মিয়ানমারে ফের জান্তার শক্তি প্রদর্শন: সেদাউগি বাঁধসহ কৌশলগত অঞ্চল পুনর্দখলের দাবি
ম্যান্ডালে অঞ্চলের মাদায়া টাউনশিপে প্রতিরোধ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ শেষে সেদাউগি বাঁধ ও সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের ঘোষণা মিয়ানমার সেনা সরকারের


এবিএনএ: মিয়ানমারের সেনা সরকার দাবি করেছে, তারা মান্ডালে অঞ্চলের মাদায়া টাউনশিপ এবং শান রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত সেদাউগি বাঁধ, একটি সামরিক ঘাঁটি ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিজেদের দখলে নিয়েছে।
শনিবার সেনাবাহিনীর এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২০ অক্টোবর থেকে পাঁচটি দিক দিয়ে অভিযানে নামে জান্তা বাহিনী এবং প্রায় দুই সপ্তাহব্যাপী সংঘর্ষের পর ৭ নভেম্বর পুরো এলাকাটি দখলে নেয়।
ইরাবতী সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানের সময় অন্তত ৪২টি সংঘর্ষ হয়। এতে সেনাবাহিনী ১৪টি মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ৬০টির বেশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম জব্দ করেছে বলে জানায়। তবে সেনাবাহিনী নিজেও কিছু হতাহতের ঘটনা স্বীকার করেছে।
গত কয়েক মাস ধরে মিয়ানমার সেনা সরকার মাদায়া টাউনশিপের প্রতিরোধ বাহিনীর দখলে থাকা অঞ্চলগুলো পুনর্দখলের লক্ষ্যে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এর আগে ২৪ আগস্ট ফায়াউং টাউং স্বর্ণখনি এবং ২৮ আগস্ট আলফা সিমেন্ট কারখানা পুনর্দখলের দাবি জানিয়েছিল জান্তা সরকার।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযানগুলো জান্তার জন্য যেমন সামরিক সাফল্যের প্রতীক, তেমনি দেশের ভেতর প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে তাদের শক্তি প্রদর্শনেরও কৌশল। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করছে, সংঘর্ষে বহু বেসামরিক নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আশপাশের বসতবাড়ি।
মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই সেদাউগি বাঁধ পুনর্দখল অভিযান নতুন করে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সেনাবাহিনীর এসব অভিযান শান্তি নয়, বরং আরও অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে দেশজুড়ে।




