Tag: পররাষ্ট্রনীতি

  • ঢাকায় কূটনৈতিক তৎপরতা: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীন-ভারত-পাকিস্তানের দূতদের বৈঠকে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা

    ঢাকায় কূটনৈতিক তৎপরতা: পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীন-ভারত-পাকিস্তানের দূতদের বৈঠকে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা

    এবিএনএ: ঢাকায় নিযুক্ত চীন, ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকরা রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান–এর সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। নতুন দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে তিন দেশের রাষ্ট্রদূতরা তাকে শুভেচ্ছা জানান এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

    চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, বাণিজ্য, অবকাঠামো ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে বেইজিং আগ্রহী। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বেইজিংয়ের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান। এ সময় চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

    ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা জানান, নতুন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিতে নয়াদিল্লি প্রস্তুত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দূরদর্শী ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার কথা বলেন। উভয় পক্ষ নিয়মিত ও ফলপ্রসূ সংলাপ বজায় রাখার বিষয়ে একমত হয়। একই সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর–এর পক্ষ থেকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ হস্তান্তর করা হয়।

    পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি ও জনগণের কল্যাণে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারকে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন এবং বাণিজ্য-সংস্কৃতি-মানবসম্পদ উন্নয়নসহ নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দেন।

  • শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?

    শক্ত প্রতিরক্ষা থেকে বৈশ্বিক মর্যাদা পুনরুদ্ধার—জামায়াতের ইশতেহারে কী আছে বাংলাদেশের জন্য?

    এবিএনএ: পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক অবস্থান পুনর্গঠনের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোষিত এই ইশতেহারে কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি কৌশলগত রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

    বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হয়। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন, যা এই ইশতেহারে প্রতিফলিত হয়েছে।

    পররাষ্ট্রনীতি: সমমর্যাদা ও কৌশলগত বন্ধুত্ব

    ইশতেহারে পারস্পরিক সম্মান ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশি পাসপোর্টের মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান ও কানাডাসহ উন্নত বিশ্বের সঙ্গে গঠনমূলক কূটনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়।

    এ ছাড়া পূর্ব ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে বাংলাদেশের সক্রিয় ভূমিকা জোরদার এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিরক্ষানীতি: ভিশন ২০৪০ ও সামরিক আত্মনির্ভরতা

    প্রতিরক্ষা খাতে জামায়াতের ইশতেহারের মূল লক্ষ্য ২০৪০ সালের মধ্যে শতভাগ সামরিক আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন। এজন্য একটি যুগোপযোগী জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন, নতুন সামরিক ডকট্রিন তৈরি এবং প্রতিরক্ষা গবেষণার জন্য জাতীয় সামরিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা বলা হয়েছে।

    সামরিক বাজেট ধাপে ধাপে বৃদ্ধি, নিজস্ব অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উৎপাদন সক্ষমতা অর্জন, গোয়েন্দা সংস্থার আধুনিকীকরণ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য স্বেচ্ছাসেবী সামরিক প্রশিক্ষণ চালু ও সেনাসদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ইরান ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান! কোনো হামলায় নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত

    ইরান ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান! কোনো হামলায় নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক সামরিক কর্মকাণ্ডে আমিরাতের আকাশসীমা, স্থলভূমি কিংবা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এমনকি কোনো হামলায় পরোক্ষ বা লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না দেশটি।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, একটি মার্কিন নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন নিবিড় নজর রাখছে। এসব বক্তব্যের পরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়।

    যদিও আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, তবু এই বিষয়ে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি হলো এই আল-ধাফরা ঘাঁটি।

    আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম পথ।

    উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে অন্তত ছয় হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ দমন করলেও দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও, আমিরাত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের কোনো অভিযানে তারা অংশ নেবে না।