Tag: অন্তর্বর্তী সরকার

  • ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্বে মুগ্ধ আইসেস্কো প্রধান, সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ

    ড. ইউনূসের ‘থ্রি জিরো’ তত্ত্বে মুগ্ধ আইসেস্কো প্রধান, সহযোগিতায় আগ্রহ প্রকাশ

    এবিএনএ:  প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইসলামিক ওয়ার্ল্ড এডুকেশনাল, সায়েন্টিফিক অ্যান্ড কালচারাল অর্গানাইজেশনের (আইসেস্কো) মহাপরিচালক ড. সালিম এম. আল মালিক। সোমবার (৬ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই পক্ষ ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

    সাক্ষাতে ড. আল মালিক অধ্যাপক ইউনূসের বৈশ্বিক অবদান এবং মানবকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “আমি যখন চিকিৎসাশাস্ত্রের ছাত্র ছিলাম, তখন থেকেই আপনার ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ ও ‘থ্রি জিরো’ ধারণার কথা শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছি। এই তত্ত্ব আজও দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান এবং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রে আলোকবর্তিকা।”

    তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে এসে আমি দেখেছি আপনার নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কর্মসূচি কতটা ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। আমি এই উদ্যোগের প্রতি সম্পূর্ণ সমর্থন জানাই।”

    বৈঠকে ড. আল মালিক আইসেস্কোর শিক্ষা, যুব উন্নয়ন ও পরিবেশকেন্দ্রিক কৌশলগত পরিকল্পনায় অধ্যাপক ইউনূসের ‘থ্রি জিরো তত্ত্ব’—শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য কার্বন নিঃসরণ—অন্তর্ভুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

    তিনি বলেন, “আমরা চাই আপনার এই দূরদর্শী ধারণাটি আমাদের মূল কৌশলের অংশ হোক। এটি আমাদের মিশনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।”

    আইসেস্কোর চলমান উদ্যোগ নিয়ে তিনি জানান, সংস্থাটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে খাদ্য অপচয় কমানো, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং সামাজিক ব্যবসা সম্প্রসারণে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ব্রুনেই, আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়ায় তাদের সহায়তায় সামাজিক ব্যবসা কার্যক্রম প্রসারিত হয়েছে।

    অধ্যাপক ইউনূস আইসেস্কোর এই প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, “শিক্ষা, টেকসই উন্নয়ন ও সামাজিক ব্যবসায় আইসেস্কোর কার্যক্রম প্রশংসনীয়। তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতা বাড়াতে এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে ভবিষ্যতে যৌথ উদ্যোগ অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।”

    বৈঠকে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি. আর. আবরারও উপস্থিত ছিলেন।

  • আসনভিত্তিক একক প্রার্থী ঘোষণার পথে বিএনপি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনী তফসিলের পর

    আসনভিত্তিক একক প্রার্থী ঘোষণার পথে বিএনপি, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচনী তফসিলের পর

    এবিএনএ: বিএনপি খুব শিগগিরই আসনভিত্তিক একক প্রার্থীকে মাঠে কাজ করার অনুমতি দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, প্রার্থীদের চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হবে শুধুমাত্র নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর, পার্লামেন্টারি বোর্ডের মাধ্যমে।

    শুক্রবার গুলশানে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিটি আসনে দুইজন নয়, অনেক আসনে পাঁচ থেকে দশজন পর্যন্ত যোগ্য প্রার্থী আছেন। তাই একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রার্থী বাছাই হচ্ছে। খুব শিগগিরই একক প্রার্থীদের মাঠে নামতে নির্দেশ দেওয়া হবে।”

    তিনি আরও জানান, সব প্রার্থীর কাছে বার্তা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা ধানের শীষের প্রতীকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। যাকেই প্রার্থী করা হবে, তার পক্ষেই সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।

    কর্মসূচি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, “আমরা এখন কোনো নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মসূচি দিচ্ছি না। তবে জনসংযোগ ও প্রচারের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর কাজ জোরদার করছি।”

    জোট ও আসন ভাগাভাগি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আলোচনা চলছে এবং যেসব আসনে জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি, সেগুলো নিয়েই মূলত সমঝোতা হবে। তবে এনসিপির সঙ্গে আসনভিত্তিক আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

    আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পরও আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুশোচনার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। উল্টো তারা আন্দোলনকারীদের অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করছে।”

    প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। এটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনেই কার্যকর হয়েছে। আওয়ামী লীগ রাজনীতি চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা আদালত নির্ধারণ করবে।”

    তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আইসিটি কোর্টে মামলা করার। একইসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার মেয়াদ প্রসঙ্গে দেওয়া মন্তব্য নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।

  • বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দিলো ভারত: ‘দোষ চাপানো অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যাস’

    বাংলাদেশকে কড়া বার্তা দিলো ভারত: ‘দোষ চাপানো অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যাস’

    এবিএনএ: খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক সহিংসতা ঘিরে বাংলাদেশ সরকারের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পেছনে ‘ভারতের ইন্ধন’ রয়েছে।

    শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ অভিযোগকে সরাসরি অস্বীকার করে বলেন, “অন্যের ওপর দোষ চাপানো বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তারা নিজেদের দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ব্যর্থ হচ্ছে।”

    তিনি অভিযোগকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ আখ্যা দিয়ে আরও বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের জন্য ভালো হবে যদি তারা আত্মসমালোচনা করে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর স্থানীয় উগ্রবাদীদের হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ভূমি দখলের ঘটনার স্বচ্ছ তদন্ত করে।”

    প্রসঙ্গত, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে খাগড়াছড়িতে এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের বিচার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে ‘জুম্ম ছাত্র–জনতা’। এসময় গুইমারা উপজেলায় সহিংস সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনজন। ঘটনায় সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ ১৩ সেনাসদস্য, তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা আহত হন।

    এরপর ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় সাংবাদিকদের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দাবি করেন, খাগড়াছড়িতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর নেপথ্যে ভারতের ভূমিকা রয়েছে। এই বক্তব্যকেই কঠোর ভাষায় প্রত্যাখ্যান করল ভারত।

  • ২০২৬ সালের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পাবেন

    ২০২৬ সালের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন পাবেন

    এবিএনএ:  ২০২৬ সালের শুরু থেকেই সরকারি কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোয় বেতন পাবেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করে কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। এজন্য পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারের জন্য অপেক্ষা করা হবে না। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটেই এর জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিল থেকে নতুন পে স্কেল চালু করতে হলে ডিসেম্বরে বাজেট সংশোধনের সময়ই তহবিল বরাদ্দ দিতে হবে।”

    নতুন বেতন কাঠামো ও কমিশনের সুপারিশ

    গত ২৪ জুলাই গঠিত পে কমিশন ডিসেম্বরের মধ্যেই সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেবে। কমিশনের সদস্যরা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ৮:১ থেকে ১০:১-এর মধ্যে থাকবে। প্রতিবেশী ভারতসহ অন্যান্য দেশেও একই ধরনের অনুপাত রয়েছে।

    চিকিৎসা ও শিক্ষা ভাতা বৃদ্ধির প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বর্তমানে একজন কর্মচারী মাসে ১,৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পান। নতুন কাঠামোয় অবসরোত্তর সময়েও বাড়তি সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হবে।

    পদোন্নতি ও কাঠামোর পরিবর্তন

    ২০১৫ সালের ফরাসউদ্দিন কমিশনের মতো এবারও সিলেকশন গ্রেড ও টাইমস্কেল বাতিল করে পদোন্নতির প্রক্রিয়া সহজ করার সুপারিশ করা হতে পারে। বর্তমানে জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় প্রায় ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, তবে ব্যাংক, বিদ্যুৎ কোম্পানি, সশস্ত্র বাহিনী ও বিচারকদের জন্য আলাদা কাঠামো বিদ্যমান।

    বেসরকারি খাতের ওপর প্রভাব

    কমিশন মনে করছে, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়লে বেসরকারি খাতের ওপরও চাপ তৈরি হবে। এজন্য আগামী অক্টোবর মাসে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে মতামত নেওয়া হবে।

    এছাড়া গবেষণামূলক কাজে যুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ভাতার প্রস্তাব রাখবে কমিশন।

    বাজেট বরাদ্দ

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৪ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় বেশি।

  • চাঁদাবাজি বেড়েছে ৫ আগস্টের পর, ফেব্রুয়ারিতে ফেরত আসতে পারে পাচার হওয়া অর্থ: ড. সালেহউদ্দিন

    চাঁদাবাজি বেড়েছে ৫ আগস্টের পর, ফেব্রুয়ারিতে ফেরত আসতে পারে পাচার হওয়া অর্থ: ড. সালেহউদ্দিন

    এবিএনএ:  গত বছরের ৫ আগস্টের পর দেশে চাঁদাবাজির প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

    মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আগে যেখানে এক টাকা চাঁদা নেওয়া হতো, এখন তা বেড়ে দেড় বা দুই টাকা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে এতে অনেক পক্ষ জড়িয়ে পড়েছে। এমনকি ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যরাও চাঁদাবাজিতে জড়িত।”

    তিনি আরও জানান, চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। তবে এটি নিয়ন্ত্রণ করা অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আগামী জুন নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

    পাচার হওয়া অর্থ ফেরার সম্ভাবনা ফেব্রুয়ারিতে

    অর্থ উপদেষ্টা জানান, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থের একটি অংশ আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ফেরত আসতে পারে। বিষয়টি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হলেও এ নিয়ে আন্তর্জাতিক লিগ্যাল ফার্মগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে কিছু বিদেশি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজও করা হয়েছে। তবে সঠিক অঙ্ক জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি বলেন, “এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলতে পারবেন।”

    রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু ডিসেম্বরে

    তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরীক্ষামূলকভাবে ডিসেম্বরে চালু হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রের জ্বালানি এসে গেছে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সুপারিশ বাস্তবায়ন চলছে। তবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম এখনো নির্ধারণ হয়নি।

    ব্যক্তিগত মতামত

    ড. সালেহউদ্দিন স্পষ্ট করে বলেন, তার মন্ত্রী হওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তিনি যোগ করেন, “আমি যেখানে কাজ করেছি, সততার সঙ্গে করেছি। তিনটি সরকারের সময়ই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি।”

    খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি সমস্যা

    অর্থ উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্যমতে, প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবার খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি বলেন, “আমাদের খাদ্যাভ্যাস এখনো সুষম নয়। চালের ওপর নির্ভরতা বেশি, আমিষ গ্রহণ কম। ডিমের মতো সহজলভ্য আমিষও অনেকেই কিনতে পারছে না।”

  • ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে ফরহাদ মজহার: ‘গ্রামীণ ব্যাংক চালানো আর রাষ্ট্র চালানো এক নয়’

    ড. ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে ফরহাদ মজহার: ‘গ্রামীণ ব্যাংক চালানো আর রাষ্ট্র চালানো এক নয়’

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে উদ্দেশ্য করে তীব্র সমালোচনা করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। তার মতে, “গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনার অভিজ্ঞতা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।”

    জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি বলেন, “আপনি সংবিধান রক্ষার কথা বলছেন, অথচ সংবিধানে কোথাও উপদেষ্টা সরকার ব্যবস্থার উল্লেখ নেই। তাই আপনার সরকার অবৈধ।”

    তিনি দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়নি, বরং সেটিই সরকারের বৈধতার উৎস। তাই ড. ইউনূসকে প্রথমেই নিজের বৈধতা নিশ্চিত করতে হবে।

    ফরহাদ মজহার অভিযোগ করে বলেন, “আপনি যে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছেন, তার ভিত্তি কী? এত ত্যাগের পর জনগণ নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করেনি। দেশে প্রকৃত কোনো রাজনৈতিক দল নেই। এখানে কেবল লুটেরা শ্রেণির আধিপত্য।”

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বিরোধিতা করে তিনি আরও বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার গঠিত হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনার রেখে যাওয়া সংবিধান রক্ষার শপথ নিয়ে উপদেষ্টা সরকার গঠনের যুক্তি নেই।”

    তিনি সরাসরি বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংক চালানো আর রাষ্ট্র চালানো এক নয়। রাষ্ট্র চালাতে হলে আপনাকে আইন, রাজনীতি ও জনগণের দাবির প্রতি সাড়া দিতে হবে।”

    তরুণদের মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভুক্ত করায় তিনি প্রশংসা করলেও অভিযোগ তোলেন, তারা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না কারণ পুরনো আমলাতন্ত্র এখনো প্রভাব বিস্তার করছে।

  • প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস: সমান অধিকারের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই

    প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস: সমান অধিকারের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই

    এবিএনএ: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন, বাংলাদেশকে এমন এক রাষ্ট্রে রূপান্তর করা হবে যেখানে সব নাগরিক সমান অধিকার ও মর্যাদা ভোগ করবেন।

    মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা চাই না কেউ নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়ে ধর্ম পালন করুক। বরং প্রত্যেকেই যেন স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারে।”

    তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যাই তবে জাতি হিসেবে ব্যর্থ হবো। কিন্তু আমরা ব্যর্থ হতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য হলো একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া, যেখানে ধর্মীয় ভিন্নতা থাকলেও রাষ্ট্র সবার প্রতি সমান আচরণ করবে।”

    ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দেবে না বা অবহেলা করবে না। বরং সব ধর্মের মানুষকে সমান সম্মান ও অধিকার দিতে রাষ্ট্র বাধ্য থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশকে আমরা এমন এক উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেটি বিশ্বের অন্যান্য দেশ অনুসরণ করবে। এই লক্ষ্য পূরণে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

    শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেন প্রধান উপদেষ্টা। পরিদর্শন শেষে তিনি শুভেচ্ছা সভায় অংশ নেন এবং উপস্থিতদের উদ্দেশে সংহতির বার্তা দেন।

  • ক্ষমতার জন্য আসিনি, ছয় মাসেই নির্বাচন দিয়ে বিদায়: নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি

    ক্ষমতার জন্য আসিনি, ছয় মাসেই নির্বাচন দিয়ে বিদায়: নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি

    এবিএনএ:  নেপালের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম বক্তব্যেই গণতান্ত্রিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর সরকার ক্ষমতার জন্য নয়, বরং আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য কাজ করবে।

    রবিবার দায়িত্ব নেওয়ার পর কাঠমান্ডু পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুশীলা কার্কি বলেন, “আমরা ক্ষমতার স্বাদ নিতে আসিনি। ছয় মাসের বেশি থাকব না। নতুন সংসদ গঠিত হলে দায়িত্ব তাদের কাছে হস্তান্তর করব।”

    ৭৩ বছর বয়সী এই নেতা সাম্প্রতিক ‘জেন-জি’ আন্দোলনের প্রশংসা করে জানান, নিহতদের শহীদ স্বীকৃতি দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়া হবে ১০ লাখ নেপালি রুপি, আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করবে সরকার। এছাড়া ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্তদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

    কার্কি বলেন, “মাত্র ২৭ ঘণ্টার বিক্ষোভে এমন পরিবর্তন আমি আগে দেখিনি। তবে এর মধ্যেও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ছাপ রয়েছে। যারা ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে।”

    তিনি আরও জানান, নেপাল বর্তমানে অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে এবং তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার হবে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।

    দ্য হিমালয়ান টাইমসের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৭২ জন নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ৫৯ জন বিক্ষোভকারী, ১০ জন কারাবন্দি ও তিনজন পুলিশ সদস্য।

    এদিকে নেপালের নতুন অন্তর্বর্তী সরকারকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কাঠমান্ডুতে মার্কিন দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগকে তারা সমর্থন করছে এবং নির্বাচনের পথে নেপালকে সহায়তা করবে।

    বিবৃতিতে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধান জেনারেল অশোক রাজ সিগদেলের ভূমিকাকেও প্রশংসা করা হয়, যিনি শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং বেসামরিক সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ সুগম করেছেন।

  • কারফিউ তুলে স্বাভাবিকতার পথে নেপাল: নতুন সরকারের শপথের পর জনজীবনে স্বস্তি

    কারফিউ তুলে স্বাভাবিকতার পথে নেপাল: নতুন সরকারের শপথের পর জনজীবনে স্বস্তি

    এবিএনএ:  নেপালে টানা সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার পর অবশেষে স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। শনিবার কাঠমান্ডু উপত্যকা ও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কারফিউ প্রত্যাহার করা হয়। রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ, খুলেছে বাজার-দোকান, আবারও জমে উঠছে স্বাভাবিক জনজীবন।

    শুক্রবার রাতে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওদেলের বাসভবন শীতল নিবাসে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন সুশীলা কারকি। শপথের পরপরই তিনি পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ২০২৬ সালের ৫ মার্চ জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।

    এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও দুর্নীতির অবসানের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অনেকে হতাহত হন, যার ফলে আন্দোলন ভয়াবহ রূপ নেয়। সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন অন্তত ৫১ জন, আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি। নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, আন্দোলনকারী ও সাধারণ মানুষ রয়েছেন।

    কে পি শর্মা ওলির পদত্যাগের পর কয়েকদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাল সুশীলা কারকির শপথ। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, আজ থেকে চলাফেরায় কোনো বিধিনিষেধ নেই।

    এর ফলে কয়েকদিন পর পুনরায় চালু হয়েছে গণপরিবহন, দূরপাল্লার গাড়িও ছেড়েছে। রাস্তায় জট দেখা গেলেও জনজীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি। একাধিক সরকারি ভবন ও বাজার এলাকায় চলছে পরিচ্ছন্নতার কাজ, যা সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভে ভস্মীভূত হয়েছিল।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সহিংসতার সময় প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ বন্দি পালিয়ে যায় কারাগার থেকে। তাদের মধ্যে এক হাজার জনকে পুনরায় আটক করা গেলেও বাকিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচন ঘোষণার মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে নেপাল। রাজনৈতিক সহিংসতার কালো অধ্যায় পেরিয়ে দেশটি এখন অপেক্ষা করছে স্থিতিশীল ভবিষ্যতের।

  • নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি

    নেপালের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি

    এবিএনএ:  নেপালে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি। শুক্রবার নেপালের প্রেসিডেন্ট দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    জানা যায়, আন্দোলনরত জেন-জি প্রজন্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল এবং সেনাবাহিনীর প্রধান অশোক রাজ সিগদেলের দীর্ঘ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন সবাই। আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে সুশীলা কার্কির নাম চূড়ান্ত করা হয়।

    দেশটির সংবিধান অনুযায়ী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি অস্থায়ী সরকারের নেতৃত্ব দেবেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নেপালের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এ মুহূর্তে একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী করা রাজনৈতিক সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।