এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এটা জনগণের সঙ্গে যেমন প্রতারণা, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা। এই পরিস্থিতিতে একে কোনোভাবেই ঐক্য বলা যায় না। তাহলে কমিশনটি গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?”
বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদের বই ‘বিচার সংস্কার নির্বাচন : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগের দিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। তবে ফখরুলের দাবি, কমিশন সদস্যদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
তিনি বলেন, “আমরা শুনেছিলাম কমিশন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ভিন্নমতগুলোও সুপারিশে যুক্ত করা হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেগুলো একেবারেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের উপেক্ষা ঐক্যের পরিপন্থী।”
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “একটি বিশাল গণঅভ্যুত্থান ও ত্যাগের বিনিময়ে আজকের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, সেই অর্জনগুলো জাতির কল্যাণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বরং বিভক্তি ক্রমেই বাড়ছে। এই বিভক্তি কারা সৃষ্টি করছে এবং কেন, তা গভীরভাবে ভাবতে হবে।”
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “আপনি জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। এখন আপনার দায়িত্ব হলো এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই নির্বাচনই হতে হবে জাতির সংকট সমাধানের পথ।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু এবং লেখক-সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী প্রমুখ।

Leave a Reply