Tag: ইসরায়েল

  • যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    যুক্তরাষ্ট্র ইরান ইস্যুতে হস্তক্ষেপ করলে পরিণতি ভয়াবহ হবে: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ:  মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এবার সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলো রাশিয়া। মস্কোর কড়া বক্তব্য—এই সংকটে ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপ শুধু পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার মুখে ঠেলে দেবে।

    রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস-কে জানান, “যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরান ইস্যুতে সেনা বা কূটনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে সেটি একটি ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের সূচনা করতে পারে।”

    যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া—দুটি বিপরীত শিবিরে

    ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় দুটি পরাশক্তি এখন স্পষ্টভাবে দুই বিপরীত অবস্থানে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে ইরানের ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন, অন্যদিকে রাশিয়া তেহরানকে তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে রক্ষা করছে। এ বছরের শুরুতে পুতিন ও ইরানের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে সই হয় একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি, যাতে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

    বিশ্লেষকদের শঙ্কা: বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংকট শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয় নয়—এটি বিশ্ব কূটনীতির ভারসাম্যও নাড়িয়ে দিতে পারে। রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কিছুটা স্থিতিশীলতার দিকে থাকলেও এই ইস্যু তা আবার উত্তপ্ত করে তুলছে। বিশেষ করে, ট্রাম্পের সম্ভাব্য পুনঃনির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি আরও আক্রমণাত্মক হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

    এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ব্যর্থতা বা অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ যে কত বড় বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে, সেটাই যেন রাশিয়া বিশ্বের সামনে তুলে ধরছে।

  • “আমি করতেও পারি, নাও পারি”— ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ধোঁয়াশাপূর্ণ মন্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা

    “আমি করতেও পারি, নাও পারি”— ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ধোঁয়াশাপূর্ণ মন্তব্যে বাড়ছে উত্তেজনা

    এবিএনএ:  ইরান ও ইসরায়েলের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চলেছে— এমন গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে। বিষয়টি ঘিরে একাধিকবার ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি দিলেন ধোঁয়াশাপূর্ণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ উত্তর।

    এক সাংবাদিক জানতে চান, “যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পরিকল্পনা করছে?”
    এর জবাবে ট্রাম্প বলেন,
    “আমি এ বিষয়ে কিছু বলছি না… আপনি কি সত্যিই ভাবছেন যে আমি এমন প্রশ্নের জবাব দেব?”

    তিনি আরও বলেন,
    “আপনি জানেন না আমি কী করব। আমি হামলা চালাতেও পারি, নাও চালাতে পারি। কেউ জানে না আমি আসলে কী করতে যাচ্ছি।”
    এই বক্তব্যে যেন উত্তেজনার আগুনে ঘি ঢাললেন ট্রাম্প।

    ট্রাম্প আরও বলেন,
    “ইরান এখন অনেক সমস্যায় আছে। তারা আলোচনা করতে চায়। আমি আগেই বলেছিলাম— কেন তারা আগেই আমার সঙ্গে বসেনি? এত প্রাণহানি, এত ধ্বংসের আগেই তো আলোচনার সুযোগ ছিল। তারা যদি দুই সপ্তাহ আগে কথা বলত, তাহলে তাদের একটা দেশ থাকত।”

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সম্ভাবনা এড়িয়ে না গিয়ে বরং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছেন। তাঁর কথায় রয়েছে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের ছায়া, যা পরমাণু উত্তেজনার সময় আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

    মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

  • ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে বিশ্ব: রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি

    এবিএনএ: ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বুধবার এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, “বিশ্ব এখন এক চুলের ব্যবধানে বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে।”

    জাখারোভা সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ইসরায়েল বারবার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানছে, যা গোটা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তাঁর মতে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো বিশ্বকে ভয়াবহ পারমাণবিক সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।

    কূটনৈতিক পর্যায়ে চলছে আলোচনা:
    রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানিয়েছেন, ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মস্কোর নিয়মিত আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স-এর বরাত দিয়ে আল-জাজিরা জানায়, মস্কো এই সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে নিরসনের পক্ষে কাজ করছে।

    রিয়াবকভ আরও বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেয়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি এক ভয়াবহ অস্থিরতার দিকে যাবে। এতে শুধু এই অঞ্চলই নয়, গোটা পৃথিবী প্রভাবিত হবে।”

    বিশ্লেষকদের মত:
    আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার এমন হুঁশিয়ারি বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপকে প্রভাবিত করতে পারে। একইসঙ্গে এটি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আনতে পারে।

  • ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

    ইসরায়েলে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৪: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

    এবিএনএ: ইসরায়েলের ওপর ইরান ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েছে—এমনটাই জানিয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়। বুধবার ইসরায়েলি দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত শুক্রবার থেকে শুরু করে ইরান এখন পর্যন্ত ৪০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। পাশাপাশি পাঠানো হয়েছে শত শত ড্রোন, যার অধিকাংশই ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে।

    এই হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৮০০ জনেরও বেশি। এছাড়া প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে অন্তত ৩ হাজার ৮০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে।

    অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকেও ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে। তেহরানের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে ইরানে অন্তত ২২৪ জন নিহত হয়েছে।

    মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। জাতিসংঘসহ একাধিক বিশ্বসংস্থা দ্রুত শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তাল, এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা যে কোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • তেহরানের ‘পুরো আকাশ’ দখলে নেওয়ার দাবি ইসরায়েলের

    তেহরানের ‘পুরো আকাশ’ দখলে নেওয়ার দাবি ইসরায়েলের

    এবিএনএ:

    ইরানের রাজধানী তেহরানের আকাশসীমা নিজেদের দখলে নেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ এর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি ডেফরিন দাবি করেছেন, তারা তেহরানের আকাশসীমার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম হয়েছে।

    এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা ইরান সরকারের এক তৃতীয়াংশ মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস করে ফেলেছি।’ গত শুক্রবার ইরানের ওপর এক নজিরবিহীন হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাসহ পরমাণু বিজ্ঞানী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিহত হন। তেহরান দাবি করেছে, হামলায় ৭৮ জন প্রাণ হারিয়েছে।

    এরপর শনিবার রাতভর পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছিল ইসরায়েল ও ইরান। এতে উভয় দেশেই বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সরকার জানিয়েছে, ইরান মোট ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইসরায়েলে। অন্তত ২২টি এলাকায় আঘাত হেনেছে এই মিসাইল ও ড্রোন। ১৩ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৩৮০ জন ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছে। তাদের দাবি, হতাহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে।

  • ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরায়েল, ফের বাজল সাইরেন

    ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তাল ইসরায়েল, ফের বাজল সাইরেন

    এবিএনএ:

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তরের পাল্টা উত্তরের মাধ্যমে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইরান ফের ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

    এই হামলার জবাবে ইসরায়েল রাজধানীসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা সাইরেন বাজিয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলাগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে।

    তবে এখন পর্যন্ত এই নতুন হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

    এর আগে শনিবার রাতভর দুই দেশের মধ্যে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলা হয়। তাতে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। সেসব হামলার রেশ না কাটতেই আবারও ইরানের আক্রমণ পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষ নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে মরিয়া।

  • তেল আবিবে ইরানের পাল্টা হামলা, ব্যর্থ আয়রন ডোমে ধসে পড়ে সামরিক সদর দপ্তর

    তেল আবিবে ইরানের পাল্টা হামলা, ব্যর্থ আয়রন ডোমে ধসে পড়ে সামরিক সদর দপ্তর

    এবিএনএ:

    ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার নতুন অধ্যায়ে শনিবার ভোরে তেল আবিবে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলের অতি প্রশংসিত আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তেল আবিবের কিরিয়া এলাকায় অবস্থিত সামরিক সদর দপ্তরে আঘাত হানে।

    এই ঘটনায় ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলার দায় স্বীকার করা হয়েছে, যা তারা “প্রতিশোধমূলক অভিযান” হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আকাশে উড়ে যাওয়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রকে আয়রন ডোম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও সেটি ব্যর্থ হয়। মুহূর্তেই বিশাল বিস্ফোরণে আলোকচ্ছটা এবং আগুনে ছেয়ে যায় সামরিক সদর দপ্তরের একটি অংশ। ঘটনাস্থলের কাছেই ছিল মার্গানিট টাওয়ার, যেখানে আইডিএফের (ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্স) বেশ কয়েকটি অফিস রয়েছে।

    শুক্রবার সকালে ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালায়। এতে ইরানের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও বিজ্ঞানী নিহত হন। এর জবাবেই শনিবার ইরান এই পাল্টা হামলা চালায় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

    ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ হামলার সত্যতা স্বীকার করলেও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে দেশটির গোয়েন্দা সূত্র বলছে, হতাহতের সংখ্যা বেশ উল্লেখযোগ্য হতে পারে।

    এই হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানালেও পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: ইরানের পাল্টা হামলায় বদলে গেল যুদ্ধের দৃশ্যপট

    মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে: ইরানের পাল্টা হামলায় বদলে গেল যুদ্ধের দৃশ্যপট

    এবিএনএ:

    মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে উত্তেজনার আগুন। বিতর্কিত এক সামরিক অভিযানের জবাবে ইরান শুরু করেছে পাল্টা হামলা, যা পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

    ইরানি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে আমাদের জবাব ছিল অনিবার্য। যারা ইরানের সীমান্তে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে, তাদের জবাব পেতেই হবে।”

    এদিকে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ইরানের পাল্টা হামলায় সীমান্তবর্তী কয়েকটি কৌশলগত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় সময় রাতের অন্ধকারে চালানো এই হামলা ছিল সুপরিকল্পিত এবং লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। ইরান ও প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সামান্য উসকানিতেই বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে।

    আন্তর্জাতিক মহল এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম দেখাতে বলেছে।

    এমন প্রেক্ষাপটে, সাধারণ মানুষ ও বিশ্ববাজারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে, শেয়ারবাজারে পতনের আভাসও মিলেছে।

    ইরানের এই পাল্টা হামলা শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক পর্যায়েও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বড় সংঘাতে পরিণত হতে পারে, যদি না দ্রুত সংলাপ ও সমঝোতার পথে ফিরে আসা যায়।

  • গাজায় ত্রাণের ট্রাক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা, প্রাণ গেল পাঁচজনের

    গাজায় ত্রাণের ট্রাক লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা, প্রাণ গেল পাঁচজনের

    এবিএনএ: 

    দক্ষিণ গাজার আল মাওয়াসি এলাকায় ত্রাণ নিতে আসা নিরীহ ফিলিস্তিনিদের ওপর শনিবার ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ওই হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

    আলজাজিরা জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী যদিও গাজার কিছু এলাকায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে, তবে উত্তর গাজায় এখনও একরকম অবরুদ্ধ অবস্থাই বজায় আছে। সেখানে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। গাজার বাসিন্দা আহমেদ আল নাজ্জার বলেন, “দক্ষিণে কিছু ট্রাক ঢুকেছে, তবে আমাদের বহু পরিবার এখনও একটি বিস্কুট পর্যন্ত পায়নি।”

    শনিবার পর্যন্ত, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে মৃতের সংখ্যা ৫৩ হাজার ৯০০ ছাড়িয়েছে, আর আহতের সংখ্যা ১ লাখ ২২ হাজার ৫০০-এর বেশি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশিরভাগ হতাহতই নারী ও শিশু।

    ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, গত দুই দিনে তারা গাজায় ১০০-র বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৭০ জন ফিলিস্তিনি। গাজা সিটির তুফা এলাকায় ভোররাতে বোমা বর্ষণে প্রাণ যায় চারজনের। এর পাশাপাশি, মধ্য গাজার দায়ের আল বালাহ অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনারা স্থল অভিযান শুরু করেছে।

    ৯২টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করলেও উত্তর গাজা রয়ে গেছে বঞ্চিত

    গাজার চিকিৎসা বিভাগের প্রধান জানান, গত তিন দিনে মোট ৯২টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করলেও, সেগুলো শুধুমাত্র দক্ষিণ অংশেই গেছে। উত্তর গাজায় এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আংশিক ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা গাজার সার্বিক সংকটকে খুব একটা লাঘব করছে না।

    ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবঢাল ব্যবহার করার অভিযোগ

    ফিলিস্তিনের এক বাসিন্দা মাসুদ আবু সাইদ জানান, তাকে খান ইউনিস এলাকায় জোর করে দুই সপ্তাহ ধরে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। “আমাকে জোর করে হামাসের টানেল খুঁজে বের করতে বাধ্য করা হয়েছিল,” বলেন মাসুদ। তিনি বলেন, “আমার শিশু সন্তানের কাছে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।”

    জাতিসংঘের আহ্বান: ত্রাণ আরও বাড়াতে হবে

    গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। জাতিসংঘ বলছে, গাজায় প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় ত্রাণের পরিমাণ অনেক কম। তারা দ্রুত ও ব্যাপক হারে ত্রাণ সরবরাহ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    এদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় ইসরায়েলের এই আচরণকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এখন বড় প্রশ্ন: এই সংঘাত কতদিন চলবে এবং কত প্রাণ আরও ঝরবে?

  • গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দক্ষিণে ‘অ্যাপোক্যালিপস’-সদৃশ হামলা!

    গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, দক্ষিণে ‘অ্যাপোক্যালিপস’-সদৃশ হামলা!

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সোমবার এক ভিডিও বার্তায় তিনি গাজার পুরো ভূখণ্ডের উপর ইসরায়েলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন। এরই সঙ্গে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস শহরে ‘অভূতপূর্ব’ হামলার পূর্ব-বার্তা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যেতে বলা হয়। এএফপি-খবরে উঠে এসেছে এই তথ্য।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরস আধানম গেব্রেয়েসুস একই সময় সতর্ক করেন, গাজায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ এখন অনাহারের মুখে। তাঁর ভাষায়, “টনকে টন খাদ্যসামগ্রী সীমান্তে আটকে আছে, অথচ তা গন্তব্য থেকে মাত্র মিনিটখানেক দূরে।”

    ইসরায়েল সম্প্রতি সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিলেও জাতিসংঘ অন্যান্য সংস্থাগুলো একে মানবিক বিপর্যয় মোকাবিলায় একেবারেই ‘অপর্যাপ্ত’ বলেই চিহ্নিত করেছে।

    নেতানিয়াহু বলেন, “লড়াই এখন আরও তীব্র হচ্ছে। আমরা একের পর এক সাফল্য অর্জন করছি এবং গাজার প্রতিটি ইঞ্চি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্যই এগোচ্ছি। পিছু হটার প্রশ্নই ওঠে না।”

    মে মাসের শুরুতেই ইসরায়েল একটি সামরিক পরিকল্পনা অনুমোদন করে যার মূল লক্ষ্য গাজার পূর্ণ দখল এবং জনগণকে স্থানচ্যুত করা।

    ত্রাণ বিতরণ নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

    তবে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভির স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমাদের জিম্মিদের যদি কোনো মানবিক সহায়তা না মেলে, তাহলে শত্রুপক্ষও কোনো সহায়তা পাবে না।” অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ কিছু সীমিত সহায়তাকে সমর্থন করে বলেন, “এই সহায়তা শুধুই বেসামরিক মানুষের জন্য এবং এটি আমাদের আন্তর্জাতিক সহযোগীদের সমর্থন ধরে রাখার কৌশল।”

    খান ইউনিসে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবন

    সোমবার দিনভর ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় অন্তত ১৬০টি স্থানে হামলা চালায়। শুধু খান ইউনিসেই প্রাণ হারান ১১ জন, অন্যত্র আরও ১১ জন নিহত হন।

    খান ইউনিস থেকে এএফপি জানায়, আহতদের বহন করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। শিশুরা কেউ ট্র্যাকস্যুটে, কেউ রক্তাক্ত শরীরে নগ্ন পায়ে মেঝেতে বসে। চারপাশে শুধু কান্না, আতঙ্ক আর ধ্বংস।

    গাজার বাসিন্দা মোহাম্মদ সারহান বলেন, “প্রতিটি দিক থেকে গুলি, আগুন, হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান—যেন এক ভয়াবহ বিভীষিকা।”

    উত্তর গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে ভাই হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আয়মান বাদওয়ান। “আমরা সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত। দেহে শক্তি নেই, মনের মধ্যে ভর করে আছে আতঙ্ক। এখনই আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”

    প্রাণহানির পরিসংখ্যান

    ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হন ১,২১৮ জন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন বেসামরিক। মোট ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়, যাদের মধ্যে এখনও ৫৭ জন গাজায় অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ৩৪ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন।

    ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলের সর্বশেষ আক্রমণে গাজায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩,১৯৩ জন। মোট মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৩,৩৩৯-এ, যা গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী প্রকাশিত।