Tag: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত

  • যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান—কঠোর বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান—কঠোর বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে।

    জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমানো ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু তেহরান সেই উদ্যোগে সাড়া দেয়নি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের নতুন নেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যতক্ষণ না তাদের বিরুদ্ধে চালানো হামলার দায় স্বীকার করে, পরাজয় মেনে নেয় এবং ক্ষতিপূরণ দেয়, ততক্ষণ কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

    তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রথম বৈঠকেই মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

    এদিকে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

    জবাবে ইরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

    এর আগে গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেয়। তবে সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয় বলে জানা গেছে।

    অন্যদিকে, ইসরাইল দাবি করেছে—তাদের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। যদিও এসব দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।

    পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

  • দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা

    দুবাই বিমানবন্দর ও ফুজাইরাহ তেল বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলা, উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ তেল বন্দর ও দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে নতুন করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্ত এই হামলার ঘটনাকে ঘিরে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৬ মার্চ) দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশে ড্রোন-সংক্রান্ত একটি ঘটনার পর সেখানে আগুনের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কিছু সময়ের জন্য বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

    একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ বন্দরের তেল শিল্প এলাকায়ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার পর সেখানে আগুন লাগে বলে জানা গেছে। ফুজাইরাহ অঞ্চলটি দেশটির অন্যতম বড় তেল সংরক্ষণাগার হিসেবে পরিচিত।

    এদিকে রাজধানী আবুধাবির উপকণ্ঠে আল বাহিয়া এলাকায় একটি গাড়িতে রকেট হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় মিডিয়া অফিস জানিয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে তেহরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে ১,৯০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

    তবে ইউএইর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সোমবার তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরুর পর দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এটি তৃতীয়বারের মতো ড্রোন হামলার ঘটনা। উল্লেখ্য, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে পরিচিত।

    এই হামলার কারণে কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে এবং কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভাবমূর্তিতে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

    ফুজাইরাহ বন্দর ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। এটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের পূর্ব উপকূলে ওমান উপসাগরের তীরে অবস্থিত। ফলে এখানকার জাহাজগুলোকে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে হয় না, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।

  • ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে—তা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের সময়কাল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

    রোববার টেলিফোনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়—ইরানকে ঘিরে এই সামরিক অভিযান আর কতদিন চলতে পারে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি অনেকটাই পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর সঙ্গে তার নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তবে শেষ সিদ্ধান্ত আমিই নেব এবং সঠিক সময়েই তা জানানো হবে। সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

    এর আগে গত ৩ মার্চ ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি আশা করছেন চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। কিন্তু সেই বক্তব্যের পরদিনই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেন, সংঘাত ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

    ব্যর্থ কূটনীতি, শুরু সামরিক অভিযান

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

    এর ঠিক পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় Operation Epic Fury। একই সময় ইসরায়েলও নিজস্ব সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম Operation Roaring Lion

    পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

    বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত প্রায় দশ দিন ধরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারেও।

  • যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি বাজার উত্তাল: ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, সামনে কি বৈশ্বিক সংকট?

    যুদ্ধের আগুনে জ্বালানি বাজার উত্তাল: ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, সামনে কি বৈশ্বিক সংকট?

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এটিই সর্বোচ্চ মূল্য বলে বাজার বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন।

    জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থার সম্ভাবনা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম এক লাফে ১২.৭৭ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫.৪৬ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১২.৬৬ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১০৩.৫৬ ডলারে।

    দিনের লেনদেন চলাকালে এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৯.৫০ ডলারে পৌঁছে যায়, যা একদিনে অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দামও ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

    বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। অতীতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তেলের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলারে উঠেছিল।

    সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা

    বিশ্ববাজারে তেলের বর্তমান সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাৎক্ষণিক সরবরাহ ও ছয় মাস পরের চুক্তিমূল্যের ব্যবধান রেকর্ড ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থনীতির ভাষায় এই পরিস্থিতিকে ‘ব্যাকওয়ার্ডেশন’ বলা হয়, যা সাধারণত বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দেয়।

    বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি বর্তমানে কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    রাজনৈতিক পরিস্থিতিও বাজারকে প্রভাবিত করছে। ইরানে নেতৃত্ব পরিবর্তন ও ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস, পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং পরিবহন সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী কয়েক মাস উচ্চ জ্বালানি দামের প্রভাব থাকতে পারে। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের দাম গ্যালনপ্রতি ৩.২২ ডলারে উঠেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।

    জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিকল্প সরবরাহের সুযোগ খুবই সীমিত। কৌশলগত মজুদ থেকে কিছু তেল ছাড়া সম্ভব হলেও হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক চাহিদার তুলনায় খুবই অল্প হবে।

    উৎপাদন কমাচ্ছে তেল উৎপাদক দেশ

    মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি বড় তেল উৎপাদক দেশও উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে বলে জানা গেছে। সৌদি আরবের বৃহত্তম জ্বালানি কোম্পানি সৌদি আরামকো দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমিয়েছে।

    এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ওপেকভুক্ত কয়েকটি দেশেও মজুদ কমে আসায় উৎপাদন সীমিত করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে।

    কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও উৎপাদন কমিয়ে ‘ফোর্স ম্যাজেউর’ ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিশ্বে অন্যতম শীর্ষ এলএনজি রপ্তানিকারক কাতার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ করেছে।

    সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটেছে। বাহরাইনের একটি বড় তেল শোধনাগারেও হামলার পর জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি আরব ইতোমধ্যে তাদের একটি বৃহৎ তেল শোধনাগার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

  • ইরানে সরকার বদলের পরিকল্পনায় কড়া বার্তা চীনের: ‘জনসমর্থন মিলবে না, সংঘাত আরও বাড়বে’

    ইরানে সরকার বদলের পরিকল্পনায় কড়া বার্তা চীনের: ‘জনসমর্থন মিলবে না, সংঘাত আরও বাড়বে’

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে দেশটিতে জোরপূর্বক সরকার পরিবর্তনের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের মতে, বাইরের শক্তির মাধ্যমে শাসনব্যবস্থা বদলানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সমর্থন পাবে না এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও গভীর হতে পারে।

    রোববার (৮ মার্চ) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক বার্ষিক সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, কোনো ধরনের ‘কালার রেভল্যুশন’ বা পরিকল্পিত শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টা জনগণের সমর্থন অর্জন করতে পারবে না। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান।

    ওয়াং ই বলেন, চলমান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তার মতে, এই যুদ্ধের কোনো ইতিবাচক ফল নেই এবং শক্তি প্রয়োগ করে স্থায়ী সমাধানও সম্ভব নয়। বরং সামরিক সংঘাত মানুষের মধ্যে ঘৃণা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় সংকটের জন্ম দেয়।

    তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার এই অঞ্চলের মানুষেরই থাকা উচিত। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। শক্তিশালী হওয়া মানেই যে সব সময় সঠিক হওয়া—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, বিশ্বকে আবার ‘জঙ্গলের আইনের’ দিকে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়, যেখানে শক্তিই সবকিছু নির্ধারণ করে। বরং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই বিরোধের সমাধান খোঁজা প্রয়োজন।

    এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েও ইরানের বর্তমান সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না।

    এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো এতটাই দৃঢ় যে বাহ্যিক হামলার মাধ্যমে তা দ্রুত ভেঙে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

    অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থার এই মূল্যায়ন সেই দাবির বাস্তবতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

    সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই হত্যার ঘটনায়ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে চীনের কৌশলগত সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন ওয়াং ই।

    চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বেইজিং আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি সব পক্ষকে দ্রুত সংঘাত বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংশয়: কমছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, শাসন পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংশয়: কমছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, শাসন পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

    এবিএনএ: ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতো প্রস্তুতি ওয়াশিংটনের কাছে পর্যাপ্ত নাও থাকতে পারে।

    মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছে—সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলেও ইরানের বর্তমান শাসন কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সহজ হবে না। তবুও মার্কিন প্রশাসন সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা বিমান হামলার কারণে মার্কিন সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র দ্রুত কমে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কংগ্রেস সদস্যদের এক বন্ধদ্বার বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা হামলা শুরু করে। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, যেখানে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং কিছু স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রশাসন দাবি করে আসছে যে, ইরান যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে এমন কোনো আলোচনার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

    বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

    তবে তেহরান বরাবরই বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এই ইস্যুতে গত এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গত জুনে, যখন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।

    গত এক সপ্তাহ ধরে চলা হামলায় ইরানের সরকারি দপ্তর, সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। বোমা হামলার প্রথম দিন একটি স্কুলে আঘাত হানলে ১৬৮ জন কিশোরীর মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলাটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই চালানো হয়েছিল।

    এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত ডানপন্থী নেতাদের সম্মেলন ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকান সামিট’-এ বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

    তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের অভিযানে ইরানের বহু নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের নৌ ও বিমান সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ও টেলিযোগাযোগেও বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোমা হামলা চললেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না।

    ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো শেষ পর্যন্ত তাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্ধারণের দিকেই অগ্রসর হতে পারে।

  • তেহরানে ইসরায়েলি হামলা: তেলের ডিপোতে ভয়াবহ আগুন, রাস্তাজুড়ে ‘আগুনের নদী’ আতঙ্ক

    তেহরানে ইসরায়েলি হামলা: তেলের ডিপোতে ভয়াবহ আগুন, রাস্তাজুড়ে ‘আগুনের নদী’ আতঙ্ক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানের তেল ডিপো ও পরিশোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার পর রাজধানীজুড়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল ডিপো থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে মিশে যায়। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশের ড্রেন ও নালায় আগুন ধরে যায়। কোথাও কোথাও সেই আগুন এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে পুরো রাস্তার ধারে আগুনের প্রবাহ বইতে দেখা গেছে—যা অনেকেই ‘আগুনের নদী’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘লিভিং ইন তেহরান’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সড়কের পাশে ড্রেনজুড়ে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। আগুনের লেলিহান শিখা রাস্তার একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

    এর আগে ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ অন্তত তিনটি স্থানে জ্বালানি ডিপোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

    এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার মাধ্যমে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে—এমন সব লক্ষ্যবস্তুই ইসরায়েলের নজরে রয়েছে।

    যুদ্ধের সময়সীমা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে কোহেন বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কত সময় প্রয়োজন তা তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সামরিক অভিযান চালানো হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

    অন্যদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৭ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর, ৪২ জন মাঝারি অবস্থায় রয়েছেন এবং প্রায় ৭০ জন সামান্য আহত হয়েছেন। অধিকাংশ আহত ব্যক্তি নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের পথে ১৫ জাহাজ, এলএনজি ও জ্বালানি নিয়ে স্বস্তির খবর

    মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরের পথে ১৫ জাহাজ, এলএনজি ও জ্বালানি নিয়ে স্বস্তির খবর

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেও হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ১৫টি কার্গো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে রয়েছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), এলপিজি, জ্বালানি তেল এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার প্রয়োজনীয় কাঁচামাল।

    শনিবার চট্টগ্রাম বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশগামী এসব জাহাজ তখনই হরমুজ প্রণালী পার হয়েছিল, যখন ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছিল। সংঘাত শুরুর আগেই তারা নিরাপদে আরব সাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে ধাপে ধাপে এসব জাহাজ বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে।

    বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত চারটিতে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আনা এই গ্যাস দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে।

    চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, কাতার থেকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি বহনকারী ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে নোঙর করেছে। এছাড়া এলপিজি বহনকারী ‘সেভান’ নামের একটি জাহাজ রোববার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

    অন্যদিকে ‘লুসাইল’ নামের একটি এলএনজি ট্যাংকার সোমবার বন্দরের জলসীমায় পৌঁছাতে পারে। একইভাবে ‘আল গালায়েল’ নামের আরেকটি জাহাজ আগামী বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে।

    হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে ইরাক, ইরান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরব—এই সাতটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য পরিবহন হয়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই রুটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমনকি ওমান উপসাগরীয় পথেও ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানা গেছে।

    পারস্য উপসাগর থেকে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে ওমান উপসাগর, আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে এসব জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছে।

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই সংঘাত শুরু হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ১৫টি জাহাজ এখন চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে এলএনজি, জ্বালানি তেল এবং বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে।

    তিনি বলেন, বন্দরে জাহাজ ভিড়ানো, পণ্য খালাস এবং সরবরাহ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

    বন্দর সূত্র আরও জানায়, এলএনজি ট্যাংকার ছাড়াও কয়েকটি কার্গো জাহাজে প্লাস্টিক ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের কাঁচামাল এসেছে, যা দেশের গার্মেন্টস, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক শিল্পে ব্যবহৃত হবে।

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: কোন দেশে কত প্রাণহানি

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: কোন দেশে কত প্রাণহানি

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হচ্ছেন।

    সাম্প্রতিক বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কয়েকটি দেশে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

    ইরান:
    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী ও কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত আছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    ইসরায়েল:
    ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটিতে অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জেরুজালেমের কাছে বেইত শেমেস শহরে ১ মার্চের হামলায় নিহত ৯ জনও রয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনও সামরিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

    লেবানন:
    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বাহরাইন:
    দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজন নিহত হন।

    কুয়েত:
    ইরানের হামলায় কুয়েতে দুই সেনাসদস্যসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    ওমান:
    ওমানের রাজধানী মাস্কটের উপকূলের কাছে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে গোলাবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত:
    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

    মার্কিন সামরিক বাহিনী:
    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

    সিরিয়া:
    সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েদা শহরের একটি ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।

    ইরাক:
    ইরাকে ইরানের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন মিলিশিয়া সদস্য, একজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

    তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, আহত ৫—সাইরেনে কেঁপে উঠল এলাকা

    ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, আহত ৫—সাইরেনে কেঁপে উঠল এলাকা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে Israel Defense Forces (আইডিএফ)।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার পরপরই তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি সেবা ইউনিটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করেছে। কোথায় কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

    আইডিএফ দাবি করেছে, নিক্ষিপ্ত বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষ বা সাব-মিউনিশনের অংশ কিছু স্থানে পড়ে স্থানীয়ভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

    এদিকে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, যেসব এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে, সেখানকার বাসিন্দারা আপাতত আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হতে পারেন। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রের নিকটেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

    ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।