Tag: সামরিক অভিযান

  • ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত প্রায় ৫ হাজার, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    ইরানি ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে আহত প্রায় ৫ হাজার, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    এবিএনএ: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় Israel-এ আহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮২৯ জনে।

    ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে ১১১ জন এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে ১২ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে Iran এবং United States-এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে টানা ২১ দিন আলোচনা চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

    এর পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালিয়ে ইরানে হামলা শুরু করে।

    এই হামলায় ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সামরিক কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei, নিরাপত্তা কর্মকর্তা Ali Larijani এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার Mohammad Pakpour। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সংঘাতের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা জোরদার করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেহরান।

    পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।

  • ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ইরান যুদ্ধ কতদিন চলবে? নতুন বার্তায় সময়সীমা নিয়ে ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

    এবিএনএ: ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক সংঘাত কতদিন স্থায়ী হতে পারে—তা নিয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধের সময়কাল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

    রোববার টেলিফোনে মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, সংঘাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    সাক্ষাৎকারে তাকে প্রশ্ন করা হয়—ইরানকে ঘিরে এই সামরিক অভিযান আর কতদিন চলতে পারে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি অনেকটাই পারস্পরিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-এর সঙ্গে তার নিয়মিত আলোচনা চলছে।

    ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিষয়টি নিয়ে কথা বলছি। তবে শেষ সিদ্ধান্ত আমিই নেব এবং সঠিক সময়েই তা জানানো হবে। সব ধরনের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।”

    এর আগে গত ৩ মার্চ ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, তিনি আশা করছেন চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে। কিন্তু সেই বক্তব্যের পরদিনই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth বলেন, সংঘাত ছয় থেকে আট সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।

    ব্যর্থ কূটনীতি, শুরু সামরিক অভিযান

    ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই সেই সংলাপ শেষ হয়।

    এর ঠিক পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের নাম দেওয়া হয় Operation Epic Fury। একই সময় ইসরায়েলও নিজস্ব সামরিক অভিযান শুরু করে, যার নাম Operation Roaring Lion

    পাল্টা হামলায় উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে।

    বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি, কূটনৈতিক স্থাপনা এবং তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে গত প্রায় দশ দিন ধরে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারেও।

  • তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: খামেনির সুরক্ষিত কমপাউন্ড ধ্বংস, স্যাটেলাইট ছবিতে বিধ্বস্ত চিত্র

    তেহরানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ: খামেনির সুরক্ষিত কমপাউন্ড ধ্বংস, স্যাটেলাইট ছবিতে বিধ্বস্ত চিত্র

    এবিএনএ: তেহরানে চালানো সাম্প্রতিক হামলার পর স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের আবাসিক এলাকার ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে এসেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর সুরক্ষিত কমপাউন্ডের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং চারপাশে পোড়া দাগ রয়েছে—যা বড় ধরনের বিস্ফোরণের ইঙ্গিত দেয়।

    পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরানের পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই ভোররাতে শুরু হওয়া অভিযানে তেহরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ অন্তত ৩০টির বেশি স্থানে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে বলা হচ্ছে, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও কয়েকজন মন্ত্রীর আবাসিক এলাকার কাছেও হামলা হয়েছে।

    ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, তেহরানের শেমিরান এলাকায় প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের আশপাশ ও খামেনির কমপাউন্ডের নিকটে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এপি-এর প্রতিবেদনে খামেনির দপ্তরের আশপাশে বিস্ফোরণের তথ্যও উঠে এসেছে।

    বর্তমানে খামেনির অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে তেহরানের বাইরে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, তাঁর জানা অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা জীবিত আছেন। সংঘাতের তীব্রতা বাড়ায় রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

  • ইরানে হামলা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিদ্রোহী সুর: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বললেন সিনেটর

    ইরানে হামলা নিয়ে ওয়াশিংটনে বিদ্রোহী সুর: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে অসাংবিধানিক বললেন সিনেটর

    এবিএনএ: ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড জে. মার্কি এই অভিযানের অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, কংগ্রেসের সম্মতি ছাড়া নেওয়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পরিপন্থী।

    এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই ধরনের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং বড় পরিসরের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, সামরিক উত্তেজনা বাড়ালে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও সংকুচিত হয়।

    সিনেটর মার্কি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভয়াবহতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ পর্যায় থেকেও স্বীকার করা হয়েছে যে তেহরান বর্তমানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়াচ্ছে না। তাই সংঘাতের পথে না গিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার সুযোগ এখনও রয়েছে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকট নতুন কোনো যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে—যা মার্কিন জনগণ চায় না। তাঁর ভাষায়, বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানে তরুণদের পাঠানো এবং দেশে স্বাস্থ্যসেবা সংকটে থাকা পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে যায় না।

    প্রসঙ্গত, শনিবার ভোরে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযানের পর তেহরানও পাল্টা পদক্ষেপ নেয়। সংঘাতের এই ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের দাবি উঠছে।

  • রক্তাক্ত ভোর ইরানে: ৩১ প্রদেশের ২০টির বেশি অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ, শিশু নিহতের খবরে শোক

    রক্তাক্ত ভোর ইরানে: ৩১ প্রদেশের ২০টির বেশি অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ, শিশু নিহতের খবরে শোক

    এবিএনএ: ভোরের আলো ফোটার আগেই ইরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে জনপদ। শনিবার শুরু হওয়া সমন্বিত সামরিক অভিযানে দেশটির ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টির বেশি এলাকায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। ইরানের উদ্ধারকারী সংস্থা ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বহু স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে এবং হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে।

    দক্ষিণাঞ্চলের মিনাব এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে বহু শিশুর প্রাণহানির খবর দেশজুড়ে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়াদের উদ্ধারে রেড ক্রিসেন্টের দলগুলো কাজ করছে।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যেসব স্থাপনা থেকে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে বা সহায়তা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোকে তেহরান বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে। তাঁর ভাষায়, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে ইরান প্রস্তুত।

    রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মুখপাত্র জানান, রাজধানী তেহরানসহ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক প্রদেশে একযোগে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারীরা অনেক এলাকায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান ও ইসরাইলের ‘ছায়াযুদ্ধ’ এবার প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। তেহরান থেকে পাল্টা জবাবের কড়া বার্তা আসার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও তাদের মিত্রদের সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

  • মাদুরো একা নন: সাদ্দাম থেকে নোরিগা—যেসব রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

    মাদুরো একা নন: সাদ্দাম থেকে নোরিগা—যেসব রাষ্ট্রপ্রধানকে গ্রেপ্তার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র

    এবিএনএ: ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের ঘটনায় বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন কোনো নজির নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে সামরিক অভিযান চালিয়ে ক্ষমতাসীন রাষ্ট্রপ্রধানদের আটক করেছে ওয়াশিংটন।

    ১৯৮৯ সালে লাতিন আমেরিকার দেশ পানামায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল নোরিগাকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। মার্কিনিদের নিরাপত্তা ও মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে এই অভিযান চালানো হয়েছিল। নোরিগা একসময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ হলেও পরে ওয়াশিংটনবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    ম্যানুয়েল নোরিগা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি ছিলেন। পরে তাকে ইউরোপ হয়ে ফের পানামায় পাঠানো হয়। শেষ পর্যন্ত নিজ দেশেই কারাগারে তার মৃত্যু হয়।

    এরপর ২০০৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিহাসের আরেক অধ্যায় রচিত হয়। ইরাক আক্রমণের নয় মাস পর মার্কিন সেনারা দেশটির প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে। গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সহায়তার অভিযোগ তুলে ইরাকে সামরিক অভিযান চালানো হলেও এসব দাবির পক্ষে স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

    তিকরিতের একটি গোপন আশ্রয়স্থল থেকে সাদ্দামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ইরাকের আদালতে বিচার শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় এবং ২০০৬ সালে ফাঁসি কার্যকর হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে—যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত স্বার্থে প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক পথে রাষ্ট্রপ্রধানদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করে না। মাদুরোর আটক সেই ধারাবাহিকতারই নতুন সংযোজন।

  • ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন অভিযান: প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স

    ভেনেজুয়েলায় নজিরবিহীন অভিযান: প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের ডেল্টা ফোর্স

    এবিএনএ: লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে ভয়াবহ চমক তৈরি করেছে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে ভেনেজুয়েলার বাইরে নিয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেল্টা ফোর্স। শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন কর্মকর্তারা এই তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

    ডেল্টা ফোর্স যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি উচ্চমাত্রার সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট, যা সাধারণত গোপন ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ব্যবহৃত হয়। জানা গেছে, একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক হামলার পর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে অভিযানের বিষয়টি প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে একটি বড় ধরনের সফল সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং তাতে মাদুরো ও তার স্ত্রী আটক হয়েছেন।

    ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানের বিস্তারিত পরবর্তীতে জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

    এদিকে এই হামলাকে ‘চরম সামরিক আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভেনেজুয়েলা সরকার। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে। বিষয়টি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের কাছে উত্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

    মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ তুলে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে আগেই যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র। সমুদ্রপথে অভিযানের পর সরাসরি ভেনেজুয়েলার ভেতরে এই হামলা চালানো হয়।

    এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক রাজনীতিতে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

  • সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: নিহত ১৩, আহত অনেকে

    সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান: নিহত ১৩, আহত অনেকে

    এবিএনএ: সিরিয়ার বেইত জিনে ইসরায়েলি বাহিনী এক নতুন সামরিক অভিযান চালিয়ে অন্তত ১৩ জনকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছে। সংঘর্ষে ইসরায়েলি সৈন্যদেরও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

    সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ভোরের দিকে চালানো হামলা ও স্থল অভিযানের ফলে বহু পরিবার নিরাপদ স্থানে পালিয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই সাধারণ মানুষ। সিরিয়ার কুনেইত্রার আল-সালাম শহরের গোলান ন্যাশনাল হাসপাতালে আহত ও নিহতদের ভর্তি করা হয়েছে।

    ইসরায়েলি ড্রোন এখনও ওই এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছে। সিরিয়ার সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, বেইত জিনে যেকোনো নড়াচড়া লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কারণে আহতদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

    ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দক্ষিণ সিরিয়ায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান আরও ঘনঘন এবং সহিংস হয়ে উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েলি আর্টিলারি ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শহরে প্রবেশ করলে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে।

    ইসরায়েলি পক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে তাদের ছয়জন সৈন্য আহত হয়েছে, তিনজনের অবস্থা গুরুতর। তারা বলছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক বা ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যেকোনো হুমকি প্রতিহত করার জন্য অভিযান চালানো হবে।

    ইসরায়েলের এই সামরিক পদক্ষেপগুলোকে সিরিয়ান সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো অপহরণ বা বেআইনি আটক হিসেবে দেখছে। গত কয়েক সপ্তাহে প্রায় ৪০ জনকে আটক করা হয়েছে।

    ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা এবং অনুপ্রবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে, সিরিয়ার নবগঠিত সরকার দেশের দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আন্তর্জাতিকভাবে দেশটি ধীরে ধীরে পুনরায় প্রতিষ্ঠা লাভের চেষ্টা করছে।

    এই সাম্প্রতিক সংঘর্ষ একটি বড় মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

  • মিয়ানমারে ফের জান্তার শক্তি প্রদর্শন: সেদাউগি বাঁধসহ কৌশলগত অঞ্চল পুনর্দখলের দাবি

    মিয়ানমারে ফের জান্তার শক্তি প্রদর্শন: সেদাউগি বাঁধসহ কৌশলগত অঞ্চল পুনর্দখলের দাবি

    এবিএনএ:  মিয়ানমারের সেনা সরকার দাবি করেছে, তারা মান্ডালে অঞ্চলের মাদায়া টাউনশিপ এবং শান রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত সেদাউগি বাঁধ, একটি সামরিক ঘাঁটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিজেদের দখলে নিয়েছে।

    শনিবার সেনাবাহিনীর এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর থেকে পাঁচটি দিক দিয়ে অভিযানে নামে জান্তা বাহিনী এবং প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী সংঘর্ষের পর ৭ নভেম্বর পুরো এলাকাটি দখলে নেয়।

    ইরাবতী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানের সময় অন্তত ৪২টি সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনী ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ৬০টির বেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে বলে জানায়। তবে সেনাবাহিনী নিজেও কিছু হতাহতের ঘটনা স্বীকার করেছে।

    গত কয়েক মাস ধরে মিয়ানমার সেনা সরকার মাদায়া টাউনশিপের প্রতিরোধ বাহিনীর দখলে থাকা অঞ্চলগুলো পুনর্দখলের লক্ষ্যে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এর আগে ২৪ আগস্ট ফায়াউং টাউং স্বর্ণখনি এবং ২৮ আগস্ট আলফা সিমেন্ট কারখানা পুনর্দখলের দাবি জানিয়েছিল জান্তা সরকার।

    বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযানগুলো জান্তার জন্য যেমন সামরিক সাফল্যের প্রতীক, তেমনি দেশের ভেতর প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে তাদের শক্তি প্রদর্শনেরও কৌশল। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, সংঘর্ষে বহু বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের বসতবাড়ি।

    মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সেদাউগি বাঁধ পুনর্দখল অভিযান নতুন করে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সেনাবাহিনীর এসব অভিযান শান্তি নয়, বরং আরও অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে দেশজুড়ে।