সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: নিহত ১৩, আহত অনেকে
বেইত জিনে ইসরায়েলের হামলায় সাধারণ মানুষ নিহত, সংঘর্ষে সৈন্যদেরও আঘাত


এবিএনএ: সিরিয়ার বেইত জিনে ইসরায়েলি বাহিনী এক নতুন সামরিক অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৩ জনকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষে ইসরায়েলি সৈন্যদেরও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভোরের দিকে চালানো হামলা ও স্থল অভিযানের ফলে বহু পরিবার নিরাপদ স্থানে পালিয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। সিরিয়ার কুনেইত্রার আল-সালাম শহরের গোলান ন্যাশনাল হাসপাতালে আহত ও নিহতদের ভর্তি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি ড্রোন এখনও ওই এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে। সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বেইত জিনে যেকোনো নড়াচড়া লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কারণে আহতদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আরও ঘনঘন এবং সহিংস হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরে প্রবেশ করলে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।
ইসরায়েলি পক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে তাদের ছয়জন সৈন্য আহত হয়েছে, তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তারা বলছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক বা ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো হুমকি প্রতিহত করার জন্য অভিযান চালানো হবে।
ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপগুলোকে সিরিয়ান সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো অপহরণ বা বেআইনি আটক হিসেবে দেখছে। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।
ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা এবং অনুপ্রবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, সিরিয়ার নবগঠিত সরকার দেশের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিকভাবে দেশটি ধীরে ধীরে পুনরায় প্রতিষ্ঠা লাভের চেষ্টা করছে।
এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ একটি বড় মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।




