদায়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক—মে দিবসে তারেক রহমানের বড় বার্তা

    এবিএনএ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এখন দেশের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষকে একসঙ্গে কাজ করে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

    শুক্রবার (১ মে) মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আয়োজিত বিএনপির শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর জন্য সরকার ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পরপরই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত বন্ধ কলকারখানা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কর্মহীন শ্রমিকরা আবার কাজের সুযোগ পান। এ বিষয়ে অগ্রগতি তদারকিতে নিয়মিত বৈঠকও চলছে।

    তিনি আরও বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা চালু করলেই বেকার সমস্যার সমাধান হবে না। দেশে বিপুল সংখ্যক বেকার যুবক রয়েছে, যাদের কর্মসংস্থানের জন্য দেশীয় উদ্যোগের পাশাপাশি বিদেশি শ্রমবাজারও সম্প্রসারণ করতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং নতুন শিল্প স্থাপনে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

    তারেক রহমান বলেন, শিল্পায়ন বাড়লে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়ন নিশ্চিত হলে সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

    রাজধানীতে হকারদের বিষয়ে তিনি বলেন, সড়কে অনিয়ন্ত্রিত হকার বসার কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল, তাই তাদের সরানো হয়েছে। তবে তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে। নির্দিষ্ট স্থানে হকারদের ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

    তিনি জানান, সব হকারকে একসঙ্গে পুনর্বাসন করা সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে তারা সম্মানের সঙ্গে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

  • বাসে মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে বড় সিদ্ধান্ত: জানালার স্টিল রড অপসারণে বিআরটিএর কঠোর নির্দেশ

    বাসে মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে বড় সিদ্ধান্ত: জানালার স্টিল রড অপসারণে বিআরটিএর কঠোর নির্দেশ

    এবিএনএ: সড়ক দুর্ঘটনায় যাত্রীদের প্রাণহানি কমাতে নতুন নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এতে নন-এসি বাসের জানালায় থাকা স্টেইনলেস স্টিলের রড অপসারণ এবং এসি বাসে জরুরি বহির্গমন পথ (ইমার্জেন্সি ডোর) নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, দুর্ঘটনার সময় দ্রুত বাস থেকে বের হতে না পারাই অধিকাংশ হতাহতের প্রধান কারণ। তাই যাত্রীদের নিরাপদে বের হওয়ার পথ সহজ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    কেন এই নির্দেশনা?

    বিআরটিএর মতে, সড়ক, মহাসড়ক, ফেরিঘাট বা রেলক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটলে অনেক সময় বাসের দরজা আটকে যায় বা জানালার পথ সংকীর্ণ থাকে। ফলে যাত্রীরা দ্রুত বের হতে পারেন না, যা প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    বিশেষ করে নন-এসি বাসের জানালায় লাগানো সমান্তরাল স্টিলের রডগুলো বড় বাধা হিসেবে কাজ করে। দুর্ঘটনার সময় এগুলো যাত্রীদের বের হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ করে দেয়। তাই এসব রড অপসারণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    এসি বাসে কী করতে হবে?

    এসি বাসের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান স্থানে ‘ইমার্জেন্সি ডোর’ চিহ্ন স্পষ্টভাবে বসাতে হবে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে কাঁচ ভাঙার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও রাখতে হবে, যাতে বিকল্প পথে দ্রুত যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া যায়।

    আইন অমান্য করলে কী হবে?

    বিআরটিএ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পরিবহন মালিক বা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    নিরাপত্তায় কতটা প্রভাব পড়বে?

    সংস্থাটি আশা করছে, এই নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করা হলে দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে। ফলে প্রাণহানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

  • ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    ইরান যুদ্ধের খরচ আকাশছোঁয়া: ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের তথ্য প্রকাশে চাপে পেন্টাগন

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ইতোমধ্যে ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন। স্থানীয় সময় বুধবার কংগ্রেসে এক শুনানিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

    আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের মোট ব্যয়ের এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক হিসাব।

    কংগ্রেসে কী জানানো হয়েছে?

    হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে বক্তব্য দেন পেন্টাগনের ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার জুলস হার্স্ট। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে, যার বড় অংশই গোলাবারুদ ও যুদ্ধ সরঞ্জামের পেছনে খরচ হয়েছে।

    তবে এই ব্যয়ের বিস্তারিত কাঠামো পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটির সংস্কার বা পুনর্গঠনের খরচ এই হিসাবের অন্তর্ভুক্ত কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    ব্যয়ের খাত ও ক্ষয়ক্ষতি

    হার্স্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সামরিক সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনেও উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এই সংঘাতে রাডার ব্যবস্থা, যুদ্ধবিমানসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ এই তথ্য প্রকাশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যয়ের প্রকৃত হিসাব জানতে চাওয়া হচ্ছিল।

    আগের হিসাবের সঙ্গে পার্থক্য

    উল্লেখ্য, গত মাসে রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর প্রথম ছয় দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছিল। বর্তমান হিসাব সেই তুলনায় অনেক বেশি, যা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

    যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর ৭ এপ্রিল থেকে একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। এ সময় মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরীও রয়েছে।

    এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

    অর্থনীতি ও জনমত

    যুদ্ধের প্রভাব শুধু সামরিক খাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

    এদিকে জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধ নিয়ে জনগণের সমর্থন কমছে। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩৪ শতাংশ আমেরিকান এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন।

  • হ্যালোইন পার্টি শেষে নির্মম হত্যাকাণ্ড: ব্রিটিশ মডেল লুক হার্ডেনের মৃত্যুর পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    হ্যালোইন পার্টি শেষে নির্মম হত্যাকাণ্ড: ব্রিটিশ মডেল লুক হার্ডেনের মৃত্যুর পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    এবিএনএ:হ্যালোইন পার্টি শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারান ব্রিটিশ মডেল লুক হার্ডেন। ঘটনাটি ঘিরে শুরু হয়েছে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া, যেখানে তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কিছু নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর তথ্য অনুযায়ী, হত্যার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই ২৬ বছর বয়সী ভেকি সানি মাতাবিসওয়ানা নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ।

    কোথায় এবং কীভাবে ঘটেছিল ঘটনা?

    ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার অঞ্চলে, গত বছরের ১ নভেম্বর ভোরে। হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত হামলায় হার্ডেন আত্মরক্ষার কোনো সুযোগই পাননি।

    বর্তমানে মামলাটি শুনানি চলছে প্রিস্টন ক্রাউন কোর্ট-এ। বিচার চলাকালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ভেকি এবং নিহত হার্ডেন আগে থেকে একে অপরকে চিনতেন না।

    পার্টি থেকে বের হওয়ার পরই বিপর্যয়

    ঘটনার রাতে দুজনই উপস্থিত ছিলেন স্ট্যাকস্টেডস এলাকার ‘রোজমাউন্ট ওয়ার্কিং মেনস ক্লাব’-এ আয়োজিত একটি হ্যালোইন পার্টিতে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, রাতের দিকে মদ্যপ অবস্থায় ক্লাব ত্যাগ করেন হার্ডেন।

    কিছুক্ষণ পর নিউচার্চ রোডে তার সঙ্গে দেখা হয় ভেকি ও তার বান্ধবীর। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও হঠাৎ করেই কোনো কারণ ছাড়াই ভেকি হামলা চালান।

    আকস্মিক হামলা ও মৃত্যুর কারণ

    সিসিটিভি অনুযায়ী, ভেকি হার্ডেনকে মাটিতে ফেলে মাথায় জোরালোভাবে আঘাত করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুরুতর আঘাতের কারণে হার্ডেন দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন এবং জরুরি সহায়তা চাওয়ার আগেই তার অবস্থার অবনতি ঘটে।

    ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাতের ফলে তার খুলিতে ফাটল ধরে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়—যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

    আদালতে কী বলা হয়েছে?

    রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নিকোলাস রোডস কেসি আদালতে জানান, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার বান্ধবীর সঙ্গে হার্ডেনের কথা বলা দেখে উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান।

    গ্রেপ্তার ও বর্তমান অবস্থা

    ঘটনার পর অভিযুক্ত ভেকি একাধিকবার দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ম্যানচেস্টার বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    বর্তমানে মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

  • বৃষ্টির দিনে জমবে আড্ডা: গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি বানানোর সহজ রেসিপি

    বৃষ্টির দিনে জমবে আড্ডা: গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি বানানোর সহজ রেসিপি

    এবিএনএ: মেঘলা আকাশ কিংবা ঝুম বৃষ্টি—এমন আবহাওয়ায় বাঙালির পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে থাকে খিচুড়ি। আর সেই খিচুড়ির সঙ্গে যদি গরুর মাংস যোগ হয়, তাহলে স্বাদ হয়ে ওঠে আরও সমৃদ্ধ ও লোভনীয়। ঘরে বসেই খুব সহজে তৈরি করা যায় সুস্বাদু ভুনা খিচুড়ি। চলুন জেনে নেওয়া যাক ঝটপট রান্নার একটি সহজ পদ্ধতি।


    প্রয়োজনীয় উপকরণ

    • গরুর মাংস – ১ কেজি
    • পোলাও চাল – ১ কেজি
    • মুগ ডাল বা মসুর ডাল – ১ কাপ
    • পেঁয়াজ কুচি – আধা কাপ
    • আদা বাটা – ১.৫ চা চামচ
    • রসুন বাটা – ১.৫ চা চামচ
    • কাঁচা মরিচ – ৪-৫টি
    • দারুচিনি, এলাচ, তেজপাতা – পরিমাণমতো
    • হলুদ গুঁড়া – ১.৫ চা চামচ
    • মরিচ গুঁড়া – ১.৫ চা চামচ
    • লবণ – স্বাদ অনুযায়ী
    • সরিষার তেল – প্রয়োজনমতো

    প্রস্তুত প্রণালী

    প্রথমে একটি পাত্রে সরিষার তেল গরম করে তাতে দারুচিনি, এলাচ ও তেজপাতা দিয়ে হালকা ভেজে নিন। এরপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সোনালি রঙ না আসা পর্যন্ত ভাজুন।

    এরপর মাংস, আদা-রসুন বাটা, হলুদ, মরিচ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। মাংস থেকে তেল ছেড়ে এলে ঢেকে দিন এবং নরম হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।

    অন্যদিকে চাল ও ডাল ধুয়ে হালকা ভেজে নিন। তারপর কষানো মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে দিন। এবার প্রয়োজনমতো গরম পানি দিন—চালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ এবং ডালের সমপরিমাণ।

    মাঝারি আঁচে ১৫–২০ মিনিট রান্না করুন। পানি শুকিয়ে গেলে এবং চাল-ডাল সেদ্ধ হয়ে এলে ওপরে কাঁচা মরিচ ছড়িয়ে দিন। এরপর ঢেকে আরও ১০–১৫ মিনিট দমে রাখুন।


    পরিবেশন

    রান্না হয়ে গেলে গরম গরম পরিবেশন করুন মজাদার গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি। চাইলে সঙ্গে রাখতে পারেন সালাদ, আচার বা ডিম ভাজি—স্বাদ বাড়বে কয়েকগুণ।

  • অষ্টম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন শুরু ২ মে: সময়সীমা, ফি ও নিয়ম না জানলে মিস হতে পারে সুযোগ

    অষ্টম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন শুরু ২ মে: সময়সীমা, ফি ও নিয়ম না জানলে মিস হতে পারে সুযোগ

    এবিএনএ: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরুর তারিখ ঘোষণা করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা। আগামী ২ মে থেকে শুরু হয়ে এই প্রক্রিয়া চলবে ২৫ মে পর্যন্ত।

    বোর্ডের জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের তথ্য অনলাইনে পূরণ এবং ফি জমা সম্পন্ন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হবে ইএসআইএফ (eSIF) ফরম পূরণের মাধ্যমে।

    কারা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে?

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ সালে সপ্তম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে এবং ২০২৪ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে বোর্ডের আওতায় নিবন্ধিত ছিল, তারাই এই রেজিস্ট্রেশনের জন্য যোগ্য।

    বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—

    • সর্বনিম্ন: ১১ বছর
    • সর্বোচ্চ: ১৭ বছর

    তবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই বয়সসীমা সর্বোচ্চ ২২ বছর পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে।

    রেজিস্ট্রেশন কীভাবে সম্পন্ন হবে?

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন সিস্টেমে (OEMS/eSIF) প্রবেশ করে EIIN ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করতে হবে। এরপর নির্ধারিত ফি জমা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের তথ্য পূরণ করা যাবে।

    ফি জমা দিতে হবে নির্ধারিত ব্যাংকিং পদ্ধতিতে (সোনালী সেবা)। কোনো অবস্থাতেই ফরমের ফটোকপি জমা বা নির্ধারিত খাত ছাড়া অন্যভাবে অর্থ প্রদান গ্রহণযোগ্য হবে না।

    গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

    • কেবল বোর্ড স্বীকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে
    • অনুমোদনবিহীন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিকটবর্তী স্বীকৃত বিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে
    • প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে তিন সদস্যের একটি যাচাইকরণ কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক
    • শিক্ষার্থীর তথ্য জন্মসনদ ও ভর্তি ফরমের সঙ্গে মিলিয়ে চূড়ান্ত সাবমিট করতে হবে
    • কোনো অবস্থাতেই শিক্ষার্থীদের সরাসরি অনলাইন কার্যক্রমে যুক্ত করা যাবে না

    ফি সংক্রান্ত তথ্য

    প্রতি শিক্ষার্থীর জন্য রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৬ টাকা। নির্ধারিত সময় পার হলে বিলম্ব ফিসহ মোট ২৫৬ টাকা দিতে হবে। অতিরিক্ত কোনো অর্থ আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

    নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা

    নতুন অনুমোদনপ্রাপ্ত নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোকে প্রথমে ব্যানবেইস থেকে EIIN সংগ্রহ করতে হবে। এরপর ১,৫০০ টাকা জমা দিয়ে লগইন তথ্য নিতে হবে।

    সতর্কবার্তা

    বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে বহন করতে হবে। পাশাপাশি, সব প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক স্বীকৃতি হালনাগাদ থাকতে হবে—নইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র সংযুক্ত করাও বাধ্যতামূলক।

  • কোরবানি কাদের জন্য ফরজসদৃশ দায়িত্ব? নিসাব পরিমাণ সম্পদের সহজ ব্যাখ্যা জানুন

    কোরবানি কাদের জন্য ফরজসদৃশ দায়িত্ব? নিসাব পরিমাণ সম্পদের সহজ ব্যাখ্যা জানুন

    এবিএনএ:ত্যাগ ও আল্লাহভীতির এক অনন্য শিক্ষা বহন করে পবিত্র ঈদুল আজহা। এই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হলো কোরবানি—যা কেবল পশু জবাই নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের প্রতীক।

    ইসলামের ইতিহাসে হজরত ইব্রাহিম (আ.)হজরত ইসমাইল (আ.)-এর অনন্য ত্যাগের স্মৃতিই কোরবানির মূল প্রেরণা হিসেবে বিবেচিত। এই ইবাদতের মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর প্রতি আনুগত্য ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

    পবিত্র কোরআন-এ আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন—নিজ রবের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো। একইসঙ্গে বলা হয়েছে, কোরবানির পশুর রক্ত বা গোশত নয়, বরং মানুষের তাকওয়াই আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়।

    হাদিসেও কোরবানির গুরুত্ব অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, যার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন ঈদের জামাতে না আসে—এমন কঠোর সতর্কবার্তাও রয়েছে।


    কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব?

    ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, কোরবানি একটি আর্থিক ইবাদত। এটি সেই সব প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম নারী-পুরুষের ওপর ওয়াজিব, যারা নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদের মালিক।

    এই নির্ধারিত সম্পদের পরিমাণকে বলা হয় “নিসাব”।


    নিসাব পরিমাণ সম্পদ কত?

    কোরবানির সময় (১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত) যদি কারও কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিচের পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা আবশ্যক—

    • স্বর্ণ: সাড়ে ৭ ভরি (৭.৫ ভরি)
    • রুপা: সাড়ে ৫২ ভরি (৫২.৫ ভরি)
    • অথবা সমপরিমাণ অর্থ বা সম্পদ (রুপার মূল্যের ভিত্তিতে)

    যদি কারও কাছে স্বর্ণ বা রুপা আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, তবে উভয়টি মিলিয়ে কিংবা নগদ অর্থ, অতিরিক্ত সম্পদ যোগ করে যদি তা রুপার নিসাবের সমান হয়, তাহলেও কোরবানি ওয়াজিব হবে।


    কোন সম্পদ হিসাব করা হবে?

    নিসাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেসব সম্পদ বিবেচনায় আসবে—

    • স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কার
    • নগদ অর্থ
    • প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি
    • অতিরিক্ত আসবাবপত্র বা সম্পদ

    তবে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এতে অন্তর্ভুক্ত হবে না।


    যাকাত ও কোরবানির সম্পর্ক

    সহজভাবে বলা যায়, যার ওপর যাকাত ফরজ হয়, সাধারণত তার ওপর কোরবানিও ওয়াজিব হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে—যাকাতের ক্ষেত্রে এক বছর সম্পদ থাকা শর্ত, কিন্তু কোরবানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দিনগুলোতে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলেই দায়িত্ব বর্তায়।


    উপসংহার

    কোরবানি শুধুমাত্র আর্থিক সামর্থ্যের বিষয় নয়; বরং এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সামর্থ্য থাকলে এই ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য।

  • সংসদে তুমুল বক্তব্য: ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই’—কারা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

    সংসদে তুমুল বক্তব্য: ‘বিএনপির কোনো ব্যাংক নেই’—কারা নিয়ন্ত্রণে ব্যাংক, ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর

    এবিএনএ: জাতীয় সংসদে ঋণ খেলাপি ও ব্যাংকিং খাত নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিএনপির কোনো নিজস্ব ব্যাংক নেই, তবে দেশের মানুষ ভালো করেই জানে কোন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলো রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ঋণ খেলাপি হওয়া বা ঋণ পুনঃতফসিল কোনো নতুন বিষয় নয়। এটি বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ব্যবসায়িক ঝুঁকি, অর্থনৈতিক সংকট বা বৈশ্বিক দুর্যোগের সময় এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

    তিনি দাবি করেন, গত প্রায় দেড় দশক ধরে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছেন। তার ভাষায়, “অনেক ব্যবসায়ীকে অনুমোদিত ঋণ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে, এমনকি তাদের ব্যবসা পরিচালনায় গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।”

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, যাদের এখন ঋণ খেলাপি বলা হচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকে দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন বা কারাবন্দি ছিলেন। এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক ঋণ নিয়মিত পরিশোধ করা সহজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ব্যাংকের মালিকানা প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যেসব গোষ্ঠীর নিজস্ব ব্যাংক রয়েছে, তারা নিজেদের সুবিধামতো শীর্ষ পদে নিয়োগ দিতে পারেন। ফলে তাদের ঘনিষ্ঠদের ঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। এই সুবিধা বিএনপির নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

    ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে অভিযোগ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ক্ষেত্রে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অনেক সময় চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা একটি পেশাদার খাতের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

    রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে মন্তব্য

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন-কে নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নন, বরং একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেকের দায়িত্ব।

    তিনি বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম-এর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, যারা রাষ্ট্রপতির কাছ থেকেই শপথ নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।

    অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তখন বর্তমান বিরোধী দলের নেতারা সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি সম্মান দেখিয়েছিলেন। কিন্তু এখন অবস্থান পরিবর্তনের কারণে বক্তব্যেও পরিবর্তন এসেছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

    অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, “যদি কেউ সাংবিধানিক গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাহলে তাকে অবশ্যই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান দেখাতে হবে—এটি ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় নয়, বরং নৈতিক দায়িত্ব।”

  • হাইকোর্টের জামিনে জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ‘কুকি-চিন’ পোশাক মামলায় তদন্তে প্রধান বিচারপতির কড়া নির্দেশ

    হাইকোর্টের জামিনে জালিয়াতি কেলেঙ্কারি: ‘কুকি-চিন’ পোশাক মামলায় তদন্তে প্রধান বিচারপতির কড়া নির্দেশ

    এবিএনএ: চট্টগ্রামে ‘কুকি-চিন’ সংশ্লিষ্ট পোশাক জব্দ মামলায় হাইকোর্টের জামিন আদেশ জালিয়াতির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। তথ্য গোপন করে জামিন নেওয়ার পর বিচারপতিদের স্বাক্ষরযুক্ত আদেশ পরিবর্তন করে নতুনভাবে জাল নথি তৈরি করা হয়। সেই ভুয়া আদেশ কারাগারে দাখিল করে আসামি সাহেদুল ইসলাম মুক্তি পান।

    এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি সম্প্রতি উচ্চ আদালতে আরেক আসামির জামিন শুনানির সময় সামনে আসে। বিষয়টি রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সরাসরি প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নজরে আনেন। অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

    বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।

    বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার জেনারেল জানান, তদন্ত কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অগ্রগতি রয়েছে। শিগগিরই বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।

    প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এই জালিয়াতির সঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগের কোনো বেঞ্চ কর্মকর্তা বা ফৌজদারি শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনজীবীদের মতে, এত বড় ধরনের জালিয়াতি অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া সম্ভব নয়। তাই ঘটনার গভীরে গিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

    মামলার পটভূমি

    ২০২৫ সালের ১৭ মে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় অবস্থিত রিংভো অ্যাপারেলস কারখানার গুদাম থেকে প্রায় ২০ হাজার ৩০০টি পোশাক জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগ ছিল, এসব পোশাক পার্বত্য অঞ্চলের সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট-এর সদস্যদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

    এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কারখানার মালিক সাহেদুল ইসলাম (২৫), অর্ডারদাতা গোলাম আজম (৪১) এবং নিয়াজ হায়দার (৩৯)।

    মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় দুই কোটি টাকার বিনিময়ে এসব পোশাক তৈরির অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। উৎপাদন ব্যবস্থাপক মো. কামরুজ্জামানকে জব্দ অভিযানের সাক্ষী করা হয়।

    সংগঠনটির প্রেক্ষাপট

    পার্বত্য চট্টগ্রামে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে সশস্ত্র সংগঠনটির অস্তিত্ব প্রথম প্রকাশ্যে আসে ২০২২ সালের দিকে। বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত হলেও স্থানীয়ভাবে এটি ‘বম পার্টি’ নামেও পরিচিত।

  • বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    এবিএনএ:বহু বছর ধরে যুদ্ধ পরিচালনা করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তেহরান এখনও তার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজনে নতুন শক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

    বুধবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আলাউদ্দিন বোরুজের্দি। তিনি বলেন, ইরান এখনো তার সব কৌশলগত সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজন হলে নতুন ‘কার্ড’ ব্যবহার করা হবে।

    হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। তার দাবি, বর্তমানে বহু জাহাজ ওই প্রণালির আশপাশে চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ইরানি জাহাজগুলোও বাধাহীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বোরুজের্দি বলেন, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার নিয়ে তেহরান আপস করবে না এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

    এদিকে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামাদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে নতুন সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, উন্নত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সক্ষমতা বড় নৌজাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

    পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন এবং ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার বাইরে রাখার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।