Tag: অন্তর্বর্তী সরকার

  • ছয় বছরে অপহরণের রেকর্ড: আট মাসেই সর্বাধিক মামলা, বেড়েছে খুন ও দস্যুতা

    ছয় বছরে অপহরণের রেকর্ড: আট মাসেই সর্বাধিক মামলা, বেড়েছে খুন ও দস্যুতা

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যেও চলতি বছরে অপরাধের হার বেড়েছে। বিশেষ করে অপহরণের ঘটনা রেকর্ড ছুঁয়েছে নতুন মাত্রা। পুলিশি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশে ৭১৬টি অপহরণের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। এটি গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বাধিক।

    তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে অপহরণের ঘটনা ছিল ৬৪২টি, ২০২৩ সালে ৪৬৩টি, ২০২২ সালে ৪৬০টি, ২০২১ সালে ৪৪৫টি এবং ২০২০ সালে ৪৮৬টি। অর্থাৎ চলতি বছরের আট মাসেই আগের যেকোনও সময়ের চেয়ে অপহরণের হার বেশি।

    শুধু অপহরণই নয়, অন্যান্য অপরাধেও উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। চলতি বছরের আট মাসে ডাকাতি ঘটেছে ৪৮৮টি, যা ২০২৪ সালের ৪৯০টির কাছাকাছি। দস্যুতার ঘটনাও বেড়েছে—এ বছর ১ হাজার ৩১৪টি রেকর্ড হলেও গত বছর তা ছিল ১ হাজার ৪০৫টি।

    দাঙ্গার চিত্রও জটিল। ২০২০ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত মোট দাঙ্গার ঘটনা ছিল ৭৭টি, ২০২৪ সালে তা হঠাৎ বেড়ে দাঁড়ায় ১২৫টিতে। তবে চলতি বছরের আট মাসে এই সংখ্যা ৫৯।

    অন্যদিকে, চুরির হার কিছুটা কমেছে। চলতি বছরের আট মাসে ৬ হাজার ৩৪৫টি চুরির ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, যেখানে ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৫৯১টি চুরির ঘটনা ঘটেছিল।

    পুলিশি পরিসংখ্যানে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের আট মাসে ২ হাজার ৬১৬টি খুন এবং ১৫ হাজার ৪৯টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি মাদকদ্রব্য ও চোরাচালান সংক্রান্ত মামলার সংখ্যাও কমেছে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, অপরাধের হার কিছুটা বেড়েছে মনে হলেও এর একটি বড় কারণ হলো—এখন মানুষ রাজনৈতিক প্রভাবশালী অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ভয় ছাড়াই মামলা করতে পারছে। এছাড়া, গত ১৩ মাসে খুনের হার বেশি মনে হলেও তার মধ্যে অন্তত ১ হাজার ১৩০টি খুন শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে সংঘটিত হলেও মামলা দায়ের হয়েছে গণ-অভ্যুত্থানের পর।

  • নুরাল পাগলার মরদেহে অগ্নিসংযোগ: দোষীদের কঠোর শাস্তির ঘোষণা অন্তর্বর্তী সরকারের

    নুরাল পাগলার মরদেহে অগ্নিসংযোগ: দোষীদের কঠোর শাস্তির ঘোষণা অন্তর্বর্তী সরকারের

    এবিএনএ:  রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে নুরুল হক মোল্লা ওরফে ‘নুরাল পাগলা’র কবর অবমাননা ও মরদেহে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে অমানবিক ও নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করা হয়।

    বিবৃতিতে বলা হয়, মরদেহে অগ্নিসংযোগ শুধু মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী নয়, এটি আমাদের আইন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত। কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের বর্বরতা সহ্য করা হবে না।

    সরকার আশ্বস্ত করেছে, দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে নয়। যারা এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত, তারা উপযুক্ত শাস্তি পাবে।”

    অন্তর্বর্তী সরকার নাগরিকদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছে ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে এবং ন্যায়বিচার ও মানবিকতার আদর্শ রক্ষায় একযোগে কাজ করার জন্য।

    উল্লেখ্য, নুরুল হক গত ২৩ আগস্ট বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। পরে গোয়ালন্দ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে তার নিজ বাড়ির দরবার শরিফে বিশেষ কায়দায় মরদেহ দাফন করা হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ জনতা কবর থেকে মরদেহ তুলে অগ্নিসংযোগ করে।

  • ড. ইউনূসের নেতৃত্বে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে: ফজলুর রহমানের বিস্ফোরক অভিযোগ

    ড. ইউনূসের নেতৃত্বে নিরপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব, জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে: ফজলুর রহমানের বিস্ফোরক অভিযোগ

    এবিএনএ:  জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ফের বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থগিতকৃত উপদেষ্টা ফজলুর রহমান। তার দাবি, জামায়াত ইসলাম এখন দেশের অর্থনীতি থেকে প্রশাসন—সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করছে।

    সম্প্রতি এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। এনসিপি আসলে তার নিজস্ব দল, আর রাতের আঁধারে তিনি জামায়াতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। বাস্তবে জামায়াতই দেশ চালাচ্ছে।”

    তিনি আরো বলেন, “সমস্ত ব্যাংক, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংক ও আর্থিক খাত জামায়াতের নিয়ন্ত্রণে। শেয়ার বাজারেও তাদের কর্তৃত্ব স্পষ্ট। প্রশাসনে কর্মকর্তা বদলি পর্যন্ত তাদের ইশারায় হচ্ছে। বিএনপি যদি দ্রুত বিষয়টি অনুধাবন না করে তবে নিজেদের অস্তিত্বও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।”

    লতিফ সিদ্দিকীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে লতিফ সিদ্দিকীর অবদান অপরিসীম। ৮৭ বছরের একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে গ্রেপ্তার করা দেশ ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি চরম অবমাননা।”

    তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে বলেন, “রাজনৈতিক প্রতিরোধ ছাড়া এই দমননীতির অবসান হবে না। আজ লতিফ সিদ্দিকীর ওপর অন্যায় হলো, কাল তা বিএনপির ওপর আসবে।”

    বিএনপি থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার হলেও দল ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি তিনি। তার ভাষায়, “আমি এখনো বিএনপির মানুষ। তিন মাস পর হয়তো তারা আমাকে ফের নেবে, আবার আমিও থাকতে পারি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—এ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তচিন্তার জায়গা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে।”

  • প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য: উপদেষ্টা ফাওজুল কবির

    প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা অগ্রহণযোগ্য: উপদেষ্টা ফাওজুল কবির

    এবিএনএ:  রাজধানীতে আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেছেন, “শিক্ষার্থীদের ওপর যা ঘটেছে তা অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য।”

    বুধবার সন্ধ্যায় রেলভবনে শিক্ষার্থীদের ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সরকারের তিন উপদেষ্টার বৈঠক হয়। তবে প্রায় এক ঘণ্টার এই বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

    ফাওজুল কবির জানান, সমস্যা সমাধানে গঠিত সাত সদস্যের কমিটির পাঁচজন অনুপস্থিত থাকায় আলোচনা পূর্ণতা পায়নি। তিনি আশ্বাস দেন, বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে।

    তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রতি পুলিশের আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। এ ব্যাপারে পুলিশের প্রতিনিধি ক্ষমা চাইবেন।”

    অন্যদিকে বৈঠকে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি জানায়, আন্দোলনের সার্বিক বিষয় আলোচনা করে সহপাঠীদের সঙ্গে মিলিত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

    শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি

    ১. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে ও জবাবদিহি করতে হবে।
    ২. গঠিত কমিটি বাতিল করে নতুনভাবে শিক্ষক-প্রকৌশলী প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং দাবিগুলো দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
    ৩. হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে ও আন্দোলন চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
    ৪. শিক্ষার্থী রোকনের ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে।
    ৫. আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকার জন্য ডিসি মাসুদকে বহিষ্কার করতে হবে।

    উল্লেখ্য, ডিপ্লোমাধারীদের ৯ম গ্রেডে নিয়োগ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করার অভিযোগে সম্প্রতি ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’ নামক প্ল্যাটফর্ম তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। এতে বুয়েটসহ বিভিন্ন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

    বুধবার রাজধানীতে “লং মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশে যাত্রা করলে পুলিশ-শিক্ষার্থী সংঘর্ষ ঘটে। পরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখে।

  • রেলভবনে বৈঠকে তিন উপদেষ্টা, আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত

    রেলভবনে বৈঠকে তিন উপদেষ্টা, আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ৫ দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা আজ বুধবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে রেলভবনে আন্দোলনরত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ১১ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

    তবে বৈঠকের সমান্তরাল সময়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দেন, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সড়ক থেকে সরে যাবেন না।

    এর আগে দুপুরে সরকার প্রকৌশল পেশায় বিএসসি ডিগ্রিধারীদের দাবি যাচাই ও সুপারিশ তৈরির জন্য আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সেই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে নতুন করে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

    শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হলো:
    ১. স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও জবাবদিহি করতে হবে।
    ২. গঠিত কমিটি বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বিত নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। পূর্বে ঘোষিত তিন দফা দাবি দ্রুত নির্বাহী আদেশে কার্যকর করতে হবে। এ বিষয়ে তিন উপদেষ্টা—ড. ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান খান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে নিশ্চয়তা দিতে হবে।
    ৩. হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা খরচ সরকারকে বহন করতে হবে এবং আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
    ৪. রোকনের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে চাকরি থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
    ৫. শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে হামলার দায়ে ডিসি মাসুদকে পদচ্যুত করতে হবে।

    এর আগে শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে রয়েছে—
    ১. ইঞ্জিনিয়ারিং বা নবম গ্রেডে প্রবেশের ক্ষেত্রে সকলকে সমান পরীক্ষা দিতে হবে; কোটার মাধ্যমে পদোন্নতি বা সমমানের পদ সৃজন করা যাবে না।
    ২. টেকনিক্যাল দশম গ্রেডে পদ পূরণে বিএসসি ও ডিপ্লোমাধারীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
    ৩. বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ছাড়া কেউ প্রকৌশলী পরিচয়ে কাজ করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

    বর্তমানে শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সড়ক না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

  • শাহবাগে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটি প্রত্যাখ্যান

    শাহবাগে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের কমিটি প্রত্যাখ্যান

    এবিএনএ:  অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘নিরীক্ষা কমিটি’ প্রত্যাখ্যান করে পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করেছে বুয়েটসহ দেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের এক্সিট গেটের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি ঘোষণা করেন বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ। পরে তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিলে আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

    সংবাদ সম্মেলনে জুবায়ের আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর আজকের হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীকে দুঃখ প্রকাশ করে জবাবদিহি করতে হবে। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও জানান, প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষিত কমিটি শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করছে। তার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি নতুন কমিটি দ্রুত গঠন করতে হবে।

    তিনি দাবি করেন, পূর্বে ঘোষিত তিন দফা দাবি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে। এ ছাড়া উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান খান ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে এসে শিক্ষার্থীদের নিশ্চয়তা দিতে হবে। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা এবং আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পুলিশের হামলায় অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এর আগে সকালে ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা শাহবাগে অবস্থান নেন। দুপুরে যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

    বর্তমানে শাহবাগ মোড়ে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বিকল্প হিসেবে কাঁটাবন, মৎস্য ভবন ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে নতুন রুট চালু করা হয়েছে।

  • নির্বাচন করলে তফসিলের আগেই পদ ছাড়বেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    নির্বাচন করলে তফসিলের আগেই পদ ছাড়বেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    এবিএনএ:  স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, তিনি যদি জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তফসিল ঘোষণার আগেই উপদেষ্টার পদ ছাড়বেন।

    বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে সিদ্ধান্ত নিলে তফসিল ঘোষণার আগেই পদত্যাগ করব। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।”

    সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে সাবেক এক নারী সংসদ সদস্যের বাসায় চাঁদাবাজির ঘটনায় গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত নেতা জানে আলম অপুর মামলায় নিজের সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, “চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অপুর দেওয়া কথিত স্বীকারোক্তি জোর করে নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার সঙ্গে আমার আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।”

    তিনি আরও জানান, অপুর স্ত্রী দাবি করেছেন, তাকে গুম করে সেই স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সূত্র থেকেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে তিনি শুনেছেন।

    রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, “যাদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে—আগে করেছেন বা ভবিষ্যতে করবেন বলে ভাবছেন—তাদের সরকারের বাইরে থাকা উচিত।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরের কার্যক্রম নিয়ে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত যা হয়নি, তার পাল্লাটাই ভারী। জনগণ অভ্যুত্থানের কিছু সুফল পেয়েছে, কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে কতটা সুফল পেয়েছে, সেটা জনগণই ভালো বলতে পারবে।”

  • সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: ‘দেশের চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে’—মির্জা আব্বাস

    সরকারের বিরুদ্ধে তোপ: ‘দেশের চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে’—মির্জা আব্বাস

    এবিএনএ: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে নিয়ে গেছে। তার ভাষায়, “আগে শেখ হাসিনা বারোটা বাজিয়েছে, আর এই সরকার চব্বিশটা বাজিয়ে দিয়েছে।”

    শনিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ অনুষ্ঠানটি গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়।

    মির্জা আব্বাস বলেন, “দেশে কত দিক দিয়ে ক্ষতি হয়েছে, কারা লুটপাট করেছে, কীভাবে অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে—সব প্রমাণ আমার কাছে আছে। তবে এই অবস্থান থেকে এখনই তা প্রকাশ করতে চাই না।”

    তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপিকে নানা ঘটনার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। “যেখানেই খুন, লুটপাট, চাঁদাবাজি—সেখানেই বিএনপির নাম বলে একদল মানুষ। এভাবে জনগণের চোখে বিএনপিকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে,” বলেন তিনি।

    নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিকে উদ্দেশ করে মির্জা আব্বাস বলেন, “আপনাদের যেমন ক্ষমতায় যাওয়ার ইচ্ছা আছে, আমাদেরও তেমন আছে। তবে ক্ষমতায় যাওয়ার একটাই উপায়—জনগণের ভোট। ভোট পেলে ক্ষমতায় যাব, না পেলে মেনে নেব।”

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল নির্বাচনের কথা মুখে বললেও মনে মনে চায় না নির্বাচন হোক, কারণ তারা মনে করে বিএনপি জিতবে। “বিএনপি দেশ শাসন করে না, দেশ পরিচালনার চেষ্টা করে,” বলেন তিনি।

    সভায় সভাপতিত্ব করেন জাসাস ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শওকত আজিজ। বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম, জনশক্তিবিষয়ক সম্পাদক এম এ মালেক, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক হেলাল উদ্দীন, গণঅভ্যুত্থানে নিহত মিরাজের বাবা আব্দুর রব মিয়াসহ অনেকে। আলোচনা শেষে জাসাস শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

  • ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন, ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টার

    ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন, ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টার

    এবিএনএ: জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করতে চায় সরকার। এই লক্ষ্যে শিগগিরই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠানো হবে যাতে রমজান শুরু হওয়ার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হয়।

    আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেয়া এই ভাষণে তিনি বলেন, “আমাদের অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব এখন একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ শুরু করেছি।”

    প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন যেন নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়—তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, “আপনারা সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন এই নির্বাচন সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং জনগণ নতুন বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।”

    ভবিষ্যতের নির্বাচনকে ঘিরে তিনি দেশের নাগরিকদের অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে জানান, আগামীকাল থেকেই মানসিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হবে যাতে এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকে।

    তিনি আরও বলেন, “ভোটার উপস্থিতি, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ এবং শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ যেন এই নির্বাচনের বৈশিষ্ট্য হয়, সেটিই আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।”

  • জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনে সরকারের বৈধতা নেই: সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র প্রতিবাদ

    জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস স্থাপনে সরকারের বৈধতা নেই: সালাহউদ্দিন আহমদের তীব্র প্রতিবাদ

    এবিএনএ:  ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় খোলার সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে বলেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে এমন নীতিগত চুক্তি করা অনুচিত।

    সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি বলেন, “এ ধরনের স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ছাড়া অগ্রসর হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। এমনকি এ সিদ্ধান্ত পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো ইস্যুতেও ভবিষ্যতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।”

    সালাহউদ্দিন আরো বলেন, “গাজা, আরাকান, প্যালেস্টাইনের মতো জায়গায় মুসলিমদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলেও জাতিসংঘ সেখানে কার্যকর ভূমিকা রাখে না। অথচ বাংলাদেশে এমন একটি অফিস খোলার প্রয়োজন দেখা গেল।”

    তিনি জানান, এই চুক্তির মেয়াদ তিন বছর হলেও এক বা দুই বছরের মাথায় তা পর্যালোচনা হতে পারে। পরবর্তী সরকার চুক্তি নবায়ন করবে কি না, সেটাই মূল প্রশ্ন। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত হবে সবকিছু পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে এগোনো।

    এসময় তিনি জাতিসংঘের নতুন আবাসিক প্রতিনিধি নিয়োগ সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, যিনি আসছেন, তাঁর সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর তথ্য তারা পেয়েছেন। তিনি আহ্বান জানান, সরকার যেন বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।

    হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, “আমরা দেশের স্বার্থে কথা বলবো, জাতিসংঘের মতো প্রতিষ্ঠানকে চোখ বন্ধ করে স্বাগত জানানো ঠিক হবে না। দেশ ও ইসলামবিরোধী শক্তি যেন সুযোগ না পায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”

    আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জুর মতে, “সরকার রাজনৈতিক আলোচনায় না গিয়েই একতরফাভাবে চুক্তি করেছে। এই চুক্তির নীতিমালার বাইরে কমিশন কাজ করলে আমরা রাজপথে নামবো।”

    গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর অভিযোগ করেন, “পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। এই মিশন স্থাপিত হলে জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ আরও হুমকির মুখে পড়বে।”

    সভায় সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব সাজেদুর রহমান। বক্তব্য রাখেন আরও অনেকে, যার মধ্যে ছিলেন হেফাজতের নায়েবে আমির মাহফুজুল হক, সালাউদ্দিন নানুপুরী, জাতীয় ওলামা পরিষদের মহাসচিব রেজাউল করিম এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল হক প্রমুখ।