Tag: সামরিক উত্তেজনা

  • মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী কেন? সময় এলে কারণ বুঝবে ইরান: কঠোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন রণতরী কেন? সময় এলে কারণ বুঝবে ইরান: কঠোর হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও রণতরী মোতায়েনের পেছনের কারণ সময় হলেই ইরান জানতে পারবে—এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হুকাবি। ইরান যদি বর্তমান নীতিতে পরিবর্তন না আনে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও স্পষ্ট করে জানান তিনি।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সৌদি সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হুকাবি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে হুমকি দেন, তা বাস্তবায়ন করতেই পরিচিত। তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের ঘোষণাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

    এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের দিকেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল নৌবহর। এতে আধুনিক যুদ্ধবিমান, রণতরী ও উন্নত সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ইরানকে লক্ষ্য করে এত বড় সামরিক প্রস্তুতির কারণ জানতে চাইলে মাইক হুকাবি বলেন, “যখন জানার উপযুক্ত সময় আসবে, তখন ইরান নিজেই বুঝে নেবে কেন এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

    তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চারটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছিল। ওই হামলার আগেও ট্রাম্প প্রশাসন একাধিকবার এমন পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছিল।

    হুকাবির ভাষায়, “গত গ্রীষ্মে ইরান কার্যত দেখেছে, ট্রাম্প যা বলেন—তা তিনি করে দেখান।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই ইরানকে ইউরেনিয়াম মজুদ বা পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেবে না।

    এদিকে, গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হলেও মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে তা কঠোরভাবে দমন করা হয়। সে সময় ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। পরিস্থিতি একপর্যায়ে যুদ্ধের কাছাকাছি পৌঁছালেও পরে ট্রাম্প জানান, মৃত্যুদণ্ড স্থগিত হওয়ায় আপাতত সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

    মাইক হুকাবি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে ইরান যদি আবার বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা ফাঁসির আদেশ দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেটিকে কেন্দ্র করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

  • হামলার ইঙ্গিত মিললেই পাল্টা জবাব, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

    হামলার ইঙ্গিত মিললেই পাল্টা জবাব, পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ইরানের ওপর কোনো ধরনের আক্রমণ হলে শুধু নিজ ভূখণ্ড নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

    ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানে হামলা হলে তেহরান এমন প্রতিক্রিয়া জানাবে, যা পুরো অঞ্চলকে অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে। তাঁর এই মন্তব্যকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর জন্য সরাসরি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

    তিনি আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নৌযান, সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরাইলের ভৌগোলিক এলাকা ইরানের দৃষ্টিতে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

    এদিকে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা যদি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ও কঠিন পরিণতি অপেক্ষা করছে। এক নিরাপত্তা বৈঠকে তিনি বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসনের জবাবে ইরান শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত।

    নাসিরজাদেহ আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর হামলায় সহযোগিতা করা কোনো দেশকেও ছাড় দেওয়া হবে না; তারাও ইরানের প্রতিরোধের আওতায় আসবে।

    তিনি দাবি করেন, গত জুনে ইসরাইলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের সংঘর্ষে সৃষ্ট ক্ষতি ইতোমধ্যে পুষিয়ে নিয়েছে ইরান। পাশাপাশি দেশটির সামরিক উৎপাদন সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও বাড়ানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হুমকি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা ও সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

  • সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা কোন দিকে গড়াবে?

    সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: আফগানিস্তান-পাকিস্তান উত্তেজনা কোন দিকে গড়াবে?

    এবিএনএ: দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্তে ফের ভয়াবহ সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। একে অপরের চৌকি দখলের দাবি করছে দুই দেশই। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এই সংঘাতটিই সবচেয়ে বড় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এই উত্তেজনা কোথায় গিয়ে থামবে?

    রবিবার আফগান তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেন, সংঘর্ষে পাকিস্তানের অন্তত ৫৮ সেনা নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে আফগানিস্তানের ৯ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ১৬ জন।
    অন্যদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী সংঘর্ষে ২০০ জনেরও বেশি তালেবান ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের ২৩ সেনা নিহত ও ২৯ জন আহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেছে ইসলামাবাদ।

    রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর পাকিস্তান আফগান সীমান্তের বেশ কিছু প্রবেশপথ বন্ধ করে দিয়েছে। পিটিভি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের অন্তত ১৯টি সীমান্ত চৌকি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। অপরদিকে আফগান গণমাধ্যম আমু নিউজ জানায়, তালেবান বাহিনী পাকিস্তানের ১১টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে।

    সংঘাতের সূচনা

    এই সংঘাতের সূত্রপাত বৃহস্পতিবার, যখন আফগান রাজধানী কাবুলে এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তালেবান সরকার দাবি করে, হামলাটি পাকিস্তান পরিচালিত। তবে ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এর জেরে শনিবার রাত থেকে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়, যা দ্রুত সীমান্ত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ২০২২ সালে ইমরান খান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই আফগানিস্তান-পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়। ক্ষমতায় থাকাকালে ইমরান খান তালেবানের মধ্যস্থতায় টিটিপির (তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান) সঙ্গে যুদ্ধবিরতি করেছিলেন। সেই বিরতি ভেঙে গেলে সীমান্তে সংঘর্ষ ক্রমে তীব্র হতে থাকে।

    ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন পথে?

    পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আফগান বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসিফ দুররানির মতে, দুই দেশের এই সংঘর্ষ বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নেবে না। তিনি বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক শক্তি আফগানিস্তানের তুলনায় অনেক বেশি। তবে কূটনৈতিক আলোচনার বিকল্প নেই।”

    দুররানি আরও জানান, মূল সমস্যা টিটিপিকে ঘিরে। আফগান সরকার তাদের ভূখণ্ডে টিটিপির উপস্থিতি অস্বীকার করছে, কিন্তু পাকিস্তান বলছে এই গোষ্ঠীই সীমান্তে হামলার পেছনে দায়ী। ফলে টিটিপি ইস্যু সমাধান না হলে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা থেকে যাবে বলেই ধারণা বিশ্লেষকদের।

  • থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাস্তুচ্যুত ১ লাখের বেশি মানুষ

    থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, বাস্তুচ্যুত ১ লাখের বেশি মানুষ

    এবিএনএ:  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দ্বিতীয় দিনের মতো চলা এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই থাইল্যান্ডে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এক লাখেরও বেশি মানুষ। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন চার হাজারেরও বেশি।

    শুক্রবার দুই দেশের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলি হয়, আর সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে সংঘর্ষ। থাই সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা লক্ষ্যভিত্তিক এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার পক্ষ থেকে এই হামলাকে “বেপরোয়া ও নৃশংস আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

    থাইল্যান্ডের উবন রাচাথানি ও সুরিন প্রদেশের সীমান্তে সংঘর্ষ শুরু হয় বৃহস্পতিবার সকালে। এই উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করছে সংঘর্ষ শুরু করার জন্য।

    এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে, যাদের অধিকাংশই থাই বেসামরিক নাগরিক। থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা কোনো আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা গ্রহণ করবে না, বরং কেবলমাত্র দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান চায়।

    চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিলেও থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

    থাই সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রোন থেকে বোমা ফেলে পাহাড়ি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, এতে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে এবং এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায়।

    এপি ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানা গেছে, থাইল্যান্ডে শত শত পরিবারকে বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্থায়ী ক্যাম্পে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এক আশ্রয়প্রার্থী বলেন, “আমরা ভীত। বৃদ্ধ আর প্রতিবন্ধীদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় আছি।”

    সীমান্ত সমস্যা এই অঞ্চলে বহু পুরনো। থাইল্যান্ড দাবি করে ফরাসি উপনিবেশ আমলে তাদের এলাকা কম্বোডিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, কম্বোডিয়া মনে করে ঐ অঞ্চল তাদেরই প্রাচীন মালিকানাধীন। এই ঐতিহাসিক ক্ষোভ দুই দেশকে নিয়মিত সংঘর্ষের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

    চুলালংকর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষক থিটিনান পংসুধিরাক বলেন, “উভয় পক্ষের মধ্যেই ইতিহাসের প্রতি ক্ষোভ রয়েছে। এবং সেই ইতিহাসই বর্তমানে সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে।”

    থাইল্যান্ডের অস্ত্রশক্তি ও সেনাসংখ্যা কম্বোডিয়ার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

    এই চলমান উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরও কীভাবে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে দুই দেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবেলার ওপর। তবে এখনই একটি মানবিক বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে, যার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

  • যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলো রাশিয়া। মস্কোর কড়া বক্তব্য—এই সংকটে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ শুধু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দেবে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস-কে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ইস্যুতে সেনা বা কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে সেটি একটি ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের সূচনা করতে পারে।”

    যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—দুটি বিপরীত শিবিরে

    ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় দুটি পরাশক্তি এখন স্পষ্টভাবে দুই বিপরীত অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন, অন্যদিকে রাশিয়া তেহরানকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রক্ষা করছে। এ বছরের শুরুতে পুতিন ও ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে সই হয় একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি, যাতে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

    বিশ্লেষকদের শঙ্কা: বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংকট শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়—এটি বিশ্ব কূটনীতির ভারসাম্যও নাড়িয়ে দিতে পারে। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে থাকলেও এই ইস্যু তা আবার উত্তপ্ত করে তুলছে। বিশেষ করে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনঃনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

    এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যর্থতা বা অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ যে কত বড় বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে, সেটাই যেন রাশিয়া বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে।

  • ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরায়েল, ফের বাজল সাইরেন

    ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরায়েল, ফের বাজল সাইরেন

    এবিএনএ:

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তরের পাল্টা উত্তরের মাধ্যমে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইরান ফের ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

    এই হামলার জবাবে ইসরায়েল রাজধানীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বাজিয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

    তবে এখন পর্যন্ত এই নতুন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    এর আগে শনিবার রাতভর দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। তাতে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সেসব হামলার রেশ না কাটতেই আবারও ইরানের আক্রমণ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে মরিয়া।

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: ইরানের পাল্টা হামলায় বদলে গেল যুদ্ধের দৃশ্যপট

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: ইরানের পাল্টা হামলায় বদলে গেল যুদ্ধের দৃশ্যপট

    এবিএনএ:

    মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে উত্তেজনার আগুন। বিতর্কিত এক সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান শুরু করেছে পাল্টা হামলা, যা পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

    ইরানি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে আমাদের জবাব ছিল অনিবার্য। যারা ইরানের সীমান্তে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে, তাদের জবাব পেতেই হবে।”

    এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পাল্টা হামলায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় রাতের অন্ধকারে চালানো এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত এবং লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইরান ও প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য উসকানিতেই বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক মহল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম দেখাতে বলেছে।

    এমন প্রেক্ষাপটে, সাধারণ মানুষ ও বিশ্ববাজারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে, শেয়ারবাজারে পতনের আভাসও মিলেছে।

    ইরানের এই পাল্টা হামলা শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক পর্যায়েও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতে পরিণত হতে পারে, যদি না দ্রুত সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফিরে আসা যায়।

  • কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত: অতিরিক্ত সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

    কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমিত: অতিরিক্ত সৈন্য সরিয়ে নিচ্ছে ভারত-পাকিস্তান

    এবিএনএ: 

    কাশ্মীর সীমান্তে সাম্প্রতিক সহিংসতার পর নতুন করে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে ভারত পাকিস্তান। দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সীমান্তে মোতায়েন করা অতিরিক্ত সেনাবাহিনী ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে এবং সৈন্যরা তাদের পূর্ববর্তী শান্তিকালীন অবস্থানে ফিরে যাবে।

    পাকিস্তানের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মে মাসের শেষ নাগাদ এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে।

    উল্লেখ্য, গত মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর ভয়াবহ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টানা চার দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলায় প্রাণ হারায় অন্তত ৭০ জন। নয়াদিল্লি হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও পাকিস্তান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে।

    এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হস্তক্ষেপ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘোষিত আকস্মিক যুদ্ধবিরতির ফলে সীমান্তে ড্রোন, বিমান, কামান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ হয় এবং বর্তমানে সেই যুদ্ধবিরতি বলবৎ রয়েছে।

    পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, “প্রাথমিকভাবে ১০ দিনের মধ্যেই সব সৈন্য সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে মে মাসের শেষ পর্যন্ত সময় লাগবে।”

    ভারতের সেনাবাহিনীও এক বিবৃতিতে জানায়, কাশ্মীরের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা ঘেঁষা অঞ্চলসহ সীমান্ত এলাকার অতিরিক্ত সেনা কমানো নিয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হতে পারে।

  • কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে রক্তাক্ত সীমান্ত: নিহত ৪১, আহত বহু

    কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে রক্তাক্ত সীমান্ত: নিহত ৪১, আহত বহু

    এবিএনএ:  কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত পাকিস্তানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনার জেরে সীমান্তে শুরু হয়েছে প্রাণঘাতী সংঘর্ষ। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে, পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশে নিহত হয়েছেন অন্তত ৪১ জন, যার মধ্যে পাকিস্তানে প্রাণ গেছে ২৬ জনের এবং ভারতে ১৫ জনের।

    মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারতের চালানো বিমান হামলায় পাকিস্তানের ছয়টি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানিয়েছেন, হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৪৬ জন। তিনি জানান, “ভারতের বর্বরোচিত হামলা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত।”

    এই হামলার জবাবে বুধবার ভারত-শাসিত কাশ্মীরের পুঞ্চ এবং মেন্ধার এলাকায় পাকিস্তান চালায় ব্যাপক গোলাবর্ষণ। বিবিসি নিশ্চিত করেছে, ঘটনায় ভারতে মারা গেছেন ১৫ জন সাধারণ নাগরিক এবং আহত হয়েছেন ৪৩ জন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সারা রাত ধরে গোলার শব্দে আতঙ্কে ঘুমাতে পারেননি তারা। পুঞ্চের একজন স্থানীয় সাংবাদিক জামরুদ মুঘল জানান, “রাতভর বড় বড় বিস্ফোরণ হচ্ছিল। মানুষ ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়েছে। হাসপাতাল এখন আহত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ।”

    গোলার আঘাতে বহু ঘরবাড়ি, দোকানপাট অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং দু’দেশের সেনারা প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে।

    এই ঘটনাগুলি ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলমান কাশ্মীর ইস্যুকে আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের উত্তপ্ত সম্পর্কের দিকে।