Tag: যুদ্ধবিরতি

  • যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান—কঠোর বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান—কঠোর বার্তা দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স, ইরানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাতে।

    জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা কমানো ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠায়। কিন্তু তেহরান সেই উদ্যোগে সাড়া দেয়নি।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, ইরানের নতুন নেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যতক্ষণ না তাদের বিরুদ্ধে চালানো হামলার দায় স্বীকার করে, পরাজয় মেনে নেয় এবং ক্ষতিপূরণ দেয়, ততক্ষণ কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।

    তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রথম বৈঠকেই মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।

    এদিকে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে, আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

    জবাবে ইরানও ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে তেল পরিবহন বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

    এর আগে গত সপ্তাহেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্যোগ নেয়। তবে সেই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয় বলে জানা গেছে।

    অন্যদিকে, ইসরাইল দাবি করেছে—তাদের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নিহত হয়েছেন। যদিও এসব দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।

    পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল আকার ধারণ করায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

  • গাজায় রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলা: তাঁবু-শিবিরে প্রাণ গেল অন্তত ১১ জনের, নতুন উত্তেজনা

    গাজায় রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলা: তাঁবু-শিবিরে প্রাণ গেল অন্তত ১১ জনের, নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা-তে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রোববার রাতভর চালানো এসব হামলায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো যেখানে তাঁবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেসব স্থানও আঘাতের শিকার হয়েছে।

    ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে—এর প্রতিক্রিয়াতেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকায় পৃথক হামলায় পাঁচজন নিহত হন। উত্তরাঞ্চলে গোলাগুলিতে প্রাণ যায় আরও একজনের। পাশাপাশি গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া এলাকায় হামাসের মিত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদ-এর এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গাজায় হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম নতুন এই হামলাকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে “গণহত্যামূলক অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সহিংসতা যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল। এদিকে ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।

    দুই পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙার অভিযোগে দায়ী করছে। এই চুক্তিটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় গাজায় সহিংসতা কমানোর উদ্যোগের অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের সংঘাতে সাম্প্রতিক যুদ্ধটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    ইসরায়েলি তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ে। পাল্টা অভিযানে গাজায় দীর্ঘদিন ধরে বিমান ও স্থল হামলা চলছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কয়েক দশক হাজার ছাড়িয়েছে; আহত হয়েছেন বহু মানুষ।

  • চার ঘণ্টার রণক্ষেত্র সীমান্ত: পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনায় ভাঙছে যুদ্ধবিরতির আশা

    চার ঘণ্টার রণক্ষেত্র সীমান্ত: পাকিস্তান-আফগানিস্তান উত্তেজনায় ভাঙছে যুদ্ধবিরতির আশা

    এবিএনএ: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত শুক্রবার রাতে আবারও তীব্র উত্তেজনায় অস্থির হয়ে ওঠে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গোলাবিনিময় চলে, যা দুই মাস আগে কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। উভয় পক্ষই গোলাবর্ষণের জন্য একে অন্যকে দায়ী করছে।

    বিবিসির তথ্যানুসারে, স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংঘাত শুরু হয়। ভারী কামান, মর্টারসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহারের ফলে সীমান্তবর্তী আফগান অংশে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বহু আফগান নাগরিক গাড়ি ও পায়ে হেঁটে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন।

    কান্দাহারের তথ্য বিভাগের প্রধান আলি মোহাম্মদ হাকমাল অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের বাহিনী সীমান্তের আফগান অংশে ভারী কামান নিক্ষেপ করেছে, যা বেসামরিক বসতিতে ক্ষতি করেছে।

    অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি তালেবানের বিরুদ্ধে ‘উস্কানিবিহীন’ হামলার অভিযোগ এনে বলেন, পাকিস্তান তার আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পাল্টা জবাব দিয়েছে।

    তবে তালেবানের একজন মুখপাত্র দাবি করেন, পাকিস্তানই প্রথম আক্রমণ শুরু করেছে, ফলে তারা জবাব দিতে বাধ্য হয়েছে।

    এই সংঘর্ষ এমন এক সময়ে হলো, যখন সৌদি আরবে দুই পক্ষের শান্তি আলোচনাও ব্যর্থ হয়েছে। যদিও আলোচনায় যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার বিষয়ে সম্মতি ছিল, সর্বশেষ গোলাগুলি সেই প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

    এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আইএসপিআর শনিবার জানায়, খাইবার পাখতুনখোয়ার টাঙ্ক ও লাক্কি মারওয়াত এলাকায় পৃথক অভিযানে টিটিপির নয়জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলায় জড়িত ছিল। অভিযানকালে বিভিন্ন অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

    সন্ত্রাসবিরোধী এসব অভিযানে সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি নিরাপত্তা বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, দেশ থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

  • যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শঙ্কা: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৭

    যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের শঙ্কা: লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৭

    এবিএনএ: লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক হামলা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও থামেনি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়। সংস্থাটির মতে, গত এক বছরে এসব হামলায় অন্তত ১২৭ জন নিরীহ বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই তথ্য তুলে ধরে যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র থামিন আল-খাতিন বলেন, “যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার প্রায় এক বছর পার হলেও ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শুধু বেসামরিক মানুষই নয়, লেবাননের বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাও ধ্বংস হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।”

    তিনি আরও জানান, কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের পর নিশ্চিত হওয়া ১২৭ জন নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। অনেক ঘটনায় প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হওয়ায় প্রকৃত মৃত্যু সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, হামলা অব্যাহত থাকলে মানবিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে এবং অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। সংস্থাটি এই হত্যাকাণ্ডগুলোর নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করে এবং যুদ্ধবিরতি রক্ষা করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি কঠোর আহ্বান জানায়।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকলেও বাস্তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা থেমে নেই। এ ধরনের হামলা শুধু সংঘাত বৃদ্ধি করবে না, বরং শান্তি প্রতিষ্ঠার সব প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে।

  • হামাস-ইসরায়েল চুক্তি: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

    হামাস-ইসরায়েল চুক্তি: শান্তির আশা নাকি নতুন অনিশ্চয়তার সূচনা?

    এবিএনএ: দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর অবশেষে হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে পৌঁছেছে। তবে এই সমঝোতা শান্তির পথে এক নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করলেও ঝুঁকি ও সংশয় রয়ে গেছে নানা বিষয়ে। হামাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিন ভূমি না ছাড়লে তারা নিরস্ত্রীকরণে রাজি নয়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হামাস এখন ইসরায়েলের কাছ থেকে সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চায়। এই অবস্থায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে উভয়পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়ের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়।

    প্রথম ধাপে ইসরায়েল কিছু সামরিক অভিযান স্থগিত করলেও হামলা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। আরব দেশগুলো বলছে, এই চুক্তি তখনই অর্থবহ হবে যখন এটি ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করবে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—“স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।”

    অন্যদিকে, হামাস জানিয়েছে তারা গাজার প্রশাসন আরব ও মুসলিম দেশসমর্থিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট সরকারের কাছে হস্তান্তরে আগ্রহী, তবে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে কোনো বিদেশি তত্ত্বাবধান মানবে না।

    চুক্তির আলোচনায় বন্দি মুক্তিও বড় ইস্যু। হামাস চাইছে, যেসব শীর্ষ ফিলিস্তিনি নেতাকে আগের যুদ্ধবিরতিতে মুক্তি দেওয়া হয়নি—তাদের এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। তাদের তালিকায় ফাতাহ নেতা মারওয়ান আল-বারঘৌতি ও পিএফএলপি প্রধান আহমেদ সাদাতের নামও রয়েছে।

    তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন—যুদ্ধ থামলেও গাজা কে শাসন করবে? যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আরব দেশগুলো হামাসের কোনো শাসন ভূমিকা রাখতে রাজি নয়। ট্রাম্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী গঠিত হতে যাওয়া নতুন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে হামাস কতটা গ্রহণ করবে, তা নিয়েও সন্দেহ থেকেই গেছে।

    ইসরায়েলি সূত্র জানিয়েছে, হামাস ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ২০ জন জীবিত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। অপরদিকে, ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দিতে পারে, যার মধ্যে অনেকেই যাবজ্জীবন সাজা ভোগ করছেন।

    ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবাহও বাড়ানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন ৪০০–৬০০ ট্রাক খাদ্য ও ওষুধ নিয়ে গাজায় প্রবেশ করবে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, এই চুক্তিই হতে পারে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক সাফল্য।

    তবে সবকিছুর পরও যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী এখনও কিছু এলাকায় সক্রিয়। গাজার মানুষ চুক্তি উদযাপন করলেও তাদের মনে ভয়—যদি আবারও যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়, যেমনটি ঘটেছিল মার্চ মাসে।

  • গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন আশার আলো, মিসরে মুখোমুখি হামাস-ইসরায়েল প্রতিনিধি দল

    গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় নতুন আশার আলো, মিসরে মুখোমুখি হামাস-ইসরায়েল প্রতিনিধি দল

    এবিএনএ:  দীর্ঘ দুই বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটাতে গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হয়েছে মিসরে। এই বৈঠকে অংশ নিয়েছে ইসরায়েল ও হামাসের প্রতিনিধি দল, যার মাধ্যমে নতুন করে শান্তির আশার আলো দেখা দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।

    আজ সোমবার আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানায়, হামাসের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন নির্বাসিত নেতা খলিল আল-হায়া, যিনি সম্প্রতি কাতারে ইসরায়েলি হামলা থেকে প্রাণে বেঁচে যান। এই বৈঠকে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করবেন।

    অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন কৌশলবিষয়ক মন্ত্রী রন ডারমার, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ এই রাজনীতিক সোমবার মিশর পৌঁছান বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

    এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নিচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ

    সূত্র জানায়, ট্রাম্পের প্রণীত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা আলোচনার মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হামাস এর কিছু শর্তে নীতিগত সম্মতি জানিয়েছে, যা যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার একটি বড় অগ্রগতি বলে মনে করছে কূটনীতিক মহল।

    ট্রাম্প হামাসের ইতিবাচক সাড়া স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য প্রস্তুত, এবং হামাসও সেটি প্রমাণ করেছে।” একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলকে গাজায় বোমা হামলা বন্ধের আহ্বান জানান, যদিও তেল আবিব এখনো তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।

    আলোচনার স্থান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত শার্ম আল-শেখ, যেখানে প্রতিনিধিরা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চুক্তির খসড়া নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। মিসরের কূটনৈতিক এক কর্মকর্তা জানান, এবার ধাপে ধাপে নয়, বরং একবারেই চূড়ান্ত একটি চুক্তির দিকে এগোতে চান তারা।

    অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবিসি নিউজকে বলেন, “এই আলোচনা সপ্তাহ নয়, বরং দিনের মধ্যেই ফল দিতে হবে। আমরা দ্রুত অগ্রগতি দেখতে চাই।”

    বিশ্বজুড়ে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই বৈঠক গাজায় স্থায়ী শান্তির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে—যদি উভয় পক্ষই সমঝোতার পথে এগিয়ে আসে।

  • ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নড়েচড়ে ওঠলো যখন শুক্রবার হামাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া গাজার বিষয়ক প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত পোষণ করার খবর দিল। তারা কিছু শর্তে প্রস্তাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা মেনে নিয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    ট্রাম্প নিজেই হামাসের ওই বিবৃতি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন হামাস স্থায়ী শান্তির পথে এগোতে চায় এবং ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যেন জিম্মিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। তার আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়ে।

    ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অন্যান্য পশ্চিম ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা এই অগ্রগতি স্বাগত জানিয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান, কাতার ও মিসরের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে — এখনই যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই প্রতিক্রিয়াকে উৎসাহজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সব পক্ষকে পরিস্থিতি শান্তিভাবেই এগোতে অনুরোধ করেছেন। ইউরোপীয় নেতারা—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও সংঘবদ্ধ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা ব্যক্ত করেছে যে, এটি জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির পথে একটি বড় ধাপ হতে পারে।

    তবে অনেকে সতর্কও: হামাসের সাড়া পুরো ব্যাপারকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে না—কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও আলোচনার বাইরে আছে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা দাবি, গাজার ভবিষ্যত প্রশাসন ও অস্ত্রবিরতি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ফলে বাস্তব কাজে যাওয়ার আগে আরও কড়া ব্যাকচেক ও মধ্যস্থতাকারী সংলাপ প্রয়োজন।

    প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল; তাই দ্রুত কিভাবে এগোতে হবে, কোন পর্যায়ে দুপক্ষ সাক্ষর করবে এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—এসব প্রশ্ন এখনো ঝুলে আছে। সরাসরি প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসাবে ইসরায়েল কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে শুরু করেছে বলে খবর এসেছে।

  • আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: দুই মিনিটে ‘মনোযুদ্ধ’ নাকি কূটনৈতিক ফাঁদ?

    আলাস্কায় ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক: দুই মিনিটে ‘মনোযুদ্ধ’ নাকি কূটনৈতিক ফাঁদ?

    এবিএনএ:  আগামী শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় বসছে বহুল আলোচিত ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, আলোচনার প্রথম দুই মিনিটেই তিনি বুঝে ফেলতে চান পুতিনের আসল পরিকল্পনা। যদি মনে হয় সমঝোতার সুযোগ নেই, তবে তিনি আলোচনা মাঝপথেই থামিয়ে দিতে প্রস্তুত।

    এদিকে রিপাবলিকান দলের কিছু নেতার আশঙ্কা, পুতিন হয়তো দীর্ঘ আলোচনা টেনে ট্রাম্পকে নিজের পক্ষে আনার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে রাশিয়ার বিজয়ের শর্তগুলোতে ট্রাম্পকে রাজি করাতে কৌশলী মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলতে পারেন তিনি। এই বৈঠক হতে যাচ্ছে এমন এক জায়গায়—আলাস্কা—যেটি ১৮৬৭ সালে রাশিয়া ৭২ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ‘ভূমি বিনিময়’ নিয়েও কথা বলতে চান।

    নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, সোমবার হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছেন, পুতিনের মনোভাব যাচাই করাই তাঁর মূল লক্ষ্য। যদি চুক্তির সম্ভাবনা না দেখেন, তবে তিনি বৈঠক শেষ না করেই সরে আসবেন এবং রাশিয়া-ইউক্রেন নিজেদের মতো করে যুদ্ধ চালিয়ে যাবে।

    তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যেকোনো সমঝোতা অবশ্যই যুদ্ধবিরতি দিয়ে শুরু হওয়া উচিত, যাতে আলোচনার সময় হামলা বা ভূমি দখল না ঘটে। এই আলোচনায় তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

    হোয়াইট হাউস এই বৈঠক আয়োজন করছে বেশ তড়িঘড়ি করে, যা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। এখনো ঠিক হয়নি আলাস্কার কোন স্থানে বৈঠক হবে কিংবা কতক্ষণ চলবে। সমালোচকরা বলছেন, পুতিন প্রশংসা ও কৌশলের মাধ্যমে ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে পারেন, বিশেষ করে যখন ট্রাম্প এর আগে ইউক্রেনের ওপর রুশ আগ্রাসনের জন্য কিয়েভকেই দায়ী করেছিলেন এবং জাতিসংঘে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

    যুদ্ধের সমাধান বা ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ট্রাম্প কিছু না বললেও তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—চুক্তি করা তাঁর প্রধান লক্ষ্য। এই বৈঠকের ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ ও কৌতূহল উভয়ই তুঙ্গে বিশ্বজুড়ে।

  • গাজা দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

    গাজা দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

    এবিএনএ: গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা ঘোষণা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিশ্বনেতারা বলছেন, এই পদক্ষেপ কোনো সমাধান আনবে না, বরং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংস ডেকে আনবে। সম্প্রতি ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে, যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সামরিক অভিযানকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানান। তার মতে, এই আক্রমণ জিম্মিদের মুক্তি বা সংঘাতের সমাধান নয়, বরং রক্তপাত বাড়াবে। একইভাবে চীনও এই পরিকল্পনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে গাজাকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ঘোষণা দিয়েছেন, গাজায় ব্যবহারের জন্য কোনো সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে রপ্তানি করা হবে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের পরিপন্থী এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

    ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে অবৈধ ও অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন। হামাস সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলি বন্দিদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াবে। এমনকি ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিডও এই পরিকল্পনার নিন্দা করেছেন, দাবি করেছেন নেতানিয়াহু চরম ডানপন্থীদের চাপে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

    নেতানিয়াহু নিজে বলেছেন, গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামাসকে সরিয়ে দেওয়াই লক্ষ্য। তবে ইসরায়েলের সামরিক প্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ জিম্মিদের বিপদে ফেলবে এবং সেনাবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

    এদিকে মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে যাতে সব জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধ থামানো ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। কিন্তু গাজা শহরে ইসরায়েলের বারবারের বোমাবর্ষণ ও হামলার ফলে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে দখল করার মতো তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই।

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গত ২২ মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬১ হাজার ২৫৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৫ জন আহত হয়েছে।

  • সীমান্ত উত্তেজনার অবসান: শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া

    সীমান্ত উত্তেজনার অবসান: শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া

    এবিএনএ:  দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুটি প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া অবশেষে পাঁচ দিনের সীমান্ত সংঘর্ষের পর তাৎক্ষণিক ও শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে সোমবার রাত ১২টা (স্থানীয় সময়) থেকে।

    বৈঠকে অংশ নেন থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথাম ওয়েচায়াচাই এবং কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত। মধ্যস্থতাকারী আনোয়ার ইব্রাহিম বৈঠকের পর বলেন, “উভয় দেশ একটি যৌথ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে এবং শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।”

    হুন মানেত এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এই সিদ্ধান্ত দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক ধাপ। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত পদক্ষেপগুলো আমাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনাকে আরও গতিশীল করবে।”

    বৈঠকের দিন দুপুরে কুয়ালালামপুরে আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি বাসভবন সেরি পেরদানায় পৌঁছায় থাই ও কম্বোডিয়ার নেতাদের গাড়িবহর। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পতাকা বহনকারী গাড়িও দেখা যায়, যা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারির ইঙ্গিত দেয়।

    সকাল ৭টার দিকে কুয়ালালামপুরে পৃথক বৈঠকে বসেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক চলাকালীন মালয়েশিয়ার রাজধানীর আকাশে ঘনঘন উড়োজাহাজ চলাচল চোখে পড়ে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারেরই অংশ।

    এই যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে অঞ্চলটিতে শান্তি ফেরানোর একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয়, এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হয়।