Tag: ইসরায়েল

  • ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসের “ইতিবাচক” সাড়া — বিশ্বনেতারা যা বললেন

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি নড়েচড়ে ওঠলো যখন শুক্রবার হামাস মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া গাজার বিষয়ক প্রস্তাবের সঙ্গে সহমত পোষণ করার খবর দিল। তারা কিছু শর্তে প্রস্তাবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা মেনে নিয়েছে এবং তৎক্ষণাৎ মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

    ট্রাম্প নিজেই হামাসের ওই বিবৃতি তুলে ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন হামাস স্থায়ী শান্তির পথে এগোতে চায় এবং ইসরায়েলকে অবিলম্বে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে হবে, যেন জিম্মিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়। তার আহ্বানের সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়ে।

    ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অন্যান্য পশ্চিম ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা এই অগ্রগতি স্বাগত জানিয়েছে। একইসঙ্গে পাকিস্তান, কাতার ও মিসরের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছে — এখনই যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।

    জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই প্রতিক্রিয়াকে উৎসাহজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং সব পক্ষকে পরিস্থিতি শান্তিভাবেই এগোতে অনুরোধ করেছেন। ইউরোপীয় নেতারা—ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও সংঘবদ্ধ সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আশা ব্যক্ত করেছে যে, এটি জিম্মি মুক্তি ও যুদ্ধবিরতির পথে একটি বড় ধাপ হতে পারে।

    তবে অনেকে সতর্কও: হামাসের সাড়া পুরো ব্যাপারকে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করে না—কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও আলোচনার বাইরে আছে এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তা দাবি, গাজার ভবিষ্যত প্রশাসন ও অস্ত্রবিরতি নিয়ে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। ফলে বাস্তব কাজে যাওয়ার আগে আরও কড়া ব্যাকচেক ও মধ্যস্থতাকারী সংলাপ প্রয়োজন।

    প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল; তাই দ্রুত কিভাবে এগোতে হবে, কোন পর্যায়ে দুপক্ষ সাক্ষর করবে এবং জিম্মিদের মুক্তির পরিকল্পনা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে—এসব প্রশ্ন এখনো ঝুলে আছে। সরাসরি প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হিসাবে ইসরায়েল কিছু ক্ষেত্রে সমন্বয় করতে শুরু করেছে বলে খবর এসেছে।

  • গাজামুখী ফ্লোটিলা আটক, মাত্র চারটি নৌযান এখনো যাত্রাপথে

    গাজামুখী ফ্লোটিলা আটক, মাত্র চারটি নৌযান এখনো যাত্রাপথে

    এবিএনএ: ফিলিস্তিনের গাজাগামী ত্রাণবাহী গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অন্তত ৪৪টি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তবে এখনো চারটি নৌযান যাত্রাপথে রয়েছে বলে ফ্লোটিলা ট্র্যাকার সূত্রে জানা গেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর প্রকাশ করেছে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘সামারটাইম-জং’ ও ‘শিরিন’ নামের দুটি নৌযান আইনি সহায়তার কাজে নিয়োজিত ছিল। এর মধ্যে মিকেনো প্রথম ফিলিস্তিনি জলসীমায় প্রবেশ করে। বর্তমানে মিকেনো ও ম্যারিনেট নৌযান এখনো গন্তব্যের পথে রয়েছে।

    তবে তুরস্কের সংবাদপত্র ইয়েনি সাফাক জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী মিকেনোকে আটক করে নৌযানে থাকা মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেফতার করেছে। তাদের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যেখানে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আটককৃতরা একসঙ্গে নয়, ধাপে ধাপে বন্দরে পৌঁছাবেন।

    ইসরায়েলি বাহিনী ফ্লোটিলার নৌযানগুলোতে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক কর্মীদের আটক করেছে। আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ রয়েছেন। ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, আটকরা নিরাপদ ও সুস্থ আছেন।

    ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ জানায়, আগস্টের শেষ দিকে যাত্রা শুরু করা এই বহরে ছিল ৪০টিরও বেশি বেসামরিক নৌযান। প্রায় ৫০০ স্বেচ্ছাসেবী এতে অংশ নেন, যারা ওষুধ ও খাদ্য বহন করছিলেন। গাজার ওপর দীর্ঘ ইসরায়েলি অবরোধের বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়া এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মনোযোগ কাড়ে। তুরস্ক, স্পেন ও ইতালিসহ কয়েকটি দেশ নিজেদের নাগরিকদের সহায়তায় নৌযান ও ড্রোন পাঠায়। তবে বারবার সতর্কতা দিয়েছিল ইসরায়েল।

    ফ্লোটিলায় অভিযান চালানোয় তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যা দিয়েছে। ইস্তান্বুল প্রসিকিউটরের দপ্তর জানিয়েছে, আটক হওয়া ২৪ জন তুর্কি নাগরিকের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

    কাতারে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

    এবিএনএ: কাতারের রাজধানী দোহা-তে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকালে এই হামলা চালানো হয়। ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক বিবৃতিতে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলার আগে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি কমানোর জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এতে সুনির্দিষ্ট অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার এবং অতিরিক্ত গোয়েন্দা তথ্যের সাহায্য নেওয়া হয়েছে। শিন বেট নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযানে হামাসের ‘উচ্চপদস্থ নেতৃত্বকে’ লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানো হয়েছে।

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসও হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি হামাসের শীর্ষ নেতার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, দোহায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য অবস্থানরত শীর্ষ হামাস নেতাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

    দোহার শহরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতারা জেলার উপরে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। হামলার ফলে পরিস্থিতি তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

  • গাজা দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

    গাজা দখল পরিকল্পনায় নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

    এবিএনএ: গাজা শহর দখলের পরিকল্পনা ঘোষণা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিশ্বনেতারা বলছেন, এই পদক্ষেপ কোনো সমাধান আনবে না, বরং ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ও ধ্বংস ডেকে আনবে। সম্প্রতি ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গাজা শহরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে, যা নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

    যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই সামরিক অভিযানকে ‘ভুল’ আখ্যা দিয়ে উভয় পক্ষকে সংযমের আহ্বান জানান। তার মতে, এই আক্রমণ জিম্মিদের মুক্তি বা সংঘাতের সমাধান নয়, বরং রক্তপাত বাড়াবে। একইভাবে চীনও এই পরিকল্পনা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে গাজাকে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ ঘোষণা দিয়েছেন, গাজায় ব্যবহারের জন্য কোনো সামরিক সরঞ্জাম ইসরায়েলে রপ্তানি করা হবে না। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের পরিপন্থী এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

    ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে অবৈধ ও অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন। হামাস সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলি বন্দিদের জীবনের ঝুঁকি বাড়াবে। এমনকি ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিডও এই পরিকল্পনার নিন্দা করেছেন, দাবি করেছেন নেতানিয়াহু চরম ডানপন্থীদের চাপে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

    নেতানিয়াহু নিজে বলেছেন, গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হামাসকে সরিয়ে দেওয়াই লক্ষ্য। তবে ইসরায়েলের সামরিক প্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, এই পদক্ষেপ জিম্মিদের বিপদে ফেলবে এবং সেনাবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

    এদিকে মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে যাতে সব জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে যুদ্ধ থামানো ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা রয়েছে। কিন্তু গাজা শহরে ইসরায়েলের বারবারের বোমাবর্ষণ ও হামলার ফলে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলে দখল করার মতো তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই।

    ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গত ২২ মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৬১ হাজার ২৫৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৫ জন আহত হয়েছে।

  • গাজায় নীরব ভারত এবার ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক জোট আরও শক্ত করছে

    গাজায় নীরব ভারত এবার ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক জোট আরও শক্ত করছে

    এবিএনএ:  গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেও ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সামরিক সম্পর্ক আরও মজবুত করছে ভারত। নয়াদিল্লিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব রাজেশ কুমার সিং এবং ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির বারাম সামরিক সহযোগিতা জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

    দ্য মিডলইস্ট আই–এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যে এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের অবরোধে দুর্ভিক্ষ ও মৃত্যু মিছিল চলছে। তবুও নয়াদিল্লি মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে।

    বৈঠকে জানানো হয়, ‘দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে’। ভারত স্পষ্টভাবে ইসরায়েলকে তার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র হিসেবে ধরে রাখছে, এমনকি অনেক দেশ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনলেও।

    এটি ছিল গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে একাধিক কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ। এর আগে, দিল্লির মেয়র ও বিজেপি নেতা রাজা ইকবাল সিং ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার-এর সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। সেই বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে গাজায় ইসরায়েলের পাশে থাকার সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

    রাজা ইকবাল সিং বলেন,

    “ভারত ও ইসরায়েলের মধ্যে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী সম্পর্ক।”

    এমন এক সময়ে যখন গাজায় প্রতিদিন মানবিক বিপর্যয়ের খবর আসছে, তখন ভারত সরকার ও বিজেপির নেতাদের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত তার মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও কৌশলগত সামরিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে।

  • গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারাল ৬৭ ফিলিস্তিনি: ইসরায়েলি গুলিতে রক্তাক্ত উত্তরের চিত্র

    গাজায় ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ হারাল ৬৭ ফিলিস্তিনি: ইসরায়েলি গুলিতে রক্তাক্ত উত্তরের চিত্র

    এবিএনএ: গাজার উত্তরে ত্রাণ সংগ্রহ করতে আসা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এতে কমপক্ষে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫০ জন। রবিবার এই তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

    বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতরা জাতিসংঘের সরবরাহকৃত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিতে জড়ো হয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তারা ‘তাৎক্ষণিক সতর্কতামূলক গুলি’ চালিয়েছিল। তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গুলি ছিল নির্বিচার এবং হঠাৎ করেই চালানো হয়।

    এর আগের দিন শনিবারও একইভাবে ৩৬ জন নিহত হন, যারা ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ফলে মাত্র দুই দিনে গাজায় এই ঘটনায় প্রাণ হারালেন ১০০ জনের বেশি। আহতদের অনেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

    উত্তর গাজার শিফা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে অধিকাংশ হতাহতকে। হাসপাতালটির চিকিৎসা পরিচালক ড. হাসান আল-শায়ার জানান, আহতদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে তারা চরম সঙ্কটে পড়েছেন। অনেককে আশপাশের ফিল্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

    জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজার মানুষেরা বর্তমানে চরম খাদ্য ও চিকিৎসা সংকটে ভুগছেন। শিশুদের অপুষ্টি এবং রোগব্যাধির ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

    এদিকে গাজার মধ্যাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ দেইর আল-বালাহ এলাকা থেকে নতুন করে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। বাসিন্দাদেরকে দ্রুত ভূমধ্যসাগর উপকূলবর্তী আল-মাওয়াসি অঞ্চলে চলে যেতে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যৎ আক্রমণের পূর্বাভাস হতে পারে।

    গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটময় হয়ে উঠছে। যুদ্ধবিরতির আহ্বান সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে সংঘাত, যা গোটা অঞ্চলের জন্য মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

  • যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইসরায়েল, পাল্টা হুঁশিয়ারি হামাসের

    যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল ইসরায়েল, পাল্টা হুঁশিয়ারি হামাসের

    এবিএনএ: গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে হামাসের পক্ষ থেকে সব জিম্মি মুক্তির শর্তে একটি পূর্ণ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তবে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল।

    হামাসের সামরিক শাখা কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা বৃহস্পতিবার এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানান। আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, ২০ মিনিটের ওই বার্তায় তিনি বলেন, “ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধে আন্তরিক নয়। তারা শুধু সেনাসদস্যদের নিয়েই চিন্তিত।”

    তিনি জানান, হামাস একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির পক্ষে রয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধবিরতি, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    আবু উবাইদা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কাতারে চলমান আলোচনায় ইসরায়েল যদি আবারও পিছিয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো আংশিক চুক্তির জায়গা থাকবে না।”

    চলমান আলোচনায় একটি ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির খসড়া রয়েছে, যার আওতায় প্রতি ছয় দিনে ১০ জন করে মোট ৫০ জন জিম্মি মুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ জন জীবিত রয়েছেন বলে জানা গেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, “গাজা থেকে আরও ১০ জন জিম্মি খুব শিগগির মুক্তি পাবে।” তিনি আরও দাবি করেন, “আমরা অধিকাংশ জিম্মিকে ইতিমধ্যেই ফিরিয়ে এনেছি। আশা করছি পুরো প্রক্রিয়াটি দ্রুতই শেষ হবে।” তবে তিনি এই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

    আবু উবাইদা মার্চ মাসের পর এই প্রথমবার প্রকাশ্যে বক্তব্য দেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “হামাসের যোদ্ধারা গাজার প্রতিটি অঞ্চলে প্রস্তুত রয়েছে এবং ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।”

    তিনি আরও বলেন, “ইসরায়েলের গণহত্যার বিরুদ্ধে আরব ও মুসলিম দেশের নেতাদের নীরবতা গভীর বিশ্বাসঘাতকতার নামান্তর। আমাদের যুদ্ধ চলবে নিজেদের অধিকার রক্ষায়।”

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ আরও বাড়িয়ে দিল ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্ত এবং হামাসের পাল্টা প্রতিক্রিয়া। এখন বিশ্বের দৃষ্টি কাতারে চলমান আলোচনার দিকে, যেখানে একটি সম্ভাব্য সমাধানের আশার খোঁজে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল।

  • দামেস্কে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের কাছে ইসরায়েলি বিমান হামলা, উত্তপ্ত সিরিয়া

    দামেস্কে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের কাছে ইসরায়েলি বিমান হামলা, উত্তপ্ত সিরিয়া

    এবিএনএ:  ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যকার উত্তেজনা ফের চরমে পৌঁছেছে। বুধবার ভোরে সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসের আশপাশে ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরের কাছে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের সুয়েইদা শহরে সরকারি বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে তারা।

    আল জাজিরা জানিয়েছে, দক্ষিণ সিরিয়ায় দ্রুজ সম্প্রদায়ের বসবাসকারী এলাকাগুলোতে কয়েকদিন ধরে সরকারবিরোধী উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই এলাকাতেই ইসরায়েলি ড্রোন ও বিমান হামলার তীব্রতা বেড়েছে।

    বিবিসির তথ্যমতে, বুধবারের এই হামলায় অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। তারা সবাই সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

    ইসরায়েল কয়েকদিন আগেই সিরিয়ার সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেছিল, তাদের বাহিনী দক্ষিণ থেকে না সরালে আঘাত আসবে। সেই হুঁশিয়ারির বাস্তবায়ন হিসেবেই এই হামলা বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

    আইডিএফ-এর দাবি, দামেস্কের উপকণ্ঠে অবস্থিত সরকারি সামরিক সদর দপ্তরের প্রবেশপথে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলে আরও কিছু কৌশলগত স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে।

    সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া বার্তায়, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ লেখেন—“সতর্কবার্তা শেষ, এবার যন্ত্রণাদায়ক প্রতিক্রিয়া শুরু।”

    এই হামলার পর রাজধানী দামেস্কে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো শহর। আকাশে উড়তে দেখা গেছে বিশাল ধোঁয়ার কুন্ডলি।

    এমন এক সময় এই হামলা চালানো হলো, যখন সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা চরমে, এবং দ্রুজ সম্প্রদায়ের সঙ্গে সরকারপন্থীদের সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

  • লোহিত সাগরে হুতিদের দাপট: ২০ মাসে ৭০ জাহাজে হামলা, নিহত ও নিখোঁজ বহু

    লোহিত সাগরে হুতিদের দাপট: ২০ মাসে ৭০ জাহাজে হামলা, নিহত ও নিখোঁজ বহু

    এবিএনএ: গত ২০ মাস ধরে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী। সর্বশেষ হামলায় তারা দুটি জাহাজ ডুবিয়ে দেয় এবং বেশ কয়েকজন নাবিক নিহত ও নিখোঁজ হন। নভেম্বর ২০২৩ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তারা অন্তত ৭০টি জাহাজে আক্রমণ করেছে, যা আন্তর্জাতিক নৌপথে বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠেছে।

    জানা গেছে, হুতিরা প্রকাশ্যে বলছে—তারা কেবল ইসরায়েল-সংযুক্ত জাহাজ লক্ষ্য করেই আঘাত হানছে। তবে বাস্তবে তাদের হামলার শিকার অনেক জাহাজের সঙ্গেই ইসরায়েলের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।

    সর্বশেষ ৭ জুলাই হুতিরা ‘ম্যাজিক সি’ ও ‘ইটার্নিটি সি’ নামে দুটি জাহাজে হামলা চালায়। ম্যাজিক সি-র ২২ জন ক্রু কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও, ইটার্নিটি সি-তে ২৫ জন আরোহীর মধ্যে অনেকে নিহত হন ও বেশ কয়েকজনকে হুতিরা অপহরণ করে নিয়ে যায়।

    এই আক্রমণ দু’টি ঘটেছিল ইয়েমেন উপকূল থেকে প্রায় ৫১ নটিক্যাল মাইল দূরে, লোহিত সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায়। হুতিরা ছোট জাহাজে চড়ে এবং কামিকাজে ড্রোন ব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ধরে চলা অপারেশনের মাধ্যমে হামলা চালায়। পুরো মিশনটি ছিল পরিকল্পিত ও সুসমন্বিত, যা সংঘটিত করতে দুই দিন সময় নেয় তারা।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ওই আক্রমণের সময় কোনো সহযোগী জাহাজ বা সামরিক বাহিনী এগিয়ে আসেনি। অথচ এই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীনের নৌবাহিনীর সক্রিয় উপস্থিতি থাকার কথা। ২০২৩ সালে এই হুমকি মোকাবেলায় ‘প্রোসপারিটি গার্ডিয়ান’ নামে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা জোট গঠিত হলেও কার্যকর প্রতিক্রিয়া প্রায় অনুপস্থিত।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, হুতিদের এই আগ্রাসী কৌশল শুধু নৌপথ নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যকেই অস্থির করে তুলছে। প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় আকারে আক্রমণের পরও কেন বিশ্বশক্তিগুলো প্রতিক্রিয়া জানাতে ব্যর্থ হচ্ছে?

    বর্তমানে হুতিদের হামলার ধরন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। তারা শুধু দূর থেকে ড্রোন হামলা নয়, বরং নৌযান চড়ে সরাসরি হামলার কৌশলও গ্রহণ করছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ সংকেত।

  • ইরানের কাছে এখনো অস্ত্রমান ইউরেনিয়াম! ফের হামলার হুমকি ইসরায়েলের

    ইরানের কাছে এখনো অস্ত্রমান ইউরেনিয়াম! ফের হামলার হুমকি ইসরায়েলের

    এবিএনএ:  যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা হামলার পরও ইরানের কাছে এখনো রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম—এমন দাবি তুলে ফের উত্তেজনা ছড়াল ইসরায়েল। তেল আবিবের আশঙ্কা, এই ইউরেনিয়ামকে কাজে লাগিয়ে তেহরান পরমাণু বোমা তৈরির পথে অগ্রসর হতে পারে।

    বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের এক শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, ইরানের বহু সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস হলেও, ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি অংশ এখনো সুরক্ষিতভাবে সংরক্ষিত আছে, যা অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট। ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি এই ইউরেনিয়াম ব্যবহারের চেষ্টা করে, তাহলে ইসরায়েল প্রতিক্রিয়া দিতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।

    ২০২৪ সালের ২২ জুন, যুক্তরাষ্ট্র ৩০ হাজার পাউন্ড ওজনের বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা ব্যবহার করে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। তখন দাবি করা হয় যে, ইরানের পরমাণু কার্যক্রম পুরোপুরি থেমে গেছে।

    তবে সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল জানান, তারা ইরানের পারমাণবিক অগ্রগতি অন্তত এক থেকে দুই বছর পিছিয়ে দিতে পেরেছে—তবে এই বক্তব্যের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।

    ইসরায়েলের মতে, ইরানের ১৮ হাজার সেন্ট্রিফিউজের অধিকাংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও, কিছু ইউরেনিয়াম নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়েছিল। যদিও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মহাসচিব রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরান হামলার আগেই তাদের ইউরেনিয়াম মজুত অন্যত্র সরিয়ে ফেলেছিল।

    ইসরায়েলি কর্মকর্তা এই দাবিকে ‘অবাস্তব’ উল্লেখ করে বলেন, “সেই পরিমাণ ইউরেনিয়াম অত দ্রুত সরিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব।”

    তেল আবিবের দাবি অনুযায়ী, ইরান এখন আগের চেয়ে আরও দ্রুত গতিতে পারমাণবিক বোমা তৈরির দিকে এগোচ্ছে। গত ১০ মাসে হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হওয়ার পর তেহরান এই কর্মসূচি জোরদার করেছে বলেও অভিযোগ করেছে তারা।

    মার্কিন রাজনীতিতেও ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। দেশটির গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড মনে করেন, ইরান এখনো পরমাণু বোমা তৈরির পর্যায়ে যায়নি। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরেই বিপরীত দাবি করে আসছেন এবং ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    গত ১৩ জুন থেকে ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হাইফা ও তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে কিছু স্পর্শকাতর স্থাপনাতেও আঘাত হানে।

    এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এক বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।