Tag: অন্তর্বর্তী সরকার

  • একদিনেই জাতীয় সংসদে ৩১ বিল পাস, অন্তর্বর্তী অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশ অনুমোদন

    একদিনেই জাতীয় সংসদে ৩১ বিল পাস, অন্তর্বর্তী অধ্যাদেশগুলোর বড় অংশ অনুমোদন

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে একদিনেই ৩১টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২৮টি অধ্যাদেশ অবিকল রেখে আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন আইন পাস করা হয়েছে এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিলও অনুমোদন পেয়েছে।

    বৃহস্পতিবার অধিবেশনের ১২তম দিনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে সেগুলো পাস হয়। পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন খাতের সংশোধনী আইন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    অবিকল রেখে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংশোধন, বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন সংশোধন, শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সংশোধন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংশোধন এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সংশোধন বিল। এছাড়া বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী, শ্রম আইন, ইউনিয়ন পরিষদ, আইনগত সহায়তা প্রদান, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতের সংশোধনী বিল অনুমোদন করা হয়েছে।

    এর পাশাপাশি ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ, বাংলাদেশ গ্যাস, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, বৈদেশিক অনুদান নিয়ন্ত্রণ, মানব পাচার প্রতিরোধ, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণসহ একাধিক নতুন আইনও পাস হয়েছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তর—পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ সম্পর্কিত সংশোধনী বিলও অনুমোদন পেয়েছে।

    এছাড়া ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ এবং হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন সংশোধন বিলও পাস হয়েছে।

    অন্যদিকে কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন বিল পাস করেছে সংসদ। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে সংশ্লিষ্ট বিল অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ বিষয়ক অধ্যাদেশও রহিত করা হয়েছে।

    এছাড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলনের লক্ষ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬ পাস হয়েছে। এর ফলে কমিশনের কার্যক্রম পূর্বের আইনি কাঠামোতে পরিচালিত হওয়ার পথ উন্মুক্ত হলো।

  • সংসদে একদিনেই ১৩ বিল পাস, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন—অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

    সংসদে একদিনেই ১৩ বিল পাস, সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধন থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন—অন্তর্বর্তী সরকারের বড় সিদ্ধান্ত

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা একাধিক অধ্যাদেশের ভিত্তিতে প্রস্তুত ১৩টি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধনী থেকে শুরু করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত আইনসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতের বিল অনুমোদনের মাধ্যমে আইনগত কাঠামোয় নতুন পরিবর্তনের পথ খুলেছে।

    বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের একাদশ কার্যদিবসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে আলোচনা শেষে সেগুলো কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।

    সকালের অধিবেশনে যেসব বিল পাস হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।

    বিকেলের অধিবেশনে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়। এর মধ্যে রয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’, ‘জাতির পিতার পরিবার-সদস্যগণের নিরাপত্তা রহিতকরণ আইন, ২০২৬’, ‘স্থানিক পরিকল্পনা আইন, ২০২৬’ এবং ‘পরিত্যক্ত বাড়ি (সম্পূরক বিধানাবলী) আইন, ২০২৬’।

    একই দিনে দ্বিতীয় দফায় আরও চারটি বিল অনুমোদন পায়। এগুলো হলো ‘বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ বেসরকারি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (রহিতকরণ) আইন, ২০২৬’ এবং ‘কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।

    সংসদে একদিনে এতগুলো বিল পাস হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব আইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামো, বিনিয়োগ পরিবেশ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত, ৩ বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা স্থগিত

    অন্তর্বর্তী সরকারের ৭ অধ্যাদেশ আইনে পরিণত, ৩ বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা স্থগিত

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সাতটি জাতীয় সংসদে বিল আকারে পাস হয়েছে। একইসঙ্গে আপত্তি ওঠায় আরও তিনটি বিল তাৎক্ষণিকভাবে পাস না করে আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।

    সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব বিল উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে একে একে সাতটি বিল অনুমোদন দেওয়া হয়।

    সংসদে এদিন মোট ১০টি বিল উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সাতটি বিল পাস হলেও তিনটি বিল নিয়ে সদস্যদের আপত্তি থাকায় সেগুলো আরও আলোচনা ও পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ভূমি ব্যবহার সংক্রান্ত একটি সংশোধনী বিল যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

    যেসব সাতটি বিল পাস হয়েছে সেগুলো হলো— ভোটার তালিকা (সংশোধন) আইন-২০২৬, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (সংশোধন) আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) আইন-২০২৬, নির্বাচন কমিশন কর্মচারী (বিশেষ বিধান) সংশোধন আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) আইন-২০২৬, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সম্পর্কিত অন্তর্বর্তী বিশেষ বিধান রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং বাংলাদেশ ল অফিসার্স (সংশোধন) আইন-২০২৬।

    এদিকে আলোচনার জন্য রাখা তিনটি বিল হলো— জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) আইন-২০২৬, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ আইন-২০২৬ এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিতকরণ আইন-২০২৬। এসব বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে পুনরায় সংসদে পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে।

    জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি আইন হিসেবে অনুমোদনের পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে ১০টি বিল সংসদে তোলা হয়েছে। বাকি অধ্যাদেশগুলো পর্যায়ক্রমে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

  • নির্বাচন পিছিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার ছক? তিন উপদেষ্টার গোপন কৌশল নিয়ে ফাঁস হওয়া নানা তথ্য

    নির্বাচন পিছিয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার ছক? তিন উপদেষ্টার গোপন কৌশল নিয়ে ফাঁস হওয়া নানা তথ্য

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে অন্তত তিনজন উপদেষ্টা নির্বাচন পেছানোর নানা কৌশলে সক্রিয় ছিলেন—এমন অভিযোগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আরেকজন উপদেষ্টার ভূমিকা ছিল পরিস্থিতিনির্ভর; তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে সমঝোতা রেখে সময় পার করেছেন বলে জানা যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য, এই গোষ্ঠীর কৌশলের অংশ হিসেবে মব সন্ত্রাসকে উসকে দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে চাপ তৈরির চেষ্টা চলেছিল।

    শুরুর দিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইতিবাচক ছিলেন। পরে সংস্কারের বিস্তৃত প্রস্তাব সামনে এলে দ্রুত ভোটের পথ থেকে তিনি সরে আসেন। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে—এই সংস্কার-আলোচনার আড়ালে ক্ষমতার সময় বাড়ানোর হিসাব-নিকাশ ছিল, যেখানে তিন উপদেষ্টার চাপ বড় ভূমিকা রাখে।

    উপদেষ্টাদের যুক্তি ছিল, দ্রুত ভোট হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে এবং অপ্রত্যাশিত শক্তি সুবিধা নিতে পারে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই যুক্তির পেছনে ছিল নিজেদের প্রভাব দীর্ঘায়িত করা এবং নির্দিষ্ট শক্তির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কৌশল। জনচাপ ও ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত এই পরিকল্পনা ধাক্কা খায়। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর দ্রুত নির্বাচন চাওয়ার চাপও সিদ্ধান্ত বদলে প্রভাব ফেলে।

    পর্দার আড়ালে নিয়মিত বৈঠক, প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং বিদেশি কূটনৈতিক মহলে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা—সব মিলিয়ে উপদেষ্টাদের প্রভাব একসময় এতটাই বেড়ে যায় যে প্রধান উপদেষ্টা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতে থাকেন। লন্ডনে হওয়া বৈঠককে কেন্দ্র করে নির্বাচনমুখী হওয়ার প্রক্রিয়া এগোলেও তা ভেস্তে দিতে নানা মহলের তৎপরতা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ে।

    দেশের ভেতর থেকেও নির্বাচন ছাড়া বিকল্প নেই—এমন চাপ আসতে থাকে। তবু নির্বাচনবিরোধী তৎপরতা থামে না। প্রশাসনিক শৈথিল্য ও সহিংসতার ঘটনায় সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিশেষ কয়েকটি ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেরিতে পৌঁছানো নিয়ে রহস্যের কথাও উঠে আসে।

    রাজনৈতিক মহলের দাবি, প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলো শুরু থেকেই নির্বাচনমুখী অবস্থান নেয় এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। সেনাবাহিনী সতর্ক ছিল, সোশ্যাল মিডিয়ায়ও নানা আলামত দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে—উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বিদেশ সফরে গিয়ে কূটকৌশলে যুক্ত ছিলেন, জনমত জরিপ প্রভাবিত করার চেষ্টাও হয়েছে।

    নির্বাচনের দিনেও নির্দিষ্ট আসনের দিকে নজর ছিল একটি গোষ্ঠীর। তবে ফলাফল আসতে শুরু করলে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে তারা। এসব ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে—নির্বাচন বিলম্বের পেছনে কেবল প্রশাসনিক অজুহাত নয়, ছিল ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ ও পর্দার আড়ালের রাজনীতি।

  • ভোট দিয়ে ড. ইউনূসের আবেগী বার্তা: ‘আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’

    ভোট দিয়ে ড. ইউনূসের আবেগী বার্তা: ‘আজ নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’

    এবিএনএ: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আজকের দিনটি তার জীবনের অন্যতম আনন্দের মুহূর্ত। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

    ভোট শেষে ড. ইউনূস বলেন, এই দিনের মধ্য দিয়ে দেশের জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। তার মতে, আজকের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অতীতের ব্যর্থতা ও দুঃসময় পেছনে ফেলে সামনে এগোনোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি দিনটিকে ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সারাদিনব্যাপী উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের আহ্বান জানান।

    তিনি আরও বলেন, প্রার্থীদের জন্য ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে অংশগ্রহণ দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গণভোটের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের কাঠামো ও পথচলায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    দেশবাসীকে উদ্দেশ করে প্রধান উপদেষ্টা গণভোটে সক্রিয় অংশগ্রহণের অনুরোধ জানান। তার ভাষায়, সম্মিলিত অংশগ্রহণই নতুন বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে দেবে। বক্তব্যের শেষে তিনি সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং দিনটিকে আনন্দ ও মুক্তির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

  • বিএনপির চাপেই কি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত? নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ এনসিপির

    বিএনপির চাপেই কি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত? নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ এনসিপির

    এবিএনএ: সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন কমিশন ক্রমেই একপেশে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।

    রোববার (১৯ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনার প্রভাবে নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এর দায় শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টাকেই বহন করতে হবে। সরকার সেরা নির্বাচন উপহার দেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে সেই পরিবেশ এখনও দৃশ্যমান নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও বলেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে সংবিধান ও আইন স্পষ্ট থাকলেও নির্বাচন কমিশন ভুল ব্যাখ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদের নির্বাচনে সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। সংবিধানের ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র সুপ্রিম কোর্টের—নির্বাচন কমিশনের নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সামনে মব তৈরি, আগাম প্রভাব বিস্তার এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে কমিশনের আচরণ পক্ষপাতমূলক হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।

    গণভোটের পক্ষে প্রচারণাকে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সেখানে কোনো দলীয় প্রতীক না থাকলেও নির্বাচন কমিশন তা বাধাগ্রস্ত করছে। অথচ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে পোস্টার, ফেস্টুন, শোকসভা ও ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চললেও সেগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

    সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, আগের বিতর্কিত নির্বাচনের মতো এবারও দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে গভীর শঙ্কা তৈরি করেছে। তিনি এনসিপির প্রার্থীদের শো-কজ নোটিশকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

    এনসিপির নেতারা বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তারা স্পষ্ট করে জানান, কোনো পরিকল্পিত বা ইঞ্জিনিয়ারড নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। দেশের মানুষ ২০০৮ সালের মতো নয়, বরং ১৯৯১ সালের মতো অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে।

  • রাজনীতিতে নতুন বার্তা? প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে তারেক রহমান

    রাজনীতিতে নতুন বার্তা? প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে তারেক রহমান

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে বাসভবন ত্যাগ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই সাক্ষাৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছে।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাত ৯টা ১১ মিনিটে তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা থেকে বের হন। এর আগে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিটে তিনি গুলশানে অবস্থিত বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে রওনা হন। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত শেষে তিনি যমুনায় পৌঁছান।

    বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে। বৈঠকে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।

    দীর্ঘ এই আলোচনায় কী বিষয় উঠে এসেছে—সে সম্পর্কে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বিএনপি কিংবা সরকারের প্রেস উইং থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

    উল্লেখ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে বিমানবন্দরেই ফোনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার ২১ দিনের মাথায় এবার সরাসরি সাক্ষাৎ করলেন তিনি। এর আগেও ৩১ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ড. ইউনূস ও তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ হয়েছিল।

    এছাড়া, গত বছর ১৩ জুন লন্ডনে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তারেক রহমানের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ জাতীয় নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

  • বড়দিনের বার্তায় সম্প্রীতির ডাক: ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের শুভেচ্ছা বিনিময়

    বড়দিনের বার্তায় সম্প্রীতির ডাক: ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের শুভেচ্ছা বিনিময়

    এবিএনএ: বড়দিন উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্য বিনিময় করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরা হয়।

    অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, বাংলাদেশের ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ, ন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ফেলোশিপ অব বাংলাদেশের সভাপতি বিশপ ফিলিপ পি অধিকারী, খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ড. বেনেডিক্ট আলো ডি রোজারিও এবং জাতীয় চার্চ পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি খ্রিস্টোফার অধিকারীসহ খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

    খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারা তাঁদের বক্তব্যে বিশ্বজুড়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সুনাম ও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতায় তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা।

    আর্চবিশপ বিজয় এন ডি’ক্রুজ বড়দিনের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, যিশু খ্রিস্টের ক্ষমা, মানবপ্রেম ও সেবার আদর্শ অনুসরণ করেই বিশ্বজুড়ে এ উৎসব উদযাপিত হচ্ছে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের পুনর্গঠনে জনগণের আস্থা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা দায়িত্ব পালন করছেন এবং একটি সুন্দর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সে প্রচেষ্টা সফল হবে বলে তিনি প্রার্থনা করেন।

    প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে বড়দিন ও আসন্ন নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সমাজের আয়না; তাঁদের অবস্থান দেখেই সমাজের সার্বিক পরিস্থিতি অনুধাবন করা যায়।

    তিনি আরও বলেন, একটি সুস্থ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়তে গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজনের কথাও উল্লেখ করে তিনি জানান, জনগণের রায়ের ভিত্তিতেই পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে জনগণকে সচেতন করতে ধর্মীয় নেতাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

    অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের নেতারা বড়দিন উপলক্ষে আড়াই কোটি টাকা অনুদান দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তাঁরা জানান, দেশজুড়ে প্রায় ৮০০টি চার্চে ধাপে ধাপে এ অনুদান বিতরণ করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠান শেষে বড়দিন উদযাপনের অংশ হিসেবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

  • নির্বাচন নিয়ে বার্তা: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে পাঁচ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি

    নির্বাচন নিয়ে বার্তা: প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকে পাঁচ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি

    এবিএনএ: বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চিঠি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচজন প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা।

    মঙ্গলবার দেওয়া ওই চিঠিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, বিল হুইজেঙ্গা ও সিডনি কামলাগার-ডোভ। তাঁদের সঙ্গে চিঠিতে আরও সই করেন কংগ্রেস সদস্য জুলি জনসন ও টম আর সুওজি। চিঠিটি যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

    চিঠিতে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে আইনপ্রণেতারা বলেন, জাতীয় সংকটের এই সময়ে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণে ড. ইউনূসের এগিয়ে আসাকে তারা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।

    তাঁরা উল্লেখ করেন, ভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিফলনের পরিবেশ তৈরি করতে হলে অন্তর্বর্তী সরকারকে রাজনৈতিক মতাদর্শের সব পক্ষের সঙ্গে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসনিক ভূমিকার প্রতি সমর্থন থাকলেও একটি বড় রাজনৈতিক শক্তিকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়া মৌলিক মানবাধিকার ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

    মার্কিন আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারে কাঠামোগত সংস্কারের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত রাখা বা ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় সক্রিয় করলে এসব লক্ষ্য অর্জন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলেও চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে।

  • সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    সহিংসতায় দেশ অস্থির করার অপচেষ্টা রুখতে সতর্ক থাকার আহ্বান অন্তর্বর্তী সরকারের

    এবিএনএ: সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও জানমাল ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে সব ধরনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    শুক্রবার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন, অগ্নিসংযোগ এবং সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা সরকার দৃঢ়ভাবে ও নিঃশর্তভাবে প্রত্যাখ্যান করে।

    বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দেশের ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। অল্প কিছু গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—এই ধরনের অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া হবে না।

    অন্তর্বর্তী সরকার জানায়, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি একটি বড় জাতীয় দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সেই আদর্শের সঙ্গে যুক্ত, যার জন্য শহীদ শরিফ ওসমান হাদি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানাতে হলে সমাজে সংযম, দায়িত্বশীলতা এবং ঘৃণার রাজনীতি পরিহার করা জরুরি।

    সাংবাদিকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সরকার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, সংবাদকর্মীদের ওপর আঘাত মানেই সত্য ও গণতন্ত্রের ওপর আঘাত। এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।