Tag: সংযুক্ত আরব আমিরাত

  • ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছে

    ওপেক ছাড়ছে আমিরাত, সৌদির সঙ্গে দ্বন্দ্ব বাড়ছে

    এবিএনএ : দীর্ঘ প্রায় ছয় দশক পর পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ১৯৬৭ সাল থেকে জোটটির সদস্য থাকা দেশটি মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

    সৌদির সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে পড়েছে। যদিও বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় দেশগুলোর দৃষ্টি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনার দিকে কেন্দ্রীভূত।

    উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তোষ

    দীর্ঘদিন ধরেই ওপেকের নির্ধারিত তেল উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিল আমিরাত। দেশটির অভিযোগ, এই সীমাবদ্ধতার কারণে তারা নিজেদের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাতে পারছিল না, যা সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।

    এই পরিস্থিতিতে কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য ওপেকে থাকার যৌক্তিকতা আর দেখছিল না আবুধাবি।

    আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব

    বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক ত্যাগের সিদ্ধান্ত সৌদি আরবের সঙ্গে আমিরাতের সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সৌদি আরবকে এতদিন জোটটির নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, আর উৎপাদন সীমা নিয়ে আমিরাত এটিকে নিজেদের সার্বভৌম সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখত।

    নেতৃত্বের দূরত্বও স্পষ্ট

    সাম্প্রতিক এক উপসাগরীয় সম্মেলনে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদের অনুপস্থিতি এবং একই সময়ে ওপেক ছাড়ার ঘোষণা—এই দুটি ঘটনাকে কূটনৈতিক দূরত্বের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন বাড়ছে।

    ভবিষ্যতে আরও পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    ধারণা করা হচ্ছে, আগামী সময়ে আমিরাত আরও কিছু আন্তর্জাতিক জোট বা সংগঠন থেকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে নতুন পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

    পুরনো দ্বন্দ্ব আরও জোরালো

    ইতোমধ্যে সুদান ও ইয়েমেন ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। তার সঙ্গে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা যোগ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে একসময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মধ্যে বিভাজন এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    এই প্রেক্ষাপটে আমিরাতের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আরও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    যুদ্ধের ক্ষত না শুকাতেই মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’!

    এবিএনএ: ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যপ্রাচ্যের অবকাঠামো পুনর্গঠনের প্রশ্নে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন উপসাগরীয় দেশগুলোকে মার্কিন নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে বলে জানা গেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের জবাবে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সংঘাত থামার আগেই পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনায় সক্রিয় হয়ে ওঠে ওয়াশিংটন।

    মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য সুযোগ তৈরি করতে চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হওয়ায় পুনর্গঠন প্রকল্পগুলো কয়েক হাজার কোটি ডলারের বাজার তৈরি করতে পারে। শুধু জ্বালানি খাতের অবকাঠামো পুনর্নির্মাণেই ব্যয় হতে পারে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। এর আওতায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ ও পানি শোধন কেন্দ্র, বাহরাইনের বৃহৎ শিল্প স্থাপনা এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে।

    তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক দেশ মনে করছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির থাকায় পুনর্গঠন নিয়ে বাণিজ্যিক চাপ দেওয়া সময়োপযোগী নয়। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া বড় অর্থনৈতিক চুক্তিতে এগোনো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ায় এখন নিরাপত্তা ইস্যুকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে জ্বালানি রফতানি ব্যাহত হওয়ায় কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ডলার সহায়তা চেয়েছে বলেও জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন এই অর্থনৈতিক সহায়তাকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ডলার সুবিধা বা আর্থিক সহায়তার বিনিময়ে পুনর্গঠন প্রকল্পে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে কাজ দেওয়ার শর্ত যুক্ত হতে পারে—যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ধরনের ‘বাণিজ্যিক কূটনীতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা—সৌদি, কাতার ও আমিরাতের তেল স্থাপনা খালি করতে ইরানের হুমকি

    মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা—সৌদি, কাতার ও আমিরাতের তেল স্থাপনা খালি করতে ইরানের হুমকি

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। ইরান সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনা লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দিয়েছে এবং সেসব এলাকা দ্রুত খালি করার আহ্বান জানিয়েছে।

    বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব স্থাপনায় আঘাত হানার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দা, কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।

    সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের সামরেফ পরিশোধনাগার ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাসক্ষেত্র এবং কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্প এলাকা এখন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

    ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এসব স্থাপনা এখন ‘বৈধ সামরিক লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই সেখানে হামলা চালানো হতে পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সতর্কবার্তা সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতার অংশ। এর আগে ইরানের সাউথ পার্স ও আসালুয়েহ অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটে, যার পেছনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।

    মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় ইরানের তেল ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এরই প্রেক্ষিতে পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরান এই কঠোর সতর্কতা জারি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    সর্বশেষ পরিস্থিতিতে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে এবং সম্ভাব্য বৃহৎ সংঘাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে উঠছে।

  • দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা

    দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্ত এই হামলার ঘটনাকে ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন-সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর সেখানে আগুনের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

    একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ বন্দরের তেল শিল্প এলাকায়ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর সেখানে আগুন লাগে বলে জানা গেছে। ফুজাইরাহ অঞ্চলটি দেশটির অন্যতম বড় তেল সংরক্ষণাগার হিসেবে পরিচিত।

    এদিকে রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে আল বাহিয়া এলাকায় একটি গাড়িতে রকেট হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় মিডিয়া অফিস জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে তেহরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১,৯০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

    তবে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সোমবার তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এটি তৃতীয়বারের মতো ড্রোন হামলার ঘটনা। উল্লেখ্য, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত।

    এই হামলার কারণে কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

    ফুজাইরাহ বন্দর ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত। ফলে এখানকার জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে হয় না, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

  • দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন আঘাত, বাংলাদেশিসহ আহত ৪—তবু স্বাভাবিক রয়েছে ফ্লাইট চলাচল

    দুবাই বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন আঘাত, বাংলাদেশিসহ আহত ৪—তবু স্বাভাবিক রয়েছে ফ্লাইট চলাচল

    এবিএনএ: সংযুক্ত আরব আমিরাতের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি Dubai International Airport–এর কাছাকাছি এলাকায় দুটি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক বাংলাদেশিসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

    বুধবার (১১ মার্চ) বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, ড্রোনের আঘাতে তিনজন ব্যক্তি হালকা আহত হয়েছেন এবং একজন মাঝারি মাত্রার আঘাত পেয়েছেন। আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

    খবরে বলা হয়েছে, আহত চারজনের মধ্যে দুইজন ঘানার নাগরিক, একজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন।

    তবে এই ঘটনার পরও Dubai–এর প্রধান বিমানবন্দরটির কার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমান ওঠানামা স্বাভাবিকভাবেই চলছে এবং যাত্রীসেবাও বন্ধ হয়নি।


    এর আগেও ঘটেছিল ড্রোন হামলা

    এর আগে গত ৭ মার্চ দুবাইয়ে আরেকটি ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। সে সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ড্রোনটি ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়।

    তবে ওই ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ মাটিতে পড়ে এক প্রবাসী পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন বলে জানা যায়।


    আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব

    মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ ধরনের হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি Iran–এ সামরিক অভিযান শুরু করে IsraelUnited States। পরবর্তীতে এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালাতে শুরু করে।

    এই আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • ইরানের ড্রোন হামলায় আবু ধাবির শিল্পাঞ্চলে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

    ইরানের ড্রোন হামলায় আবু ধাবির শিল্পাঞ্চলে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী Abu Dhabi-তে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলার পর শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    ফরাসি সংবাদ সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি)-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানে আবু ধাবির Ruwais Industrial City এলাকায়। এতে শিল্পাঞ্চলের একটি স্থাপনায় আগুন ধরে যায় এবং দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ে।

    আবু ধাবির সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, হামলার পরপরই দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোনের আঘাতে শিল্পাঞ্চলের একটি স্থাপনায় আগুন লাগে। আগুন নেভাতে দমকলকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    তবে এই হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো বা গুরুত্বপূর্ণ শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

    অন্যদিকে UAE Ministry of Defence জানিয়েছে, মঙ্গলবারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বেশিরভাগ হামলাই প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার পর থেকে ইরানি বাহিনী নিয়মিতভাবে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব হামলার প্রভাব পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে।

    এ ধরনের হামলার ফলে Qatar, Kuwait, United Arab Emirates এবং Bahrain-এ হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি প্রবাসীও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে।

  • আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা: নিহত ৩, আহত ৬৮—কঠোর বার্তা আবুধাবির

    আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা: নিহত ৩, আহত ৬৮—কঠোর বার্তা আবুধাবির

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলেও। ইরানের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল আব্দুল নাসের আল হুমাইদি বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান থেকে আমিরাতের দিকে মোট ১৮৬টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৮১২টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে।

    তার দাবি, নিক্ষেপ করা অধিকাংশ অস্ত্রই আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৭২টি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ভূপাতিত করা হয়, ১৩টি সমুদ্রে গিয়ে পড়ে এবং মাত্র একটি আমিরাতের ভূখণ্ডে আঘাত হানে। পাশাপাশি আটটি ড্রোন ও আটটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিরোধ করা হয়েছে।

    হামলায় অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছে।

    মুখপাত্র আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ওপর যেকোনও আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার আমিরাত সংরক্ষণ করে।

    বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের এই বিস্তার উপসাগরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

  • কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত: প্রাণ গেল ১ জনের, আহত অন্তত ৩২—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    কুয়েতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত: প্রাণ গেল ১ জনের, আহত অন্তত ৩২—মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের হামলায় কুয়েতে অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। কুয়েতের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববারের হামলায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে; আহতদের বড় অংশই বিদেশি নাগরিক।

    কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, শনিবার ও রোববারের ধারাবাহিক হামলায় আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জরুরি বিভাগগুলোতে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চলাচলে সতর্কতা জারি করেছে।

    ইরান দাবি করছে, সাম্প্রতিক ঘটনায় তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় এ হামলা চালানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-কে ঘিরে উত্তেজনার কথাও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। পাল্টা অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।

    এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় প্রাণহানির খবর মিলেছে। ইংরেজি দৈনিক গালফ নিউজ জানিয়েছে, সেখানে নিহতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন; অন্যরা নেপাল ও পাকিস্তানের নাগরিক।

    আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বহু ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং শতাধিক ড্রোন নিক্ষেপের চেষ্টা করা হয়েছে; এর একটি অংশ প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে বলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

    অন্যদিকে, সংঘাতের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

  • আরেকটি যুদ্ধ নয়, আলোচনাই সমাধান—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে আমিরাতের স্পষ্ট বার্তা

    আরেকটি যুদ্ধ নয়, আলোচনাই সমাধান—ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে আমিরাতের স্পষ্ট বার্তা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধের প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সঙ্গে দেশটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি কার্যকর পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে।

    মঙ্গলবার দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্টস সামিটের এক প্যানেল আলোচনায় আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, এই অঞ্চল ইতোমধ্যেই বহু ধ্বংসাত্মক সংঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে। নতুন করে আরেকটি যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

    তিনি বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি আলোচনা জরুরি। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো গেলে গোটা অঞ্চলই উপকৃত হবে এবং ইরানের অর্থনীতিও স্থিতিশীলতার পথে ফিরতে পারবে।

    এদিকে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার তুরস্কে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অংশ নেবেন। আঞ্চলিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে, সৌদি আরব ও মিসরের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় যুক্ত হতে পারেন।

    এই আলোচনার প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, বড় আকারের মার্কিন নৌবহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং চুক্তিতে না এলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। তবে ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে।

    গারগাশ আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনর্গঠন সময়ের দাবি। একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেলে শুধু রাজনৈতিক উত্তেজনা কমবে না, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও জোরদার হবে।

    তিনি আমিরাতকে ঘিরে ইয়েমেন ও সুদান ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা সমালোচনাকে ‘শব্দদূষণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, এসব সমন্বিত অনলাইন আক্রমণ বাস্তব পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করে না।

    সব মিলিয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকটে যুদ্ধ নয়, কূটনীতিকেই একমাত্র পথ হিসেবে দেখছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

  • ইরান ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান! কোনো হামলায় নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত

    ইরান ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান! কোনো হামলায় নিজের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না আমিরাত

    এবিএনএ: ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শত্রুতামূলক সামরিক কর্মকাণ্ডে আমিরাতের আকাশসীমা, স্থলভূমি কিংবা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। এমনকি কোনো হামলায় পরোক্ষ বা লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না দেশটি।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, একটি মার্কিন নৌবহর উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির ওপর ওয়াশিংটন নিবিড় নজর রাখছে। এসব বক্তব্যের পরই মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়।

    যদিও আমিরাতের রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন, তবু এই বিষয়ে নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলোর একটি হলো এই আল-ধাফরা ঘাঁটি।

    আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপ, উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম পথ।

    উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ দিকে ইরানে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সির তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরানে অন্তত ছয় হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

    ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর গঠিত ধর্মীয় নেতৃত্ব বিক্ষোভ দমন করলেও দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চললেও, আমিরাত স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের কোনো অভিযানে তারা অংশ নেবে না।