Tag: গাজা

  • গাজায় নীরব ভারত এবার ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক জোট আরও শক্ত করছে

    গাজায় নীরব ভারত এবার ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক জোট আরও শক্ত করছে

    এবিএনএ:  গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করছে ভারত। নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির বারাম সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

    দ্য মিডলইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যে এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের অবরোধে দুর্ভিক্ষ ও মৃত্যু মিছিল চলছে। তবুও নয়াদিল্লি মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে।

    বৈঠকে জানানো হয়, ‘দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে’। ভারত স্পষ্টভাবে ইসরায়েলকে তার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র হিসেবে ধরে রাখছে, এমনকি অনেক দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনলেও।

    এটি ছিল গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ। এর আগে, দিল্লির মেয়র ও বিজেপি নেতা রাজা ইকবাল সিং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার-এর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। সেই বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে গাজায় ইসরায়েলের পাশে থাকার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

    রাজা ইকবাল সিং বলেন,

    “ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী সম্পর্ক।”

    এমন এক সময়ে যখন গাজায় প্রতিদিন মানবিক বিপর্যয়ের খবর আসছে, তখন ভারত সরকার ও বিজেপির নেতাদের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত তার মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও কৌশলগত সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে।

  • গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারাল ৬৭ ফিলিস্তিনি: ইসরায়েলি গুলিতে রক্তাক্ত উত্তরের চিত্র

    গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারাল ৬৭ ফিলিস্তিনি: ইসরায়েলি গুলিতে রক্তাক্ত উত্তরের চিত্র

    এবিএনএ: গাজার উত্তরে ত্রাণ সংগ্রহ করতে আসা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে কমপক্ষে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫০ জন। রবিবার এই তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতরা জাতিসংঘের সরবরাহকৃত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিতে জড়ো হয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ‘তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক গুলি’ চালিয়েছিল। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গুলি ছিল নির্বিচার এবং হঠাৎ করেই চালানো হয়।

    এর আগের দিন শনিবারও একইভাবে ৩৬ জন নিহত হন, যারা ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ফলে মাত্র দুই দিনে গাজায় এই ঘটনায় প্রাণ হারালেন ১০০ জনের বেশি। আহতদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    উত্তর গাজার শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে অধিকাংশ হতাহতকে। হাসপাতালটির চিকিৎসা পরিচালক ড. হাসান আল-শায়ার জানান, আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তারা চরম সঙ্কটে পড়েছেন। অনেককে আশপাশের ফিল্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার মানুষেরা বর্তমানে চরম খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে ভুগছেন। শিশুদের অপুষ্টি এবং রোগব্যাধির ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এদিকে গাজার মধ্যাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ দেইর আল-বালাহ এলাকা থেকে নতুন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বাসিন্দাদেরকে দ্রুত ভূমধ্যসাগর উপকূলবর্তী আল-মাওয়াসি অঞ্চলে চলে যেতে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যৎ আক্রমণের পূর্বাভাস হতে পারে।

    গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটময় হয়ে উঠছে। যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে সংঘাত, যা গোটা অঞ্চলের জন্য মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • ত্রাণের বদলে মৃত্যু! গাজার ত্রাণকেন্দ্র রূপ নিয়েছে ইসরায়েলি ‘বধ্যভূমিতে’

    ত্রাণের বদলে মৃত্যু! গাজার ত্রাণকেন্দ্র রূপ নিয়েছে ইসরায়েলি ‘বধ্যভূমিতে’

    ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গাজা উপত্যকা। ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে। খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়া মানুষদের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

    গাজার বাসিন্দা ইউসেফ আল-আজুরি বলেন, “আমার সন্তানরা সারাক্ষণ ক্ষুধায় কাঁদছে। খাবার নেই, ডাল দিয়ে পেট ভরে না। ত্রাণ নিতে রাতের আঁধারে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়। পথে পথে ওঁত পেতে থাকে স্নাইপার। কেউ কেউ জীবিত ফিরে আসে না।”

    ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহ আগে সীমিতসংখ্যক ত্রাণ ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিলেও সেটিই যেন পরিণত হয়েছে গণহত্যার কৌশলে। তথাকথিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়ার নামে চলছে নির্মম হত্যা। জাতিসংঘের স্বীকৃতিও নেই এই সংগঠনের।

    সোমবার মাত্র একদিনেই ত্রাণ আনতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। মে মাসের ২৭ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮৩ জন, আহত হয়েছেন ৪১৮৬ জনেরও বেশি

    ইসরায়েলের এক সেনা হারেৎজ পত্রিকাকে জানান, “এই ত্রাণকেন্দ্রগুলো এখন আসলে ‘কিলিং ফিল্ড’। আমাদের উচ্চপর্যায় থেকেই এমন নির্দেশ এসেছে।”

    ❗ শিশুদের জন্য একফোঁটা দুধও নেই

    শিশুদের অবস্থা আরও করুণ। আল আকসা মার্টার্স হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, ৬০ হাজারের বেশি শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। কোনো দুধ নেই, নেই পর্যাপ্ত খাবার। ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে।

    💣 হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় বিমান হামলা

    শুধু গুলি নয়, বিমান হামলার মাত্রাও দিন দিন বেড়ে চলছে। সোমবারেই ৪৮ জন নিহত হন বিমান হামলায়। উত্তর গাজার একটি সমুদ্রতীরবর্তী ক্যাফেতে চালানো এক হামলায় ২০ জন নিহত ও বহু আহত হন।

    এছাড়া, মধ্য গাজার আল আকসা মার্টার্স হাসপাতালেও হামলা হয়েছে। খান ইউনিস অঞ্চলে ধ্বংস করা হচ্ছে ঘরবাড়ি।

    ☠️ গাজায় প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৫৬ হাজার

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬,৫৩১ জনে, আর আহতের সংখ্যা ১,৩৩,৬৪২

    গাজার আকাশে এখনো ভেসে বেড়ায় বোমার শব্দ। ক্ষুধা, আতঙ্ক আর মৃত্যুর এই উপত্যকায় প্রতিদিন নতুন করে শুরু হয় একটি বেঁচে থাকার লড়াই।


  • ঈদের দিন গাজায় রক্তাক্ত সকাল, ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪২ ফিলিস্তিনি

    ঈদের দিন গাজায় রক্তাক্ত সকাল, ইসরায়েলি হামলায় নিহত ৪২ ফিলিস্তিনি

    এবিএনএ:

    ঈদের পবিত্র দিনেও শান্তি পায়নি গাজার মানুষ। ইসরায়েলি বাহিনীর একের পর এক আকাশ ও স্থল হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪২ জন ফিলিস্তিনি।
    খান ইউনুস থেকে দেইর আল-বালাহ—সব জায়গায়ই ঈদের সকাল কেটেছে গোলাবর্ষণ, ধ্বংসস্তূপ ও আর্তনাদে।

    আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, শুক্রবার ঈদের দিন ভোরে ইসরায়েলের টার্গেটেড হামলায় খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে ১৬টি, গাজার আল-শিফা হাসপাতালে আরও ১৬টি, আল-আহলি ব্যাপটিস্ট হাসপাতালে ৫টি এবং দেইর আল-বালাহর শহীদ আল-আকসা হাসপাতালে ৫টি মরদেহ আনা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষায়, “এই ঈদ যেন এক ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন।”

    সাংবাদিক তারেক আবু আজউম বলেন, “গাজায় ঈদের দিন মানেই এখন শুধুই বেঁচে থাকার লড়াই—কোনো উৎসব নেই, নেই শান্তি, নেই নিরাপত্তা।”

    এদিকে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (GHF) জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা তাদের সব ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত থাকবে বলে জানায় সংস্থাটি।

    সাম্প্রতিক হামলায় নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২৬ জনে। বৃহস্পতিবার আল-আহলি হাসপাতালে আহত এক সাংবাদিক শুক্রবার মারা যান। গাজার সরকারি মিডিয়া সেন্টার এক বিবৃতিতে এই ঘটনাকে ‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদ্ধতিগত অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে মানবিকভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানায়।

  • গাজায় ত্রাণের ট্রাক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা, প্রাণ গেল পাঁচজনের

    গাজায় ত্রাণের ট্রাক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা, প্রাণ গেল পাঁচজনের

    এবিএনএ: 

    দক্ষিণ গাজার আল মাওয়াসি এলাকায় ত্রাণ নিতে আসা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর শনিবার ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

    আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী যদিও গাজার কিছু এলাকায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, তবে উত্তর গাজায় এখনও একরকম অবরুদ্ধ অবস্থাই বজায় আছে। সেখানে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। গাজার বাসিন্দা আহমেদ আল নাজ্জার বলেন, “দক্ষিণে কিছু ট্রাক ঢুকেছে, তবে আমাদের বহু পরিবার এখনও একটি বিস্কুট পর্যন্ত পায়নি।”

    শনিবার পর্যন্ত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মৃতের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৯০০ ছাড়িয়েছে, আর আহতের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৫০০-এর বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ হতাহতই নারী ও শিশু।

    ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গত দুই দিনে তারা গাজায় ১০০-র বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৭০ জন ফিলিস্তিনি। গাজা সিটির তুফা এলাকায় ভোররাতে বোমা বর্ষণে প্রাণ যায় চারজনের। এর পাশাপাশি, মধ্য গাজার দায়ের আল বালাহ অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনারা স্থল অভিযান শুরু করেছে।

    ৯২টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও উত্তর গাজা রয়ে গেছে বঞ্চিত

    গাজার চিকিৎসা বিভাগের প্রধান জানান, গত তিন দিনে মোট ৯২টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করলেও, সেগুলো শুধুমাত্র দক্ষিণ অংশেই গেছে। উত্তর গাজায় এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আংশিক ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা গাজার সার্বিক সংকটকে খুব একটা লাঘব করছে না।

    ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবঢাল ব্যবহার করার অভিযোগ

    ফিলিস্তিনের এক বাসিন্দা মাসুদ আবু সাইদ জানান, তাকে খান ইউনিস এলাকায় জোর করে দুই সপ্তাহ ধরে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। “আমাকে জোর করে হামাসের টানেল খুঁজে বের করতে বাধ্য করা হয়েছিল,” বলেন মাসুদ। তিনি বলেন, “আমার শিশু সন্তানের কাছে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।”

    জাতিসংঘের আহ্বান: ত্রাণ আরও বাড়াতে হবে

    গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। জাতিসংঘ বলছে, গাজায় প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় ত্রাণের পরিমাণ অনেক কম। তারা দ্রুত ও ব্যাপক হারে ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় ইসরায়েলের এই আচরণকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এখন বড় প্রশ্ন: এই সংঘাত কতদিন চলবে এবং কত প্রাণ আরও ঝরবে?

  • গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দক্ষিণে ‘অ্যাপোক্যালিপস’-সদৃশ হামলা!

    গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দক্ষিণে ‘অ্যাপোক্যালিপস’-সদৃশ হামলা!

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি গাজার পুরো ভূখণ্ডের উপর ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এরই সঙ্গে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে ‘অভূতপূর্ব’ হামলার পূর্ব-বার্তা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যেতে বলা হয়। এএফপি-খবরে উঠে এসেছে এই তথ্য।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেয়েসুস একই সময় সতর্ক করেন, গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখন অনাহারের মুখে। তাঁর ভাষায়, “টনকে টন খাদ্যসামগ্রী সীমান্তে আটকে আছে, অথচ তা গন্তব্য থেকে মাত্র মিনিটখানেক দূরে।”

    ইসরায়েল সম্প্রতি সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিলেও জাতিসংঘ অন্যান্য সংস্থাগুলো একে মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় একেবারেই ‘অপর্যাপ্ত’ বলেই চিহ্নিত করেছে।

    নেতানিয়াহু বলেন, “লড়াই এখন আরও তীব্র হচ্ছে। আমরা একের পর এক সাফল্য অর্জন করছি এবং গাজার প্রতিটি ইঞ্চি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্যই এগোচ্ছি। পিছু হটার প্রশ্নই ওঠে না।”

    মে মাসের শুরুতেই ইসরায়েল একটি সামরিক পরিকল্পনা অনুমোদন করে যার মূল লক্ষ্য গাজার পূর্ণ দখল এবং জনগণকে স্থানচ্যুত করা।

    ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

    তবে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাদের জিম্মিদের যদি কোনো মানবিক সহায়তা না মেলে, তাহলে শত্রুপক্ষও কোনো সহায়তা পাবে না।” অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ কিছু সীমিত সহায়তাকে সমর্থন করে বলেন, “এই সহায়তা শুধুই বেসামরিক মানুষের জন্য এবং এটি আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সমর্থন ধরে রাখার কৌশল।”

    খান ইউনিসে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবন

    সোমবার দিনভর ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অন্তত ১৬০টি স্থানে হামলা চালায়। শুধু খান ইউনিসেই প্রাণ হারান ১১ জন, অন্যত্র আরও ১১ জন নিহত হন।

    খান ইউনিস থেকে এএফপি জানায়, আহতদের বহন করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিশুরা কেউ ট্র্যাকস্যুটে, কেউ রক্তাক্ত শরীরে নগ্ন পায়ে মেঝেতে বসে। চারপাশে শুধু কান্না, আতঙ্ক আর ধ্বংস।

    গাজার বাসিন্দা মোহাম্মদ সারহান বলেন, “প্রতিটি দিক থেকে গুলি, আগুন, হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান—যেন এক ভয়াবহ বিভীষিকা।”

    উত্তর গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে ভাই হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়মান বাদওয়ান। “আমরা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত। দেহে শক্তি নেই, মনের মধ্যে ভর করে আছে আতঙ্ক। এখনই আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

    প্রাণহানির পরিসংখ্যান

    ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হন ১,২১৮ জন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক। মোট ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যাদের মধ্যে এখনও ৫৭ জন গাজায় অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ৩৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

    ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সর্বশেষ আক্রমণে গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩,১৯৩ জন। মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৩,৩৩৯-এ, যা গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী প্রকাশিত।

  • নতুন শর্তে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইচ্ছুক নেতানিয়াহু, হামাসের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত

    নতুন শর্তে গাজা যুদ্ধ বন্ধে ইচ্ছুক নেতানিয়াহু, হামাসের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ:  ইসরায়েল হামাসের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানে আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি গাজা যুদ্ধ বন্ধে সম্মত আছেন—তবে কয়েকটি কড়া শর্তের ভিত্তিতে।

    নেতানিয়াহু বলেছেন, যদি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস গাজা থেকে সম্পূর্ণরূপে সরে যায় এবং উপত্যকাটি নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হয়, তাহলে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে তিনি রাজি হবেন।

    তিনি আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও বিবেচনায় রয়েছে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, গাজায় ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি থাকবে, যেখানে হামাস ১০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেবে এবং ইসরায়েলও কিছু নির্দিষ্ট বন্দিকে ছেড়ে দেবে।

    এই সময়ের মধ্যেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা চলবে। হামাস স্থায়ী যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে সকল জিম্মিকে একসঙ্গে মুক্তি দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেও, ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়েছে—গাজা থেকে হামাসকে বিদায় নিতে হবে এবং অঞ্চলটিকে অস্ত্রমুক্ত করতে হবে।

    রবিবার এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর দফতর জানিয়েছে, দোহায় ইসরায়েলি আলোচনাকারী দল সম্ভাব্য সব শান্তি চুক্তির দিক বিবেচনা করছে—চাই তা অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব হোক বা স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধের উদ্যোগ।

    ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, অতীতে নেতানিয়াহু এমন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও এবার তার অবস্থানে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

    তবে হামাস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সংগঠনটি আগে বলেছিল—ইসরায়েলের দখলদারিত্ব যতদিন থাকবে, ততদিন তাদের প্রতিরোধ চলবে এবং অস্ত্র ছাড়ার কোনো প্রশ্নই নেই।

    এখন দেখার বিষয়, এই কঠিন শর্তের মুখে হামাস তাদের অবস্থান কতটা বদলায়। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসবে, নাকি সংঘাত আরও জটিল মোড় নেবে—তা নির্ভর করছে আগামী দিনের সিদ্ধান্তের ওপর।