Tag: যুদ্ধবিরতি

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফা আলোচনা: আজই ইসলামাবাদে তেহরান দল পৌঁছাতে পারে

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র নতুন দফা আলোচনা: আজই ইসলামাবাদে তেহরান দল পৌঁছাতে পারে

    এবিএনএ: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা আলোচনার আভাস পাওয়া গেছে। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সূত্রগুলো বলছে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই এই যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ফোনালাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, যুদ্ধবিরতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ ঘিরে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ধারাবাহিক সংলাপের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

    অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উত্তেজনা কমাতে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

    সামরিক পর্যায়েও যোগাযোগের ইঙ্গিত

    ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আরাঘচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেছেন। তবে এ বিষয়ে পাকিস্তানের সরকারি সূত্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

    আগের বৈঠক ফলহীন

    দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর ফেব্রুয়ারিতে ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এরপর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালী ও ইরানি বন্দর ঘিরে পাল্টাপাল্টি নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এতে উত্তেজনা বাড়ে এবং আলোচনার পরিবেশ জটিল হয়ে পড়ে।

    নতুন বৈঠক ঘিরে প্রস্তুতি

    দ্বিতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের লক্ষ্যে পাকিস্তান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    চলতি সপ্তাহের শুরুতে বৈঠকের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ইরানের প্রতিনিধিদল না আসায় আলোচনা স্থগিত হয়। তেহরান জানায়, নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না হলে তারা আলোচনায় বসবে না।

    আবারও আশার আলো

    তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেছেন, অচলাবস্থা কাটিয়ে শিগগিরই নতুন করে আলোচনা হতে পারে। এরই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

    কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছালে নতুন করে সংলাপের পথ খুলতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

  • শুক্রবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা:ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    শুক্রবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা:ট্রাম্পের ইঙ্গিত

    এবিএনএ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন করে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী শুক্রবারের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক খবর আসতে পারে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি চলছে এবং কূটনৈতিক অগ্রগতি ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। বিশেষ করে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনার পথ সুগম হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

    ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অগ্রগতির আশা

    ইসলামাবাদভিত্তিক কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৩৬ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতিতে বড় ধরনের অগ্রগতি হতে পারে। এই সময়ের মধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এটা সম্ভব”—যা কূটনৈতিক মহলে আশার সঞ্চার করেছে।

    যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা

    এর আগে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরান যদি একটি সমন্বিত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় না আসে, তবুও আপাতত সামরিক প্রস্তুতি বজায় রেখে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা হবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সামরিক অবরোধ বজায় রাখার পাশাপাশি অন্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা

    পাকিস্তান এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দেশটির কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই সংযত অবস্থান বজায় রেখেছে, যা আলোচনার জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।

    তাদের মতে, উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য থাকলেও বাস্তবে কোনো পক্ষই নতুন করে সামরিক তৎপরতা বাড়ায়নি। এতে করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং আলোচনার পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

    নতুন সমাধানের পথে আশাবাদ

    বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যদি স্থিতিশীল থাকে, তাহলে খুব শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে। এতে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • ইরানের সামনে আলোচনাই একমাত্র পথ—কঠোর বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরানের সামনে আলোচনাই একমাত্র পথ—কঠোর বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আলোচনায় অংশ নেওয়া ছাড়া তেহরানের সামনে অন্য কোনো পথ নেই বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানকে প্রতিনিধি পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।

    মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি কার্যকর চুক্তি সম্ভব। তবে সে জন্য দ্রুত আলোচনায় অগ্রগতি প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন পক্ষের সঙ্গে বোঝাপড়া করছে যাদের সঙ্গে সমঝোতা সহজ নয়, তবুও আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।

    ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প এটিকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে আখ্যা দেন। একই সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। বরং পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য সময় খুবই সীমিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় এলে ইরান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    এদিকে ইসলামাবাদে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে পাকিস্তান। দেশটির তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, পাকিস্তান কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমাধান প্রত্যাশা করছে।

    তিনি আরও বলেন, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির সময়সীমা দ্রুত শেষ হতে চলেছে। ফলে ইরানের সিদ্ধান্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করছে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তেহরানের অবস্থানের ওপর।

  • লেবানন–ইসরায়েল সংঘাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, শান্তির পথে নতুন উদ্যোগ

    লেবানন–ইসরায়েল সংঘাতে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের, শান্তির পথে নতুন উদ্যোগ

    এবিএনএ: লেবানন ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। ঘোষণাটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছেন। আলোচনার পর দুই দেশ নির্দিষ্ট সময় থেকে ১০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ঘোষণায় লেবাননের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি, যদিও ইসরায়েলের সঙ্গে মূল সংঘাত এই গোষ্ঠীকে ঘিরেই চলছে।

    ট্রাম্প তার পোস্টে বলেন, দুই নেতার সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। নির্ধারিত সময় থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ সময় পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার ধারাবাহিকতায় স্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প।

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক নেতৃত্বকে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা লেবানন ও ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করেন।

    এছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, এর আগে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাত থামাতে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। লেবানন-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি সফল হলে এটি তার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ ছাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্ভব—ইরান প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের বার্তা

    এবিএনএ: ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা এখনও রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি তার ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ থেকে সরে এসে ইরানের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তির পথ তৈরি হতে পারে।

    রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাস্তবসম্মত অবস্থান নিলে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি ইরানের প্রতিনিধিদলের সদস্যদের প্রশংসা করেন এবং আলোচনায় অংশ নেওয়া নেতাদের ধন্যবাদ জানান।

    পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে একমত হতে পারেনি।

    গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের টানাপোড়েন চলছে। এ বিষয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ আলোচনা চলে দুই দেশের মধ্যে। তবে সেই সংলাপও কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    পরবর্তী সময়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময় ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক পদক্ষেপ নেয়। এতে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায় এবং সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হয়।

    সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে জানানো হয়। পাশাপাশি ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধ শুরুর ৩৯তম দিনে, ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। সেই প্রেক্ষাপটে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে নতুন করে আলোচনায় বসে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পরও কোনো চুক্তি স্বাক্ষর ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।

    তবুও আলোচনার পথ খোলা রয়েছে—এমন বার্তা দিয়ে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।

  • ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক মুখোমুখি বৈঠক: সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান, যুদ্ধের পর নতুন মোড়

    ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক মুখোমুখি বৈঠক: সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান, যুদ্ধের পর নতুন মোড়

    এবিএনএ: পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা। এবার আর কোনো মধ্যস্থ বার্তা নয়—দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি বসে উত্তেজনা কমানোর পথ খুঁজছেন। আলোচনায় পাকিস্তানি কর্মকর্তারাও উপস্থিত থেকে পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখছেন।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবে। তবে শেষ পর্যন্ত মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিরা সরাসরি সংলাপে অংশ নেন। এতে আলোচনার গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। অপরদিকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ। দুই পক্ষের সঙ্গে আরও কয়েকজন শীর্ষ কূটনীতিকও অংশ নিয়েছেন।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর টানা ৪০ দিন উত্তেজনা ও সংঘাত চলতে থাকে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও শুরু থেকেই তা ছিল নড়বড়ে। পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।

    এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে আবারও হামলা শুরু হতে পারে। তিনি জানান, সম্ভাব্য অভিযানের জন্য সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে।

    বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মুখোমুখি বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলে রয়েছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ ও জার্ড ক্রুসনার। তারা ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলোচনা করেন। বৈঠকের সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও উপস্থিত ছিলেন।

    বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ উত্তেজনার পর এই সরাসরি আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। তবে আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে পরিস্থিতি শান্ত হবে, নাকি নতুন করে উত্তেজনা বাড়বে।

  • যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে, তবুও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র—ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি

    যুদ্ধবিরতি ঝুঁকিতে, তবুও ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র—ইসলামাবাদে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি

    এবিএনএ: লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে এবং যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ইরানের সঙ্গে নির্ধারিত আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

    কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরিস্থিতি জটিল হলেও এই আলোচনা বাতিল করার সম্ভাবনা খুব কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    জানা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সমঝোতাকে আরও কার্যকর করতে আগ্রহী। সে কারণে উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও আলোচনা প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ওয়াশিংটনের অবস্থান স্পষ্ট।

    পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের। তিনি ইউরোপ সফর শেষে ওয়াশিংটনে ফিরে এখন পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    এদিকে লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় ইরান যুদ্ধবিরতির চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে জেডি ভান্স জানিয়েছেন, লেবানন ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। তার মতে, এই কারণে আলোচনা বন্ধ হওয়া উচিত নয়।

    তিনি আরও বলেন, যদি ইরান আলোচনায় অংশ না নেয়, তাহলে সেটি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার দরজা খোলা রাখতে চায়।

    মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা নিয়ে মিসর ও পাকিস্তানও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের সঙ্গে আলাপে লেবাননে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে সতর্কবার্তা দেন এবং যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে উত্তেজনা কমতে পারে, তবে মাঠের পরিস্থিতি দ্রুত না বদলালে আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিতই থেকে যাবে।

  • যুদ্ধবিরতি ভাঙলে কঠোর শাস্তি, চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়াতে পারে ইরান—বাড়ছে উত্তেজনা

    যুদ্ধবিরতি ভাঙলে কঠোর শাস্তি, চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়াতে পারে ইরান—বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তেহরান বলছে, ইসরায়েল একাধিকবার চুক্তি ভেঙে হামলা চালাচ্ছে—এ পরিস্থিতি চলতে থাকলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতি চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

    তেহরানের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, বারবার হামলার ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের পরিকল্পনা তৈরি করছে ইরান। ওই সূত্রের মতে, উত্তেজনা কমাতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে পরিস্থিতি নতুন করে সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

    এদিকে ফার্স প্রদেশে একটি ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকার চলাচলে বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।

    আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রী আহসান ইকবাল চৌধুরী সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সংঘাত বাড়লে শান্তি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

    তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ কখনোই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করবে।

  • মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ‘অন্যায্য’—যুদ্ধবিরতিতে শর্ত জুড়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    মার্কিন শান্তি প্রস্তাব ‘অন্যায্য’—যুদ্ধবিরতিতে শর্ত জুড়ে কড়া অবস্থানে ইরান

    এবিএনএ: চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শান্তি প্রস্তাবকে ‘একতরফা’ ও ‘অন্যায্য’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো এই প্রস্তাবের বিষয়ে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় তেহরান জানিয়েছে, এতে তাদের নিরাপত্তা ও সার্বভৌম স্বার্থ উপেক্ষা করা হয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, প্রস্তাবটি দেশটির উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব গভীরভাবে পর্যালোচনা করেছে। তার মতে, এতে ইরানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে, অথচ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি অস্পষ্ট রাখা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, এই প্রস্তাব কার্যকর করার মতো প্রয়োজনীয় শর্তগুলোও এতে অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসার বাস্তবসম্মত সুযোগ খুবই সীমিত বলে মনে করছে তেহরান।

    তবে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি থেমে নেই। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মতপার্থক্য কমাতে তুরস্ক ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব ইতোমধ্যে পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে এই জবাব পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং এখন তাদের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।

    ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধে বেশ কিছু শর্ত উত্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—গুপ্তহত্যা ও সামরিক আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা, ভবিষ্যতে একই ধরনের সংঘাত এড়াতে নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ প্রদান।

    এছাড়া সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সব গোষ্ঠীসহ সকল ফ্রন্টে একযোগে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছে দেশটি। হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে তেহরান।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবিগুলো তুলেছিল, বর্তমান শর্তগুলোর সঙ্গে সেগুলোরও মিল রয়েছে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে ইরান। তাদের মতে, শান্তি আলোচনার আড়ালে ওয়াশিংটন কৌশলগতভাবে সময় নিচ্ছে—যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শান্তিপ্রিয় হিসেবে তুলে ধরা, তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা।

  • মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

    মার্কিন প্রস্তাব নাকচ ইরানের—যুদ্ধ থামাতে দিল ৫ কঠোর শর্ত, বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ: দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত থামাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কখন এবং কীভাবে হবে—তা নির্ধারণ করবে শুধুমাত্র ইরান নিজেই এবং তাদের নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপরই নির্ভর করবে সবকিছু।

    বুধবার দেশটির এক জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যুদ্ধের শেষ নির্ধারণের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি জানান, ইরান তার শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিরক্ষা অভিযান চালিয়ে যাবে এবং প্রয়োজন হলে শত্রুপক্ষের ওপর আরও কঠোর আঘাত হানবে।

    ওই কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যমে আলোচনা এগিয়ে নিতে চাইছে। তবে তেহরানের দৃষ্টিতে এসব উদ্যোগ বাস্তবতা আড়াল করার কৌশল। তিনি ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিত দুই দফা আলোচনাকে ‘প্রতারণামূলক’ উল্লেখ করে বলেন, তখনও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আন্তরিকতা ছিল না এবং পরে তারা সামরিক হামলা চালায়।

    এবার একটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে আসা নতুন প্রস্তাবকেও ইরান উত্তেজনা বাড়ানোর কৌশল হিসেবে দেখছে এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৫ শর্ত

    ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য পাঁচটি নির্দিষ্ট শর্ত দিয়েছে—

    ১. শত্রুপক্ষকে সব ধরনের আগ্রাসন ও গুপ্তহত্যা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
    ২. ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হবে না—এমন কার্যকর নিশ্চয়তা থাকতে হবে।
    ৩. যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
    ৪. অঞ্চলের সব ফ্রন্টে এবং সংশ্লিষ্ট সব প্রতিরোধ গোষ্ঠীর সঙ্গে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাতে হবে।
    ৫. হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

    ইরানি কর্মকর্তা জানান, এই শর্তগুলো আগের আলোচনায় উত্থাপিত দাবির সঙ্গেও যুক্ত থাকবে। সব শর্ত মেনে নেওয়া না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয় বলে মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।

    তিনি আরও বলেন, ইরান নিজস্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধ শেষ করবে—যুক্তরাষ্ট্রের সময়সূচি বা চাপে নয়।

    উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনি এবং শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতোমধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রায় ৮০ দফা পাল্টা হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।