Tag: জাতীয় রাজনীতি

  • প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম: বাগেরহাটে উৎসবের আমেজ

    প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রিসভায় লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম: বাগেরহাটে উৎসবের আমেজ

    এবিএনএ,বাগেরহাট: প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরই মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়ে চমক সৃষ্টি করেছেন লায়ন ডা. শেখ ফরিদুল ইসলাম। বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসন থেকে নির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

    গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে অংশগ্রহণ করে তিনি ১ লাখ ২ হাজার ১৯৩ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন। প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

    রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি সুপরিচিত। বিশেষ করে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, তার উদ্যোগে কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন, যা এলাকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

    বাগেরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এটিএম আকরাম হোসেন তালিম প্রতিক্রিয়ায় জানান, ডা. লায়ন ফরিদুল ইসলাম বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হওয়ায় জেলাবাসী আনন্দিত। তিনি বলেন, অবহেলিত বাগেরহাটবাসীর জন্য এটি একটি বড় প্রাপ্তি।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, জেলাবাসীর পক্ষ থেকে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে। আগামী দিনে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাগেরহাট জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সবাই কাজ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

  • প্রত্যর্পণ নিয়ে বার্তা দিলেন তারেক: শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আইনি পথে

    প্রত্যর্পণ নিয়ে বার্তা দিলেন তারেক: শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আইনি পথে

    এবিএনএ: সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে; কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।

    শনিবার বিকেলে ঢাকার শাহবাগ এলাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান নতুন সরকারের সামনে থাকা বড় চ্যালেঞ্জগুলোর কথা তুলে ধরেন। তার ভাষ্য, ভঙ্গুর অর্থনীতি ও পুঁজি সংকট কাটানোই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। ব্যাংকিং খাতে তারল্য জোরদার, ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে দ্রুত সংস্কার শুরু হবে। পাশাপাশি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে পেশাদারিত্ব ও সুশাসন ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

    তরুণদের পাশাপাশি প্রবীণ, নারী ও প্রতিবন্ধীদের চাহিদা নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব পাবে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন থাকবে। আঞ্চলিক কূটনীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্ক-কে আবার কার্যকর করতে বাংলাদেশ উদ্যোগী ভূমিকা নেবে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে দূরত্ব কমাতে সংলাপ জোরদার করা হবে।

    বিদেশি বিনিয়োগ ও চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ-এর মতো যেকোনো আন্তর্জাতিক উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। উদ্যোগটি দেশের অর্থনীতিতে বাস্তব সুফল আনলে তবেই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের পেছনে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপির ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ ছিল জনগণের আস্থা অর্জন—মানুষকে বিশ্বাসে আনা। সেই জায়গাতেই দল সফল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বার্তা দেন।

  • প্রশাসন একদলীয় হলে নির্বাচন কি আদৌ নিরপেক্ষ থাকবে? কড়া সতর্কতা জামায়াতের

    প্রশাসন একদলীয় হলে নির্বাচন কি আদৌ নিরপেক্ষ থাকবে? কড়া সতর্কতা জামায়াতের

    এবিএনএ: দেশের প্রশাসন ধীরে ধীরে একটি রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে—এমন অভিযোগ তুলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে গুরুতর শঙ্কার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নষ্ট হলে জনগণের কাছে নির্বাচন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।

    রোববার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

    ডা. তাহেরের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে দায়িত্বে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের আচরণে বিএনপির প্রতি পক্ষপাত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে যেসব জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার একযোগে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কার্যক্রমে নিরপেক্ষতার অভাব দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকর্তাদের একটি তালিকা তারা প্রস্তুত করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে আপাতত বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনো দেওয়া হয়নি।

    তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও প্রটোকল দেওয়ার ঘটনা নির্বাচনী মাঠে সমতার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ জোরালো হচ্ছে।

    জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, কারও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিরোধিতা তারা করেন না। তবে একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতা হিসেবে জামায়াত আমিরের ক্ষেত্রেও একই আচরণ প্রত্যাশিত। তা না হলে প্রশাসনের ভূমিকা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে বিবেচিত হবে।

    নির্বাচন কমিশনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এ ধরনের বৈষম্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে কমিশন দায় এড়াতে পারবে না। এতে নির্বাচনী মাঠের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়বে।

    ডা. তাহের জানান, এসব উদ্বেগ সরাসরি প্রধান উপদেষ্টার নজরে আনা হয়েছে। প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন কার্যকর ভূমিকা না নিলে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

    তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চান। তবে তার আশপাশের কিছু উপদেষ্টা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছেন—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।

    এদিকে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে জামায়াত নেতা জানান, প্রধান উপদেষ্টা মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন। এটি বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

  • চাঁদাবাজি করলে বিএনপিতে ঠাঁই নেই : আমির খসরু

    চাঁদাবাজি করলে বিএনপিতে ঠাঁই নেই : আমির খসরু

    এবিএনএ: বিএনপি কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, বিএনপির রাজনীতি শান্তি, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। যারা চাঁদাবাজি কিংবা মাস্তানির সঙ্গে জড়িত, তাদের এখনই দল ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

    বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের পতেঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড (উত্তর পতেঙ্গা) বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আমির খসরু।

    দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকারের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও তিনি কখনো নীতিগত প্রশ্নে আপস করেননি।

    দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আমির খসরু বলেন, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব বেড়ে গেছে। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে অর্থনীতিতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করে উন্নয়নের সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হবে।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অর্থপাচার কিংবা বড় প্রকল্পের নামে দুর্নীতির রাজনীতি হবে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের রাজনীতি করবে দলটি।

    চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, দলের ভেতরে এসব অপকর্মের কোনো জায়গা নেই। কেউ যদি এসব কাজে জড়িত থাকে, তাহলে সময় থাকতে শুধরে যেতে হবে; নচেৎ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের লোক দল ছাড়লেও বিএনপির জনপ্রিয়তা বা নির্বাচনী সাফল্যে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    সভায় বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • জাতির শোকে স্তব্ধ দেশ, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার সাধারণ ছুটি

    জাতির শোকে স্তব্ধ দেশ, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও বুধবার সাধারণ ছুটি

    এবিএনএ: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সারাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) একদিনের সাধারণ ছুটিও ঘোষণা করা হয়।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে পুরো জাতি গভীর শোক ও বেদনায় নিমজ্জিত।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিভাবকতুল্য নেত্রীকে হারিয়েছে। এই শোকের মুহূর্তে তাঁর পরিবার, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং অগণিত অনুসারীর প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে। তিনি মহান আল্লাহর কাছে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

    শোক পালনকালে সবাইকে শৃঙ্খলা ও ধৈর্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জানাজা ও অন্যান্য ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন।

    খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের মূল্যায়ন করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব বারবার দেশকে গণতন্ত্রের পথে ফেরার সাহস জুগিয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় খালেদা জিয়ার অবিচল অবস্থান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এমন একজন দূরদর্শী ও দেশপ্রেমিক নেত্রীর শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

    শেষে জাতির এই শোকাবহ সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা নাশকতা যেন সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

  • শেষ বিদায়ে প্রস্তুত দেশ, বুধবার বাদ জোহর মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা

    শেষ বিদায়ে প্রস্তুত দেশ, বুধবার বাদ জোহর মানিক মিয়া এভিনিউতে খালেদা জিয়ার জানাজা

    এবিএনএ: বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জানাজা শেষে তাকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশেই দাফন করা হবে।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামতে পারে—এমন প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে জানাজার স্থান ঘিরে।

    এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

    মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্বজনরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।

    দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। কিডনি ও যকৃতের জটিলতা, ডায়াবেটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসসহ বার্ধক্যজনিত একাধিক রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি।

    খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

  • মহাকালের অবসান: না-ফেরার দেশে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধ্রুবতারা বেগম খালেদা জিয়া

    মহাকালের অবসান: না-ফেরার দেশে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ধ্রুবতারা বেগম খালেদা জিয়া

    এবিএনএ: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ এক গভীর শূন্যতার দিন। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও অবিচল নেতৃত্বের প্রতীক—তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন।

    মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

    বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে দলীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এই প্রয়াণের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ, বর্ণাঢ্য ও সংগ্রামী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।

    দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২৩ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও দেশবাসীর দোয়া সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত হার মানেন তিনি।

    একসময় যিনি ছিলেন প্রচারবিমুখ ও লাজুক গৃহবধূ, সময়ের প্রয়োজনে তিনিই হয়ে ওঠেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের আপসহীন নেত্রী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে অগ্রণী ভূমিকা, এক-এগারোর রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলা এবং দীর্ঘ ১৬ বছরের দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন হয়ে ওঠে এক অনন্য ত্যাগের ইতিহাস।

    ১৯৪৫ সালে দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া খালেদা খানম পুতুল রাজনীতিতে আসেন অনিচ্ছায়। কিন্তু ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর দেশের সংকটময় মুহূর্তে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বানে তিনি রাজপথে নামেন। ১৯৮৩ সালে বিএনপির দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার ঐতিহাসিক রাজনৈতিক যাত্রা।

    স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান তাকে এনে দেয় ‘আপোষহীন নেত্রী’র স্বীকৃতি। দীর্ঘ নয় বছরের আন্দোলনের পর ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন ঘটে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

    তার শাসনামলে শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন, অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ ও অর্থনীতিতে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। যমুনা সেতু, মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষা, মোবাইল ফোন খাত উন্মুক্তকরণ—সবই তার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফসল।

    পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তিনি কারাবরণ, গৃহবন্দিত্ব ও চিকিৎসাবঞ্চনার মতো অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবু কখনো আপস করেননি, কখনো দেশ ছেড়ে যাননি। তার এই অবিচলতা তাকে ইতিহাসে গণতন্ত্রের এক অমর প্রতীকে পরিণত করেছে।

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের পতনের পর তিনি নিঃশর্ত মুক্তি পান। মুক্তির পর প্রতিহিংসার পরিবর্তে তিনি আহ্বান জানান শান্তি, সহনশীলতা ও ঐক্যের।

    আজ তিনি নেই, কিন্তু তার আদর্শ, সাহস ও ত্যাগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এবং থাকবেন—এক অটল ধ্রুবতারা।

  • ১৯ বছর পর নয়াপল্টনে তারেক রহমান: বিএনপি কার্যালয়ে ফিরতেই নেতাকর্মীদের জনস্রোত

    ১৯ বছর পর নয়াপল্টনে তারেক রহমান: বিএনপি কার্যালয়ে ফিরতেই নেতাকর্মীদের জনস্রোত

    এবিএনএ: দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় পর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার বিকেলে তার গাড়িবহর কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

    বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নয়াপল্টনে প্রবেশ করেন তারেক রহমান। তাকে অভ্যর্থনা জানাতে আগে থেকেই কার্যালয়ের সামনে এবং আশপাশের সড়কে জড়ো হন হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক। মুহুর্মুহু করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এলাকা।

    কার্যালয়ের দোতলার বেলকনিতে দাঁড়িয়ে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি দেশ পুনর্গঠনে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তারেক রহমান বলেন, ছোট ছোট ইতিবাচক কাজের মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

    এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানান দ্রুত রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো ভোগান্তি না হয়। পাশাপাশি নিজের জন্য এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন তিনি।

    তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানান, এদিন কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল না। ভবিষ্যতে কর্মসূচি নির্ধারিত হলে তখন তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলেও উল্লেখ করেন।

    দুপুরের পর থেকেই নয়াপল্টনে নেতাকর্মীদের জমায়েত শুরু হয়। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো সড়ক জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ভিড় সামলাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলের স্বেচ্ছাসেবকদের বেশ তৎপর থাকতে দেখা যায়।

    এর আগে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা দিয়ে বিকেল ৪টার কিছু পর নয়াপল্টনে পৌঁছান তারেক রহমান। কার্যালয়ের গেটে তাকে স্বাগত জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। পরে তিনি কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে নিজের জন্য প্রস্তুত করা কক্ষে যান।

    উল্লেখ্য, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল থেকেই নয়াপল্টন ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

  • তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার নতুন ব্যাখ্যা

    তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার নতুন ব্যাখ্যা

    এবিএনএ: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার জন্য এখনো ট্রাভেল পাসের আনুষ্ঠানিক আবেদন করেননি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

    লন্ডনে অবস্থানরত তারেক রহমানের ট্রাভেল পাস ইস্যু নিয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, “তিনি চাইলে পাস ইস্যু করা সম্পূর্ণ সম্ভব। তবে আমার জ্ঞান অনুযায়ী, এখনো কোনো আবেদন আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।”

    তারেক রহমানের বর্তমানে বৈধ পাসপোর্ট আছে কি না—এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

    দেশে ফেরা বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।

    এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার সরকারিভাবে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজন হলে সরকারের সে সক্ষমতা রয়েছে বলে জানান তৌহিদ হোসেন।

    এর আগে গত ৩০ নভেম্বর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, দেশ ফিরতে চাইলে তারেক রহমানকে কোনো বাধার সম্মুখীন হতে হবে না। পাসপোর্ট না থাকলেও বা মেয়াদোত্তীর্ণ হলে এক দিনের মধ্যেই ওয়ান–টাইম ট্রাভেল পাস ইস্যু করা সম্ভব। তিনি বলেন, “আজ আবেদন করলে কাল পাস পাওয়া যাবে, আর পরশুদিনই উনি বিমানে উঠতে পারবেন—এতে কোনো জটিলতা নেই।”

  • ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা: প্রতারণার অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

    ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা: প্রতারণার অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এটা জনগণের সঙ্গে যেমন প্রতারণা, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা। এই পরিস্থিতিতে একে কোনোভাবেই ঐক্য বলা যায় না। তাহলে কমিশনটি গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?”

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদের বই ‘বিচার সংস্কার নির্বাচন : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    এর আগের দিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। তবে ফখরুলের দাবি, কমিশন সদস্যদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    তিনি বলেন, “আমরা শুনেছিলাম কমিশন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ভিন্নমতগুলোও সুপারিশে যুক্ত করা হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেগুলো একেবারেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের উপেক্ষা ঐক্যের পরিপন্থী।”

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “একটি বিশাল গণঅভ্যুত্থান ও ত্যাগের বিনিময়ে আজকের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, সেই অর্জনগুলো জাতির কল্যাণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বরং বিভক্তি ক্রমেই বাড়ছে। এই বিভক্তি কারা সৃষ্টি করছে এবং কেন, তা গভীরভাবে ভাবতে হবে।”

    প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “আপনি জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। এখন আপনার দায়িত্ব হলো এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই নির্বাচনই হতে হবে জাতির সংকট সমাধানের পথ।”

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু এবং লেখক-সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী প্রমুখ।