Tag: ঐকমত্য কমিশন

  • বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’ আসলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

    এবিএনএ:  ঐকমত্য কমিশনে দেওয়া বিএনপির ‘নোট অব ডিসেন্ট’কে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর ভাষায়, “বিএনপি যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, সেটি আসলে ‘নোট অব চিটিং’। এর মাধ্যমে তারা ১৮ কোটি মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল, কিন্তু তরুণ সমাজ তাদের সেই অপচেষ্টা বুঝে ফেলেছে।”

    বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং জাতীয় নির্বাচন কোন পথে?’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিএনপি এখন দেশের মধ্যে অনৈক্য ও বিভেদের রাজনীতি উস্কে দিচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণ যে ঐক্যের পথে হাঁটছিল, বিএনপি সেই পথ থেকে সবাইকে সরাতে চাইছে। দেশের মানুষ এখন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দিকে তাকিয়ে আছে— যেন তিনি দ্রুত জুলাই সনদের সুপারিশ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করেন।

    তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে শুরু করে পিএসসি পর্যন্ত সব জায়গায় নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিচ্ছে। “ওরা চায় ভাইয়াগিরি চলুক, ছোট ভাইয়েরা যেন চাকরি পায় দলের কলের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু এখন সময় এসেছে নিরপেক্ষ পিএসসি গঠনের—এটাই ছাত্র সমাজের দাবি,” বলেন তিনি।

    এনসিপি নেতা আরও বলেন, “বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে ভেটো দিয়েছে, অথচ একসময় তারাই এই ব্যবস্থার দাবিদার ছিল। দেশের বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানের দাবিতেই যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, তা তারা ভুলে গেছে।”

    তিনি বিএনপি ও জামায়াত উভয়ের সমালোচনা করে বলেন, “বিএনপি খোলাখুলি সংস্কারের বিরোধিতা করে, আর জামায়াত ভণ্ডামি করে সংস্কারের পক্ষে কথা বলে কিন্তু আসলে বিপক্ষে অবস্থান নেয়।” তাঁর দাবি, “জামায়াত নিম্নকক্ষে পিআর চাচ্ছে নিজেদের আসন বাড়ানোর কৌশল হিসেবে।”

    নির্বাচনী প্রতীকের বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে বলেন, “আমরা শাপলা প্রতীক চাই এবং সেটিতেই নির্বাচন করবো। শাপলার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “কমিশন যদি অবৈধভাবে তালিকা তৈরি করে, তবে আমরা শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমে কমিশনকে পদত্যাগে বাধ্য করবো।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. তারিকুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন মুখ্য সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেল। এতে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ, ডা. তাসনিম জারা, অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম মুসা ও মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসানসহ নেতৃবৃন্দ।

  • সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আট খণ্ডের প্রতিবেদন জনগণের জ্ঞাতার্থে উন্মুক্ত করে সহজবোধ্য বই আকারে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদনটি তুলে দেন। প্রতিবেদনে কমিশনের সুপারিশ, বৈঠক, আলোচনার কার্যবিবরণী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামতের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    প্রতিবেদন গ্রহণের সময় প্রফেসর ইউনূস বলেন,

    “এই প্রতিবেদনটি যেন শুধু কর্মকর্তাদের টেবিলে না থাকে, সাধারণ মানুষেরও বুঝতে পারে—সেজন্য সহজ ভাষায় বই আকারে প্রকাশ করতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও যেন এটি পড়ে দেশের সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পারে।”

    তিনি আরও নির্দেশ দেন, প্রতিবেদনটি বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় প্রকাশ করতে হবে, যাতে এটি দেশে-বিদেশে গবেষণার জন্যও প্রামাণ্য দলিল হয়ে ওঠে।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন,

    “এই বইটি ভবিষ্যতে তরুণদের অবশ্যপাঠ্য হতে হবে। তারা যেন জানতে পারে, এই দেশের গণতন্ত্র ও সংস্কার আন্দোলনের ভিত্তি কীভাবে গড়ে উঠেছে।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ, সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

    প্রফেসর আলী রীয়াজ জানান,

    “এই আট খণ্ডের প্রতিবেদনে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫, কমিশনের কার্যক্রম, প্রাপ্ত প্রস্তাবনা ও সংলাপসহ সকল প্রক্রিয়া লিপিবদ্ধ আছে। এটি ভবিষ্যতের গবেষণার জন্য একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে ভূমিকা রাখবে।”

    এর আগে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার হাতে তুলে দেয়।

  • ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা: প্রতারণার অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

    ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ উপেক্ষা: প্রতারণার অভিযোগ মির্জা ফখরুলের

    এবিএনএ: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “এটা জনগণের সঙ্গে যেমন প্রতারণা, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রতারণা। এই পরিস্থিতিতে একে কোনোভাবেই ঐক্য বলা যায় না। তাহলে কমিশনটি গঠনের উদ্দেশ্য কী ছিল?”

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদের বই ‘বিচার সংস্কার নির্বাচন : অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশ’ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    এর আগের দিন জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের সুপারিশ জমা দেয়। তবে ফখরুলের দাবি, কমিশন সদস্যদের দেওয়া ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতগুলো চূড়ান্ত প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

    তিনি বলেন, “আমরা শুনেছিলাম কমিশন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, ভিন্নমতগুলোও সুপারিশে যুক্ত করা হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেগুলো একেবারেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের উপেক্ষা ঐক্যের পরিপন্থী।”

    বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “একটি বিশাল গণঅভ্যুত্থান ও ত্যাগের বিনিময়ে আজকের পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, সেই অর্জনগুলো জাতির কল্যাণে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বরং বিভক্তি ক্রমেই বাড়ছে। এই বিভক্তি কারা সৃষ্টি করছে এবং কেন, তা গভীরভাবে ভাবতে হবে।”

    প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে ফখরুল বলেন, “আপনি জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। এখন আপনার দায়িত্ব হলো এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করা, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এই নির্বাচনই হতে হবে জাতির সংকট সমাধানের পথ।”

    অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, চর্চা ডটকমের সম্পাদক সোহরাব হাসান, গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরু এবং লেখক-সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী প্রমুখ।

  • ঐক্যের সুরে নতুন বাংলাদেশের পথে: নির্বাচনের অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

    ঐক্যের সুরে নতুন বাংলাদেশের পথে: নির্বাচনের অঙ্গীকার প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ:  জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন ঐক্যের নতুন যাত্রায়— এমনটাই জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আজ আমরা ঐক্যের সুরে যাত্রা শুরু করেছি, সেই সুর নিয়েই নির্বাচনে যাব।”

    অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ইউনূস বলেন, “আজ সমস্ত জাতি একত্রিত হয়েছে। এমন ঘটনা অতীতে চিন্তাও করা যায়নি।”

    তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা বর্বরতা থেকে সভ্যতায় পা রাখলাম। এখন সময় এসেছে এমন একটি সমাজ গড়ার, যাকে পৃথিবী ঈর্ষার চোখে দেখবে। এই ঐক্যই আমাদের ভবিষ্যতের শক্তি।”

    রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে ইউনূস বলেন, “মানুষ যেন মনে রাখে, এই সনদে যারা স্বাক্ষর করেছেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করবেন। নিজেদের নির্বাচন নিজেরাই করবো— বাইরের কাউকে এসে ধাক্কা দিতে হবে না।”

    ঐকমত্য থেকে ঐক্যে: পরিবর্তনের নতুন অধ্যায়

    প্রধান উপদেষ্টা জানান, ঐকমত্য কমিশন গঠন ছিল এক সময়ের স্বপ্ন, যা এখন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। “যখন আলী রীয়াজকে দায়িত্ব দিলাম, ভেবেছিলাম হয়তো দুই-একটি বিষয়ে একমত হবো। কিন্তু আজ দেখছি, সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে একই লক্ষ্য ঠিক করেছে— এটি এক অনন্য অর্জন।”

    তিনি আরও বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এটি আমাদের সংবিধান, সরকার পরিচালনা ও সমাজ গঠনের ধারায় পরিবর্তন আনবে।”

    বঙ্গোপসাগর ও উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা

    অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তৃতায় দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, “বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের সম্পদ। আমরা যদি সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবহার করতে পারি, তাহলে কক্সবাজার, মাতারবাড়ি ও মহেশখালী একত্রে নতুন সিঙ্গাপুরে পরিণত হতে পারে।”

    তিনি আরও বলেন, “গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি হলে বিশ্বের বহু জাহাজ আমাদের বন্দরে নোঙর ফেলবে। নেপাল, ভূটান ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত আমাদের অর্থনৈতিক সংযোগ তৈরি হবে।”

    আন্দোলনের স্মৃতিচারণা ও তরুণদের ভূমিকা

    জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যারা জীবন দিয়েছেন, তারাই আজকের পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছেন। জাতি তাদের কাছে চিরঋণী।”

    তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “এই দেশের ভবিষ্যৎ তরুণদের হাতে। তারা যদি একসঙ্গে এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশকে কেউ থামাতে পারবে না।”

    আলী রীয়াজের বক্তব্যে গণতান্ত্রিক স্বপ্নের কথা

    অনুষ্ঠানে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমাদের অনেক স্রোত আছে, কিন্তু মোহনা একটি— গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়া। জুলাই সনদ সেই স্বপ্নের প্রথম পদক্ষেপ।”

    তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান, “মত ও পথের পার্থক্য থাকলেও ঐক্যের যাত্রা যেন থেমে না যায়।”


    জুলাই জাতীয় সনদ শুধু একটি কাগজ নয়— এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের রূপরেখা। ঐক্যের সুরে নির্বাচন ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এখন নতুন বাংলাদেশের পথচলার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

  • প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ঘোষণা: ফেব্রুয়ারিতেই হবে উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন

    প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের ঘোষণা: ফেব্রুয়ারিতেই হবে উৎসবমুখর জাতীয় নির্বাচন

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতেই অনুষ্ঠিত হবে এবং তা হবে একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে।

    বুধবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠকে, যেখানে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়, সেখানে তিনি এই নিশ্চয়তা দেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতেই হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা এমন এক নির্বাচন আয়োজন করতে চাই, যেখানে মানুষ আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে যাবে। এর জন্য যা কিছু প্রয়োজন, আমরা সেটি করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এই বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না।”

    রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশে ইউনূস আরও বলেন, “আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় সনদ তৈরি করেছেন, এখন সরকারের দায়িত্ব সেই সনদের ভিত্তিতে একটি উৎসবমুখর ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া। যদি আমরা সেটি করতে না পারি, তবে সনদটির গুরুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে।”

    তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জুলাই সনদের মূল লক্ষ্যই ছিল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা। তাই নির্বাচনের প্রতিটি ধাপে সেই সনদের নীতি অনুসরণ করা হবে।”

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষরে রাজি বিএনপি, তবে শর্ত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকতে হবে

    জুলাই সনদে স্বাক্ষরে রাজি বিএনপি, তবে শর্ত ‘নোট অব ডিসেন্ট’ থাকতে হবে

    এবিএনএ:  জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের জরুরি বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে তারা সম্মত, তবে এতে দলের আপত্তিগুলো ‘নোট অব ডিসেন্ট’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকা আবশ্যক।

    বুধবার সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর দেওয়ার বিষয়টি জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। যে কোনো পরিস্থিতিতেই আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

    সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষর মানে এটি সঙ্গে সঙ্গে আইনি কাঠামো পাবে—এমন নয়। পরবর্তীতে যে সরকার ক্ষমতায় আসবে, তাদেরকেই সনদটির আইনি বৈধতা দিতে হবে। কারণ এই সনদের আইনি ভিত্তি সংসদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা পেতে হবে।”

    তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সনদে স্বাক্ষর করব, তবে আমাদের মতবিরোধ বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’গুলো অবশ্যই নথিভুক্ত থাকতে হবে। সবাই যদি একমত হতো, তাহলে আলোচনার প্রয়োজনই পড়ত না।”

    বিএনপির এই নেতা আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১৭ অক্টোবর জাতীয় সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে এবং তা জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে। পরে ঐকমত্য কমিশন সনদের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাবও দেবে বলে জানান তিনি।

  • জুলাই সনদে অচলাবস্থা: জাতীয় নির্বাচনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উত্তাপ

    জুলাই সনদে অচলাবস্থা: জাতীয় নির্বাচনে বাড়ছে অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উত্তাপ

    এবিএনএ: বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়ে উঠছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি ও গণভোটের সময় নির্ধারণে এক বছরের আলোচনার পরও রাজনৈতিক দলগুলো কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকও শেষ হয়েছে সমাধান ছাড়াই।

    বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে দীর্ঘ আট ঘণ্টার বৈঠকে দলগুলো মূলত দুই ভাগে বিভক্ত হয়। বিএনপি, কিছু নিবন্ধিত দল ও নতুন নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকলেও, জামায়াতে ইসলামী ও কয়েকটি ছোট দল নির্বাচনের আগে গণভোটের দাবি জানায়। তবে প্রশ্নের ভাষা ও বাস্তবায়ন কৌশল নিয়েও মতবিরোধ থেকেই গেছে।

    কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব ও বিশেষজ্ঞদের মতামত মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারে পাঠানো হবে। ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এদিকে, নির্বাচন ঘিরে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে নড়বড়ে করে তুলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত নির্বাচন সময়মতো অনুষ্ঠিত হওয়া এখন বড় প্রশ্ন। রাজনৈতিক অচলাবস্থা ছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আন্তর্জাতিক মহলের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সচিব শূন্য, মাঠ প্রশাসনে শৃঙ্খলাজনিত সংকট এবং নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনআস্থার ঘাটতি—সব মিলিয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কর্মকর্তাও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চিত বলে জানা গেছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের বক্তব্যও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারা বলেছে, “অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনই গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।” রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে নিষিদ্ধ কিছু রাজনৈতিক শক্তিকে পুনরায় বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

    অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নির্বাচনকে ঘিরে রহস্যময় ভূমিকা নিচ্ছে। তারা বারবার নিজেদের অবস্থান বদল করছে। প্রথমে তারা জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোটে রাজি থাকলেও, সর্বশেষ বৈঠকে তারা নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি জানিয়েছে। দলের প্রতীক ‘শাপলা’ নিয়েও জটিলতা সমাধান হয়নি।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতির দিকে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, নারী নির্যাতন ও রাজনৈতিক সংঘর্ষ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। এ অবস্থায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “বাংলাদেশের গণতন্ত্র একাধিকবার সঙ্কটে পড়েছে, কিন্তু প্রতিবারই জনগণ পথ খুঁজে নিয়েছে। এবারও তা সম্ভব, যদি দলগুলো সংলাপের টেবিলে ফিরে আসে।” তবে বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শুধু অনিশ্চিতই নয়, বরং দেশের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন হুমকি বয়ে আনতে পারে।

  • গণভোটের সময় নিয়ে অচলাবস্থা: ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারল না রাজনৈতিক দলগুলো

    গণভোটের সময় নিয়ে অচলাবস্থা: ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারল না রাজনৈতিক দলগুলো

    এবিএনএ:  জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের সময়সূচি নিয়ে এখনও একমত হতে পারেনি রাজনৈতিক দলগুলো। সাত মাসব্যাপী সংলাপের পরও বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড় রয়েছে।

    বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে অনুষ্ঠিত সংলাপের শেষ দিনে আলোচনায় কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিএনপি সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের পক্ষে থাকলেও, জামায়াত চায় নভেম্বরে এবং এনসিপি নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের পক্ষপাতী।

    ঐকমত্য ছাড়াই শেষ সংলাপ

    রাত ১১টায় সংলাপ শেষ হয় কোনো ঐকমত্য ছাড়াই। কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, বিশেষজ্ঞ প্যানেলের পরামর্শ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত সমন্বয় করে সরকারকে সুপারিশ পাঠানো হবে।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে গণভোট আয়োজন এবং সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    বিএনপি ও অন্যান্য দলের অবস্থান

    বিএনপি চায়, জনগণের অনুমোদনপ্রাপ্ত গণভোটের সিদ্ধান্ত সংসদের ওপর বাধ্যতামূলক হোক, তবে সংসদের প্রথম অধিবেশনকে সংবিধান সংস্কার সভা বানানোর প্রস্তাবে তারা দ্বিমত পোষণ করেছে।

    অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, নির্বাচনের আগে গণভোট করা উচিত, যাতে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। দলটির নায়েবে আমির ডা. তাহের বলেন, “একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট হলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে, বরং আগে গণভোট হলে তা বেশি স্বচ্ছ হবে।”

    এনসিপিও তাদের অবস্থান বদলে এখন নির্বাচনের আগে গণভোট চায়। ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলও একই দাবি জানিয়েছে।

    কমিশনের ভাবনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

    ঐকমত্য কমিশন মনে করছে, গণভোটে একাধিক প্রশ্ন না রেখে কেবল একটি প্রশ্ন রাখা হবে—জনগণ জুলাই সনদ অনুমোদন করছেন কিনা। একাধিক প্রশ্ন রাখলে বিভ্রান্তির আশঙ্কা রয়েছে।

    কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারকে চূড়ান্ত সুপারিশ পাঠাবে এবং দলগুলোকে অবহিত করবে। এরপর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চুক্তি সই অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণভোটের সময় নিয়ে এই অচলাবস্থা ভবিষ্যতের নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে। সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি ও জামায়াতের ভিন্ন অবস্থান রাজনৈতিক সমঝোতাকে আরও জটিল করছে।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রাখতে সংস্কার জরুরি। এখন সময় এসেছে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার।”

  • ‘এক দেশে দুই সংবিধান চলতে পারে না’—সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রশ্ন

    ‘এক দেশে দুই সংবিধান চলতে পারে না’—সালাহউদ্দিন আহমেদের প্রশ্ন

    এবিএনএ: এক দেশে কীভাবে দুটি সংবিধান থাকতে পারে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

    রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী আয়কর আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    তিনি বলেন, সংবিধানের যেসব সংশোধনী বা সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দেরি করা উচিত নয়। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—বর্তমান সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায় নতুন সংস্কারের প্রয়োগ হলে দেশের বিচার বিভাগ ও প্রশাসন কোন সংবিধানের ভিত্তিতে চলবে? আদালতে যদি কেউ চ্যালেঞ্জ করে বসে, তখন কে বলবে এই পরিবর্তনের অধিকার কার?

    সালাহউদ্দিন আরও বলেন, সাংবিধানিক সংস্কারের আলাপ-আলোচনা চলছে, বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন। তবে বাস্তবায়নের জন্য জাতীয় সংসদই উপযুক্ত ফোরাম। তিনি প্রস্তাব দেন, সংসদীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় না থেকে সরকার চাইলে নির্বাহী আদেশ বা অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সংস্কার প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে পারে।

    তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, সম্প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-এ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা এখনো মন্ত্রিসভায় বিবেচনায় আছে। সরকার চাইলে দ্রুত অধ্যাদেশ জারি করে গ্রহণযোগ্য সংস্কারগুলো কার্যকর করতে পারে।

    আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, “যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চাইছেন, তাদের জন্য বলছি—দেশ এখন নির্বাচনী আবহে। খুব শিগগিরই তারেক রহমান দেশে ফিরবেন, আর তার প্রত্যাবর্তনই হবে নির্বাচনমুখী ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা।”

  • সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করল জামায়াত, প্রধান উপদেষ্টাকে জানাল নানা প্রস্তাব

    সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করল জামায়াত, প্রধান উপদেষ্টাকে জানাল নানা প্রস্তাব

    এবিএনএ:  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদল রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সংস্কার প্রক্রিয়া এবং দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছি, বর্তমান পরিস্থিতি যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। আওয়ামী লীগের মতোই জাতীয় পার্টির বিরুদ্ধেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেতে পারে।”

    তিনি আরও জানান, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তিনটি বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন—সংস্কার বাস্তবায়ন, বিচার প্রক্রিয়া দৃশ্যমান করা এবং বিশ্বমানের উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি।

    ঐকমত্য কমিশন প্রসঙ্গে তাহের বলেন, “এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কমিশনে আলোচনা চলছে। অনেক বিষয়ে একমত হলেও কিছু বড় ইস্যুতে মতবিরোধ রয়ে গেছে। তবে বেশিরভাগ সিদ্ধান্তে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন ছিল।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “কিছু দল সংস্কার বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা বলছে সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। কিন্তু যদি সেটাই হয় তবে এত সময় অপচয় কেন হলো?”

    এছাড়া জুলাইয়ের ঘোষণাকে ঘিরে নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাহের বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন নির্বাচন অবাধ হবে। আমরা তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।”

    প্রতিনিধিত্বমূলক (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে জামায়াতের দাবি, সব স্তরে এই পদ্ধতি চালু হওয়া প্রয়োজন। তাহের বলেন, “গত নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা নতুন পদ্ধতি চাই। এ বিষয়ে ইসিকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

    বৈঠক শেষে জামায়াত নেতারা আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা কাটবে না।