Tag: মির্জা ফখরুল

  • অস্থিরতার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা ছিলেন মওদুদ আহমদ: মির্জা ফখরুলের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

    অস্থিরতার বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আলোকবর্তিকা ছিলেন মওদুদ আহমদ: মির্জা ফখরুলের আবেগঘন স্মৃতিচারণ

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “আমরা এখন এমন এক অস্থিরতার মধ্যে বাস করছি, যেখানে মানুষের আশা ও গণতন্ত্রের পথ প্রায় অন্ধকারে ঢাকা।” তিনি জানান, এই অনিশ্চয়তার সময়টিতে যে ক’জন মানুষ দেশের জন্য সত্যিকারের দিকনির্দেশনা দিতে পারতেন, তাদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ছিলেন অন্যতম। তাঁর কণ্ঠে দুঃখের সুর—“খুব আফসোস হয়, তিনি বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন দেখে যেতে পারেননি, যা তিনি জীবনের শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশা করেছিলেন।”

    মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ রচিত নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

    তিনি বলেন, “মওদুদ আহমদ শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, ছিলেন ইতিহাসের একজন গভীর পর্যবেক্ষক। আন্তরিকভাবে ইতিহাসচর্চা ও সত্যিকারের রাজনৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে কাজ করেছেন। তিনি ছিলেন এক অনন্য প্রজ্ঞাবান ও বহুমাত্রিক গণতান্ত্রিক ব্যক্তিত্ব।”

    স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ফখরুল বলেন, “২০১২ সালে আমরা ১৭ জন যখন প্রথমবারের মতো কারাবন্দি হলাম, তখন দেখলাম ব্যারিস্টার মওদুদ খুব দ্রুত ডিভিশন সেলের দিকে যাচ্ছেন। জানতে পারলাম, তিনি রুম নাম্বার ওয়ানে গিয়ে লিখতে বসবেন। কারাগারে তিনি ভোর থেকে রাত পর্যন্ত লিখতেন, শুধু খাবারের সময় একটু উঠতেন। তাঁর লেখালেখির প্রতি যে নিষ্ঠা ছিল, তা সত্যিই অনুকরণীয়।”

    অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতাসহ দেশের বিভিন্ন খ্যাতিমান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী ও বুদ্ধিজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের অবদান, তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে কথা বলেন এবং তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

  • স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আপস নয়, জনগণের সরকার গঠনের প্রত্যয় মির্জা ফখরুলের

    স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আপস নয়, জনগণের সরকার গঠনের প্রত্যয় মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া যাবে না— এমন দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, জাতির অস্তিত্ব রক্ষার এই প্রশ্নে বিএনপি কখনোই আপস করবে না।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোনে যুক্ত হয়ে এ বক্তব্য দেন তিনি।

    নির্ধারিত প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জরুরি কারণে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি বিএনপি মহাসচিব।

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। আমরা যেকোনো মূল্যে এই মর্যাদা রক্ষা করব। জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।”

    মির্জা ফখরুল আরও বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষের ভোট ও মতের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।”

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের প্রবর্তক। তিনি একদলীয় শাসনের পরিবর্তে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, যা আজও আমাদের প্রেরণা জোগায়।”

  • ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা: প্রতারণার অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

    ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা: প্রতারণার অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এটা জনগণের সঙ্গে যেমন প্রতারণা, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা। এই পরিস্থিতিতে একে কোনোভাবেই ঐক্য বলা যায় না। তাহলে কমিশনটি গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?”

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদের বই ‘বিচার সংস্কার নির্বাচন : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    এর আগের দিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। তবে ফখরুলের দাবি, কমিশন সদস্যদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    তিনি বলেন, “আমরা শুনেছিলাম কমিশন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ভিন্নমতগুলোও সুপারিশে যুক্ত করা হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেগুলো একেবারেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের উপেক্ষা ঐক্যের পরিপন্থী।”

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “একটি বিশাল গণঅভ্যুত্থান ও ত্যাগের বিনিময়ে আজকের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, সেই অর্জনগুলো জাতির কল্যাণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বরং বিভক্তি ক্রমেই বাড়ছে। এই বিভক্তি কারা সৃষ্টি করছে এবং কেন, তা গভীরভাবে ভাবতে হবে।”

    প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “আপনি জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। এখন আপনার দায়িত্ব হলো এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই নির্বাচনই হতে হবে জাতির সংকট সমাধানের পথ।”

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু এবং লেখক-সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী প্রমুখ।

  • পিআর পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ সংসদের—গণতন্ত্র রক্ষায় আহ্বান ফখরুলের

    পিআর পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ সংসদের—গণতন্ত্র রক্ষায় আহ্বান ফখরুলের

    এবিএনএ: সংখ্যানুপাতিক বা পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি নিয়ে এখনই সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টি আগামী সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    রবিবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে খ্রিস্টান ফোরামের নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    মির্জা ফখরুল বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ আবারও প্রমাণ করবে যে এই দেশ সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক চেতনার। আমরা চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। যদিও কিছু মহল এ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “হঠাৎ পিআর পদ্ধতির দাবি তুলে আন্দোলনের চেষ্টা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। নির্বাচনী ব্যবস্থার রূপ কেমন হবে—তা নির্ধারণ করা উচিত আগামী সংসদের মাধ্যমে। সেই সংসদই সিদ্ধান্ত নেবে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের ধরন।”

    সংসদ কাঠামো নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “আমরা উচ্চকক্ষের প্রস্তাব দিয়েছি, যা একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে পারে। তবে নিম্নকক্ষের বাস্তবতা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া টিকিয়ে রাখতে হলে সব পক্ষের উচিত জনগণের মতামতকে সম্মান জানানো এবং সংলাপের মাধ্যমে পথ বের করা।”

  • পিআর নয়, নির্বাচনই আগে — মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা: পদ্ধতি দিয়ে বিলম্ব চান কিছু রাজনৈতিক দল

    পিআর নয়, নির্বাচনই আগে — মির্জা ফখরুলের কড়া বার্তা: পদ্ধতি দিয়ে বিলম্ব চান কিছু রাজনৈতিক দল

    এবিএনএ: বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, পিআর (প্রতিনিধিত্বমূলক) পদ্ধতি নিয়ে কথাবার্তা চালানো ও আন্দোলন মূলত নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। রবিবার ঢাকায় ডিআরইউতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের কোনো প্রস্তাবে পিআর পদ্ধতি নেই—বাহির থেকে কেবল কিছু রাজনৈতিক শক্তি এটাকে অজুহাত বানিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলছে।

    ফখরুল বলেন, “তাদের লক্ষ্য একটাই — নির্বাচনের সময় পিছিয়ে দেওয়া। জনগণের হাতে ক্ষমতা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াটাকেই তারা স্থগিত করতে চায়।” তিনি আরও বলেন, এই পদ্ধতিটি মানুষের কাছে জনপ্রিয় নয় এবং চাপিয়ে দিলে জনগণ গ্রহণ করবে না। আলোচনা সভায় রাখা প্রশ্নে উপস্থিত নেতাদের অনেকেই স্বীকার করেন, তারা পিআর পদ্ধতিটি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা রাখেন না।

    মির্জা ফখরুল মনে করিয়ে দেন, বিএনপি আগেই বলেছে—আসন্ন নির্বাচনের জন্য নেই কোনো বিলম্ব; অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটমেন্ট অনুযায়ী আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তারা সেটাই দেখতে চায়। তিনি আরও বলেন, “জনগণ পরীক্ষিত ও কাজ করা সেই দলকেই বেছে নেবে, যে দল মানুষকে আশার আলো দেখিয়েছে।”

    বিএনপির শীর্ষনেতার ভাষ্য, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতি রক্ষা করতে জনগণের ঐক্য ও সচেতনতা প্রয়োজন; যে কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তকে জনগণই মোকাবিলা করবে। তিনি জনগণকে নেতৃত্ব, ঐক্য ও প্রতিবাদী মনোভাব বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যেতে আহ্বান জানিয়ে শেষ করেন।

  • স্বৈরাচারের পতন হলেও ষড়যন্ত্র চলছে: শারদীয় দুর্গাপূজায় সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

    স্বৈরাচারের পতন হলেও ষড়যন্ত্র চলছে: শারদীয় দুর্গাপূজায় সতর্ক থাকার আহ্বান তারেক রহমানের

    এবিএনএ: স্বৈরাচার সরকারের পতন ঘটলেও তাদের নানামুখী ষড়যন্ত্র আজও শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখতে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং তা নষ্ট করার যেকোনো ঘৃণ্য প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে দলের অবস্থান দৃঢ়।

    বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে দেশের মানুষ সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে পালন করে আসছে, যা ধর্মীয় সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে স্বৈরশাসনের সুবিধাভোগীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বারবার এই সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালিয়েছে। এবারের দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

    তারেক রহমান আরও বলেন, ‘‘সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে জনগণের সহযোগিতায় পূজার নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন আয়োজন নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে।’’

    অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, হিন্দু সম্প্রদায় পূজার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং তা সব সম্প্রদায়ের মাঝে আনন্দ ও সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে। তবে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক ফায়দার জন্য বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করে।

    তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘আসন্ন দুর্গাপূজায় যেকোনো ষড়যন্ত্র বা নাশকতা ব্যর্থ করে দিতে হবে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহন করছে, সেটিকে অটুট রাখতে হবে।’’

    মির্জা ফখরুল আরও আহ্বান জানান, বিএনপি’র নেতাকর্মীরা সারাদেশের পূজামণ্ডপগুলোতে পাহারাদারীর মতো কাজ করবে, যাতে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপন সম্ভব হয়।

  • ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে: আলোচনায় আশাবাদী মির্জা ফখরুল

    ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচন হবে: আলোচনায় আশাবাদী মির্জা ফখরুল

    এবিএনএ:  বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাদের আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি জানান, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

    রবিবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন ফখরুল।

    তিনি বলেন, “জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে প্রধান উপদেষ্টা আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নির্বাচন হবে।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, “এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক ঘটনা। এর পেছনে একটি মহল নির্বাচনকে বিলম্বিত করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।”

    অন্যদিকে লন্ডনে একটি দলের প্রধানের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে জামায়াতের অভিযোগের জবাবে ফখরুল বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বিএনপির মতো একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের প্রধানের সঙ্গে বসেছেন। এটা তার এখতিয়ার এবং ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে কারও অভিযোগ করার সুযোগ নেই।”

    বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

  • গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা রুখতেই চলছে গভীর ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুলের অভিযোগ

    গণতন্ত্রের পথে অগ্রযাত্রা রুখতেই চলছে গভীর ষড়যন্ত্র: মির্জা ফখরুলের অভিযোগ

    এবিএনএ:   বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতেই নানা ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পিত চক্রান্ত চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

    ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও আমার না বলা কথা’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় যুবদলের ৭৮ জন শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, পুরস্কার এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

    প্রধান অতিথি হিসেবে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    চক্রান্ত চলছে গণতন্ত্র রুদ্ধ করতে

    মির্জা ফখরুল বলেন,
    “আমরা গত ১৭ বছর ধরে এই স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করে এসেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং পরে তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এই আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছি। এখন যখন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, ঠিক তখনই নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে।”

    তিনি বলেন,
    “চেষ্টা চলছে দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করে গণতন্ত্রের উত্তরণ ব্যাহত করতে। হাসিনা সরকারের নির্যাতন অতিক্রম করে আমরা এই ‘ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ এসেছি। এখন আমাদের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ—ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি এবং রাজনীতি পুনর্গঠন।”

    বিএনপিই আগেও দেশ পুনর্গঠন করেছে

    বিএনপি মহাসচিব দাবি করেন, অতীতেও যখনই দেশ সংকটে পড়েছে, তখন বিএনপিই দায়িত্ব নিয়ে রাষ্ট্র ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছে। এখন আবার সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত দলটি।

    রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান

    সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ফখরুল বলেন,
    “আমরা কাদা ছোড়াছুড়ি না করে একসঙ্গে এগিয়ে যাই। এটাই সময় গণতন্ত্র পুনর্গঠনের, দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করার। একযোগে কাজ করলেই আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।”

  • ভুল সিদ্ধান্তে গণতন্ত্র হুমকিতে পড়তে পারে, সতর্কবার্তা দিলেন তারেক রহমান

    ভুল সিদ্ধান্তে গণতন্ত্র হুমকিতে পড়তে পারে, সতর্কবার্তা দিলেন তারেক রহমান

    এবিএনএ:  সরকার যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তা গণতান্ত্রিক উত্তরণকে সংকটে ফেলতে পারে— এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী অপশক্তিগুলো ফের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ খুঁজছে। সেক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার ও নাগরিকদের থাকতে হবে সর্বোচ্চ সতর্ক।

    বুধবার বিকেলে সাভারের আশুলিয়ায় ‘জুলাই অভ্যুত্থানে’ শহীদদের স্মরণে আয়োজিত সমাবেশে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের গুলির পর লাশ ভ্যানে তুলে পোড়ানোর অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার এক বছর পূর্তিতে ঢাকা জেলা বিএনপি এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।

    তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের মালিক জনগণ— এই বাস্তবতাকে মেনে না নিলে রাজনীতি অর্থহীন হয়ে যাবে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি জনগণের মুখাপেক্ষী হয়, তবে গুণগত পরিবর্তন আসবে।’ তিনি আরও বলেন, শহীদরা সংখ্যা নয়, তাঁদের ত্যাগেই রাষ্ট্রে পরিবর্তন এসেছে। এ জন্য প্রতিটি শহীদ পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রের দায় রয়েছে।

    তিনি জানান, বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আশুলিয়া বা সাভারে শ্রমজীবী শহীদদের সম্মানে একটি বিশেষ স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তুলবে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকাও নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “জনগণ অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছিল গণতন্ত্রের রক্ষার জন্য। কিন্তু আজ সেই সরকারই নানা অপকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। শিক্ষাঙ্গন, স্থানীয় সরকার কিংবা জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপি সবসময় জনগণের ভোটে প্রতিনিধিত্ব চায়। কিন্তু সরকার কি সেই সুযোগ তৈরি করছে?”

    সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু এমন কিছু করা যাবে না যাতে আবার ফ্যাসিস্ট শক্তি সুযোগ নেয়। শেখ হাসিনা যেন আর ফিরে না আসতে পারে, সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”

    তিনি আরও বলেন, “হিটলার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গ্যাস চেম্বারে মানুষ পুড়িয়ে মারতেন, শেখ হাসিনাও ছাত্রদের পুড়িয়ে হত্যা করেছেন।”

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “ফ্যাসিবাদকে সরানো গেছে, কিন্তু এখন এনজিওবাদ রাষ্ট্র চালাচ্ছে। এর থেকে মুক্তি পেতে হলে নতুন দিকনির্দেশনা প্রয়োজন, যা তারেক রহমান দেবেন।”

    ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরীর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু ও আমিনুল হক প্রমুখ।

  • “বিদেশি পরামর্শক এনে সংস্কার হয় না, দেশ চালানো যায় না”— কড়া মন্তব্য মির্জা ফখরুলের

    “বিদেশি পরামর্শক এনে সংস্কার হয় না, দেশ চালানো যায় না”— কড়া মন্তব্য মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ:  বিদেশ থেকে কিছু বিশেষজ্ঞ বা পরামর্শক এনে রাষ্ট্র পরিচালনার চিন্তা সম্পূর্ণ অকার্যকর— এমন কড়া মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

    শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জিয়া পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন,

    “কয়েকজন ব্যক্তি কিছু বৈঠক করে রাষ্ট্র সংস্কার করে ফেলবে— এটা অবাস্তব চিন্তা। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, যা জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া সম্ভব নয়।”

    আলোচনায় তিনি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাম্প্রতিক উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। ফখরুল বলেন,

    “একটা কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে মৌলিক সংস্কার করে দেবে— এটা ভাবার সুযোগ নেই। রাষ্ট্র গঠনে বাস্তব কাঠামো দরকার, শুধু পরিকল্পনা দিয়ে কিছুই হবে না।”

    তিনি আরও বলেন,

    “বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ এখনো সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের ধারণা বোঝে না। তারা জানে—একজন প্রার্থী, একটি প্রতীক। তাদের জন্য প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব, প্রার্থীর ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা। এই বাস্তবতা বিবেচনায় না এনে নির্বাচন ব্যবস্থা পরিবর্তনের কথা বলা অর্থহীন।”

    আলোচনার এক পর্যায়ে ফখরুল আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

    “আমলাতন্ত্র এখন উন্নয়নের বড় প্রতিবন্ধক। নেগেটিভ بيرোক্রেসিকে পজিটিভ ব্যুরোক্রেসিতে রূপান্তর করতে হলে সময়োপযোগী সংস্কার দরকার।”

    তিনি আরও যোগ করেন,

    “সংস্কার রাতারাতি হয় না, গঠনতান্ত্রিক কাঠামো এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে স্বাভাবিকভাবে দুর্নীতি বা অনিয়ম না হয়।”

    মির্জা ফখরুল মনে করেন, বর্তমানে বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

    “জাতি এক ভয়াবহ রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যে আছে। একদিকে গণতন্ত্রের ঘাটতি, অন্যদিকে অর্থনৈতিক দুর্দশা—এই দুই থেকে জাতিকে বের করে আনতে হবে। আওয়ামী লীগ যা ক্ষতি করেছে, তা পুষিয়ে নিতে সময় ও কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার।”

    আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন জিয়া পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, সঞ্চালনায় ছিলেন অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক এমতাজ হোসেন, মজিবুর রহমান হাওলাদার, আবদুল্লাহ হিল মাসুদসহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা।