Tag: ইসরায়েল

  • ইরানের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে আঙুল খামেনির

    ইরানের রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের নেপথ্যে কারা? যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দিকে আঙুল খামেনির

    এবিএনএ: ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই পরিস্থিতির অন্যতম ‘অপরাধী’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।

    শনিবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সম্প্রচারিত এক ভাষণে খামেনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সাম্প্রতিক ষড়যন্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবেই জড়িত। তার অভিযোগ, বিদেশি শক্তির মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলো পরিকল্পিতভাবে সহিংসতা উসকে দিয়ে দেশজুড়ে রক্তপাত ঘটিয়েছে।

    খামেনির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রগুলোই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে এবং এতে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। তিনি বলেন, এই সহিংসতা কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলন নয়, বরং বহিরাগত শক্তির পরিকল্পিত অপচেষ্টা।

    ইরানি কর্তৃপক্ষও সাম্প্রতিক অস্থিরতার জন্য বিদেশি শক্তিগুলোর দিকে আঙুল তুলছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—ইরানের ভেতরে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখেছে।

    খামেনি তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান এই পরিস্থিতিকে সীমান্তের বাইরে সামরিক সংঘাতে রূপ দিতে চায় না। তবে দেশি বা বিদেশি যেকোনো অপরাধীকে শাস্তির আওতার বাইরে রাখা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন তিনি।

    এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

  • অর্থনৈতিক চাপে উত্তাল ইরান, বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে সহায়তার ঘোষণা মোসাদের

    অর্থনৈতিক চাপে উত্তাল ইরান, বিক্ষোভকারীদের প্রকাশ্যে সহায়তার ঘোষণা মোসাদের

    এবিএনএ: অর্থনৈতিক সংকটের তীব্র প্রভাবে ইরানে দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে গণবিক্ষোভ। মুদ্রার মান অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে এই বিক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

    টানা তৃতীয় দিনের মতো মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন হাজারো মানুষ। আন্দোলনকারীরা সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। এর প্রভাব পড়ে তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড বাজারে—যেখানে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

    রাজধানীর বাইরে কেরমানশাহসহ একাধিক শহরেও বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। কিছু স্থানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগের পাহলভি শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতেও স্লোগান উঠতে দেখা যায়।

    বিক্ষোভের চাপ সামাল দিতে তেহরান প্রদেশ কর্তৃপক্ষ রাজধানীতে পূর্ণ লকডাউন ঘোষণা করেছে। সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তীব্র শীতের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, আন্দোলন দমন করতেই এই লকডাউন জারি করা হয়েছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এতে কিছু জায়গায় সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

    এদিকে ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে দাবি করেছে, তারা শুধু দূর থেকে নয়, সরাসরি মাঠপর্যায় থেকেও বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করছে।

  • ইসরায়েলের স্বীকৃতিতে পাল্টে গেল সমীকরণ—হঠাৎ বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে কেন সোমালিল্যান্ড?

    ইসরায়েলের স্বীকৃতিতে পাল্টে গেল সমীকরণ—হঠাৎ বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে কেন সোমালিল্যান্ড?

    এবিএনএ: হর্ন অব আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক রাজনীতির একটি উত্তপ্ত অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ অঞ্চলের আলোচনায় নতুন করে উঠে এসেছে সোমালিল্যান্ডের নাম। আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ সংকট নয়, বরং কৌশলগত অবস্থান ও আন্তর্জাতিক স্বার্থের কারণে স্বঘোষিত এই রাষ্ট্র এখন বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

    ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে সোমালিল্যান্ড একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও এতদিন জাতিসংঘসহ কোনো দেশ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। দীর্ঘ তিন দশক কার্যত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বাইরে থাকা এই অঞ্চল শুক্রবার ইসরায়েলের স্বীকৃতি ঘোষণার পর হঠাৎ বৈশ্বিক কূটনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

    ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। সৌদি আরব ও মিশর স্পষ্ট করে জানায়, তারা সোমালিয়ার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার পক্ষে এবং কোনো বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে না। তুরস্ক এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই ইস্যু এখন আর কেবল আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে ঘিরে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সংযোগস্থলে নতুন কৌশলগত উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে।

    ভৌগোলিকভাবে সোমালিল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এডেন উপসাগর ও লোহিত সাগরের মুখে অবস্থিত এই অঞ্চল দিয়ে বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বড় একটি অংশ পরিচালিত হয়। গাজা যুদ্ধ, ইয়েমেন সংঘাত এবং হুথি বিদ্রোহীদের হামলার প্রেক্ষাপটে এই নৌপথের নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

    এই বাস্তবতায় সোমালিল্যান্ডকে একটি সম্ভাব্য স্থিতিশীল নৌ ও সামরিক ঘাঁটির জন্য উপযোগী এলাকা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। নিজস্ব প্রশাসন, নির্বাচনী ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কারণে অঞ্চলটি নিজেকে সোমালিয়ার তুলনায় বেশি স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক হিসেবে তুলে ধরছে।

    আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এই ইস্যুকে জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের স্বার্থে সোমালিল্যান্ডে আগ্রহ দেখাচ্ছে। অন্যদিকে চীন ঐতিহ্যগতভাবে বিদ্যমান রাষ্ট্রসীমার পক্ষে থাকলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। রাশিয়াও সামরিক ও কৌশলগত সম্ভাবনার দিক থেকে অঞ্চলটির দিকে নজর রাখছে।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করলেও অতীতে তিনি বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এদিকে রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজসহ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক প্রকাশ্যে সোমালিল্যান্ডের স্বীকৃতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

    সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য ইসরায়েলের ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, সোমালিল্যান্ড সোমালিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং একতরফা স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

    সবকিছু মিলিয়ে, সোমালিল্যান্ড এখন আর শুধু একটি স্বঘোষিত অঞ্চল নয়; এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পরাশক্তির কৌশলগত প্রতিযোগিতার নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী দিনে এই অঞ্চল বিশ্ব রাজনীতির একটি সংবেদনশীল পরীক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

  • গাজাকে ‘যুদ্ধের বিজ্ঞাপন’ বানিয়ে রেকর্ড অস্ত্র বিক্রি ইসরায়েলের, শীর্ষ ক্রেতা কারা জানুন

    গাজাকে ‘যুদ্ধের বিজ্ঞাপন’ বানিয়ে রেকর্ড অস্ত্র বিক্রি ইসরায়েলের, শীর্ষ ক্রেতা কারা জানুন

    এবিএনএ: বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্প নজিরবিহীন অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে রেকর্ড আয় করেছে। দেশটির অস্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের প্রচারে ‘যুদ্ধে পরীক্ষিত’ তকমা ব্যবহার করছে এবং অস্ত্রের কার্যকারিতার উদাহরণ হিসেবে গাজার যুদ্ধকে সামনে আনছে।

    ২০২৪ সালে ইসরায়েল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। এ সময় ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় বাজার ছিল ইউরোপীয় দেশগুলো। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত।

    এই অস্ত্র বাণিজ্য এমন এক সময়ে বেড়েছে, যখন ফিলিস্তিনে সংঘটিত গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়া চলমান। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আগের চেয়ে বেশি হারে ইসরায়েল থেকে অস্ত্র কিনছে।

    আল জাজিরার তথ্যমতে, গাজায় বেসামরিক মানুষের ওপর হামলায় ব্যাপকভাবে সশস্ত্র ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তির অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য বন্ধের আহ্বান জানালেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, মুনাফা যত বাড়ছে, ফিলিস্তিন ততই আধুনিক যুদ্ধের পরীক্ষাগারে পরিণত হচ্ছে।

    স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান অস্ত্র ও সামরিক সেবা বিক্রি করে সম্মিলিতভাবে ৬৭৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

    এই তালিকায় প্রথমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ৯টি প্রতিষ্ঠান জায়গা করে নেয়। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত আয় ছিল প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তিনটি ইসরায়েলি কোম্পানির মোট আয় দাঁড়ায় ১৬.২ বিলিয়ন ডলারে।

    ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আয় করেছে এলবিট সিস্টেমস—৬.২৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর রয়েছে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ, যার আয় ৫.১৯ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস আয় করেছে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার।

  • সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: নিহত ১৩, আহত অনেকে

    সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: নিহত ১৩, আহত অনেকে

    এবিএনএ: সিরিয়ার বেইত জিনে ইসরায়েলি বাহিনী এক নতুন সামরিক অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৩ জনকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষে ইসরায়েলি সৈন্যদেরও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভোরের দিকে চালানো হামলা ও স্থল অভিযানের ফলে বহু পরিবার নিরাপদ স্থানে পালিয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। সিরিয়ার কুনেইত্রার আল-সালাম শহরের গোলান ন্যাশনাল হাসপাতালে আহত ও নিহতদের ভর্তি করা হয়েছে।

    ইসরায়েলি ড্রোন এখনও ওই এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে। সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বেইত জিনে যেকোনো নড়াচড়া লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কারণে আহতদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আরও ঘনঘন এবং সহিংস হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরে প্রবেশ করলে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।

    ইসরায়েলি পক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে তাদের ছয়জন সৈন্য আহত হয়েছে, তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তারা বলছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক বা ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো হুমকি প্রতিহত করার জন্য অভিযান চালানো হবে।

    ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপগুলোকে সিরিয়ান সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো অপহরণ বা বেআইনি আটক হিসেবে দেখছে। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।

    ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা এবং অনুপ্রবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, সিরিয়ার নবগঠিত সরকার দেশের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিকভাবে দেশটি ধীরে ধীরে পুনরায় প্রতিষ্ঠা লাভের চেষ্টা করছে।

    এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ একটি বড় মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

  • ইসরায়েল ফেরত দিল আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ, মোট সংখ্যা এখন ৯০

    ইসরায়েল ফেরত দিল আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ, মোট সংখ্যা এখন ৯০

    এবিএনএ:  দখলদার ইসরায়েল গাজায় আরও ৪৫ ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত মোট ৯০ জনের মরদেহ ফিলিস্তিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    বুধবার এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এই মরদেহ বিনিময় সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরায়েলকে ফেরত দেওয়া প্রতিজন নাগরিকের মরদেহের বিনিময়ে ১৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ হস্তান্তর করতে হবে।

    এর আগে সোমবার হামাস তিনজন ইসরায়েলি নাগরিক এবং একজন নেপালির মরদেহ হস্তান্তর করে। পরদিন মঙ্গলবার আরও তিনজন ইসরায়েলি ও একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ ফেরত দেয়।

    এই মরদেহ বিনিময় প্রক্রিয়াকে চলমান যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গাজার মানবিক সংকটের মধ্যে এই পদক্ষেপ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে মিসরে পৌঁছালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

    মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে মিসরে পৌঁছালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সামনে রেখে মিসরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে যোগ দিতে পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার বিকেলে ইসরায়েল সফর শেষ করে তিনি মিসরের শার্ম আল-শেখে অবতরণ করেন।

    এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন বিশ্বের ২০ জন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

    সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হবে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের এই সফরকে বিশ্লেষকরা অঞ্চলে নতুন কূটনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

    শার্ম আল-শেখে এই সম্মেলনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সম্মেলনে ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা তুলে ধরবেন বলে জানা গেছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সফর মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

  • হামাস-ইসরায়েল চুক্তি: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

    হামাস-ইসরায়েল চুক্তি: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

    এবিএনএ: দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে পৌঁছেছে। তবে এই সমঝোতা শান্তির পথে এক নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করলেও ঝুঁকি ও সংশয় রয়ে গেছে নানা বিষয়ে। হামাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিন ভূমি না ছাড়লে তারা নিরস্ত্রীকরণে রাজি নয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হামাস এখন ইসরায়েলের কাছ থেকে সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চায়। এই অবস্থায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে উভয়পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

    প্রথম ধাপে ইসরায়েল কিছু সামরিক অভিযান স্থগিত করলেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। আরব দেশগুলো বলছে, এই চুক্তি তখনই অর্থবহ হবে যখন এটি ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—“স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।”

    অন্যদিকে, হামাস জানিয়েছে তারা গাজার প্রশাসন আরব ও মুসলিম দেশসমর্থিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকারের কাছে হস্তান্তরে আগ্রহী, তবে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে কোনো বিদেশি তত্ত্বাবধান মানবে না।

    চুক্তির আলোচনায় বন্দি মুক্তিও বড় ইস্যু। হামাস চাইছে, যেসব শীর্ষ ফিলিস্তিনি নেতাকে আগের যুদ্ধবিরতিতে মুক্তি দেওয়া হয়নি—তাদের এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। তাদের তালিকায় ফাতাহ নেতা মারওয়ান আল-বারঘৌতি ও পিএফএলপি প্রধান আহমেদ সাদাতের নামও রয়েছে।

    তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—যুদ্ধ থামলেও গাজা কে শাসন করবে? যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আরব দেশগুলো হামাসের কোনো শাসন ভূমিকা রাখতে রাজি নয়। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গঠিত হতে যাওয়া নতুন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে হামাস কতটা গ্রহণ করবে, তা নিয়েও সন্দেহ থেকেই গেছে।

    ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, হামাস ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। অপরদিকে, ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দিতে পারে, যার মধ্যে অনেকেই যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।

    ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবাহও বাড়ানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন ৪০০–৬০০ ট্রাক খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে গাজায় প্রবেশ করবে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, এই চুক্তিই হতে পারে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

    তবে সবকিছুর পরও যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী এখনও কিছু এলাকায় সক্রিয়। গাজার মানুষ চুক্তি উদযাপন করলেও তাদের মনে ভয়—যদি আবারও যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, যেমনটি ঘটেছিল মার্চ মাসে।

  • গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন আশার আলো, মিসরে মুখোমুখি হামাস-ইসরায়েল প্রতিনিধি দল

    গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন আশার আলো, মিসরে মুখোমুখি হামাস-ইসরায়েল প্রতিনিধি দল

    এবিএনএ:  দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে মিসরে। এই বৈঠকে অংশ নিয়েছে ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধি দল, যার মাধ্যমে নতুন করে শান্তির আশার আলো দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।

    আজ সোমবার আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, হামাসের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নির্বাসিত নেতা খলিল আল-হায়া, যিনি সম্প্রতি কাতারে ইসরায়েলি হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান। এই বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এই রাজনীতিক সোমবার মিশর পৌঁছান বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

    এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

    সূত্র জানায়, ট্রাম্পের প্রণীত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হামাস এর কিছু শর্তে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করছে কূটনীতিক মহল।

    ট্রাম্প হামাসের ইতিবাচক সাড়া স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত, এবং হামাসও সেটি প্রমাণ করেছে।” একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে গাজায় বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান জানান, যদিও তেল আবিব এখনো তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।

    আলোচনার স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত শার্ম আল-শেখ, যেখানে প্রতিনিধিরা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। মিসরের কূটনৈতিক এক কর্মকর্তা জানান, এবার ধাপে ধাপে নয়, বরং একবারেই চূড়ান্ত একটি চুক্তির দিকে এগোতে চান তারা।

    অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবিসি নিউজকে বলেন, “এই আলোচনা সপ্তাহ নয়, বরং দিনের মধ্যেই ফল দিতে হবে। আমরা দ্রুত অগ্রগতি দেখতে চাই।”

    বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বৈঠক গাজায় স্থায়ী শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে—যদি উভয় পক্ষই সমঝোতার পথে এগিয়ে আসে।

  • ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ফ্লোটিলা কর্মীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

    ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ফ্লোটিলা কর্মীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

    এবিএনএ:  গাজাগামী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক হওয়া আন্তর্জাতিক কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন খ্যাতনামা পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও।

    বন্দিশিবিরে থুনবার্গকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া, জোর করে ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খাওয়ানো এবং শরীরে পতাকা জড়িয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো অমানবিক আচরণের বর্ণনা দিয়েছেন একাধিক মুক্তিপ্রাপ্ত কর্মী।

    শনিবার (৪ অক্টোবর) ১৩৭ জন কর্মীকে ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠায় ইসরায়েল। তাদের মধ্যে ৩৬ জন তুরস্কের নাগরিক এবং বাকিরা যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, মালয়েশিয়া, কুয়েত, লিবিয়া, সুইজারল্যান্ড, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মী।

    তুরস্কের সাংবাদিক এরসিন চেলিক জানান, “আমি নিজ চোখে দেখেছি—গ্রেটাকে জোর করে পতাকায় চুমু খাওয়ানো হচ্ছে, যেন তাকে অপমানের প্রতীক বানানো হয়।”

    মালয়েশীয় মানবাধিকার কর্মী হাজওয়ানি হেলমি বলেন, “আমাদের পশুর মতো ব্যবহার করা হয়েছে, ঠেলে সরানো হয়েছে, কেউ কেউ তিনদিন না খেয়ে ছিলেন।”

    একই অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার—তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের খাবার, পানি ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

    ইতালির সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো বলেন, “২২ বছরের সাহসী তরুণী গ্রেটাকে পতাকায় মুড়িয়ে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়—এ যেন এক ভয়ানক অবমাননা।”

    আরেক তুর্কি কর্মী ইকবাল গুরপিনার জানান, “তিন দিন আমাদের না খাইয়ে রাখা হয়েছিল, এমনকি টয়লেটের পানি খেতে বাধ্য করা হয়।”

    ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন আদালাহ জানায়, আটক কর্মীদের হাত পেছনে জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, ওষুধ দেওয়া হয়নি, এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হয়।

    তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, দাবি করেছে আটককৃতদের যথাযথ খাবার, পানি ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা হলো গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগ। ৪০টিরও বেশি নৌযানে ৪৪ দেশের ৫০০-এর বেশি মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
    এই বহরটি ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং পরবর্তীতে তিউনিসিয়া, ইতালি ও গ্রিসের বিভিন্ন বন্দরে যোগ দেয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও একটি প্রমাণ যুক্ত হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।