গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন আশার আলো, মিসরে মুখোমুখি হামাস-ইসরায়েল প্রতিনিধি দল

এবিএনএ:  দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে মিসরে। এই বৈঠকে অংশ নিয়েছে ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধি দল, যার মাধ্যমে নতুন করে শান্তির আশার আলো দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।

আজ সোমবার আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, হামাসের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নির্বাসিত নেতা খলিল আল-হায়া, যিনি সম্প্রতি কাতারে ইসরায়েলি হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান। এই বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।

অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এই রাজনীতিক সোমবার মিশর পৌঁছান বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

সূত্র জানায়, ট্রাম্পের প্রণীত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হামাস এর কিছু শর্তে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করছে কূটনীতিক মহল।

ট্রাম্প হামাসের ইতিবাচক সাড়া স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত, এবং হামাসও সেটি প্রমাণ করেছে।” একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে গাজায় বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান জানান, যদিও তেল আবিব এখনো তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।

আলোচনার স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত শার্ম আল-শেখ, যেখানে প্রতিনিধিরা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। মিসরের কূটনৈতিক এক কর্মকর্তা জানান, এবার ধাপে ধাপে নয়, বরং একবারেই চূড়ান্ত একটি চুক্তির দিকে এগোতে চান তারা।

অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবিসি নিউজকে বলেন, “এই আলোচনা সপ্তাহ নয়, বরং দিনের মধ্যেই ফল দিতে হবে। আমরা দ্রুত অগ্রগতি দেখতে চাই।”

বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বৈঠক গাজায় স্থায়ী শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে—যদি উভয় পক্ষই সমঝোতার পথে এগিয়ে আসে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *