Tag: ইসরায়েল

  • ইসরায়েলে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা জবাবে বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলা

    ইসরায়েলে ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, পাল্টা জবাবে বন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইসরায়েলি হামলা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলের দিকে পরপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। সোমবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করার কিছুক্ষণ পর ইয়েমেন থেকে দুটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং বিষয়টি এখনও বিশ্লেষণাধীন।

    ঘটনার জবাবে ইসরায়েল তাৎক্ষণিকভাবে বিমান হামলা চালায় ইয়েমেনের হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলোতে। পশ্চিমাঞ্চলীয় হোদেইদাহ, রাস ইসা ও সাইফ বন্দরসহ অন্তত তিনটি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালায়। একইসঙ্গে, রাস কান্টিব নামের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি জাহাজও ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, হুতিদের হামলার প্রতিশোধ নিতে এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

    রয়টার্স জানিয়েছে, এটি গত এক মাসের মধ্যে ইয়েমেনের ওপর ইসরায়েলের প্রথম হামলা। হোদেইদাহ শহরের বাসিন্দাদের আগে থেকেই বিমান হামলার সতর্কতা দিয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    হুতি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, হোদেইদাহ বন্দরে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এ পর্যন্ত হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানা যায়নি।

    এছাড়া হুতিরা জানায়, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের মোকাবিলা করেছে এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


    ইসরায়েল-হুতি সংঘর্ষ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুই পক্ষের টানা পাল্টাপাল্টি হামলা অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট বাড়াতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।

  • ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই মৃত্যুদণ্ড! ইরানের সংসদে পাস হলো চাঞ্চল্যকর আইন

    ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক মানেই মৃত্যুদণ্ড! ইরানের সংসদে পাস হলো চাঞ্চল্যকর আইন

    এবিএনএ:  ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের যোগাযোগ এখন থেকে ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে একটি নতুন আইন পাস হয়েছে, যেখানে দখলদার ইসরায়েল ও তার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বা সহযোগিতাকে ‘পৃথিবীতে দুর্নীতির’ শামিল বলা হয়েছে।

    আইনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তি, প্রযুক্তিগত সহায়তা কিংবা যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। বিশেষভাবে বলা হয়েছে, যারা ইসরায়েলকে সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে, তাদের ‘কঠিনতম শাস্তি’ পেতে হবে।

    শুধু তাই নয়, স্টারলিংকসহ অনুমোদনবিহীন ইন্টারনেট সরঞ্জাম যেমন— রাউটার, রিসিভার ইত্যাদি বিক্রি, ব্যবহার বা মালিকানাকেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং দশটির বেশি সরঞ্জাম আমদানি বা তৈরি করলে ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

    জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের অবসানকে স্বাগত জানিয়ে পারমাণবিক আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই আলোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

    ইরান জানায়, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে। তবে ইসরায়েল এবং তার পশ্চিমা মিত্ররা সন্দেহ পোষণ করছে যে, তেহরান পরোক্ষভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে।

    এদিকে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান থেকে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করা হয়েছে। ইরানের ডিফেন্স নিউজ পোর্টাল ডেফা প্রেস জানিয়েছে, এতে ইসরায়েলের অন্তত ৩১ হাজার ভবন ও ৪ হাজার যানবাহন আংশিক বা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

    তাদের ভাষ্য, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, ইরানি হামলা ইসরায়েলের উপর “ব্যাপক ও অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি” ডেকে এনেছে।

  • ত্রাণের বদলে মৃত্যু! গাজার ত্রাণকেন্দ্র রূপ নিয়েছে ইসরায়েলি ‘বধ্যভূমিতে’

    ত্রাণের বদলে মৃত্যু! গাজার ত্রাণকেন্দ্র রূপ নিয়েছে ইসরায়েলি ‘বধ্যভূমিতে’

    ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে গাজা উপত্যকা। ত্রাণ নিতে গিয়ে প্রাণ দিতে হচ্ছে অসংখ্য ফিলিস্তিনিকে। খাবারের খোঁজে বেরিয়ে পড়া মানুষদের গুলিতে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।

    গাজার বাসিন্দা ইউসেফ আল-আজুরি বলেন, “আমার সন্তানরা সারাক্ষণ ক্ষুধায় কাঁদছে। খাবার নেই, ডাল দিয়ে পেট ভরে না। ত্রাণ নিতে রাতের আঁধারে হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হয়। পথে পথে ওঁত পেতে থাকে স্নাইপার। কেউ কেউ জীবিত ফিরে আসে না।”

    ইসরায়েল কয়েক সপ্তাহ আগে সীমিতসংখ্যক ত্রাণ ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দিলেও সেটিই যেন পরিণত হয়েছে গণহত্যার কৌশলে। তথাকথিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে ত্রাণ দেওয়ার নামে চলছে নির্মম হত্যা। জাতিসংঘের স্বীকৃতিও নেই এই সংগঠনের।

    সোমবার মাত্র একদিনেই ত্রাণ আনতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ১৩ জন। মে মাসের ২৭ তারিখ থেকে এ পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৮৩ জন, আহত হয়েছেন ৪১৮৬ জনেরও বেশি

    ইসরায়েলের এক সেনা হারেৎজ পত্রিকাকে জানান, “এই ত্রাণকেন্দ্রগুলো এখন আসলে ‘কিলিং ফিল্ড’। আমাদের উচ্চপর্যায় থেকেই এমন নির্দেশ এসেছে।”

    ❗ শিশুদের জন্য একফোঁটা দুধও নেই

    শিশুদের অবস্থা আরও করুণ। আল আকসা মার্টার্স হাসপাতালের মুখপাত্র জানান, ৬০ হাজারের বেশি শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে। কোনো দুধ নেই, নেই পর্যাপ্ত খাবার। ধীরে ধীরে তারা মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে।

    💣 হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় বিমান হামলা

    শুধু গুলি নয়, বিমান হামলার মাত্রাও দিন দিন বেড়ে চলছে। সোমবারেই ৪৮ জন নিহত হন বিমান হামলায়। উত্তর গাজার একটি সমুদ্রতীরবর্তী ক্যাফেতে চালানো এক হামলায় ২০ জন নিহত ও বহু আহত হন।

    এছাড়া, মধ্য গাজার আল আকসা মার্টার্স হাসপাতালেও হামলা হয়েছে। খান ইউনিস অঞ্চলে ধ্বংস করা হচ্ছে ঘরবাড়ি।

    ☠️ গাজায় প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৫৬ হাজার

    ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬,৫৩১ জনে, আর আহতের সংখ্যা ১,৩৩,৬৪২

    গাজার আকাশে এখনো ভেসে বেড়ায় বোমার শব্দ। ক্ষুধা, আতঙ্ক আর মৃত্যুর এই উপত্যকায় প্রতিদিন নতুন করে শুরু হয় একটি বেঁচে থাকার লড়াই।


  • ইরানের বাবলসারে বিস্ফোরণের শব্দ, যুদ্ধবিরতি ভাঙার আশঙ্কায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    ইরানের বাবলসারে বিস্ফোরণের শব্দ, যুদ্ধবিরতি ভাঙার আশঙ্কায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি

    এবিএনএ: ইরানের উত্তরের শহর বাবলসারে মঙ্গলবার রাতের দিকে আকস্মিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইসনা জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই ওই অঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়।

    স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত জোরালো এবং বিস্ফোরণের পর আকাশে অস্বাভাবিক আলো দেখা গেছে। ঘটনার সঠিক কারণ এখনো জানা না গেলেও সামরিক তৎপরতার আশঙ্কা বাড়ছে।

    এরই মধ্যে ইসরায়েল অভিযোগ করেছে, ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে সরকারিভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আঘাত হানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জমির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরান ভয়ানকভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং এর কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

    তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি ও ইসনা জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর তেহরান থেকে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়নি। ইরানের সামরিক প্রধান আবদুলরহিম মুসাভি দাবি করেন, তারা শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করছে এবং উসকানিতে সাড়া দিচ্ছে না।

    এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে জানান, ইরান ও ইসরায়েল পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “উভয় দেশকে বলছি, কেউ এই চুক্তি ভঙ্গ করবেন না।”

    তবে সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগে স্পষ্ট হয়েছে, উত্তেজনা এখনও প্রশমিত হয়নি। ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ নতুন করে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে।

  • ‘বোমা ফেলো না, এখনই পাইলট ফিরিয়ে নাও’: ইসরায়েলকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    ‘বোমা ফেলো না, এখনই পাইলট ফিরিয়ে নাও’: ইসরায়েলকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের

    এবিএনএ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া ভাষায় ইসরায়েলকে সতর্ক করেছেন— “বোমা ফেলো না, পাইলটদের ফিরিয়ে আনো এখনই”। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঘন্টাখানেক পরই এই বার্তা দেন ট্রাম্প।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস, এএফপি ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানেও তিনি একই বার্তা দেন— বোমা হামলা চালানো হবে ‘চুক্তিভঙ্গ’।

    ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বলেন,

    “ইসরায়েল, দয়া করে বোমা ফেলো না। এটা হলে বড় ধরনের চুক্তিভঙ্গ হবে। তোমাদের পাইলটদের এখনই ফিরিয়ে আনো।”

    এই সময় ট্রাম্প জানান, ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ইসরায়েল বলেছে তারা প্রস্তাবে রাজি, এবং ইরান জানিয়েছে, যদি ইসরায়েল হামলা বন্ধ করে, তারাও পাল্টা হামলা চালাবে না।

    কিন্তু, একই সময় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায় তারা ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। অপরদিকে, তেহরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

    অ্যাক্সিওস বলেছে, ট্রাম্পের অনুরোধ সত্ত্বেও নেতানিয়াহু জানিয়েছেন তিনি হামলা বাতিল করতে পারবেন না। কারণ, ইরান যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, এই হামলা হবে সীমিত পরিসরে এবং কেবল একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে।

    বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই জটিল সময়ে ট্রাম্পের এই বার্তা স্পষ্টভাবে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবধানতা এবং রাজনৈতিক ভারসাম্যের ইঙ্গিত বহন করছে।

  • ইসরায়েলের গোপন বার্তা ইরানে: যুদ্ধ শেষের পথে কি শান্তির সম্ভাবনা?

    ইসরায়েলের গোপন বার্তা ইরানে: যুদ্ধ শেষের পথে কি শান্তির সম্ভাবনা?

    এবিএনএ: ইরানের সঙ্গে চলমান সঙ্ঘাতের অবসান চায় ইসরায়েল। মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, ইসরায়েল ইতোমধ্যে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে একটি গোপন বার্তা পাঠিয়েছে। সেই বার্তায় জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে ইসরায়েল বর্তমান সামরিক অভিযান থামাতে প্রস্তুত।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালচ্যানেল-১২–এর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শিরোনামের সামরিক অভিযানে ইরানকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে ইসরায়েল। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা দমন করাই এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য।

    যুক্তরাষ্ট্র আরব দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে বার্তা পাঠিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করে, তবে ইসরায়েল হামলা বন্ধে আগ্রহী।

    ইসরায়েলি এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “এই যুদ্ধ থামানো ইসরায়েলের পক্ষে এখনই সম্ভব। সবকিছু নির্ভর করছে ইরানের পদক্ষেপের ওপর।” তিনি বলেন, পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি হলে ইসরায়েল এ অভিযান বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত।

    প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ইসরায়েলের সামনে দুইটি পথ খোলা—
    ১. একতরফাভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণা করে হামলা থামানো।
    ২. যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় উভয়পক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো।

    তবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ না করলে, ইসরায়েল আরও বড় পরিসরের জবাবি হামলায় যেতে প্রস্তুত। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা জানায়, ইসরায়েল তেহরানের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে কড়া বার্তা দিতে চেয়েছে— যদি ইরান থামাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন হামলার মাত্রা আরও বাড়বে।

    নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হচ্ছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিই যুদ্ধ থামানোর ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ আক্রমণ ইরানকে আবারও আলোচনা টেবিলে ফিরিয়ে আনবে— এই আশাই করছে তেলআবিব।

    তবে ইরান ফের পারমাণবিক কর্মসূচি শুরু করলে, ইসরায়েলও ফেরত যাবে তাদের আগ্রাসী অবস্থানে।

    রবিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, “আমরা আমাদের যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি। আমরা চাই না দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, তবে ইরানের পারমাণবিক হুমকি দূর না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।”

  • আরও এক ইরানি পারমাণবিক বিজ্ঞানীর মৃত্যু নিশ্চিত, সংখ্যা দাঁড়াল ১০-এ

    আরও এক ইরানি পারমাণবিক বিজ্ঞানীর মৃত্যু নিশ্চিত, সংখ্যা দাঁড়াল ১০-এ

    এবিএনএ:  ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, ইসরায়েলের একটি গোপন অভিযানে আরও একজন ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম ইসার তাবাতাবেই ঘোমশেহ। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারিভাবে মৃত বিজ্ঞানীর সংখ্যা দাঁড়ালো ১০ জনে

    নিহতের বিষয়ে প্রথম নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করে তেহরানের স্বনামধন্য শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউজলেটারে ঘোমশেহকে “প্রাক্তন ছাত্র” হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, তিনি গত সপ্তাহের শেষদিকে নিজ বাড়িতে স্ত্রী মানসুরেহ হাজিসালেমের সঙ্গে নিহত হন

    এর আগে ইরান সরকার আরও ৯ জন পারমাণবিক বিজ্ঞানীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল। এদের মধ্যে আছেন:

    • ফেরেদুন আব্বাসি – প্রাক্তন প্রধান, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সংস্থা

    • মোহাম্মদ মেহেদী তেহরানচি – সভাপতি, ইসলামিক আজাদ বিশ্ববিদ্যালয়

    • আব্দুলহামিদ মিনুচেহর, আহমেদ রেজা জোলফাগারি ও আমিরহোসেন ফেঘি – শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক

    • আকবর মোতালেবিজাদেহ, আলী বাকি করিমি, মনসুর আসগারি ও সাইদ বোরজি – বিভিন্ন পারমাণবিক ও গবেষণা কর্মে যুক্ত ছিলেন

    ⚔️ ইসরায়েলি অভিযান: অপারেশন ‘নার্নিয়া’

    ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২ দাবি করেছে, তারা ‘অপারেশন নার্নিয়া’ নামের একটি বিশেষ অভিযানের অধীনে নয়জন ইরানি পরমাণু বিজ্ঞানীকে একযোগে হত্যা করেছে। এরপর ঘোমশেহ নিহত হন, যিনি ছিলেন এই অভিযানের দশম লক্ষ্য

    এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া না এলেও, দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে চলছে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ। বিষয়টি ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যেই এই টার্গেটেড কিলিং পরিচালিত হচ্ছে।

  • খামেনিকে হত্যার হুমকিতে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে একহাত নিল ইরানের সংখ্যালঘু ধর্মীয় নেতারা

    খামেনিকে হত্যার হুমকিতে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে একহাত নিল ইরানের সংখ্যালঘু ধর্মীয় নেতারা

    এবিএনএ:  ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার হুমকির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক আচরণকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ’ বলে উল্লেখ করেছেন ইহুদি, খ্রিস্টান, জোরোঅ্যাস্ট্রিয়ান এবং মান্দায়ান ধর্মের শীর্ষ নেতারা।

    শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে, তাঁরা এই হুমকিকে শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ধর্মপ্রাণ মানুষের ভাবাবেগ ও বিশ্বাসের ওপর গুরুতর আঘাত বলেও অভিহিত করেছেন।

    📢 যা বলা হয়েছে যৌথ বিবৃতিতে:

    বিবৃতিতে বলা হয়—

    “ঐশ্বরিক ধর্মের নেতারা তাদের অনুসারীদের বিশ্বাসের প্রতীক। তাদের বিরুদ্ধে হুমকি মানে কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় অনুভূতির উপর আঘাত।”

    তারা সতর্ক করে দেন, এ ধরনের হুমকি জাতিসংঘের চার্টার ও আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ধর্মীয় নেতৃত্বদের কাছ থেকে প্রকাশ্য এবং কার্যকর জবাবদিহি দাবি করেন।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই হুমকিগুলো মধ্যপ্রাচ্য ও বাইরের অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।”

    ⚖️ আন্তর্জাতিক রীতিনীতি লঙ্ঘনের অভিযোগ:

    ধর্মীয় নেতারা বলেন, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার যে বিধান রয়েছে, তা এই হুমকির মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেন, যদি এই হুমকি বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে প্রতিহত করা হবে।

    🔥 হুমকির প্রেক্ষাপট:

    সম্প্রতি ইসরায়েল ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের হত্যা করে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’ নামের সামরিক অভিযান চালায় ইসরায়েলি স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে।

    এর ঠিক পরেই খামেনিকে হত্যার হুমকি আসে, যা নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।

    ✍️ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নেতারা হলেন:

    • বিশপ নার্সাই বেঞ্জামিন – আসিরিয়ান চার্চ অব দ্য ইস্ট, ইরান

    • বিশপ ভারোশ আভাঞ্জিয়ান – আর্মেনিয়ান ক্যালিফেট কাউন্সিল, তেহরান

    • রাব্বি ইউনেস হামামি লালেহজার – ইরানের ইহুদি সম্প্রদায়

    • মোবাদ মেহেরবান পোলাদি – জোরোঅ্যাস্ট্রিয়ান অ্যাসোসিয়েশন

    • গানজোরা নেজাত চাহিলি – মান্দায়ান ধর্মের নেতা


    এই ঘটনা শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, গোটা বিশ্বে ধর্মীয় সহনশীলতা ও রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মহলের উচিত দ্রুত হস্তক্ষেপ করে এ ধরনের হুমকি ও উত্তেজনা প্রশমিত করা।

  • ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে আবারও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ব্যাপক সতর্কতা জারি

    ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে আবারও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ব্যাপক সতর্কতা জারি

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও ঘনীভূত হয়েছে, কারণ টানা সপ্তম দিনের মতো আবারও ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান।

    শুক্রবার ইরান থেকে ইসরায়েলের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী। হামলার পরপরই দেশজুড়ে একাধিক এলাকায় সতর্কতা সংকেত হিসেবে সাইরেন বেজে ওঠে।

    ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, আকাশে ইরান থেকে আসা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা প্রতিহত করতে কাজ করছে।

    আল-জাজিরা তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ইসরায়েলি বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ জানিয়েছে, দেশের জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জেরুজালেম এবং তেল আবিবের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। প্রতিরক্ষায় দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।

    ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান এই হামলা-পাল্টা হামলা পুরো অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংঘাত যদি এভাবে চলতে থাকে তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

    এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল শান্তি ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানালেও, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমার কোনো ইঙ্গিত এখনো মেলেনি।

  • সাত দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল-ইরানের অর্থনীতি চরম ক্ষতিগ্রস্ত, কে কতটা টিকবে?

    সাত দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল-ইরানের অর্থনীতি চরম ক্ষতিগ্রস্ত, কে কতটা টিকবে?

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে টানা সাত দিন ধরে যুদ্ধ চলার ফলে দুই দেশের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে পড়েছে। সামরিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে গাজা যুদ্ধ এবং নতুন সংঘর্ষে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক ক্ষতি কয়েকশ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির জন্য এক বিশাল বোঝা।

    গত শুক্রবার ইসরায়েলের অভিযানে ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও পরমাণু বিশেষজ্ঞ নিহত হয়েছেন, পাশাপাশি কয়েকটি পরমাণু স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। জবাবে ইরান ইসরায়েলের শহরগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    এই সহিংসতা শুধুমাত্র প্রাণহানির কারণ হচ্ছে না, উভয় দেশের অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে দুই দেশের বাজেট ঘাটতি এবং অর্থনৈতিক মন্দা গভীরতর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

    ইসরায়েলের আর্থিক অবস্থা:
    গাজার সামরিক অভিযানের কারণে ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েলের মোট ব্যয় ২৫০ বিলিয়ন শেকেল বা প্রায় ৬৭.৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াতে পারে। ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘর্ষে মাত্র দুই দিনে ৫.৫ বিলিয়ন শেকেল (১.৪৫ বিলিয়ন ডলার) খরচ হয়েছে। এই হারে চললে সামনের সাত সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ব্যয় গাজা যুদ্ধের খরচ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেটও বাড়ছে; ২০২৩ সালে এটি ছিল ৬০ বিলিয়ন শেকেল, যা ২০২৪ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ বিলিয়নে এবং ২০২৫ সালে ১১৮ বিলিয়ন শেকেলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

    ইরানের অর্থনৈতিক চিত্র:
    ইরানের তেল রপ্তানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী রবিবার পর্যন্ত দৈনিক তেল ও কনডেনসেট রপ্তানি নেমে আসবে মাত্র ১ লাখ ২ হাজার ব্যারেলে, যা এ বছরের গড়ের অর্ধেকেরও কম। তেলের প্রধান রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ থেকে ট্যাংকার বের হয়নি এবং দক্ষিণ পার্সের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার ফলে ৮০ শতাংশ গ্যাস উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

    ২০১৮ সালের নিষেধাজ্ঞার পর ইরানের তেলের রপ্তানি মারাত্মকভাবে কমেছে; ২০১৬ সালে যেখানে দৈনিক রপ্তানি ছিল ২.৮ মিলিয়ন ব্যারেল, তা ২০২২-২৩ সালে মাত্র ২ লাখ ব্যারেল এ নেমেছে। ফলে তেলের রাজস্ব প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

    অর্থনৈতিক সংকট আরও বাড়িয়েছে বিদ্যুৎ ও পানির ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্ব। সরকারি হিসেবেও মুদ্রাস্ফীতি ৪০ শতাংশ হলেও বিশেষজ্ঞরা এ হার ৫০ শতাংশের উপরে মনে করেন। বেকারত্ব সরকারি ৯.২ শতাংশ হলেও প্রকৃত হার বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে ইরানের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার হলেও তা যথেষ্ট নয় বলে বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন।