Tag: গাজা

  • গাজায় রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলা: তাঁবু-শিবিরে প্রাণ গেল অন্তত ১১ জনের, নতুন উত্তেজনা

    গাজায় রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলা: তাঁবু-শিবিরে প্রাণ গেল অন্তত ১১ জনের, নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা-তে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রোববার রাতভর চালানো এসব হামলায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো যেখানে তাঁবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেসব স্থানও আঘাতের শিকার হয়েছে।

    ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে—এর প্রতিক্রিয়াতেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকায় পৃথক হামলায় পাঁচজন নিহত হন। উত্তরাঞ্চলে গোলাগুলিতে প্রাণ যায় আরও একজনের। পাশাপাশি গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া এলাকায় হামাসের মিত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদ-এর এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গাজায় হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম নতুন এই হামলাকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে “গণহত্যামূলক অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সহিংসতা যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল। এদিকে ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।

    দুই পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙার অভিযোগে দায়ী করছে। এই চুক্তিটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় গাজায় সহিংসতা কমানোর উদ্যোগের অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের সংঘাতে সাম্প্রতিক যুদ্ধটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    ইসরায়েলি তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ে। পাল্টা অভিযানে গাজায় দীর্ঘদিন ধরে বিমান ও স্থল হামলা চলছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কয়েক দশক হাজার ছাড়িয়েছে; আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

  • জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

    এবিএনএ: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তার বসুন্ধরা কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানকে সাক্ষাত করেন।

    সাক্ষাতের সময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের

    আলোচনায় ডা. শফিকুর রহমান বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জোর দিয়ে বলেন, “দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণ সবসময় ফিলিস্তিনের ন্যায্য সংগ্রামের পাশে থাকবে।”

    তিনি আরও জাতিসংঘ, ওআইসি এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গাজায় ইসরায়েলের জোরপূর্বক উচ্ছেদ ও ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। এছাড়া তিনি ফিলিস্তিন পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের দোয়া, ভালোবাসা ও অকৃত্রিম সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করেন।

    উত্তরে রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান বাংলাদেশের আন্তরিক সমর্থন ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আশা ব্যক্ত করেন, এই সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

  • গাজা সংকট মেটাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ: ‘বোর্ড অব পিস’-এ পুতিনকে আমন্ত্রণ ঘিরে জল্পনা

    গাজা সংকট মেটাতে ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগ: ‘বোর্ড অব পিস’-এ পুতিনকে আমন্ত্রণ ঘিরে জল্পনা

    এবিএনএ: গাজাসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিরসনের লক্ষ্য নিয়ে গঠিত নতুন প্ল্যাটফর্ম ‘বোর্ড অব পিস’-এ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।

    মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ হিসেবেই পুতিনকে বোর্ডের সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল হয়ে পড়ে। এমন প্রেক্ষাপটে পুতিনকে এই বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    জানা গেছে, বোর্ড অব পিসের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। এতে সদস্য হিসেবে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে এই বোর্ড গাজার চলমান সংকট সমাধানে কাজ করবে। পরবর্তী ধাপে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

    বোর্ড অব পিসে সদস্য দেশগুলোর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। তবে কোনো দেশ যদি এক বিলিয়ন ডলার সহায়তা দেয়, তাহলে তারা স্থায়ী সদস্যপদ পাবে—এমন প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই উদ্যোগ জাতিসংঘের প্রচলিত শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে জাতিসংঘ, ফলে নতুন এই প্ল্যাটফর্ম ভবিষ্যতে কতটা কার্যকর হবে—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

  • সংবাদকর্মীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে নৃশংসতা: ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ৭০০-এর বেশি স্বজন নিহত

    সংবাদকর্মীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে নৃশংসতা: ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ৭০০-এর বেশি স্বজন নিহত

    এবিএনএ: গাজায় ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের শত শত স্বজন প্রাণ হারিয়েছেন। ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৭০৬ জন সাংবাদিকের আত্মীয়-স্বজন ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।

    ইউনিয়নের ফ্রিডমস কমিটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত ঘটনা নয়; বরং সাংবাদিকদের কণ্ঠ স্তব্ধ করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে চালানো হচ্ছে। এখনো সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যাতে তারা ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি সহিংসতা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দিন দিন আরও ভয়াবহ ও নির্মম রূপ নিচ্ছে। এর সরাসরি মূল্য দিচ্ছেন সাংবাদিকদের সন্তান, স্ত্রী ও বাবা-মা।

    ফ্রিডমস কমিটির প্রধান মুহাম্মদ আল-লাহহাম বলেন, ফিলিস্তিনি সত্যকে চাপা দিতে সাংবাদিকদের পরিবারের রক্ত ঝরছে, যা ইতিহাসের সামনে সাক্ষী হয়ে থাকবে।

    প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে খান ইউনিসের কাছে সাংবাদিক হিবা আল-আবাদলা, তার মা এবং আল-আস্তাল পরিবারের প্রায় ১৫ সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ইসরায়েলি বিমান হামলায় তাদের বাড়ি ধ্বংস হয়ে যায়।

    স্বজনদের পাশাপাশি, গাজা উপত্যকায় চলমান হামলায় এ পর্যন্ত মোট ২৭৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৭৩ জন ফিলিস্তিনি, তিনজন লেবানিজ এবং দুইজন ইসরায়েলি সাংবাদিক রয়েছেন।

  • গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন আশার আলো, মিসরে মুখোমুখি হামাস-ইসরায়েল প্রতিনিধি দল

    গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন আশার আলো, মিসরে মুখোমুখি হামাস-ইসরায়েল প্রতিনিধি দল

    এবিএনএ:  দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে মিসরে। এই বৈঠকে অংশ নিয়েছে ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধি দল, যার মাধ্যমে নতুন করে শান্তির আশার আলো দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।

    আজ সোমবার আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, হামাসের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নির্বাসিত নেতা খলিল আল-হায়া, যিনি সম্প্রতি কাতারে ইসরায়েলি হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান। এই বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এই রাজনীতিক সোমবার মিশর পৌঁছান বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

    এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

    সূত্র জানায়, ট্রাম্পের প্রণীত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হামাস এর কিছু শর্তে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করছে কূটনীতিক মহল।

    ট্রাম্প হামাসের ইতিবাচক সাড়া স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত, এবং হামাসও সেটি প্রমাণ করেছে।” একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে গাজায় বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান জানান, যদিও তেল আবিব এখনো তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।

    আলোচনার স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত শার্ম আল-শেখ, যেখানে প্রতিনিধিরা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। মিসরের কূটনৈতিক এক কর্মকর্তা জানান, এবার ধাপে ধাপে নয়, বরং একবারেই চূড়ান্ত একটি চুক্তির দিকে এগোতে চান তারা।

    অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবিসি নিউজকে বলেন, “এই আলোচনা সপ্তাহ নয়, বরং দিনের মধ্যেই ফল দিতে হবে। আমরা দ্রুত অগ্রগতি দেখতে চাই।”

    বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বৈঠক গাজায় স্থায়ী শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে—যদি উভয় পক্ষই সমঝোতার পথে এগিয়ে আসে।

  • ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ফ্লোটিলা কর্মীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

    ইসরায়েলি বন্দিশিবিরে গ্রেটা থুনবার্গের ওপর অমানবিক নির্যাতন, ফ্লোটিলা কর্মীদের হৃদয়বিদারক বর্ণনা

    এবিএনএ:  গাজাগামী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে আটক হওয়া আন্তর্জাতিক কর্মীদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন খ্যাতনামা পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গও।

    বন্দিশিবিরে থুনবার্গকে চুল ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া, জোর করে ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খাওয়ানো এবং শরীরে পতাকা জড়িয়ে দাঁড় করিয়ে রাখার মতো অমানবিক আচরণের বর্ণনা দিয়েছেন একাধিক মুক্তিপ্রাপ্ত কর্মী।

    শনিবার (৪ অক্টোবর) ১৩৭ জন কর্মীকে ইস্তাম্বুলে ফেরত পাঠায় ইসরায়েল। তাদের মধ্যে ৩৬ জন তুরস্কের নাগরিক এবং বাকিরা যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, মালয়েশিয়া, কুয়েত, লিবিয়া, সুইজারল্যান্ড, জর্ডানসহ বিভিন্ন দেশের অধিকারকর্মী।

    তুরস্কের সাংবাদিক এরসিন চেলিক জানান, “আমি নিজ চোখে দেখেছি—গ্রেটাকে জোর করে পতাকায় চুমু খাওয়ানো হচ্ছে, যেন তাকে অপমানের প্রতীক বানানো হয়।”

    মালয়েশীয় মানবাধিকার কর্মী হাজওয়ানি হেলমি বলেন, “আমাদের পশুর মতো ব্যবহার করা হয়েছে, ঠেলে সরানো হয়েছে, কেউ কেউ তিনদিন না খেয়ে ছিলেন।”

    একই অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন নাগরিক উইন্ডফিল্ড বিবার—তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের খাবার, পানি ও ওষুধ থেকে বঞ্চিত করা হয়।

    ইতালির সাংবাদিক লরেঞ্জো আগোস্তিনো বলেন, “২২ বছরের সাহসী তরুণী গ্রেটাকে পতাকায় মুড়িয়ে ট্রফির মতো প্রদর্শন করা হয়—এ যেন এক ভয়ানক অবমাননা।”

    আরেক তুর্কি কর্মী ইকবাল গুরপিনার জানান, “তিন দিন আমাদের না খাইয়ে রাখা হয়েছিল, এমনকি টয়লেটের পানি খেতে বাধ্য করা হয়।”

    ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন আদালাহ জানায়, আটক কর্মীদের হাত পেছনে জিপ-টাই দিয়ে বেঁধে রাখা হয়, ওষুধ দেওয়া হয়নি, এবং আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগে বাধা দেওয়া হয়।

    তবে ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে, দাবি করেছে আটককৃতদের যথাযথ খাবার, পানি ও আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    উল্লেখ্য, গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা হলো গাজায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক মানবিক উদ্যোগ। ৪০টিরও বেশি নৌযানে ৪৪ দেশের ৫০০-এর বেশি মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক ও সাংবাদিক এতে অংশ নেন।
    এই বহরটি ৩১ আগস্ট স্পেনের বার্সেলোনা থেকে যাত্রা শুরু করে এবং পরবর্তীতে তিউনিসিয়া, ইতালি ও গ্রিসের বিভিন্ন বন্দরে যোগ দেয়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে ইসরায়েলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও একটি প্রমাণ যুক্ত হলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

  • ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নড়েচড়ে ওঠলো যখন শুক্রবার হামাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া গাজার বিষয়ক প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত পোষণ করার খবর দিল। তারা কিছু শর্তে প্রস্তাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা মেনে নিয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    ট্রাম্প নিজেই হামাসের ওই বিবৃতি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন হামাস স্থায়ী শান্তির পথে এগোতে চায় এবং ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যেন জিম্মিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। তার আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়ে।

    ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অন্যান্য পশ্চিম ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা এই অগ্রগতি স্বাগত জানিয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান, কাতার ও মিসরের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে — এখনই যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই প্রতিক্রিয়াকে উৎসাহজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সব পক্ষকে পরিস্থিতি শান্তিভাবেই এগোতে অনুরোধ করেছেন। ইউরোপীয় নেতারা—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও সংঘবদ্ধ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা ব্যক্ত করেছে যে, এটি জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির পথে একটি বড় ধাপ হতে পারে।

    তবে অনেকে সতর্কও: হামাসের সাড়া পুরো ব্যাপারকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে না—কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও আলোচনার বাইরে আছে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা দাবি, গাজার ভবিষ্যত প্রশাসন ও অস্ত্রবিরতি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ফলে বাস্তব কাজে যাওয়ার আগে আরও কড়া ব্যাকচেক ও মধ্যস্থতাকারী সংলাপ প্রয়োজন।

    প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল; তাই দ্রুত কিভাবে এগোতে হবে, কোন পর্যায়ে দুপক্ষ সাক্ষর করবে এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—এসব প্রশ্ন এখনো ঝুলে আছে। সরাসরি প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসাবে ইসরায়েল কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে শুরু করেছে বলে খবর এসেছে।

  • গাজামুখী ফ্লোটিলা আটক, মাত্র চারটি নৌযান এখনো যাত্রাপথে

    গাজামুখী ফ্লোটিলা আটক, মাত্র চারটি নৌযান এখনো যাত্রাপথে

    এবিএনএ: ফিলিস্তিনের গাজাগামী ত্রাণবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অন্তত ৪৪টি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এখনো চারটি নৌযান যাত্রাপথে রয়েছে বলে ফ্লোটিলা ট্র্যাকার সূত্রে জানা গেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সামারটাইম-জং’ ও ‘শিরিন’ নামের দুটি নৌযান আইনি সহায়তার কাজে নিয়োজিত ছিল। এর মধ্যে মিকেনো প্রথম ফিলিস্তিনি জলসীমায় প্রবেশ করে। বর্তমানে মিকেনো ও ম্যারিনেট নৌযান এখনো গন্তব্যের পথে রয়েছে।

    তবে তুরস্কের সংবাদপত্র ইয়েনি সাফাক জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী মিকেনোকে আটক করে নৌযানে থাকা মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। তাদের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আটককৃতরা একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বন্দরে পৌঁছাবেন।

    ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লোটিলার নৌযানগুলোতে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মীদের আটক করেছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ রয়েছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আটকরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

    ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, আগস্টের শেষ দিকে যাত্রা শুরু করা এই বহরে ছিল ৪০টিরও বেশি বেসামরিক নৌযান। প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবী এতে অংশ নেন, যারা ওষুধ ও খাদ্য বহন করছিলেন। গাজার ওপর দীর্ঘ ইসরায়েলি অবরোধের বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ে। তুরস্ক, স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ নিজেদের নাগরিকদের সহায়তায় নৌযান ও ড্রোন পাঠায়। তবে বারবার সতর্কতা দিয়েছিল ইসরায়েল।

    ফ্লোটিলায় অভিযান চালানোয় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছে। ইস্তান্বুল প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, আটক হওয়া ২৪ জন তুর্কি নাগরিকের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • গাজায় ফের ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত আরও ৬০ ফিলিস্তিনি

    গাজায় ফের ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলা, একদিনে নিহত আরও ৬০ ফিলিস্তিনি

    এবিএনএ: ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানি। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে গাজার মোট মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ৬২ হাজার ১০০ জনে

    বার্তাসংস্থা আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) প্রকাশিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে জানানো হয়, একদিনে নিহতদের পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও ৩৪৩ জন। ফলে এখন পর্যন্ত আহতের সংখ্যা দাঁড়াল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭৩ জনে

    প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, একদিনে অনাহার ও অপুষ্টিতে মারা গেছেন তিনজন, যার মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ক্ষুধা ও অপুষ্টিজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬৬ জনে, এর মধ্যে ১১২ জন শিশু

    মানবিক সহায়তা সংগ্রহ করতে গিয়ে ফিলিস্তিনিদের ওপরও ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালাচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ধরনের হামলায় নিহত হয়েছেন ৩১ জন এবং আহত হয়েছেন ১৯৭ জন। গত ২৭ মে থেকে এখন পর্যন্ত খাদ্য ও সহায়তা সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ এবং আহত হয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার

    অন্যদিকে, টানা বোমা বর্ষণের কারণে গাজার উদ্ধার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা অনেক লাশ এখনো উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

    গত ১৮ মার্চ যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি ভঙ্গ করে ইসরায়েল নতুন করে হামলা শুরু করার পর থেকে ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    উল্লেখ্য, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইতোমধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। পাশাপাশি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলা চলছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে।

  • গাজা দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

    গাজা দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

    এবিএনএ: গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা ঘোষণা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিশ্বনেতারা বলছেন, এই পদক্ষেপ কোনো সমাধান আনবে না, বরং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংস ডেকে আনবে। সম্প্রতি ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে, যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সামরিক অভিযানকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানান। তার মতে, এই আক্রমণ জিম্মিদের মুক্তি বা সংঘাতের সমাধান নয়, বরং রক্তপাত বাড়াবে। একইভাবে চীনও এই পরিকল্পনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে গাজাকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ঘোষণা দিয়েছেন, গাজায় ব্যবহারের জন্য কোনো সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে রপ্তানি করা হবে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের পরিপন্থী এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

    ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে অবৈধ ও অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন। হামাস সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলি বন্দিদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াবে। এমনকি ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিডও এই পরিকল্পনার নিন্দা করেছেন, দাবি করেছেন নেতানিয়াহু চরম ডানপন্থীদের চাপে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

    নেতানিয়াহু নিজে বলেছেন, গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামাসকে সরিয়ে দেওয়াই লক্ষ্য। তবে ইসরায়েলের সামরিক প্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ জিম্মিদের বিপদে ফেলবে এবং সেনাবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

    এদিকে মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে যাতে সব জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধ থামানো ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। কিন্তু গাজা শহরে ইসরায়েলের বারবারের বোমাবর্ষণ ও হামলার ফলে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে দখল করার মতো তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই।

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গত ২২ মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬১ হাজার ২৫৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৫ জন আহত হয়েছে।