Tag: সামরিক উত্তেজনা

  • ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    ইরানকে নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাবকে পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান যদি অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরিস্থিতি সামরিক সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে ওই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের নতুন প্রস্তাবে এমন কোনো কার্যকর ছাড় নেই যা আলোচনাকে ইতিবাচক দিকে নিতে পারে। বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ এখনও কাটেনি।

    তিনি দাবি করেন, ইরান প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর প্রস্তাবিত শর্তগুলো কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে। এর ফলে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র।

    জানা গেছে, মঙ্গলবার ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইরান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান যদি আলোচনায় নমনীয় না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থানে যেতে পারে। এমনকি ‘বোমা হামলার মাধ্যমে আলোচনা’ করার মতো কঠিন বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

    এর আগে রোববার ট্রাম্প মন্তব্য করেন, ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

    পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান সম্প্রতি একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইস্যুতে স্পষ্ট কোনো অবস্থান দেয়নি।

    এদিকে ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তেল বাণিজ্যের ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো ধরনের ছাড় পেতে হলে ইরানকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

  • বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    বছরের পর বছর যুদ্ধ চালানোর মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতের দাবি ইরানের

    এবিএনএ:বহু বছর ধরে যুদ্ধ পরিচালনা করার মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তেহরান এখনও তার পূর্ণ সামরিক সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজনে নতুন শক্তি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

    বুধবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের উপপ্রধান আলাউদ্দিন বোরুজের্দি। তিনি বলেন, ইরান এখনো তার সব কৌশলগত সক্ষমতা প্রকাশ করেনি এবং প্রয়োজন হলে নতুন ‘কার্ড’ ব্যবহার করা হবে।

    হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নৌ অবরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ কার্যকর হবে না। তার দাবি, বর্তমানে বহু জাহাজ ওই প্রণালির আশপাশে চলাচলের অপেক্ষায় রয়েছে এবং ইরানি জাহাজগুলোও বাধাহীনভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

    আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে বোরুজের্দি বলেন, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালিও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার নিয়ে তেহরান আপস করবে না এবং ভবিষ্যৎ আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপন করা হবে।

    এদিকে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হামাদ আকবরজাদেহ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে নতুন সক্ষমতা ব্যবহার করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে এক সমাবেশে তিনি বলেন, উন্নত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম নতুন কৌশল ও প্রযুক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।

    তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সক্ষমতা বড় নৌজাহাজের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

    গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। পরবর্তীতে এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

    পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর কথা উল্লেখ করেন এবং ইরানের সাম্প্রতিক প্রস্তাব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি আলোচনার বাইরে রাখার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয় বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

  • হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    হরমুজে ফের কড়াকড়ি ইরানের, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবার অবরোধ—তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: কয়েক ঘণ্টা আগে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেওয়ার পর আবারও হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে ইরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর যৌথ সামরিক কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, প্রণালির ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা এখন পুরোপুরি সামরিক বাহিনীর হাতে থাকবে।

    স্থানীয় সময় দুপুরে দেওয়া ওই বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং সামরিক বাহিনীই এর চলাচল ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    এর আগে শুক্রবার ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ইরান হরমুজ প্রণালি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমে বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নির্ধারিত রুট অনুসরণ করলে জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে।

    তবে এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিস্থিতিকে আবার জটিল করে তোলে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বার্তায় জানান, ইরান প্রণালি খুলে দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবসা ও জাহাজ চলাচলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে না। এই মন্তব্যের পর ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে।

    ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় উন্মুক্ত থাকবে না। তিনি জানান, প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ইরানের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

    এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুনরায় প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের ঘোষণা দেয়। ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

  • হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    হরমুজের পর এবার লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে লোহিত সাগরে বাণিজ্যপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

    বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে তা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শামিল হবে।

    বাণিজ্যপথ বন্ধের হুমকি

    বিবৃতিতে সামরিক কমান্ডের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ অব্যাহত রাখে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর ও লোহিত সাগরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে পারে।

    তার দাবি, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা

    হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও অবরোধের পরই এই হুঁশিয়ারি এসেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন জাহাজে বাধা দেওয়া হবে না। তবে পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে।

    তেলের বাজারে প্রভাব

    ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা বাড়ার পর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে।

    বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের মূল্যও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় বিভিন্ন দেশে পরিবহন ও জ্বালানি খাতে চাপ বাড়ছে।

    ইতোমধ্যে ইউরোপের কিছু দেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু সরকার কর কমানোর মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করছে।

  • মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    মার্কিন অবরোধে উত্তেজনা চরমে: ‘অবরোধে আসা জাহাজ সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হবে’—ইরানের হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের ইরানি বন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবরোধ কার্যকর করতে আসা মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোকে প্রয়োজনে সমুদ্রের তলদেশে পাঠানো হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির সদস্য আলেদ্দিন বুরুজার্দি এ মন্তব্য করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া অবরোধ নির্দেশ বাস্তবভিত্তিক নয় এবং এটি প্রচারণামূলক পদক্ষেপ। তার মতে, এমন অবরোধ কার্যকর করার মতো সক্ষমতা ওয়াশিংটনের নেই।

    তিনি আরও দাবি করেন, ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোও এই উদ্যোগে অংশ নেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে এই পদক্ষেপ নিতে চাইছে। ফলে পরিস্থিতি বাস্তবে ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে যে কোনো বিদেশি সামরিক তৎপরতা উত্তেজনা বাড়াবে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালাই-নিক বলেন, আগ্রাসনের চেষ্টা হলে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু হরমুজ প্রণালী নয়—ওমান সাগর বা অন্য কোনো এলাকায় বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ দেখা গেলে ইরান তা প্রতিহত করবে।

    ইরানের কর্মকর্তারা আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী ও আশপাশের এলাকায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ সফল হবে না। বরং এ ধরনের উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কূটনৈতিক ও সামরিক চাপে ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

  • ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ, উত্তেজনা চরমে—জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শঙ্কা

    এবিএনএ: ইরানের উপসাগরীয় অঞ্চলের সব বন্দর ঘিরে অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে এই অবরোধ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

    মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের দিকে যাওয়া বা সেখান থেকে বের হওয়া সব জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। বিশ্বের যে কোনো দেশের পতাকাবাহী জাহাজ হলেও এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। প্রয়োজন হলে জাহাজগুলোকে মাঝপথে থামানো, গতিপথ পরিবর্তনে বাধ্য করা বা জব্দ করা হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

    তবে ইরান ছাড়া উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর বন্দরে যাওয়া জাহাজের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওমান উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালীর পূর্বে আরব সাগর এলাকায় অবস্থানরত জাহাজগুলোর ওপর নজরদারি ও অবরোধ কার্যকর করা হবে। অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। বাহিনীটির এক মুখপাত্র সতর্ক করে বলেন, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সব বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।

    তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধকে ‘অবৈধ’ ও ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ বলে উল্লেখ করেন এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

    এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান। তেহরান জানায়, তাদের শত্রুদের কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে পারবে না।

    বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। উপসাগরীয় দেশগুলোর অধিকাংশ রপ্তানিও এই পথের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নতুন করে অবরোধ কার্যকর হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

  • হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ ট্রাম্পের, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের জোরালো ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, হরমুজে কোনো জাহাজ প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।

    এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ বন্ধের সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি হামলার নির্দেশ নয়। বরং প্রথমে কৌশলগত অবরোধের মাধ্যমে ইরানকে ছাড় দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হতে পারে। যদি তেহরান অবস্থান পরিবর্তন না করে, তাহলে পরবর্তী ধাপে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প তার বক্তব্যে দাবি করেন, হরমুজ অবরোধে অন্যান্য দেশও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেবে। তবে কোন দেশগুলো এতে অংশ নেবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    তিনি আরও বলেন, ইরানে এখনো যেসব লক্ষ্যবস্তু অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এ বক্তব্যকে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা হামলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

    ট্রাম্প অভিযোগ করেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজ চলাচলের ওপর ইরান যে টোল আরোপের কথা বলছে তা চাঁদাবাজির শামিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, যেসব জাহাজ ইরানকে অর্থ প্রদান করবে সেগুলোকে আটক করা হতে পারে।

    উল্লেখ্য, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক বৈঠক কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। সেই ব্যর্থ আলোচনার পরপরই হরমুজ অবরুদ্ধের নির্দেশ দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছেন ট্রাম্প।

  • হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    হরমুজ খুলতে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ব্যঙ্গাত্মক জবাবে ইরান বলল—‘চাবি তো হারিয়ে গেছে’

    এবিএনএ:হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি আসার পর তা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। রসিকতার সুরে তারা বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ‘চাবি হারিয়ে গেছে’, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত কয়েকটি পোস্টে জিম্বাবুয়েতে ইরানের দূতাবাস ব্যঙ্গ করে জানায়, তারা নাকি ‘চাবি হারিয়ে ফেলেছে’। একই ধরনের পোস্টে দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানের কূটনৈতিক মিশন মন্তব্য করে, ‘চাবি ফুলের টবের নিচে রাখা—শুধু বন্ধুদের জন্য খোলা।’ এসব মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করায় যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করা হয়েছে।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রণালীটি চালু না হলে ইরানের অবকাঠামোর ওপর হামলা চালানো হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু ও অন্যান্য স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাত ধীরে ধীরে মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবরও মিলছে।

    এদিকে ইরান পাল্টা সতর্ক করে জানিয়েছে, তাদের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিক্রিয়ামূলক হামলা চালানোর কথাও উল্লেখ করেছে তেহরান।

    চলমান উত্তেজনায় ইতোমধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে এবং সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

  • ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ‘মঙ্গলবারই বড় আঘাত’, উত্তেজনা চরমে

    ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের: ‘মঙ্গলবারই বড় আঘাত’, উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিক বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

    নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, নির্দিষ্ট দিনে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের আঘাত হানা হতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

    এ সময় তিনি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন, অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তার এই মন্তব্যের ভাষা ছিল অত্যন্ত কঠোর, যা কূটনৈতিক শালীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

    এর আগে আরেকটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের দুর্গম এলাকায় বিধ্বস্ত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, কর্নেল পদমর্যাদার ওই পাইলট বর্তমানে নিরাপদ অবস্থায় আছেন এবং চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    জানা গেছে, গত শুক্রবার একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে থাকা দুইজনের একজনকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা হলেও অপরজনকে খুঁজে পেতে সময় লাগে। পরে বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়।

    ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ইরানি বাহিনীও ওই পাইলটকে খুঁজছিল এবং প্রায় ধরতে সক্ষম হয়েছিল। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ধারকারী দল কয়েক ঘণ্টার অভিযানে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত এত বড় ঝুঁকি নিয়ে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হয় না। তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় একাধিক ধাপে অভিযান চালিয়ে দিনের আলোতেই পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এমন বক্তব্য ও পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে এখন পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে।

  • বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা—ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ!

    বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা—ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষায় বড় চ্যালেঞ্জ!

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে নতুন করে হামলার দাবি তুলেছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, Ben Gurion Airport-এ ড্রোনের মাধ্যমে সমন্বিত আক্রমণ চালানো হয়েছে।

    ইরানের সামরিক সূত্র মতে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের সামরিক বিমান চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি করা। বিশেষ করে বিমানবন্দরের কন্ট্রোল টাওয়ার, নেভিগেশন সিস্টেম, রাডার ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    এক বিবৃতিতে তেহরান জানায়, ইসরায়েল ও তার মিত্রদের সামরিক কার্যক্রমে এই বিমানবন্দর ব্যবহারের প্রতিবাদ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এতে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং আকাশপথে সমন্বয় ব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশল গ্রহণ করা হয়।

    ইরানি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানের ফলে শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান পরিচালনা, নজরদারি এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করা হয়।

    তারা আরও জানায়, এই ধরনের হামলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে এবং আঞ্চলিক সংঘাতে ইরান তাদের অবস্থান থেকে সরে আসবে না। নিহতদের প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ‘প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ’ চালিয়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    তবে এই ঘটনার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত Israel সরকার বা United States-এর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার দাবি যদি সত্য হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ নিরাপত্তা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।