Tag: মির্জা ফখরুল

  • নির্বাচনে বিলম্ব নয়, দ্রুত ব্যবস্থা নিন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ফখরুলের আহ্বান

    নির্বাচনে বিলম্ব নয়, দ্রুত ব্যবস্থা নিন: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ফখরুলের আহ্বান

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিনদিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ফ্যাসিবাদী শক্তি আবার সংগঠিত হচ্ছে এবং ক্ষমতা ফিরে পেতে নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমন অবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তার আহ্বান—আর বিলম্ব নয়, দ্রুত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

    শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের যে রূপ আমরা অতীতে দেখেছি, সেটি আবার ফিরিয়ে আনার পাঁয়তারা চলছে। গণতন্ত্রবিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের রুখে দিতে হলে সময়ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।”

    মির্জা ফখরুল বলেন, “যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, তারাই এখন রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়। তারা ক্ষমতার লোভে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভয়ংকর আকার নিচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “পরিস্থিতি যে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। আমরা সংস্কারের কথা বলেছি, প্রস্তাবও দিয়েছি। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান খুঁজে বের করে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে। আর এই দায়িত্ব এখন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের।”

    ফখরুল বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক সুযোগ। যদি হাতছাড়া হয়, তবে দেশ আবার অনেক পিছিয়ে যাবে। প্রতিবার আন্দোলনে তরুণদের প্রাণ যাবে, সেটি হতে দেওয়া যায় না। রাজনৈতিক দলগুলো ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছে, তারা দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সচেতন ও আত্মত্যাগে প্রস্তুত।”

    তিনি আরও বলেন, “সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে যারা আছেন, তারা যেন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন ব্যবস্থার রূপরেখা দেন। সবাই মিলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে, যেন কোনোভাবেই আর ফ্যাসিবাদের কাছে দেশকে ছেড়ে না দিতে হয়।”

  • আওয়ামী দোসরদের ষড়যন্ত্রে দেশে নৈরাজ্য ছড়াচ্ছে: ফখরুলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

    আওয়ামী দোসরদের ষড়যন্ত্রে দেশে নৈরাজ্য ছড়াচ্ছে: ফখরুলের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

    এবিএনএ:  গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে সহিংস হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আওয়ামী দোসররা এখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’

    বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেলে এক বিবৃতিতে ফখরুল বলেন, দেশের ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতার পরিবেশকে অশান্ত করতে কিছু দুষ্কৃতিকারী নাশকতার পথে হাঁটছে। তিনি বলেন, “এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ, পুলিশের গাড়িতে আগুন, ইউএনও’র গাড়িতে হামলা—সবই একটি সুপরিকল্পিত অরাজকতার অংশ।”

    বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্যমতে, এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সেই অপশক্তি, যারা অতীতে স্বৈরশাসন চালিয়েছে এবং এখন আবারও ফায়দা লুটতে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে আওয়ামী দোসররা অন্তর্বর্তী সরকারকে চাপে ফেলতে দেশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা করছে।”

    তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার স্বার্থে এখনই দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তা না হলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে।”

    মির্জা ফখরুল দাবি জানান, গোপালগঞ্জের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একইসঙ্গে তিনি আহত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে এই ধরনের সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানান।

  • “নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা বদল হবে, দেশ চালাবে নির্বাচিত সরকার”— মির্জা ফখরুল

    “নির্বাচনের মাধ্যমেই ক্ষমতা বদল হবে, দেশ চালাবে নির্বাচিত সরকার”— মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ: বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকারের পরিবর্তন সম্ভব এবং সেই নির্বাচিত সরকারই দেশের নেতৃত্ব দেবে।” তিনি বলেন, উদার গণতন্ত্রে আস্থাশীল বিএনপি সবসময় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পক্ষে।

    বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে “জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা ও শহীদ সাংবাদিক পরিবারকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

    ফখরুল বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচন কমিশনকে ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা দিয়েছেন—এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ সময় তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করবে।

    তিনি বলেন, “দেশের মানুষ ভোটাধিকার রক্ষায় আন্দোলন করেছে, প্রাণ দিয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করে গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করা।”

    বিএনপির সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা সংস্কারের জন্যই সৃষ্টি হয়েছি। কোনো গুজব বা বিভ্রান্তি দিয়ে বিএনপিকে সংস্কারবিরোধী প্রমাণ করার চেষ্টা করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তিনি জানান, তিনদিন আগে এ বিষয়ে একটি স্পষ্ট সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

    সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে বলেও মন্তব্য করেন ফখরুল। তিনি বলেন, “পুশইন কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার বিষয় নয়। ভারতের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত সমাধান দরকার।”

    পানি বণ্টনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা এখন জাতীয় স্বার্থের বিষয়।” একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে “জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার” আহ্বান জানান তিনি।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজে ও ডিইউজের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ অন্যান্য বিশিষ্টজন।

  • নির্বাচনই দেশের মুক্তির পথ: যত দ্রুত ট্র্যাকে ফেরা যাবে, ততই মঙ্গল — মির্জা ফখরুল

    নির্বাচনই দেশের মুক্তির পথ: যত দ্রুত ট্র্যাকে ফেরা যাবে, ততই মঙ্গল — মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের সঠিক ধারায় ফিরে আসা দরকার। বুধবার সকালে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন দলের উপদেষ্টা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস এবং অধ্যাপক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ-কে দেখতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছে বিএনপি। একদলীয় শাসন থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্রে যাত্রার পেছনে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এখন সকল রাজনৈতিক দলকে মিলেই দেশের জন্য সঠিক পথ খুঁজে নিতে হবে। যত দ্রুত নির্বাচনমুখী ট্র্যাকে দেশ ফিরবে, ততই মঙ্গল।”

    তিনি বলেন, “নির্বাচনকে অপ্রয়োজনীয় ভাবা ভুল। জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন না হলে দেশ গণতন্ত্রহীন হয়ে পড়ে। আর সে কারণেই আমরা রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো সামনে এনেছি। নির্বাচনের সঙ্গে সংস্কার সাংঘর্ষিক নয়, বরং দুটি একসাথে চলতে পারে।”

    এক প্রশ্নের উত্তরে ফখরুল জানান, আওয়ামী লীগ সরকার ‘ফ্যাসিস্ট’ পন্থায় দেশ চালাচ্ছে এবং বিএনপি হচ্ছে সেই শাসনের সবচেয়ে বড় ভিকটিম। তিনি বলেন, “আমার নামে রয়েছে ১১২টি মামলা, আমি ১৩ বার জেলে গিয়েছি। আমাদের নেতা-কর্মীরা গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর দায় সরকারকে নিতে হবে।”

    শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করে ফখরুল বলেন, “আমি মনে করি, শেখ হাসিনা হাজারো মানুষের মৃত্যুর জন্য সরাসরি দায়ী। তার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে এবং যারা গণহত্যা ও নিপীড়নের সঙ্গে যুক্ত, তাদেরও বিচারের আওতায় আনা উচিত। প্রয়োজনে দলগতভাবে বিচার হওয়াও সময়ের দাবি।”

    তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আজ মুক্তি চায়, শান্তি চায়, গণতন্ত্র চায়। এ জন্য একটি নির্বাচিত সরকার দরকার, যে সরকার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, জবাবদিহিতার জায়গায় দাঁড়াবে।

  • টেলিকম নীতিমালা নিয়ে সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা বিএনপির

    টেলিকম নীতিমালা নিয়ে সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা বিএনপির

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) প্রণীত ‘ড্রাফট টেলিকম নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং রিফর্ম পলিসি ২০২৫’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটির দাবি, এত গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা দ্রুততার সঙ্গে গ্রহণ না করে, প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ ও অংশগ্রহণমূলক সংলাপ।

    বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি বলেন, “নীতিমালার উদ্দেশ্য ভালো হলেও, এর প্রয়োগ পদ্ধতিতে অস্পষ্টতা রয়েছে। SME এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারা বড় ধাক্কা খেতে পারেন। এই নীতিমালা একতরফাভাবে না করে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন।”

    বিএনপির অভিযোগ, নীতিমালার প্রস্তাব অনুযায়ী একাধিক সেবাখাতে মালিকানার সীমা তুলে দিলে বড় অপারেটররা বাজারে একচেটিয়া প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। এতে ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে এবং বাজারের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

    SME ও স্থানীয় অপারেটরদের জন্য অনিশ্চয়তা
    ডি-রেগুলেশনের ফলে SME ও স্থানীয় ISP গুলো আর্থিকভাবে চাপে পড়তে পারে বলে জানায় বিএনপি। নীতিমালায় এদের দায়বদ্ধতা ও সম্পদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনার অভাব রয়েছে।

    বিদেশি মালিকানার অস্পষ্ট সীমা নিয়ে আশঙ্কা
    মির্জা ফখরুল বলেন, বিদেশি মালিকানা নিয়ন্ত্রণে স্পষ্টতা না থাকায় ভবিষ্যতে দেশীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যেতে পারে।

    এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, “দেশীয় উদ্যোগ ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার রক্ষায় সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। বড় কোম্পানির একচেটিয়া দখল মানেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মৃত্যু।”

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার, মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান প্রমুখ।

    বিএনপি সরকারকে অনুরোধ জানায়, এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে যেকোনো নীতিগত পদক্ষেপের আগে আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব বিবেচনা করে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এ ধরনের নীতিমালা একতরফাভাবে বাস্তবায়ন সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে বিএনপির মন্তব্য।

  • প্রয়াত গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মহসিন মন্টু, রাজনীতির এক অধ্যায়ের অবসান

    প্রয়াত গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মহসিন মন্টু, রাজনীতির এক অধ্যায়ের অবসান

    এবিএনএ:

    রাজনৈতিক অঙ্গনের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, গণফোরামের সভাপতি মোস্তফা মহসিন মন্টু আর নেই। রবিবার বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

    দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। জীবনের শেষ পর্যায়ে শারীরিক অবস্থা অবনতি ঘটলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, তবে সেখানেই থেমে যায় তাঁর জীবনের পথচলা।

    মোস্তফা মহসিন মন্টুর মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে এসেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক শোকবার্তায় তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।

    দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোস্তফা মহসিন মন্টু দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি ছিলেন এক নিবেদিত প্রাণ রাজনীতিক।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, মোস্তফা মহসিন মন্টুর মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের ইতি ঘটল। গণফোরাম ও জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর অভাব দীর্ঘদিন অনুভূত হবে।

  • রোজা, গরম ও ঝড়—এপ্রিল নয়, নির্বাচন হোক ডিসেম্বরেই: মির্জা ফখরুল

    রোজা, গরম ও ঝড়—এপ্রিল নয়, নির্বাচন হোক ডিসেম্বরেই: মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:

    ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের পর দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। এ সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ আরও অনেক নেতা।

    মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, এপ্রিল মাসকে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সঠিক সময় হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। তার মতে, “এ সময় প্রচণ্ড গরম, ঝড়-বৃষ্টি এবং রোজার সময়কাল একত্রে হওয়ায় নির্বাচনের পরিবেশ অনুকূল থাকবে না। তাছাড়া ওই সময় পাবলিক পরীক্ষাও চলবে। এমন পরিস্থিতিতে ভোটের প্রচারণা ও অংশগ্রহণ কঠিন হয়ে পড়বে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা আগে থেকেই বলে আসছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া উচিত। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, জনগণেরও প্রত্যাশা ছিল। ডিসেম্বরের আবহাওয়া, সময়সূচি এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।”

    মির্জা ফখরুল মনে করেন, নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার আলোকে হওয়া উচিত, আর সেটিই জাতীয় স্বার্থে গ্রহণযোগ্য হবে।

  • ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি বারবার জানিয়ে আসছে বিএনপি: ফখরুলের বিস্ফোরক বক্তব্য

    ফ্যাসিবাদী দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি বারবার জানিয়ে আসছে বিএনপি: ফখরুলের বিস্ফোরক বক্তব্য

    এবিএনএ:   আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদী মানবতাবিরোধী দল হিসেবে ঘোষণা দিয়ে নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে পত্র দিয়েছে বিএনপি। আজ রবিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে দেওয়া চিঠিতে তাদের পক্ষ থেকে এই দাবি স্পষ্টভাবে জানানো হয়।

    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্রবিরোধী আচরণ, গুম-খুন দমননীতির মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করেছে। কারণে দলটিকে বিচারের আওতায় এনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত।

    ১৬ এপ্রিল আবারও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে একই দাবি জানিয়ে চিঠি প্রদান করা হয় বলে জানান ফখরুল। সেই চিঠিতে উল্লেখ ছিল—দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে কলুষমুক্ত করতে ফ্যাসিবাদী দল তাদের সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার করা দরকার।

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, আইন সংশোধন করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাই একমাত্র যৌক্তিক পদক্ষেপ। তিনি দাবি করেন, আগে থেকেই ব্যবস্থা নিলে সরকারকে আজ আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।

    ফখরুল আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে কোনো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিষয়ে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেবে এবং দেশের স্বার্থে যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।