Tag: সামরিক উত্তেজনা

  • ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান: পাইলট উদ্ধারে ব্যর্থ চেষ্টা, উত্তেজনা বাড়াচ্ছে সংঘাত

    ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান: পাইলট উদ্ধারে ব্যর্থ চেষ্টা, উত্তেজনা বাড়াচ্ছে সংঘাত

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ইরানে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওই বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক অভিযান চালালেও তা এখন পর্যন্ত সফল হয়নি বলে জানিয়েছে তাসনিম নিউজ

    শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে ইরানের বিপ্লবী গার্ড একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে। তবে প্রকাশিত ধ্বংসাবশেষের ছবির ভিত্তিতে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, সেটি আসলে এফ-১৫ যুদ্ধবিমান হতে পারে।

    এই ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। অন্যদিকে তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, ভূপাতিত বিমানের পাইলটকে উদ্ধারে মার্কিন বাহিনী বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পাইলট জীবিত নাকি নিহত—এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    ঘটনাস্থলের আকাশে নজরদারি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ধার অভিযানে একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার এবং সি-১৩০ হারকিউলিস ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু ইরানি বাহিনীর বাধার কারণে হেলিকপ্টারটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।

    তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সেনাদের সক্রিয় প্রতিরোধের কারণে উদ্ধার অভিযান এখনো ব্যর্থ রয়েছে এবং পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করছে।

    উল্লেখ্য, এর আগেও গত মার্চ মাসে একটি মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। তবে সে সময় পাইলট দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে জরুরি অবতরণ করে প্রাণে রক্ষা পান।

    বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

  • স্থল হামলার হুঁশিয়ারি: শত্রু ঢুকলে কাউকেই ছাড় নয়—ইরান সেনাপ্রধানের কঠোর নির্দেশ

    স্থল হামলার হুঁশিয়ারি: শত্রু ঢুকলে কাউকেই ছাড় নয়—ইরান সেনাপ্রধানের কঠোর নির্দেশ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়ক আমির হাতামি সম্ভাব্য স্থল হামলার বিরুদ্ধে বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি স্থলপথে আক্রমণ চালানোর চেষ্টা করে, তাহলে তাদের কাউকেই জীবিত ফিরে যেতে দেওয়া হবে না।

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেন তিনি। সেখানে তিনি সেনাদের প্রতি আহ্বান জানান, শত্রুপক্ষের প্রতিটি নড়াচড়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে।

    সেনাপ্রধান বলেন, শত্রুর কৌশল বুঝে আগাম পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে এবং প্রয়োজনে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। তার মতে, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন ঠেকাতে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।

    সম্প্রতি ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইরানও বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর খবর পাওয়া যায়।

    বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রায় এক মাস অতিক্রম করেছে। এ অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন হামলার ক্ষেত্রে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। কারণ, এই দ্বীপ থেকেই ইরানের অধিকাংশ তেল রপ্তানি করা হয়।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। কয়েক হাজার মেরিন সেনা পাঠানোর পাশাপাশি একটি বিমানবাহী রণতরীও ওই অঞ্চলে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্ব পরিস্থিতির এমন উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে ইরানের এই কড়া বার্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

  • ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কঠোর স্পেন! মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ

    ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে কঠোর স্পেন! মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ততা কমাতে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। দেশটি ঘোষণা দিয়েছে, ইরান যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট কোনো অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বিমান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না।

    সোমবার স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিটা রবেলস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাদ্রিদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কর্মকাণ্ডে স্পেন তার আকাশসীমা বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।

    এর আগে থেকেই স্পেন-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটিগুলোতে মার্কিন প্রবেশাধিকারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হলো বলে জানা গেছে।

    এই নিষেধাজ্ঞার ফলে মার্কিন সামরিক বিমানগুলোকে এখন বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হবে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে কিছু ফ্লাইটের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

    স্পেনের অর্থমন্ত্রী কার্লোস কুয়ের্পো জানান, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা কোনো সংঘাতে সমর্থন না দেওয়ার নীতির অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    এদিকে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছেন। তার অবস্থান স্পষ্ট—এ ধরনের যুদ্ধে স্পেন কোনোভাবেই অংশ নিতে চায় না।

    অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পেনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

    সব মিলিয়ে, স্পেনের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং ইরান ইস্যুতে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

  • ইরানে হামলা আপাতত বন্ধ! ৫ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    ইরানে হামলা আপাতত বন্ধ! ৫ দিনের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রে আঘাত স্থগিতের ঘোষণা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নতুন মোড় নিয়েছে United StatesIran সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে ৫ দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

    তিনি দাবি করেন, গত দুই দিনে দুই দেশের মধ্যে ‘ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে এবং বিরোধ নিরসনে কিছুটা অগ্রগতিও হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক সংঘাত এড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

    এর আগে ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার একটি আল্টিমেটাম দিয়ে ইরানকে Strait of Hormuz খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অন্যথায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘোষণার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায় তেহরানও। তারা সতর্ক করে দেয়, মার্কিন ঘাঁটিতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থাপনায় আঘাত হানতে পারে।

    আল্টিমেটামের সময়সীমা প্রায় শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনা ‘ভালো অগ্রগতির’ দিকে এগোচ্ছে।

    ট্রাম্প আরও জানান, প্রতিরক্ষা বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আগামী পাঁচ দিন ইরানের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জ্বালানি স্থাপনায় হামলা না চালানো হয়। তবে এই সিদ্ধান্ত চলমান আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

    যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আলোচনার অগ্রগতির দাবি করা হলেও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান। বরং সাম্প্রতিক সময়গুলোতে তেহরান বারবার বলে আসছে, তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সাময়িক স্থগিতাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের কূটনৈতিক অগ্রগতির ওপর।

  • পারস্য উপসাগরে বিস্ফোরক হুমকি ইরানের—হামলা হলে নৌপথে মাইন, বন্ধ হতে পারে বৈশ্বিক বাণিজ্য!

    পারস্য উপসাগরে বিস্ফোরক হুমকি ইরানের—হামলা হলে নৌপথে মাইন, বন্ধ হতে পারে বৈশ্বিক বাণিজ্য!

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও চড়াল Iran। দেশটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যদি United States বা Israel তাদের উপকূল বা দ্বীপপুঞ্জে হামলা চালায়, তবে পুরো Persian Gulf জুড়ে নৌ-মাইন বসানো হবে, যা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলোকে অচল করে দিতে পারে।

    ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার জবাবে উপসাগরের প্রবেশপথ ও যোগাযোগ লাইনগুলোতে বিভিন্ন ধরনের মাইন পেতে দেওয়া হবে। এর মধ্যে উপকূল থেকে নিক্ষেপযোগ্য ভাসমান মাইনও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে পুরো উপসাগরীয় এলাকা Strait of Hormuz-এর মতো সংকটের মুখে পড়তে পারে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

    ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, এর দায়ভার বহন করতে হবে হামলাকারী পক্ষকেই। একইসঙ্গে সংঘাতে জড়িত নয় এমন দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালী নিরাপদে ব্যবহার করতে হলে ইরানের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

    এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যৌথ সামরিক হামলার পর থেকে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ওই ঘটনার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পারস্য উপসাগরে নৌ-মাইন স্থাপনের মতো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ৪ হাজার কিমি দূরের মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইল নিক্ষেপ—রহস্যে ঘেরা সক্ষমতা

    ৪ হাজার কিমি দূরের মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের মিসাইল নিক্ষেপ—রহস্যে ঘেরা সক্ষমতা

    এবিএনএ: ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ ব্যবহৃত এই ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোড়া অন্তত দুটি মিসাইল শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছে মার্কিন সূত্র।

    মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা মিসাইলগুলোর একটি মাঝপথেই বিকল হয়ে ভূপাতিত হয়। অপর মিসাইলটি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। তবে সেটি লক্ষ্যভেদ করতে পেরেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    তবে নিশ্চিতভাবে বলা হয়েছে—দুটি মিসাইলের একটিও ঘাঁটিতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়নি।

    দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিটি ইরান থেকে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। অথচ ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ পাল্লা প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার।

    এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে ইরান এত দীর্ঘ দূরত্বে আঘাত হানার চেষ্টা করল?

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, দেশটির মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো এখন উন্নত পর্যায়ে রয়েছে, যা পূর্বের চেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে সক্ষম হতে পারে।

    ভারত মহাসাগরের দ্বীপে অবস্থিত দিয়েগো গার্সিয়া কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘাঁটি। এখানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বোমারু বিমান, পারমাণবিক সাবমেরিন এবং গাইডেড মিসাইল সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে থাকে।

    এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কেবল একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শক্তির ভারসাম্যের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

  • ‘পৃথিবীর কোথাও আর নিরাপদ নও’—ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি, বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

    ‘পৃথিবীর কোথাও আর নিরাপদ নও’—ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি, বাড়ছে যুদ্ধের উত্তাপ

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারিতে। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে বিশ্বের কোনো স্থানই ইসরাইলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ থাকবে না।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, ইরানের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে শত্রুপক্ষের ব্যক্তিরা বিশ্বের যেখানেই থাকুক না কেন, তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব। এমনকি পার্ক, বিনোদন কেন্দ্র কিংবা পর্যটন এলাকাও তাদের জন্য নিরাপদ নয় বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    সম্প্রতি ইসরাইলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতা নিহত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে এক বড় ধরনের হামলায় দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব প্রাণ হারান।

    এরপর একাধিক হামলায় দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরাও নিহত হন। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলি লারিজানি, বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি এবং গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খতিব।

    সবশেষ ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল আলি মোহাম্মদ নাঈনি নিহত হয়েছেন। এসব হামলার জবাব হিসেবেই তেহরান এবার কঠোর বার্তা দিয়েছে।

    পরমাণু ইস্যুতে উত্তেজনার মধ্যেই গত ফেব্রুয়ারির শেষদিকে সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এরপর থেকে পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

    চলমান এই সংঘাত এখন রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে। ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,৪৪৪ জন ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ২০৪ জন শিশু রয়েছে। অন্যদিকে লেবাননেও ইসরাইলি হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজারের বেশি বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা: নিরপেক্ষ অবস্থানে অনড় কলম্বোর কড়া বার্তা

    যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান ফিরিয়ে দিল শ্রীলঙ্কা: নিরপেক্ষ অবস্থানে অনড় কলম্বোর কড়া বার্তা

    এবিএনএ: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের দুটি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কোনোভাবেই তাদের ভূখণ্ডকে সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে না।

    শুক্রবার (২০ মার্চ) সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে জানান, মার্চের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের এ অনুরোধ নাকচ করা হয়। তিনি বলেন, দেশের নিরপেক্ষ নীতিকে অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ২৬ ফেব্রুয়ারি মাত্তালা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুটি যুদ্ধবিমান মোতায়েনের অনুমতি চেয়েছিল। ওই বিমানগুলোতে জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়। নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী ৪ থেকে ৮ মার্চের মধ্যে সেগুলো স্থাপন করার পরিকল্পনা ছিল, তবে শ্রীলঙ্কা এতে সম্মতি দেয়নি।

    একই সময়ে ইরানও তাদের যুদ্ধজাহাজ কলম্বো বন্দরে নোঙর করার অনুমতি চায়। প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে বলেন, যদি এক পক্ষকে অনুমতি দেওয়া হতো, তবে অন্য পক্ষকেও একই সুযোগ দিতে হতো। কিন্তু শ্রীলঙ্কা কোনো পক্ষের পক্ষেই অবস্থান নেয়নি।

    তিনি আরও জানান, ভারত মহাসাগর এলাকায় সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে শ্রীলঙ্কা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। মার্চের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় একটি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেখানে বহু নাবিক হতাহত হন। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে।

    এদিকে, পরের দিন ইরানের আরেকটি জাহাজকে শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও সেটি শুধুমাত্র মানবিক দিক বিবেচনায় করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

    শ্রীলঙ্কা দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে। দেশটি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় রপ্তানি বাজারের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি ইরানও শ্রীলঙ্কার চায়ের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। ফলে দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক বজায় রাখতে নিরপেক্ষ অবস্থানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে কলম্বো।

  • যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া ঘিরে তীব্র হুঁশিয়ারি, ‘ভয়াবহ পরিণতি’ সতর্কবার্তা উত্তর কোরিয়ার

    যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া ঘিরে তীব্র হুঁশিয়ারি, ‘ভয়াবহ পরিণতি’ সতর্কবার্তা উত্তর কোরিয়ার

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে কোরীয় উপদ্বীপে। এই মহড়া বন্ধ না করলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেতা Kim Yo-jong, যিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Kim Jong-un-এর বোন।

    উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা Korean Central News Agency (কেসিএনএ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার পর মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই কঠোর সতর্কবার্তা দেন কিম ইয়ো জং।

    বিবৃতিতে তিনি বলেন, বৃহৎ পরিসরের এই সামরিক মহড়া কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে তিনি জানান, এমন পরিস্থিতির জবাবে উত্তর কোরিয়া তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার পথে এগোবে।

    কিম ইয়ো জং বলেন, যেসব পদক্ষেপ উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে, সেগুলো ভবিষ্যতে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, শত্রুপক্ষ যেন কখনও তাদের ধৈর্য ও সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করার চেষ্টা না করে।

    সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের বার্ষিক বসন্তকালীন সামরিক মহড়া Freedom Shield শুরু করে। এই মহড়া শুরুর পরই উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া আসে।

    জানা গেছে, ১১ দিনব্যাপী এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার সেনা সদস্য অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে আগের বছরের তুলনায় এবারের মাঠপর্যায়ের মহড়ার সংখ্যা কিছুটা কমানো হয়েছে।

    গত বছর দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট Yoon Suk Yeol-এর প্রশাসনের সময় ৫১টি ফিল্ড ট্রেনিং মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা কমিয়ে ২২টিতে আনা হয়েছে।

    কিম ইয়ো জং বলেন, উত্তর কোরিয়া তাদের ‘অপ্রতিরোধ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা’ আরও শক্তিশালী করবে, যাতে সম্ভাব্য যেকোনো কৌশলগত হুমকির মোকাবিলা করা যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা সবসময়ই অটুট থাকবে।

    উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার এই যৌথ মহড়াকে ‘আক্রমণের প্রস্তুতি’ হিসেবে উল্লেখ করে আসছে। আর সেই কারণেই প্রায় প্রতিবারই এই মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয় কোরীয় উপদ্বীপে।

  • তেহরানে ইসরায়েলি হামলা: তেলের ডিপোতে ভয়াবহ আগুন, রাস্তাজুড়ে ‘আগুনের নদী’ আতঙ্ক

    তেহরানে ইসরায়েলি হামলা: তেলের ডিপোতে ভয়াবহ আগুন, রাস্তাজুড়ে ‘আগুনের নদী’ আতঙ্ক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানের তেল ডিপো ও পরিশোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার পর রাজধানীজুড়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল ডিপো থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে মিশে যায়। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশের ড্রেন ও নালায় আগুন ধরে যায়। কোথাও কোথাও সেই আগুন এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে পুরো রাস্তার ধারে আগুনের প্রবাহ বইতে দেখা গেছে—যা অনেকেই ‘আগুনের নদী’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘লিভিং ইন তেহরান’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সড়কের পাশে ড্রেনজুড়ে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। আগুনের লেলিহান শিখা রাস্তার একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

    এর আগে ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ অন্তত তিনটি স্থানে জ্বালানি ডিপোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

    এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার মাধ্যমে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে—এমন সব লক্ষ্যবস্তুই ইসরায়েলের নজরে রয়েছে।

    যুদ্ধের সময়সীমা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে কোহেন বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কত সময় প্রয়োজন তা তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সামরিক অভিযান চালানো হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

    অন্যদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৭ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর, ৪২ জন মাঝারি অবস্থায় রয়েছেন এবং প্রায় ৭০ জন সামান্য আহত হয়েছেন। অধিকাংশ আহত ব্যক্তি নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।