Tag: সামরিক উত্তেজনা

  • দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: ‘নতুন শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহারই করা হয়নি’

    দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: ‘নতুন শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহারই করা হয়নি’

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, সম্ভাব্য দীর্ঘ সংঘাত মোকাবিলায় তাদের কাছে উন্নত ও নতুন ধরনের অস্ত্র মজুত রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগ এখনো বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়নি।

    বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলেও তা মোকাবিলার জন্য ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে এসব নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুপক্ষকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

    নতুন অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত

    আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছে। সেগুলো এখনো পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সময়ে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হলে প্রতিপক্ষের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

    ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ঘোষণা

    এ বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন প্রথমবারের মতো ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ‘খাইবার’ নামের ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের নতুন সক্ষমতার একটি বড় প্রদর্শন।

    পারমাণবিক ইস্যুতে ব্যর্থ সংলাপ

    এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানযুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে টানা ২১ দিন আলোচনা চলেছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সেই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সমান্তরাল অভিযান চালায়।

    ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত

    গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান বিভিন্ন সময় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানা গেছে।

    আগের সংঘাতের চেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার

    আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল, তার তুলনায় এবার ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি শক্তিশালী। নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রভাণ্ডার এখন আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ।

    বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

  • শ্রীলঙ্কা উপকূলে নৌসেনা নিহতের জেরে পাল্টা হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের অভিযান

    শ্রীলঙ্কা উপকূলে নৌসেনা নিহতের জেরে পাল্টা হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের অভিযান

    এবিএনএ: শ্রীলঙ্কা উপকূলে সংঘটিত এক হামলায় নিজেদের নৌসেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ‘ইহুদিবাদী শক্তির’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ২০তম হামলা পরিচালনা করেছে।

    ইরানের দাবি, এই হামলা উৎসর্গ করা হয়েছে শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন হামলায় নিহত নৌসেনাদের স্মরণে। ওই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধের ঘোষণা দেয় তেহরান।

    তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে নিহত নৌসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। যদিও হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    এদিকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া বার্তা আইআরজিসির: ‘আরও নরকের দরজা খুলবে’

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া বার্তা আইআরজিসির: ‘আরও নরকের দরজা খুলবে’

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্রতর হওয়ায় ইরানের সামরিক নেতৃত্ব আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত আরও জোরদার করা হবে।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। তার ভাষায়, “শত্রুপক্ষকে ধারাবাহিক ও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, সামরিক অভিযান থামার কোনো লক্ষণ নেই।

    এদিকে তেহরান ইউরোপীয় দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো অংশ নিলে তা সরাসরি যুদ্ধঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও সমন্বিত পদক্ষেপকে আক্রমণাত্মক জোটের অংশ হিসেবেই দেখা হবে।

    ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় সম্ভাব্য “প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা” নেওয়ার কথা উল্লেখ করার পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা আসে।

    অন্যদিকে সংঘাতে ইরানে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

  • ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত, আহত পাঁচজন—পেন্টাগন জানাল লুকানো তথ্য

    ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত, আহত পাঁচজন—পেন্টাগন জানাল লুকানো তথ্য

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে—ইরান-এর সঙ্গে সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্রের তিন সেনা নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন আজ রোববার এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এ সময় আরও পাঁচ সেনা আহত হয়েছেন।

    প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ইরান-ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময়ে সেনাদের মৃত্যু ঘটেছে। তবে তাদের মৃত্যুর সঠিক স্থান বা পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেন্টাগন প্রকাশ করেনি।

    পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধে আহত সেনারা শিগগিরই আবার দায়িত্বে ফিরতে পারবেন। নিরাপত্তা এবং সেনাদের পরিচয় রক্ষার কারণে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের এই ধারা সামরিক এবং কূটনৈতিক দুই দিকেই উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। সংঘর্ষের পরবর্তী ঘটনার দিকে আন্তর্জাতিক মহল বিশেষ নজর রাখছে।

  • ইরানে হামলার প্রস্তুতি? মার্কিন অনুরোধে না বলল লন্ডন:ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সবুজ সংকেত দেয়নি ব্রিটেন

    ইরানে হামলার প্রস্তুতি? মার্কিন অনুরোধে না বলল লন্ডন:ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সবুজ সংকেত দেয়নি ব্রিটেন

    এবিএনএ: ইরানে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ জানালেও লন্ডন তা নাকচ করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবে সম্মতি দেননি বলে জানা গেছে। এতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়েছেন—এমন খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ

    ওয়াশিংটনের প্রস্তাব ছিল দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের সুইন্ডনের কাছাকাছি অবস্থিত রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি ঘাঁটি ব্যবহার করার। তবে ব্রিটিশ সরকারের আশঙ্কা—এতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠতে পারে এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, বর্তমান ইরানি শাসনব্যবস্থা অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে—এমন অভিযোগও করেন তিনি। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, প্রস্তাবিত ঘাঁটি থেকে দূরপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকতে পারে।

    ব্রিটেনের আইন অনুযায়ী, কোনো মিত্র দেশের সামরিক অভিযানে সহযোগিতা করলে নির্দিষ্ট শর্তে দায় ভাগাভাগির প্রশ্ন আসে। তবে উল্লিখিত ঘাঁটি ব্যবহার হলে অভিযানের বিস্তারিত আগাম জানার বাধ্যবাধকতা নাও থাকতে পারে—এই অনিশ্চয়তাই লন্ডনের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের ইঙ্গিত।

    এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। অঞ্চলটিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন ও নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে। সিএনএনসিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে—তবে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাবেন কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও স্পষ্ট নয়।

  • মার্কিন যুদ্ধের শঙ্কায় ইরানে অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত—৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন খামেনি

    মার্কিন যুদ্ধের শঙ্কায় ইরানে অস্বাভাবিক সিদ্ধান্ত—৩৭ বছরের রীতি ভাঙলেন খামেনি

    এবিএনএ: পারস্য উপসাগরজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকায় ইরানে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা একটি ঐতিহ্য ভেঙে বিমানবাহিনীর কমান্ডারদের বার্ষিক অনুষ্ঠানে অংশ নেননি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৮৯ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিবছরই তিনি এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন—মহামারির সময়ও ব্যতিক্রম হয়নি। এবারই প্রথম তাঁর অনুপস্থিতি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

    এই অনুষ্ঠানটি প্রতিবছর ৮ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়, যা ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক এক ঘটনার স্মরণে আয়োজিত। সেদিন ইরানি বিমানবাহিনীর একাংশ ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্বকে সমর্থন জানায়। গত চার দশকে দিনটি রাষ্ট্রীয় ও প্রতীকী গুরুত্ব পেয়েছে। এ বছর খামেনির বদলে বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ কর্মকর্তা আবদোলরহিম মুসাভি।

    খামেনির অনুপস্থিতি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তেহরান-ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন তীব্র আকার নিয়েছে। অঞ্চলে মার্কিন নৌ ও বিমানবাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে, সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কাও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সর্বোচ্চ নেতার না আসা নিরাপত্তাজনিত সতর্কতা কিংবা চলমান হুমকির ইঙ্গিত হতে পারে।

    তেহরান আগেই সতর্ক করেছে—ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। অতীতের সীমান্তসংঘাত ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার রেশ এখনো কাটেনি। পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে কি না—এই প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান বিপরীত মেরুতে থাকায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

    এরই মধ্যে আরব সাগর, লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও আকাশ নজরদারি জোরদার হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর এসেছে। সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির এই প্রেক্ষাপটে খামেনির সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর জবাব দেবে ইরান: এবার পাল্টা আঘাত আর সীমিত থাকবে না

    যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর জবাব দেবে ইরান: এবার পাল্টা আঘাত আর সীমিত থাকবে না

    যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়, তবে তার জবাব আর আগের মতো সীমাবদ্ধ থাকবে না—এমন কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেছেন, ভবিষ্যতে যেকোনো পাল্টা হামলা হবে দীর্ঘস্থায়ী ও দৃঢ়সংকল্পের প্রতিফলন।

    শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আঘাত এলে তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। তার ভাষায়, এবার আর প্রতিক্রিয়া সীমিত পর্যায়ে আটকে থাকবে না।

    পটভূমি হিসেবে তিনি গত বছরের জুনে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টানেন। ওই সংঘাতের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের চারটি পারমাণবিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। সে সময় মার্কিন বিমানবাহী রণতরীও ব্যবহৃত হয়। তবে তখন উভয় পক্ষই সীমিত পরিসরে হামলা চালিয়েছিল। ইরান কাতারে অবস্থিত মার্কিন আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে মিসাইল নিক্ষেপ করে জবাব দেয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন।

    ইরানি সেনা মুখপাত্র স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি এমন থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ফলাফল তাদের কল্পনার মতো সহজ হবে না। তিনি বলেন, “হঠাৎ হামলা চালিয়ে পরে অভিযান শেষের ঘোষণা দেওয়া—এমন দৃশ্য আর দেখা যাবে না।”

    এ সময় তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক রণতরীগুলো ইরানের মিসাইল সক্ষমতার সামনে নিরাপদ নয়। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের মধ্যম পাল্লার মিসাইলের আওতার মধ্যেই রয়েছে বলে জানান তিনি।

  • সমুদ্রের তলদেশে লুকানো শত শত মিসাইল! যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়ে গোপন সুড়ঙ্গ প্রকাশ করল ইরান

    সমুদ্রের তলদেশে লুকানো শত শত মিসাইল! যুক্তরাষ্ট্রকে বার্তা দিয়ে গোপন সুড়ঙ্গ প্রকাশ করল ইরান

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সামরিক শক্তি প্রদর্শনে নতুন বার্তা দিল ইরান। দেশটি প্রথমবারের মতো সমুদ্রের তলদেশে থাকা তাদের গোপন মিসাইল সুড়ঙ্গের তথ্য প্রকাশ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো হামলা হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী নিরাপদ থাকবে না।

    বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের নৌ শাখার প্রধান আলীরেজা তাঙসিরি পানির নিচে অবস্থিত একটি মিসাইল সুড়ঙ্গ পরিদর্শন করছেন। সেখানে সারিবদ্ধভাবে উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ক্রুস মিসাইল।

    নৌ কমান্ডার তাঙসিরি জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল ও ওমান সাগরে অবস্থানরত বিদেশি নৌবহর মোকাবিলায় সমুদ্রের নিচে বিস্তৃত মিসাইল নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে ইরান। এসব সুড়ঙ্গে শতাধিক নয়, বরং কয়েকশ মিসাইল মজুত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তার ভাষায়, এসব মিসাইল প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। বিশেষ করে ‘কাদের ৩৮০ এল’ নামের মিসাইলগুলোতে আধুনিক স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আঘাতের মুহূর্ত পর্যন্ত লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত ও অনুসরণ করতে পারে।

    এদিকে একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ইরান যদি বড় ধরনের হামলা এড়াতে চায়, তবে দ্রুত একটি চুক্তিতে আসতে হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা পুরোপুরি পরিত্যাগ করতে হবে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই মিসাইল সুড়ঙ্গ প্রকাশ এবং ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর হুমকি— দুই মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

  • তেহরানে ক্ষমতার ভীত নড়বড়ে! ইরান সরকার নিয়ে ট্রাম্পকে গোপন সতর্কবার্তা মার্কিন গোয়েন্দাদের

    তেহরানে ক্ষমতার ভীত নড়বড়ে! ইরান সরকার নিয়ে ট্রাম্পকে গোপন সতর্কবার্তা মার্কিন গোয়েন্দাদের

    এবিএনএ: ইরানের বর্তমান ইসলামিক সরকার চরম চাপে রয়েছে এবং তাদের ক্ষমতার ভিত নড়বড়ে হয়ে উঠেছে—এমনই মূল্যায়ন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। এসব গোপন তথ্য সরাসরি জানানো হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।

    গোয়েন্দা বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের মাধ্যমে শাহ শাসনের পতনের পর এই প্রথমবার ইরানের শাসনব্যবস্থা এতটা দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ, জনসমর্থন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই সরকারের সক্ষমতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে এই তথ্য জানানো হয়, যখন তিনি ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নতুন করে বিবেচনা করছেন। গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশটির ওপর হামলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন তিনি। মাঝখানে কিছুটা নরম অবস্থান নিলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবার আগ্রাসী কৌশলে ফিরেছেন ট্রাম্প।

    মার্কিন গোয়েন্দাদের মতে, ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে নজিরবিহীন সংকটে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে জনঅসন্তোষ বেড়েছে, যা সরকারকে আরও দুর্বল করে তুলছে।

    এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এর সঙ্গে রয়েছে একাধিক যুদ্ধজাহাজ, যেগুলোতে টোমাহকসহ আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযুক্ত রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়ছে।

  • ইরান ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান! কোনো হামলায় নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত

    ইরান ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান! কোনো হামলায় নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক সামরিক কর্মকাণ্ডে আমিরাতের আকাশসীমা, স্থলভূমি কিংবা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এমনকি কোনো হামলায় পরোক্ষ বা লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না দেশটি।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, একটি মার্কিন নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন নিবিড় নজর রাখছে। এসব বক্তব্যের পরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়।

    যদিও আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, তবু এই বিষয়ে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি হলো এই আল-ধাফরা ঘাঁটি।

    আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম পথ।

    উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে অন্তত ছয় হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ দমন করলেও দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও, আমিরাত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের কোনো অভিযানে তারা অংশ নেবে না।