যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া বার্তা আইআরজিসির: ‘আরও নরকের দরজা খুলবে’
চতুর্থ দিনে গড়ানো সংঘাতে তেহরানের হুঁশিয়ারি, ইউরোপকে সতর্কবার্তা; ইরানে নিহত বেড়ে ৭৮৭


এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্রতর হওয়ায় ইরানের সামরিক নেতৃত্ব আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত আরও জোরদার করা হবে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। তার ভাষায়, “শত্রুপক্ষকে ধারাবাহিক ও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, সামরিক অভিযান থামার কোনো লক্ষণ নেই।
এদিকে তেহরান ইউরোপীয় দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো অংশ নিলে তা সরাসরি যুদ্ধঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও সমন্বিত পদক্ষেপকে আক্রমণাত্মক জোটের অংশ হিসেবেই দেখা হবে।
ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় সম্ভাব্য “প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা” নেওয়ার কথা উল্লেখ করার পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা আসে।
অন্যদিকে সংঘাতে ইরানে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।




