Tag: মির্জা ফখরুল

  • রাজনীতিতে সৌজন্যের ইঙ্গিত: জামায়াতের ইফতারে আমন্ত্রণ পেলেন মির্জা ফখরুল

    রাজনীতিতে সৌজন্যের ইঙ্গিত: জামায়াতের ইফতারে আমন্ত্রণ পেলেন মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনীতিতে সৌজন্যের নতুন বার্তা দিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি। দলের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান–এর উদ্যোগে আগামী শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর–কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    দলের পক্ষে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দিতে বিএনপির মহাসচিবের বাসভবনে যান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দাওয়াতপত্র হস্তান্তর করেন।

    আমন্ত্রণপত্র গ্রহণ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রতি শুভেচ্ছা ও সালাম পৌঁছে দেন। বিষয়টিকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসেন এবং মহানগর দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন।

  • ক্ষমতায় ফেরার পর সামনে কঠিন বাস্তবতা: অর্থনীতি সচল ও আইনশৃঙ্খলা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ—মির্জা ফখরুল

    ক্ষমতায় ফেরার পর সামনে কঠিন বাস্তবতা: অর্থনীতি সচল ও আইনশৃঙ্খলা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ—মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: আগামী সরকার দায়িত্ব নিলে অর্থনীতি সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির লাগাম টানাই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা—এমন মন্তব্য করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য, দেশের অর্থনৈতিক গতি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করে তুলতে না পারলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে রাষ্ট্রের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর একটি উৎসবমুখর ও তুলনামূলকভাবে স্বচ্ছ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মতে, বহু ত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই নির্বাচন গণতান্ত্রিক ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করেছে।

    তবে এই সাফল্যের মাঝেও বেদনার কথা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, দলের প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এই ঐতিহাসিক বিজয় দেখে যেতে পারেননি—এটি দলের জন্য গভীর বেদনার বিষয়।

    গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলেই দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে। ভোটের সংস্কৃতি নিয়মিত ও গ্রহণযোগ্যভাবে চালু থাকলে জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হওয়া এবং দলটির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির আলোকে পরবর্তী সময়ে দলটির ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা নির্ধারিত হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

  • কারা কোথায় ভোট দেবেন? ১২ ফেব্রুয়ারির আগে বিএনপির হেভিওয়েটদের ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ

    কারা কোথায় ভোট দেবেন? ১২ ফেব্রুয়ারির আগে বিএনপির হেভিওয়েটদের ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ

    এবিএনএ: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে রয়েছে কৌতূহল ও উত্তেজনা। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত সময় পার করছে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন—তা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে।

    দলীয় সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর গুলশান এলাকার ভোটার হিসেবে গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রটিতে নির্বাচন দিনে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি থাকার কথা।

    বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে ভোট দেবেন। তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিত থেকে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে জানা গেছে। তার ভোট ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে আলাদা উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

    ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় দলের স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা ভোট দেবেন। প্রবীণ নেতা মির্জা আব্বাস রাজধানীর শাহজাহানপুরে অবস্থিত মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন। কেরানীগঞ্জে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরাকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নরসিংদীর পলাশে ড. আব্দুল মঈন খান চারনগরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

    বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের ভোটও স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গয়েশপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। চট্টগ্রামে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মুন্সিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। কক্সবাজারের পেকুয়ায় সালাহউদ্দিন আহমদ উপজেলা সরকারি মডেল জিএমসি ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে ভোট দেবেন।

    উত্তরাঞ্চলে সিরাজগঞ্জে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সালেহা ইশহাক সরকারি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং দক্ষিণে ভোলার লালমোহনে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম আব্দুল ওয়াহাব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন মতিহারা সরকারি হাইস্কুল কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের প্রস্তুতি নিয়েছেন।

    দলীয় মিডিয়া সেল জানিয়েছে, প্রতিটি কেন্দ্রে পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে নেতারা নির্ধারিত সময়েই ভোট দেবেন। নেতাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি শুধু নাগরিক দায়িত্ব পালন নয়—দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবল জোগাতেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

  • স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল, ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

    স্বাধীনতার প্রশ্নে জামায়াতের ভূমিকা তুলে ধরলেন মির্জা ফখরুল, ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র রাজনৈতিক বার্তা

    এবিএনএ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ছিল স্বাধীনতার বিপক্ষে। সে সময় তাদের ভূমিকার কারণে বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল এবং লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কান্দরপাড়া এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, বিএনপি স্বাধীনতার পক্ষে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। আমরা দেশ ছেড়ে পালাইনি, বরং সংগ্রামের মাধ্যমে দেশকে স্বাধীন করেছি।

    তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন চাওয়ার জন্যই মাঠে নেমেছেন তারা। বিএনপি কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে মা-বোনেরা চাল-ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাবেন, পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।

    কৃষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কৃষিকার্ডের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে সার ও কীটনাশক সরবরাহ করা হবে। বিএনপি সরকার গঠন করলে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে এবং নারীদের জন্য আরও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।

    এ সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই একই দেশের নাগরিক। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সবার নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা হবে।

    নির্বাচনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে রাজনীতিতে নৌকা ও ধানের শীষ ছিল প্রধান প্রতীক। বর্তমানে রাজনৈতিক বাস্তবতায় নৌকা নেই, নতুন প্রতীক দাঁড়িপাল্লা এসেছে। এখন মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

    গণসংযোগে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

  • মব সন্ত্রাসে দেশ ছিন্নভিন্ন, দায় এড়াতে পারে না সরকার: কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের

    মব সন্ত্রাসে দেশ ছিন্নভিন্ন, দায় এড়াতে পারে না সরকার: কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু এবং তার পরবর্তী সময়ে সংঘটিত একের পর এক মব সন্ত্রাসের ঘটনায় সরকারকে সরাসরি দায়ী করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি দেশবাসীর প্রতি দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

    মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ হাদির মৃত্যুর শোক যখন জাতিকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে এবং মানুষ তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছে, ঠিক তখনই ডেইলি স্টার, প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বরেণ্য সাংবাদিক নূরুল কবীরসহ আরও অনেকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    এই হামলাকে ঘৃণ্য ও নিন্দনীয় আখ্যা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সরকার কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। তিনি অবিলম্বে হাদির হত্যাকারীদের বিচার এবং সংঘটিত প্রতিটি মব সন্ত্রাসের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    ফখরুল আরও বলেন, গত এক বছরের বেশি সময় ধরে সংঘটিত মব সহিংসতা পুরো জাতিকে বিভক্ত করে ফেলেছে। স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা। কিন্তু বাস্তবতা তার বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।

    শেষে তিনি সব রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

  • স্বাধীনতাবিরোধীদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে জনগণই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে: মির্জা ফখরুল

    স্বাধীনতাবিরোধীদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে জনগণই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবারও মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবে দেশের জনগণ তাদের সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।

    তিনি বলেন, যারা ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারাই আজ নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দেবে এবং বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনবে।

    মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে আরও গতিশীল করবেন।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল এবং সেই যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর। এ কারণেই বিজয় দিবস বিএনপির কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

    বিজয় দিবসের সকালে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।

    প্রতি বছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে পুরো জাতি, একই সঙ্গে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার চেতনায় নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে রাজনৈতিক দলগুলো।

  • স্বাধীনতা অস্বীকারকারীরা এখন ‘নতুন দেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে—বিশ্বাসযোগ্য নয়: মির্জা ফখরুল

    স্বাধীনতা অস্বীকারকারীরা এখন ‘নতুন দেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছে—বিশ্বাসযোগ্য নয়: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: যারা একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছিল, তাদের ওপর আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আজ নতুন রূপে হাজির হয়ে এমন ভাব দেখাচ্ছে যেন তারাই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। কিন্তু দেশের মানুষ ইতিহাস জানে, তারা বিভ্রান্ত হবে না।

    রোববার শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে মূলত দুটি বিপরীত শক্তির মধ্যে। একদিকে থাকবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি। অন্যদিকে থাকবে সেই গোষ্ঠী, যারা বারবার ধর্মকে সামনে এনে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

    তিনি আরও বলেন, একাত্তরের ইতিহাস কোনোভাবেই ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। যারা এই দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছেন, রক্ত দিয়েছেন, তারা কখনো স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়াতে পারেন না। প্রশ্ন হলো—জাতি কোন পথে যাবে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে নাকি স্বাধীনতা অস্বীকারকারীদের পথে?

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের মানুষ সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীককে বেছে নেবে। এ কারণেই এবারের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, আজ আবার সেই পুরোনো শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, যারা ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আন্দোলন ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাও করেছিল এই একই গোষ্ঠী।

    সভায় তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসনের পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরবেন—এটি দলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে স্মরণকালের সংবর্ধনা দেওয়ার আহ্বান জানান।

    মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল জয়নুল আবেদিনসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।

  • তপশিল ঘোষণায় আশ্বস্ত বিএনপি: ‘গণতন্ত্রের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে’—মির্জা ফখরুল

    তপশিল ঘোষণায় আশ্বস্ত বিএনপি: ‘গণতন্ত্রের নতুন দ্বার উন্মোচন হবে’—মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) ঘোষিত তপশিল বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, তপশিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে পরিষ্কার হয়েছে—সরকার, রাজনৈতিক দলগুলো এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সম্মত এবং জনগণকে ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিইসির তপশিল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, “তপশিল ঘোষণায় আমরা মোটামুটি সন্তুষ্ট। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।”

    তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের তারিখ ঘোষণা হওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে—এটি দেশের রাজনীতিতে বড় একটি পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    ফখরুল আরও বলেন, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন একটি অবাধ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবে এবং সব প্রার্থী এ প্রক্রিয়াকে উৎসবমুখর করতে সহযোগিতা করবেন।

    বিএনপি মহাসচিব মনে করেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।

    এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দের দিন।”

  • আরও ৩৬ আসনে বিএনপির নতুন প্রার্থী তালিকা প্রকাশ—নির্বাচন ঘিরে দলীয় প্রস্তুতিতে গতি

    আরও ৩৬ আসনে বিএনপির নতুন প্রার্থী তালিকা প্রকাশ—নির্বাচন ঘিরে দলীয় প্রস্তুতিতে গতি

    এবিএনএ:  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় আরও গতি এনেছে। প্রথম দফায় ২৩৭ আসনের প্রার্থীদের নাম প্রকাশের পর এবার দ্বিতীয় দফায় আরও ৩৬ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে দলটি।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নতুন প্রার্থী তালিকা তুলে ধরেন।

    ঘোষণা অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে ডা. আব্দুস সালাম, দিনাজপুর-৫ এ এ কে এম কামরুজ্জামান, নওগাঁ-৫ এ জাহিদুল ইসলাম ধলু এবং নাটোর-৩ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বিএনপির হয়ে।

    সিরাজগঞ্জ-১ এ সেলিম রেজা, যশোর-৫ এ এম ইকবাল হোসেন, নড়াইল-২ এ মনিরুল ইসলাম, খুলনা-১ এ আমির এজাজ খান, পটুয়াখালী আসনে মোহাম্মদ শহিদুল আলম তালুকদার, বরিশাল-৩ এ জয়নাল আবেদীন ও ঝালকাঠি-১ আসনে রফিকুল ইসলাম জামাল মনোনয়ন পেয়েছেন।

    টাঙ্গাইল-৫ এ সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, ময়মনসিংহ-৪ এ আবু ওহাব আখন্দ ওয়ালিদ, কিশোরগঞ্জ-১ এ মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-৫ এ শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, মানিকগঞ্জ-১ এ এস এ জিন্নাহ কবির এবং মুন্সিগঞ্জ-৩ এ মো. কামরুজ্জামান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

    ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন আসনে মনোনীত হয়েছেন—ঢাকা-৭ এ হামিদুর রহমান, ঢাকা-৯ এ হাবিরুর রশিদ, ঢাকা-১০ এ শেখ রবিউল আলম এবং ঢাকা-১৮ এ এম এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

    গাজীপুর-১ এ মজিবুর রহমান, রাজবাড়ী-২ এ হারুন অর রশিদ, ফরিদপুর-১ এ খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, মাদারীপুর-১ এ নাদিরা আক্তার এবং মাদারীপুর-২ আসনে জাহান্দার আলী খান প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে নামবেন।

    এ ছাড়া সুনামগঞ্জ-২ এ নাসির হোসেন চৌধুরী এবং সুনামগঞ্জ-৪ এ নুরুল ইসলামকে প্রার্থী করা হয়েছে।

    দ্বিতীয় পর্যায়ের এই তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন কার্যক্রম আরও একধাপ এগিয়ে গেল।

    তালিকা দেখতে ক্লিক করুন…

    https://www.facebook.com/bnpbd.org/posts/1427358545419737?ref=embed_post

  • নির্বাচনের আগে আইন পাসের তাড়াহুড়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

    নির্বাচনের আগে আইন পাসের তাড়াহুড়া গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত: মির্জা ফখরুলের সতর্কবার্তা

    এবিএনএ: নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আইন তড়িঘড়ি করে পাসের উদ্যোগ সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি মনে করেন, এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন কোনো গণম্যান্ডেট ছাড়াই পাস করা হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক ধারার অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে।

    শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে আমরা তথ্য পেয়েছি যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংশোধিত পুলিশ কমিশন আইন এবং এনজিও সংক্রান্ত একটি আইন দ্রুত পাস করাতে চাচ্ছে। এই আইনের পেছনে সরকারের এমন একটি উদ্দেশ্য কাজ করছে, যা আদতে গণতান্ত্রিক উত্তরণকে বাধাগ্রস্ত করবে।

    বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, “জনগণের অনুমতি এবং মতামত ছাড়াই তড়িঘড়ি করে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ক আইন পাস করা কখনোই সমীচীন হতে পারে না। আমরা মনে করি, এসব আইন পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদে যথাযথ যুক্তিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে প্রণয়ন করাই যথাযথ হবে।”

    তিনি সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, এমন অগণতান্ত্রিক ও তাড়াহুড়োপূর্ণ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার জন্য, কারণ এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।