Tag: ইসরায়েল

  • ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংশয়: কমছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, শাসন পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

    ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন সংশয়: কমছে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডার, শাসন পরিবর্তন কতটা সম্ভব?

    এবিএনএ: ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন পর্যালোচনা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর মতো প্রস্তুতি ওয়াশিংটনের কাছে পর্যাপ্ত নাও থাকতে পারে।

    মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি গোপন গোয়েন্দা মূল্যায়নে ধারণা করা হয়েছে—সামরিক হামলা অব্যাহত থাকলেও ইরানের বর্তমান শাসন কাঠামো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সহজ হবে না। তবুও মার্কিন প্রশাসন সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছে বলে জানা গেছে।

    এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে টানা বিমান হামলার কারণে মার্কিন সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট কিছু অস্ত্র দ্রুত কমে যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কংগ্রেস সদস্যদের এক বন্ধদ্বার বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

    গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা হামলা শুরু করে। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের নেতা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, যেখানে ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং কিছু স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়।

    যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মার্কিন প্রশাসন দাবি করে আসছে যে, ইরান যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তবে এমন কোনো আলোচনার স্পষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

    বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। তাদের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অস্ত্র তৈরির সক্ষমতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

    তবে তেহরান বরাবরই বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এই ইস্যুতে গত এপ্রিল থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

    পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গত জুনে, যখন ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা চালায়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে।

    গত এক সপ্তাহ ধরে চলা হামলায় ইরানের সরকারি দপ্তর, সামরিক ঘাঁটি এবং অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু বেসামরিক স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে। বোমা হামলার প্রথম দিন একটি স্কুলে আঘাত হানলে ১৬৮ জন কিশোরীর মৃত্যু ঘটে বলে জানা যায়। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলাটি সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই চালানো হয়েছিল।

    এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠিত ডানপন্থী নেতাদের সম্মেলন ‘শিল্ড অব দ্য আমেরিকান সামিট’-এ বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।

    তার বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েক দিনের অভিযানে ইরানের বহু নৌযান ধ্বংস করা হয়েছে এবং তাদের নৌ ও বিমান সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থা ও টেলিযোগাযোগেও বড় ধরনের আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বোমা হামলা চললেও ইরানের সামরিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতা থেকে সরানো সহজ হবে না।

    ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের ওই প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরিস্থিতি যেদিকেই যাক না কেন, ইরানের ক্ষমতার কাঠামো শেষ পর্যন্ত তাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতার উত্তরসূরি নির্ধারণের দিকেই অগ্রসর হতে পারে।

  • তেহরানে ইসরায়েলি হামলা: তেলের ডিপোতে ভয়াবহ আগুন, রাস্তাজুড়ে ‘আগুনের নদী’ আতঙ্ক

    তেহরানে ইসরায়েলি হামলা: তেলের ডিপোতে ভয়াবহ আগুন, রাস্তাজুড়ে ‘আগুনের নদী’ আতঙ্ক

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী প্রথমবারের মতো ইরানের রাজধানী তেহরানের তেল ডিপো ও পরিশোধনাগার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এই হামলার পর রাজধানীজুড়ে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল ডিপো থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ছড়িয়ে পড়ে তেহরানের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সঙ্গে মিশে যায়। এতে শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশের ড্রেন ও নালায় আগুন ধরে যায়। কোথাও কোথাও সেই আগুন এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে পুরো রাস্তার ধারে আগুনের প্রবাহ বইতে দেখা গেছে—যা অনেকেই ‘আগুনের নদী’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘লিভিং ইন তেহরান’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সড়কের পাশে ড্রেনজুড়ে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। আগুনের লেলিহান শিখা রাস্তার একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

    এর আগে ইরানের তেল মন্ত্রণালয় জানায়, তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আলবোর্জ প্রদেশের কারাজ শহরসহ অন্তত তিনটি স্থানে জ্বালানি ডিপোতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জড়িত থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

    এদিকে ইসরায়েলের জ্বালানিমন্ত্রী এলি কোহেন জানিয়েছেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হানার মাধ্যমে যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। একটি রেডিও সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে—এমন সব লক্ষ্যবস্তুই ইসরায়েলের নজরে রয়েছে।

    যুদ্ধের সময়সীমা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে কোহেন বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কত সময় প্রয়োজন তা তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী সামরিক অভিযান চালানো হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এড়ানোর দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।

    অন্যদিকে ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ১ হাজার ৯২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৭ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

    হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা গুরুতর, ৪২ জন মাঝারি অবস্থায় রয়েছেন এবং প্রায় ৭০ জন সামান্য আহত হয়েছেন। অধিকাংশ আহত ব্যক্তি নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: ‘নতুন শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহারই করা হয়নি’

    দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের: ‘নতুন শক্তিশালী অস্ত্র এখনো ব্যবহারই করা হয়নি’

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, সম্ভাব্য দীর্ঘ সংঘাত মোকাবিলায় তাদের কাছে উন্নত ও নতুন ধরনের অস্ত্র মজুত রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগ এখনো বড় পরিসরে ব্যবহার করা হয়নি।

    বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলেও তা মোকাবিলার জন্য ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রয়োজন হলে এসব নতুন অস্ত্র ব্যবহার করে শত্রুপক্ষকে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

    নতুন অস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত

    আইআরজিসির এই কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে কিছু অত্যাধুনিক অস্ত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণ করে রেখেছে। সেগুলো এখনো পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সময়ে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হলে প্রতিপক্ষের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।

    ‘খাইবার’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর ঘোষণা

    এ বক্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন প্রথমবারের মতো ইরান থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ‘খাইবার’ নামের ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইরানের অস্ত্রভাণ্ডারের নতুন সক্ষমতার একটি বড় প্রদর্শন।

    পারমাণবিক ইস্যুতে ব্যর্থ সংলাপ

    এর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরানযুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে টানা ২১ দিন আলোচনা চলেছিল। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সেই সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

    সংলাপ ভেস্তে যাওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সমান্তরাল অভিযান চালায়।

    ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত

    গত এক সপ্তাহ ধরে চলমান সংঘাতে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান বিভিন্ন সময় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর দিকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানা গেছে।

    আগের সংঘাতের চেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রভাণ্ডার

    আইআরজিসির মুখপাত্র আরও বলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যে ১২ দিনের সংঘাত হয়েছিল, তার তুলনায় এবার ইরানের সামরিক প্রস্তুতি অনেক বেশি শক্তিশালী। নতুন প্রযুক্তি ও অস্ত্রভাণ্ডার এখন আগের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ।

    বিশ্লেষকদের মতে, এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

  • ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ‘সময় যত লাগুক, লক্ষ্য পূরণ করব’

    ইরান ইস্যুতে অবস্থান বদল ট্রাম্পের: ‘সময় যত লাগুক, লক্ষ্য পূরণ করব’

    এবিএনএ: ইরানে চলমান সামরিক অভিযান নিয়ে আগের মন্তব্য থেকে কিছুটা সরে এসে নতুন অবস্থান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই; যতদিন প্রয়োজন, ততদিন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জন করতে চায়।

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর পরদিন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেছিলেন, চার সপ্তাহের মধ্যেই এই অভিযান শেষ হতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

    যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ইঙ্গিত

    তবে সেই বক্তব্যের পরপরই মার্কিন প্রশাসনের ভেতর থেকে ভিন্ন বার্তা আসে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগেসেথ জানান, পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই যুদ্ধ প্রায় আট সপ্তাহ পর্যন্ত গড়াতে পারে।

    এদিকে বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
    তার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করা, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযান শেষ করা নয়।

    তার ভাষায়, ইরানকে কোনোভাবেই পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি দেশটির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাও সীমিত করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

    যুক্তরাষ্ট্রে হামলার আশঙ্কা

    ইরানে সামরিক অভিযানের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, এমন ঝুঁকি পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তার মতে, আন্তর্জাতিক সংঘাতের সময় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ থাকাটাই স্বাভাবিক।

    ইতিমধ্যে নিহত মার্কিন সেনা

    ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধের বাস্তবতা হলো প্রাণহানি ঘটে এবং এটি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সংঘাতে এমন ঘটনা ঘটতেই পারে।

    বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সামরিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।

  • ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: কোন দেশে কত প্রাণহানি

    ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল: কোন দেশে কত প্রাণহানি

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। টানা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনায় বিভিন্ন দেশে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এতে বেসামরিক নাগরিকদের পাশাপাশি সামরিক বাহিনীর সদস্যরাও নিহত হচ্ছেন।

    সাম্প্রতিক বিভিন্ন সূত্র ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত কয়েকটি দেশে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

    ইরান:
    ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী ও কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যরা অন্তর্ভুক্ত আছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

    ইসরায়েল:
    ইসরায়েলের জরুরি সেবা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দেশটিতে অন্তত ১০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে জেরুজালেমের কাছে বেইত শেমেস শহরে ১ মার্চের হামলায় নিহত ৯ জনও রয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখনও সামরিক হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

    লেবানন:
    লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের হামলায় দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

    বাহরাইন:
    দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়ে সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজন নিহত হন।

    কুয়েত:
    ইরানের হামলায় কুয়েতে দুই সেনাসদস্যসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

    ওমান:
    ওমানের রাজধানী মাস্কটের উপকূলের কাছে মার্শাল আইল্যান্ডসের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে গোলাবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন।

    সংযুক্ত আরব আমিরাত:
    দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

    মার্কিন সামরিক বাহিনী:
    যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, কুয়েতে অবস্থিত একটি সামরিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

    সিরিয়া:
    সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় সুয়েদা শহরের একটি ভবনে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে চারজন নিহত হন।

    ইরাক:
    ইরাকে ইরানের হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন মিলিশিয়া সদস্য, একজন সেনাসদস্য এবং একজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

    তবে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • শ্রীলঙ্কা উপকূলে নৌসেনা নিহতের জেরে পাল্টা হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের অভিযান

    শ্রীলঙ্কা উপকূলে নৌসেনা নিহতের জেরে পাল্টা হামলা: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল লক্ষ্য করে ইরানের অভিযান

    এবিএনএ: শ্রীলঙ্কা উপকূলে সংঘটিত এক হামলায় নিজেদের নৌসেনা নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ‘ইহুদিবাদী শক্তির’ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে ২০তম হামলা পরিচালনা করেছে।

    ইরানের দাবি, এই হামলা উৎসর্গ করা হয়েছে শ্রীলঙ্কা উপকূলে একটি যুদ্ধজাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের সাবমেরিন হামলায় নিহত নৌসেনাদের স্মরণে। ওই ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধের ঘোষণা দেয় তেহরান।

    তাসনিম নিউজের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক এই অভিযানের মাধ্যমে নিহত নৌসেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। যদিও হামলার লক্ষ্যবস্তু বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

    বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

    এদিকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল।

  • ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, আহত ৫—সাইরেনে কেঁপে উঠল এলাকা

    ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত, আহত ৫—সাইরেনে কেঁপে উঠল এলাকা

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে Israel Defense Forces (আইডিএফ)।

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার পরপরই তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি সেবা ইউনিটগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যালোচনা শুরু করেছে। কোথায় কী ধরনের ক্ষতি হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচজন সামান্য আহত হয়েছেন। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

    আইডিএফ দাবি করেছে, নিক্ষিপ্ত বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশেই ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষ বা সাব-মিউনিশনের অংশ কিছু স্থানে পড়ে স্থানীয়ভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণে বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।

    এদিকে ইসরায়েলের হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানিয়েছে, যেসব এলাকায় সাইরেন বেজে ওঠে, সেখানকার বাসিন্দারা আপাতত আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হতে পারেন। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশ্রয়কেন্দ্রের নিকটেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।

    ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া বার্তা আইআরজিসির: ‘আরও নরকের দরজা খুলবে’

    যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া বার্তা আইআরজিসির: ‘আরও নরকের দরজা খুলবে’

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা তীব্রতর হওয়ায় ইরানের সামরিক নেতৃত্ব আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির অভিজাত সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) জানিয়েছে, প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত আরও জোরদার করা হবে।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি বলেন, সামনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। তার ভাষায়, “শত্রুপক্ষকে ধারাবাহিক ও কঠোর জবাবের মুখোমুখি হতে হবে।” তিনি ইঙ্গিত দেন, সামরিক অভিযান থামার কোনো লক্ষণ নেই।

    এদিকে তেহরান ইউরোপীয় দেশগুলোকেও সতর্ক করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রগুলো অংশ নিলে তা সরাসরি যুদ্ধঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানে সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনও সমন্বিত পদক্ষেপকে আক্রমণাত্মক জোটের অংশ হিসেবেই দেখা হবে।

    ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা মোকাবিলায় সম্ভাব্য “প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা” নেওয়ার কথা উল্লেখ করার পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা আসে।

    অন্যদিকে সংঘাতে ইরানে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক সংকটের দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি ও সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

  • ইরানে তৃতীয় দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন, এক নজরে ভয়াবহ চিত্র

    ইরানে তৃতীয় দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগুন, এক নজরে ভয়াবহ চিত্র

    এবিএনএ: ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার তৃতীয় দিনে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। একদিকে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলছে, অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা আঘাত চালাচ্ছে তেহরান। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বহু দেশে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

    ইরানের ভেতরের চিত্র

    রাজধানী **তেহরান**সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনায় প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আঘাতে বেসামরিক লোকজনের ক্ষতি বেড়েছে। মধ্যাঞ্চলের সানান্দাজ শহরেও হামলার খবর মিলেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

    উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিস্তার

    ভোরের দিকে আবুধাবি ও **দোহা**য় বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়ায়। কাতার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করছে বলে জানানো হয়েছে। জরুরি নিরাপত্তাজনিত কারণে কাতার এয়ারওয়েজ সাময়িকভাবে ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
    এদিকে ওমান উপকূলে একটি তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। কুয়েত-এ মার্কিন দূতাবাসসংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়; শোধনাগারের কাছে ক্ষয়ক্ষতির তথ্যও এসেছে। বাহরাইন বন্দর ও শিল্পাঞ্চলে হামলার পর দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

    ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পূর্ণ সক্রিয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানে তাদের সামরিক অভিযান নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক এবং ‘দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে’ রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। মার্কিন পক্ষ হতাহতের বিষয়টি স্বীকার করে ভবিষ্যতে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে।

    লেবানন, সিরিয়া ও জর্ডানে উত্তাপ

    সংঘাতের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে লেবানন-এর রাজধানী **বৈরুত**সহ বিভিন্ন এলাকায়; বিমান হামলায় বহু হতাহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। **সিরিয়া**তে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বেসামরিকরা আহত হয়েছেন। জর্ডান আকাশসীমা আংশিকভাবে বন্ধ করে নিরাপত্তা জোরদার করেছে।

    ভূমধ্যসাগরে নতুন মাত্রা

    ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস-এ অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। রয়্যাল এয়ার ফোর্স পরিচালিত আক্রোতিরি ঘাঁটির আশপাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় সীমিত ক্ষয়ক্ষতির কথা জানানো হয়েছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের পরিধি দ্রুত বাড়ছে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে উঠছে। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ।

  • গাজায় রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলা: তাঁবু-শিবিরে প্রাণ গেল অন্তত ১১ জনের, নতুন উত্তেজনা

    গাজায় রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলা: তাঁবু-শিবিরে প্রাণ গেল অন্তত ১১ জনের, নতুন উত্তেজনা

    এবিএনএ: যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকা-তে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। রোববার রাতভর চালানো এসব হামলায় আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন বলে স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো যেখানে তাঁবু খাটিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেসব স্থানও আঘাতের শিকার হয়েছে।

    ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙেছে—এর প্রতিক্রিয়াতেই নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে অভিযান চালানো হয়েছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, আশ্রয়কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় হামলায় সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বেড়েছে।

    স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকায় পৃথক হামলায় পাঁচজন নিহত হন। উত্তরাঞ্চলে গোলাগুলিতে প্রাণ যায় আরও একজনের। পাশাপাশি গাজা শহরের তেল আল-হাওয়া এলাকায় হামাসের মিত্র সংগঠন ইসলামিক জিহাদ-এর এক কমান্ডারকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    গাজায় হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম নতুন এই হামলাকে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে “গণহত্যামূলক অভিযান” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সহিংসতা যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল। এদিকে ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই ‘নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালানো হয়েছে।

    দুই পক্ষই একে অপরকে যুদ্ধবিরতির শর্ত ভাঙার অভিযোগে দায়ী করছে। এই চুক্তিটি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় গাজায় সহিংসতা কমানোর উদ্যোগের অংশ। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দশকের সংঘাতে সাম্প্রতিক যুদ্ধটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী ও ধ্বংসাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

    ইসরায়েলি তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই এই যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ে। পাল্টা অভিযানে গাজায় দীর্ঘদিন ধরে বিমান ও স্থল হামলা চলছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা কয়েক দশক হাজার ছাড়িয়েছে; আহত হয়েছেন বহু মানুষ।