আন্তর্জাতিক

ইরান ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান! কোনো হামলায় নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত

মার্কিন হামলার আশঙ্কার মধ্যেই আকাশ, স্থল ও জলসীমা ব্যবহারে কড়াকড়ি ঘোষণা সংযুক্ত আরব আমিরাতের

এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক সামরিক কর্মকাণ্ডে আমিরাতের আকাশসীমা, স্থলভূমি কিংবা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এমনকি কোনো হামলায় পরোক্ষ বা লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না দেশটি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, একটি মার্কিন নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন নিবিড় নজর রাখছে। এসব বক্তব্যের পরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়।

যদিও আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, তবু এই বিষয়ে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি হলো এই আল-ধাফরা ঘাঁটি।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম পথ।

উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে অন্তত ছয় হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ দমন করলেও দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও, আমিরাত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের কোনো অভিযানে তারা অংশ নেবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button